সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
পুড়ছে বাংলাদেশ, পোড়েনি প্রত্যয়
শান্তনু দে
ধর্মীয় মৌলবাদের এই উত্থান শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সীমান্তপার ভারতেও মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। সীমান্তের দুই পারের সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলি একে-অপরকে জ্বালানি জোগাচ্ছে। ঘৃণা ও বিদ্বেষের আবহ তৈরি করছে। উত্তেজনা ও বিভাজনকে প্ররোচিত করছে। সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিকে নিয়ন্ত্রণ এবং হিংসার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

অশান্ত বাংলাদেশ। পুড়ছে বিদ্বেষের আগুনে। উগ্র ধর্মান্ধ হিংসা তৈরি করে চলেছে একের পর এক দৃষ্টান্ত। পাল্লা দিয়ে চড়ছে চরম ভারত-বিদ্বেষী জিগির।
ময়মনসিংয়ের তরুণ দীপু দাসকে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে চূড়ান্ত শারীরিক নিগ্রহ ও নিধনের পর তাঁর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে— সর্বসমক্ষে, জান্তব উল্লাসের আবহে। পুড়েছে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার পত্রিকার মতো দাপুটে সংবাদপত্র। প্রাণসংশয়ের মুখে পড়েন সংবাদ-কর্মীরা। এই দু’টি পত্রিকাই গতবছর জুলাই আন্দোলনের পক্ষে নিয়েছিল জোরালো অবস্থান। তবু রক্ষা পায়নি। ইতিহাস জানে, উগ্রপন্থা কাউকে বন্ধু ভাবে না। আজ যারা হাতাতালি দেয়, কাল তারাই হয় আক্রমণের লক্ষ্য। মধ্যরাতে হেনস্তার শিকার হন নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর। এডিটর্স কাউন্সিলের সভাপতি। খুলনায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে একজন সাংবাদিককে। তিনি ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি।
রেহাই পায়নি জাতীয় কবি-ও। আগুনে পুড়েছে রবীন্দ্র-নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যবাহী সংগীত প্রতিষ্ঠান ছায়ানট। পাকিস্তান আমলে রবীন্দ্র-চর্চা ছিল রাষ্ট্রীয়ভাবে উপেক্ষিত এবং নিষিদ্ধ। বিশেষত, আয়ুব খানের জমানায়। ১৯৬১, তৎকালীন পাক শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষের উদযাপন। আর তার সূত্র ধরেই এই সাংস্কৃতিক সংগঠনটির জন্ম। ছায়ানট— শুধু একটি সংগীত প্রতিষ্ঠান নয়। কেবল বাংলাদেশেরই নয়। এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। আত্মপরিচয়ের প্রতীক। জন্মের পর থেকে কখনও দমে যায়নি। বাংলার মাটিতে ছড়িয়ে দিয়েছে রবীন্দ্র-নজরুল, বাউল-ভাটিয়ালির সুর। ছায়ানটের নববর্ষ উৎসব ইউনেস্কো স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। এহেন প্রতিষ্ঠান-ও রক্ষা পায়নি দুর্বৃত্তদের হাত থেকে। পুড়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি-বই সহ বহু সরঞ্জাম। উন্মত্ত জনতা আছড়ে ভেঙেছে হারমোনিয়াম। সাততলা ভবনের প্রতিটি ঘরে ঢুকে চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ— যে যা পেরেছেন ভেঙেছেন। পরে তাতে আগুন লাগিয়েছেন। ছেঁড়া হয়েছে লালনের ছবিও। আক্রান্ত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান উদীচী। ছায়ানট প্রতিষ্ঠার আট-বছর বাদে বিপ্লবী কথাশিল্পী সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্তের নেতৃত্বে গঠিত হয় উদীচী শিল্পগোষ্ঠী। প্রতিষ্ঠার পর সমাজতন্ত্রের দীক্ষায় দীক্ষিত কর্মীরা হাটে-মাঠে-বন্দরে তোলেন গণসংগীতের তুফান। মুক্তিযুদ্ধের সময় ছায়ানট ও উদীচীর শিল্পীরা ছিলেন কণ্ঠযোদ্ধার ভূমিকায়। স্বাধীনতার পরেও মৌলবাদীদের হাতে বহুবার আক্রান্ত হয়েছেন ছায়ানট ও উদীচীর শিল্পীরা। ১৯৯৯, যশহর টাউন হলে উদীচীর বাউল গানের আসরে উগ্রপন্থীদের বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন ১০জন সাংস্কৃতিক কর্মী ও দর্শক। ২০০১, রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে উগ্রপন্থীদের বোমাবর্ষণে নিহত হন ১০জন সাংস্কৃতিক কর্মী ও দর্শক। কিন্তু, কখনও তাঁদের প্রত্যয়ে-মনোবলে এতটুকু চিড় ধরেনি। হিংসার আগুনে ঝলসে পুড়েছে বিএনপি নেতার সাত-বছরের শিশুকন্যা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নেতা-সহ তাঁর দুই কন্যা।
প্রতিষ্ঠার সাতাশ বছরে এই প্রথম। ১৯ ডিসেম্বর, ভোরের আলো দেখেনি বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা প্রথম আলো। অনলাইন সংস্করণ-ও ছিল বন্ধ। প্রায় সতেরো ঘণ্টা। ঢাকার কারওয়ান বাজারে পত্রিকা দপ্তরে রাতের তাণ্ডবে নেমে এসেছে অন্ধকার। শহরের বাইরে কুষ্টিয়া, খুলনা ও সিলেটে পত্রিকার দপ্তরে হয়েছে হামলা ও ভাঙচুর। হামলার চেষ্টা হয়েছে চট্টগ্রাম, বগুড়া ও বরিশাল দপ্তরেও।
পত্রিকা প্রকাশ করতে পারেনি ডেইলি স্টার-ও। পত্রিকার ৩৩ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম। তাদেরও অনলাইন সংস্করণ দীর্ঘ সময় ছিল বন্ধ।
📲 এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ১৮ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। জনতাকে প্ররোচিত ও জড়ো করতে শুরু করে উগ্র দক্ষিণপন্থী ইসলামি শক্তি, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং পাকিস্তান-পন্থী শক্তি (দ্য টেলিগ্রাফ, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫)। এইসব হামলা যে পরিকল্পিত, তার প্রমাণ তাণ্ডবের ওই রাতে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জামাতের ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানের ঘোষণা: ‘তছনছ করে দিতে হবে বাম, শাহবাগি (প্রগতিশীল), ছায়ানট, উদীচীকে।’
বাংলাদেশে রাজনৈতিক হিংসা নতুন কিছু না। গতবছর জুলাই-আগস্টের কথা মানুষ ভোলেনি। শেষে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতন। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার। মানুষ ভেবেছিলেন দেশে আসবে শান্তি, সুস্থিতি। সুনিশ্চিত হবে নিরাপত্তা। তারপর ভয়মুক্ত পরিবেশে হবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। পরিবর্তে মানুষ দেখছেন ঘৃণার সংস্কৃতি। সুফি দরগা, বাউলদের আখড়ায় মৌলবাদীদের পরিকল্পিত হামলা। মৃতদেহ কবর থেকে টেনে বের করে জনসমক্ষে পুড়িয়ে দেওয়া। কোথাও মেয়েদের ফুটবল খেলা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা। নানা জায়গায় সংকুচিত করা হয়েছে সাংস্কৃতিক পরিসরগুলিকে। সমাজের কট্টরপন্থী অংশ এখন নিজেদেরকে ভাবছে মূলধারা। তারা এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে, যেখানে থাকবে না কোনও বহুত্ববাদ বা বহু মত–চিন্তার পরিসর। সরকারের পক্ষ থেকেও অনেক সময় এদেরকে ‘প্রেশার গ্রুপ’ বলে নরম করে পরিচয় দেওয়া হয়েছে— যা ঢেকে দিচ্ছে এই হুমকির প্রকৃত গুরুত্বকে।
ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। পরিস্থিতি মোটেই ভালো না। দ্রুত বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মৌলবাদীদের মদত এবং নেতাদের উস্কানিতে বন্ধু রাষ্ট্রে বাড়ছে উগ্র ভারত বিদ্বেষ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে খতম করা হচ্ছে। শেষ করা হচ্ছে বাংলাভাষা-ভিত্তিক সংস্কৃতিকে। চেষ্টা চলছে ইসলামিক রাষ্ট্র তৈরির। বাংলাদেশকে বাঙালি পাকিস্তান করা। গত দু’মাসে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পাঁচটি প্রতিনিধিদল এসেছে। তাঁরা নির্দিষ্ট কাজ নিয়ে এসেছে। হাফিজ সঈদের ডান হাত ঘুরে গিয়েছে। জামাত রাষ্ট্রক্ষমতাকে দখল করতে চাইছে। এই প্রথম জামাত মনে করছে তারা ক্ষমতায় আসবে। তবে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে, সেটা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে এখনও দ্বিধায়। স্বাভাবিক। জামাতের নিজের ভোট ৮-১০ শতাংশের বেশি না। পাকিস্তানের সময়েও ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে ইসলামি ছাত্র সংঘ (শিবির) জেতেনি।
গত সেপ্টেম্বরে করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এখন প্রায় ৪ লক্ষ বেআইনি অস্ত্র ঘুরছে। সমাজে সার্বিক অরাজকতায় ফেব্রুয়ারি মাসে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কত দূর সম্ভব, তা নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। সমীক্ষা-রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে রাজনৈতিক হিংসায় মারা গিয়েছেন ২৮১ জন। আহত হয়েছেন ৭৬৮৯ জন। অবাধ নির্বাচনের অন্যতম শর্ত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। ওই সময়সীমাতেই দেখা যাচ্ছে, ১১২৬ জন সাংবাদিক হয় গ্রেপ্তার, নয়তো মামলা বা হামলার মুখে পড়েছেন। ৭ ডিসেম্বর, সুইডেনের ফোজো মিডিয়া ইনস্টিটিইউট যে রিপোর্ট পেশ করেছে, তাতে বলা হচ্ছে, ছাব্বিশের ভোটে দেশের ৮৯ শতাংশ সাংবাদিকই হামলার মুখে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। সদ্য দু’টি সংবাদপত্রের অফিস যেভাবে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে এই শঙ্কা আরও বেড়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের অভাবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে এগোচ্ছে (আনন্দবাজার পত্রিকা, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫)।
ধর্মীয় মৌলবাদের এই উত্থান শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সীমান্তপার ভারতেও মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। সীমান্তের দুই পারের সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলি একে-অপরকে জ্বালানি জোগাচ্ছে। ঘৃণা ও বিদ্বেষের আবহ তৈরি করছে। উত্তেজনা ও বিভাজনকে প্ররোচিত করছে। সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিকে নিয়ন্ত্রণ এবং হিংসার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
সেইসঙ্গেই, বাংলাদেশ যদি সত্যিই গণতন্ত্রের পথে ফিরতে চায়, তাহলে নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনও রাস্তা নেই। যদি এই আন্দোলনকারীরা, তাদের সশস্ত্র অনুগামীরা এবং তাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকেরা নির্বাচন ঠেকাতে বা দীর্ঘসূত্রতায় ফেলতে সফল হয়, তাহলে দেশ এমন এক বিশৃঙ্খলার দিকে যাবে, যার পরিণতি কল্পনা করাও কঠিন। যেখানে কে লিখবে, কে গান গাইবে, কে প্রকাশ করবে সবকিছু ঠিক করে দেবে ‘মব’, উন্মত্ত জনতা— সেই রাষ্ট্র তখন আর রাষ্ট্র হয়ে থাকতে পারে না।
তাই এখন দায়িত্ব শুধু সরকারের না। দায়িত্ব তাদেরও, যারা এখনও বহুত্ববাদী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে। মানুষকে রুখে দাঁড়াতে হবে। স্পষ্ট ভাষায় বলতে হবে যে আমরা সব দল-মতের বৈচিত্র্য চাই। আমরা চাই ভিন্নমত। আমরা চাই পত্রিকার স্বাধীনতা। সাংবাদিক-শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মী এবং তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চাই নিরাপত্তা। সরকারের ন্যূনতম দায়িত্ব হচ্ছে তদন্ত করা। ভিডিওতে যাদের মুখ দেখা যাচ্ছে তাদের শনাক্ত করা। আদালতের মুখোমুখি করা।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে নিয়ে যেতে হলে বাম গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে নিতে হবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যাতে সু্ষ্ঠুভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজের সংগঠনসমূহ এবং গণতান্ত্রিক-ধর্মনিরপেক্ষ ও বামপন্থী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছাত্র নেতৃত্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জামাত ও অন্যান্য মৌলবাদী শক্তিগুলি সমাজে শিকড় গেড়ে বসে আছে। নির্দিষ্টভাবে এই বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিয়েই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাটা বিশেষভাবে দরকার। সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তির বৃহত্তর ঐক্যই পারে দক্ষিণপন্থী মৌলবাদী শক্তির ক্ষমতা দখল আটকাতে।
এবং বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াচ্ছে। আগুন থেকে ফের পাঠকের হাতে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার। ২০ ডিসেম্বর, ডেইলি স্টার-এ পাতাজোড়া শিরোনাম: আনবাওড! মাথা নত করা নয়। পত্রিকার প্রথম পাতায় সাহসী সম্পাদকীয়: সাংবাদিকতার কালো দিন। সঙ্গে প্রত্যয়: ওরা আমাদের দপ্তরকে পোড়াতে পারে, আমাদের দৃঢ় সংকল্পকে নয়। ঢাকার রাস্তায় মিছিলে-সভায় জোরালো বার্তা— সর্বশক্তি দিয়ে রুখব বাংলাদেশকে। মিছিলে স্লোগান: ‘বাঁশের লাঠি তৈরি করো/ মৌলবাদকে ধোলাই করো’।
কবি শামসুর রাহমান সেই কবে বলেছিলেন, ‘কৃষ্ণপক্ষ করেছে ঘেরাও আমাদের’। কবির আকুতি ছিল: ‘কবে শেষ হবে কৃষ্ণপক্ষ’! আজও তা সত্য। সেইসঙ্গেই সত্য নাজিম হিকমত, ‘যদি আমি না পুড়ি/ যদি তুমি না পোড়/ যদি আমরা না পুড়ি/ আলো কীভাবে জয় করবে অন্ধকারকে?’
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম
মুক্তিযুদ্ধ এবং সিপিআই(এম)
মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের ভূমিকা
প্রকাশের তারিখ: ২৩-ডিসেম্বর-২০২৫
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
