Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদই পয়লা নম্বর শত্রু

সুচিক্কণ দাস
দক্ষিণের দেশগুলি থেকে, বিশেষ করে চীনের কাছ থেকে, কর্মসংস্থান ছিনিয়ে নেওয়া, এটাই ট্রাম্পের সংরক্ষণবাদের একমাত্র চালিকা শক্তি নয়। আরও অতিরিক্ত জোরালো কারণ হল ব্যালান্স অফ পেমেন্টের ক্ষেত্রে আমেরিকার ক্রমশ বেড়ে চলা চলতি হিসাব (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) খাতে ঘাটতি। এই ঘাটতির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন হয়ে উঠেছে বিশ্বের বৃহত্তম খাতক দেশ।
US imperialism is the main enemy

সিপিআই(এম)-এর ২৪ তম কংগ্রেসের গৃহীত রাজনৈতিক প্রস্তাবের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অংশে বলা হয়েছে, পার্টির ২৩ তম কংগ্রেসের পর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ দু’টি প্রধান প্রধান সঙ্ঘাতে জড়িয়েছে। গাজায় আগ্রাসনে ইজরায়েলকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। এর ফলে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহ করছে। এই সঙ্কটের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে বৃদ্ধি কমেছে। অসাম্য, দারিদ্র, বেকারি, ক্ষুধা ও অপুষ্টি বাড়ছে। এর প্রতিবাদে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, এমনকী উন্নত দেশেও অধিকার রক্ষা ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে শ্রমিকশ্রেণির প্রতিরোধ সংগ্রাম বাড়ছে। তবে রাজনীতিতে দক্ষিণপন্থার দিকে ঢলে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে। এমনকী নির্বাচনের মাধ্যমে কয়েকটি দেশে ক্ষমতায় এসেছে অতি দক্ষিণপন্থী শক্তি। তবে এই পর্বে কলম্বিযা, ব্রাজিল, উরুগুয়ে এবং শ্রীলঙ্কায় বামেরা সাফল্য পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র হচ্ছে। সমাজতান্ত্রিক দেশগুলি কার্যকর ভাবে সাম্রাজ্যবাদী হামলার মোকাবিলা করছে। সাম্রাজ্যবাদ, যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সর্বত্র প্রতিবাদ হচ্ছে। 

সংক্ষেপে এটাই হল আজকের‘ দুনিয়ার সাধারণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। 

অতীতের মতোই আজকের দিনে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সঙ্কট, অসাম্য, দারিদ্র, বেকারি, ক্ষুধা ও অপুষ্টির কারণ হল সাম্রাজ্যবাদ। পিছিয়ে পড়া দেশগুলির ওপর যুদ্ধ ও আগ্রাসন চাপিয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী সাম্রাজ্যবাদ। সাম্রাজ্যবাদের মদতেই গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল। পশ্চিমী ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মদতে ইউক্রেনের যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন জেলেনস্কি। এমনকী বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজারকে নিয়ে গড়ে ওঠা সাহেল স্টেট ফরাসি ঔপনিবেশিকতার অবশিষ্টাংশকে উচ্ছেদ করে যখন স্বাধীন ও সার্বভৌম পথে চলতে চাইছে, সেখানও সশস্ত্র ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ। 

আবার যখন ব্রিকস, কিংবা সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেসনের মতো মঞ্চ, যেগুলি আসলে তৈরি করা হয়েছে সাম্রাজ্যবাদের মদতপুষ্ট বিশ্বব্যাঙ্ক এবং আইএমএফের আধিপত্য খর্ব করার জন্য এবং আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থায় ডলারের আধিপত্যকে সঙ্কুচিত করার জন্য, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এই সব সংগঠনভুক্ত দেশগুলির বিরুদ্ধে নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এবং বহুপাক্ষিক বিশ্ব গড়ার প্রয়াসকে আটকে দিয়ে মার্কিন একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

বিশ্ব জুড়ে আধিপত্য রক্ষায় সাম্রাজ্যবাদের হাতিয়ার এখন তিনটি। এক, বিশ্বায়িত লগ্নি পুঁজির আধিপত্য। দুই, ডলারের শক্তি কাজে লাগিয়ে খেয়ালখুশি মতো যে কোনও দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা এবং পরিণামে দেশটিকে নতজানু করে সাম্রাজ্যবাদের শর্তগুলি মেনে নিতে বাধ্য করা। এবং তৃতীয়ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সামরিক আগ্রাসন। বিশ্বায়িত লগ্নি পুঁজির দাপট রয়েছে বিশ্বের প্রায় সব দেশে। সেই পুঁজিকে লাগাম পরানোর যদি চেষ্টা করে কোনও রাষ্ট্র, তা হলেই সেই দেশ থেকে লগ্নি পুঁজি সরতে শুরু করে। ফলে দেশটির অর্থনীতি বিপন্ন হয়। এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়।

আজকের দুনিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের জারি করা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার শিকার রাশিয়া, কিউবা, ইরান, গণতান্ত্রিক কোরিয়া, সিরিয়া, বেলারুশ, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কঙ্গো, মালি, নিকারাগুয়া ও সোমালিয়া। ছোট থেকে বড় এই সব দেশ মার্কিন হুকুমদারি ও চোখরাঙানিকে অস্বীকার করার সাহস দেখানোয় অর্থনৈতিক অবরোধ জারি করে তাদের নতজানু করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আর সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের ছবি দেখা যাচ্ছে গাজায়, ইরানে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে মদত দেওয়ার ষড়যন্ত্রে।

এক কথায়, আজও সারা বিশ্বের মেহনতি, স্বাধীনতাকামী, উন্নতিকামী মানুষের এক নম্বর শত্রু হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষ করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। 

আজকের দিনে আমরা সাম্রাজ্যবাদের সবচেয়ে নগ্ন আগ্রাসনের উদাহরণ গাজা। গাজার আসল চেহারাটা কী একবার দেখে নেওয়া যাক। ‘বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর ঘনিষ্ট বৃত্তের লোকেদের অপরাধ ক্ষমা করা যায় না। কারণ তারা গত ৯ মার্চ থেকে গাজা স্ট্রিপে যাতে কোনও খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ঢুকতে না পারে তারা সেই ব্যবস্থা করেছে। যখন ক্ষুধার্ত গাজাবাসী এক টুকরো খাবারের সন্ধানে বেরোচ্ছেন তখন নিরীহ অসামরিক লোকেদের ওপর নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করছে ইজরায়েলি সেনা। ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গাজায় চারটে লোকদেখানে খাবারের কেন্দ্র চালু করেছে। যখন ক্ষুধার্ত মানুষ সেখানকার গেটে জড়ো হচ্ছেন তখন তাদের নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। গাজার লোকেদের সামনে দুটো সুযোগ, হয় না খেতে পেয়ে মরতে হবে, নয়ত খাবারের খোঁজে গিয়ে গুলি খেয়ে মরতে হবে।’ (শেমলেস অন গাজা, প্রকাশ কারাত, পিপলস ডেমোক্রেসি, ২৮ জুলাই-আগস্ট ৩, ২০২৫)।

‘গাজায় বিশেষ করে টার্গেট করা হয়েছে বিশেষভাবে সক্ষমদের। বোমায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে পুনর্বাসন কেন্দ্র। কোনও হুইলচেয়ার সেখানে নিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। পুর্নবাসন কেন্দ্র ভেঙে দেওয়ার পর বিশেষভাবে সক্ষমদের চলে যেতে বলা হচ্ছে। কিন্তু তারা পালাতে পারছেন না। একটি রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, অ্যানাসথেসিয়া ছাড়াই মেয়েদের প্রসব করতে হচ্ছে। সেলফোনের আলোয় চলছে অপারেশন। জ্বালানি নেই, ইনকিউবেটর নেই। তাই জন্মানোর পরেই মৃত্যু হচ্ছে শিশুদের। যেসব মহিলা বিশেষভাবে সক্ষম তাঁদের অবস্থা বর্ণানাতীত। তাঁরা কোথাও যেতে পারছেন না। প্রকাশ্যেই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হচ্ছে। অন্ধকারে শিকার হতে হচ্ছে ধর্ষকদের।’ (মুরলীধরন– স্টার্ভ, সাইলেন্স, ডিসএবল, নিউ ওয়েপনস ইজরায়েলস জেনোসাইডাল ওয়ার, পিপলস ডেমোক্রেসি, ২৮ জুলাই-আগস্ট ৩, ২০২৫)

এ এক অবর্ণনীয় দৃশ্য। যারা ছবিতে আউৎসভিজ, বুখেনভাল্ড কিংবা দাচাউয়ে হিটলারের নাৎসি ক্যাম্পের নির্যাতন দেখেছেন, তারা মানবেন গাজার নরমেধ যজ্ঞের ছবি শুধুমাত্র তারই সঙ্গে মেলে। কবি-কল্পনার নরকও বোধহয় সাম্রাজ্যবাদের সৃষ্টি করা এই নরকের মতো অমানবিক নয়। উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রেখে এবং নিত্যনতুন অস্ত্র সরবরাহ করেএই নরমেধ যজ্ঞে মদত দিচ্ছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। নেতানিয়াহুর বাহিনী এখন নামছে পুরো গাজা দখলে। সমস্ত গাজা দখল করে তারা সেখানে ইজারায়েলের স্থায়ী দখলদারি বসতি বানাতে চায়। দখলীকৃত গাজায় ফরাসি রিভিয়েরা ধাঁচে রিভিয়েরা গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্পের। এই যুদ্ধবাজই আবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের সোচ্চার দাবিদার। 

কয়েক সপ্তাহ আগেই আমরা দেখেছি পরমাণু বোমা তৈরি করা হচ্ছে এই অজুহাতে ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। ইরান তার প্রতিরোধ করে। ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরানে ইরাক ও সিরিয়ার কায়দায় শাসক বদল। কিন্তু ইরান রুখে দাঁড়ানোয় সেই প্রয়াস ভেস্তে গেছে। তবে মার্কিন বি ২ বোমারু বিমান সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন অগ্রাহ্য করে ইরানোর ভূগর্ভস্থ পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংস করার জন্য ক্লাস্টার বোমা ফেলেছে। তাতে কী ইরানের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে? ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞই বলেছেন ইরানের  পরমাণু কেন্দ্র পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। যিনি একথা বলেছিলেন তাঁকে চাকরিচ্যুত করেছেন ট্রাম্প।

এছাড়া আমরা দেখছি, ইউক্রেনকে শিখণ্ডী খাড়া করে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। অস্ত্র দিয়ে, সেনা পাঠিয়ে, প্রযুক্তি দিয়ে  ইউক্রেনের বাহিনীর আড়ালে নিজেরাই তারা যুদ্ধ করছে। এবং সেনা না পাঠালেও এদের অস্ত্র সরবরাহ করছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। সুতরাং গাজা এবং ইরানের পর ইউক্রেন হল সাম্রাজ্যবাদের সশস্ত্র আগ্রাসনের তৃতীয় রঙ্গমঞ্চ।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এখনকার আরেক যুদ্ধ হল শুল্ক যুদ্ধ। হঠাৎ করেই ট্রাম্প সব দেশের ওপর চড়া হারে শুল্ক ধার্য করছেন। হুমকি দিচ্ছেন, তর্জনগর্জন করছেন। শেষে শুল্ক কিছুটা কমিয়ে, আসলে আগেকার চেয়ে বাড়িয়ে, নিষ্পত্তি করছেন। এহল নিখাদ মার্কিন সম্রাজ্যবাদের নিখাদ গুন্ডাগিরি। 

কেন ট্রাম্পের এই শুল্ক যুদ্ধ তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় প্রভাত পট্টনায়েকের একটি নিবন্ধ থেকে। তিনি লিখেছেন, ‘সাম্রাজ্যবাদ কী ধরনের বাণিজ্য নীতি নেবে তা নির্ভর করবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ওপর। সাম্প্রতিক পর্বে মেট্রোপলিটান পুঁজি অনেক বেশি আগ্রহী তাদের প্লান্টগুলি দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিতে সরিয়ে আনতে। কারণ তারা বিশ্ব বাজারের জন্য উৎপাদন করার স্বার্থে এই সব দেশের কম মজুরির সুযোগ নিতে চায়। বিশেষ করে এটা চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রোপলিটান পুঁজি। তারা এই সুযোগটা নিতে চায় অবাধ বাণিজ্যের পরিমণ্ডলে। বিশেষত, নিও লিবারাল নীতিসমূহ ভারতের মতো দেশগুলির কাছে বিক্রি করা হয়েছিল নির্দিষ্টভাবে এই প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে যে যদি পুঁজির চলাচলের পথে সব বাধা দূর করা যায় তাহলে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলি থেকে এই সব দেশে উৎপাদনমূলক কাজকর্ম সরিয়ে আনা যাবে এবং এতে তাদের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বাড়বে। ট্রাম্প এখন এই বিষয়টাই বন্ধ করতে চাইছেন।  

দক্ষিণের দেশগুলি থেকে, বিশেষ করে চীনের কাছ থেকে, কর্মসংস্থান ছিনিয়ে নেওয়া, এটাই ট্রাম্পের সংরক্ষণবাদের একমাত্র চালিকা শক্তি নয়। আরও অতিরিক্ত জোরালো কারণ হল ব্যালান্স অফ পেমেন্টের ক্ষেত্রে আমেরিকার ক্রমশ বেড়ে চলা চলতি হিসাব (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) খাতে ঘাটতি। এই ঘাটতির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন হয়ে উঠেছে বিশ্বের বৃহত্তম খাতক দেশ। ট্রাম্পের আশা, এখন সংরক্ষণবাদকে আঁকড়ে ধরলে এই পরিস্থিতির সংশোধন করা যাবে।’ (ট্রাম্পের শুল্ক আগ্রাসন/ প্রভাত পট্টনায়েক, পিপলস ডেমোক্রেসি)। 

শুল্ক বৃদ্ধি মানে আসলে জিনিসের দামবৃদ্ধি। কারণ পুঁজিপতিরা ও রাষ্ট্রে শুল্কের বোঝাটা চাপিয়ে দেয় সাধারণ নানুষের ঘাড়ে। শুল্কবৃদ্ধি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবৃদ্ধি হলে চাহিদা সঙ্কুচিত হবে। চাহিদা সংকুচিত হলে উৎপাদন কমবে। উৎপাদন কমলে বাড়বে ছাঁটাই, বেকারি ও মজুরি হ্রাস। এর ওপর মূল্যবৃদ্ধির কারণে আরও কম মজুরিতে আরও কম জিনিস কিনতে পারবেন সাধারণ মানুষ। এভাবে দেখা দেবে চাহিদা এবং উৎপাদনের এক সার্বিক সঙ্কট যার জেরে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে মন্দা দেখে দেবে। এভাবেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের শুল্ক আগ্রাসন নতুন করে অর্থনৈতিক সঙ্কট তৈরি করতে চলেছে গোটা বিশ্বজুড়ে।

সেকারণে প্রভাত পট্টনায়েক বলেছেন, ‘ট্রাম্পের এই যে আগ্রাসী নীতি তার তাৎপর্য হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দক্ষিণের দেশগুলির সর্বত্র কাজকর্ম ছড়িয়ে দেওয়ার যুগের সমাপ্তি এবং তার ফলে নিও লিবারাল নীতি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে কোনও যুক্তির অবতারণা করারও আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি।’ (পূর্বোক্ত)

সুতরাং দেখা যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক সঙ্কট তার মূলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। সামরিক আগ্রসনেও নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমী পুঁজিবাদী জোট। সেকারণেই সিপিআই(এম)-এর ২৪ তম কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসী নীতির পরিণামে তৈরি হচ্ছে ব্যবস্থার সঙ্কট, বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধি কমছে, বাড়ছে অসাম্য, দারিদ্র, বেকারি, ক্ষুধা ও অপুষ্টি।’

অতএব, এবিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যা, আজকের দিনে বিশ্বের জনগণের প্রধান শত্রু সাম্রাজ্যবাদ। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতাই হবে সব ধরনের প্রতিরোধ সংগ্রামের বর্শামুখ। 


প্রকাশের তারিখ: ৩১-আগস্ট-২০২৫
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

অত্যন্ত সময় উপযোগী লেখনী।
- KAUSHIK NANDI, ৩১-আগস্ট-২০২৫


এর (সাম্রাজ্যবাদের)মোকাবিলা করতে সমস্ত বিশ্বের বামপন্থী দলগুলি কে এক জোট হতে হবে.
- VINOD LAL, ২২-নভেম্বর-২০২৫


গুরুত্বপূর্ণ কলাম হয়েছে আমাদের তরুণ পাঠকদের জন্য।
- মো: শরীফুল ইসলাম, ১১-মার্চ-২০২৬


Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২৫০ টি নিবন্ধ
০৭-মে-২০২৬

২৯-মার্চ-২০২৬

২২-মার্চ-২০২৬

১৯-মার্চ-২০২৬

১৩-মার্চ-২০২৬

০৪-মার্চ-২০২৬

২৪-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২০-ফেব্রুয়ারি-২০২৬