সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
ত্রিপুরার নির্বাচন: জয় পরাজয় ছাড়িয়ে
শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার
বামপন্থীরা তাদের মূল সমর্থনভিত্তি ত্রিপুরার জনজাতি সমাজ থেকে জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে। ওই মূল সমর্থনভিত্তি হারানোর ফলেই ২০১৮ সালে বিধানসভায় আইপিএফটি এবং ২০২১ সালের স্বশাসিত জেলা পরিষদ ও পরবর্তীতে ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিপ্রা মথার উত্থান ঘটেছে। এদের একটি অংশ এই জনবিচ্ছিন্নতা ঘটার জন্যে দায়ী করেছে ত্রিপুরার জনজাতি সমাজে প্রতিযোগিতামূলক পৃথকত্ব ও বাঙালি বিদ্বেষের রাজনীতির চাষ, যা ত্রিপুরা উপজাতি যুব সমিতি থেকে তিপ্রা মথা অবধি নানা সংগঠন করে এসেছে। এদের মতে পৃথক রাজ্যের শ্লোগান মুখে যে প্রতিযোগিতামূলক উগ্রতার রাজনীতির আত্মপ্রকাশ ঘটেছে তার প্রলোভনের মুখ দাঁড়িয়ে বামপন্থীদের জাতি জনজাতিদের ঐক্য ও সম্প্রীতির রাজনীতিকে ক্লিশে মনে হয়েছে নবীন প্রজন্মের জনজাতিদের। সেজন্যই বামপন্থীরা এই উগ্রতার বিরুদ্ধে তেমন কার্যকরী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।

বামপন্থী জনগণ তো বটেই, ত্রিপুরার সাধারণ মানুষ ও সংবাদ মাধ্যমেরও বড় একটি অংশের ধারণা ছিল এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পরাস্ত হবে এবং একটি নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। কেমন হবে নতুন সরকার, এ নিয়ে নানা মুনির নানা মত ছিল। কারো মত ছিল, বিজেপির পতন ঘটলেও একক শক্তিতে বাম-কংগ্রেস জোট সরকার গঠন করতে পারবে না। তাকে সমর্থন নিতে হবে রাজ পরিবারের বর্তমান বংশধর প্রদ্যোৎ মাণিক্য কিশোর বিক্রম দেববর্মার তিপ্রা মথার। একটু উৎসাহীদের মত ছিল, এই সমর্থনের কোনও প্রয়োজন হবে না, বাম-কংগ্রেস নিজেরাই সরকার গঠনের মতো যথেষ্ট শক্তি অর্জন করবে। আরো বেশি উৎসাহীদের মত ছিল, বাম-কংগ্রেস জোটে বামপন্থীরা একাই সরকার গড়ার মতো আসন পাবে।
২ মার্চের ফলাফলে এই ধারণাগুলির কোনোটিই সত্য প্রমাণিত হল না। কিছু আসন কমলেও বিজেপি আবার সরকারে ফিরে এসেছে। সরকার গঠন করার আগেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছিল অভূতপূর্ব সন্ত্রাস, আক্রমণ ও সহিংসতার তাণ্ডব। শুধু বামপন্থী কর্মী নয়, সমর্থকদের ঘরবাড়ি, পেশার মূল জায়গা, জোটসঙ্গী কংগ্রেসের কর্মী, সমর্থকদের বাড়িঘর জানমালও সীমাহীন সন্ত্রাসের ঘটনার শিকার।
এমন একটি পরিস্থিতিতে যখন বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে উঠেছে এবং ত্রিপুরায় সাংবিধানিক শাসন সুনিশ্চিত করার লড়াই-ই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কর্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, তখন ঘটে যাওয়া নির্বাচনের পাটিগণিতের হিসেব নিকেশ কি এক অনর্থক এবং অলস মস্তিষ্কের চর্চা বলে প্রতীয়মান হবে না? এই মুহূর্তে ত্রিপুরাতে একটি সভ্য গণতান্ত্রিক সহনশীল সমাজের প্রাথমিক শর্তকে প্রতিষ্ঠিত করাই সারা দেশের সমস্ত বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জের কষ্টিপাথরেই স্থিরীকৃত হবে কে সাচ্চা বিজেপি বিরোধী এবং কার বিজেপি বিরোধিতা একটি নিছক মুখোশ মাত্র। ফলে এমন একটি সুকঠিন সঙ্কটের সময় নির্বাচনী জয়পরাজয়ের হিসেব নিকেশে বসা কতটা সঠিক কাজ বলে বিবেচিত হবে আক্রান্ত কমরেডদের কাছে!
নির্বাচন যেমন শুধু জয়পরাজয়ের বিষয় নয়, এর মধ্যে রয়েছে রাজনীতির সুক্ষ্ম, গভীর ও সুদূরপ্রসারী নানা দিক, তেমনি এই মুহূর্তে ঘটে চলা আক্রমণেরও একটি রাজনীতি আছে। এটা নিছক দলীয় রেষারেষি বা স্থানীয় স্তরের পেশী প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা নয়। এই আক্রমণ ও হিংসার ধরনের মধ্যে একটি রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। হিংসার তীব্রতা, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতা, সরকারের মন্ত্রী আমলাদের নীরবতা, সর্বভারতীয় গোদী মাধ্যমের কিছুই দেখতে না পাওয়ার ভান— এসবটা মিলিয়েই রয়েছে সেই রাজনীতি। ১৪০ কোটি জনসংখ্যার ভারতবর্ষে ত্রিপুরা একপ্রান্তে পড়ে থাকা ছোট্ট একটি রাজ্য। ২০১১ সালের আদম শুমারী অনুযায়ী জনসংখ্যা মোটে ৩৬ লক্ষ। লোকসভার মোট আসন ৫৪৫টির মধ্যে ত্রিপুরার আসন সংখ্যা মোটে ২টি। শতাংশের বিচারে ০.৩৬ শতাংশ। ভারতের মোট জনসংখ্যার ০.২৫ শতাংশ ত্রিপুরার মানুষ। লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফলে কেন্দ্রীয় স্তরে সরকারের ভাঙাগড়া কখনোই নির্ভর করেনি। এতদসত্ত্বেও এক মাস ধরে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিজেপি কেন্দ্রীয় সভাপতি সহ এক ডজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ত্রিপুরার নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছে। মুড়ি মুড়কির মত টাকা উড়েছে আকাশে। ত্রিপুরার ভোট পরিচালনার জন্যে দেশের পূর্বতম প্রান্তের আসাম ও পশ্চিমতম প্রান্তের রাজ্য গুজরাট থেকে পুলিশ বাহিনী নিয়ে আসা হয়েছে। বলা বাহুল্য, এই চয়নটিও রাজনৈতিকই কারণে— এই দু’টি রাজ্যেই আসীন রয়েছে বিজেপি’র আগ্রাসী চরিত্রের সরকার। এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্য থেকে উড়িয়ে আনা আরএসএস ও সঙ্ঘ পরিবারের তৃণমূল স্তরের কর্মী বাহিনী রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে মাসের পর মাস পড়ে থেকেছে। লোকসভার আসন সংখ্যা বা রাজ্যের জনসংখ্যার বিচারে সর্বভারতীয় দৃষ্টিতে এতটা তুচ্ছ রাজ্যে বিজেপি যে এতটা শক্তির সন্নিবেশ ঘটিয়েছে, এর কারণও দস্তুরমতো রাজনৈতিক। এটা অবশ্য তারা কখনোই গোপন করেনি।
২০১৮ সালে বামফ্রন্টের একটানা ২৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ত্রিপুরায় হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসা বিজেপি যখন শাসন ক্ষমতায় এলো, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী খোলাখুলিই বলেছেন, অন্য রাজ্যের নির্বাচনী বিজয় ও ত্রিপুরার নির্বাচনী বিজয় আমাদের কাছে এক নয়। এর তাৎপর্য অনেক বেশি। মোদী বলেছেন, অন্য রাজ্যের জয় শুধু নির্বাচনী বিজয়। কিন্তু ত্রিপুরার নির্বাচনী বিজয় হচ্ছে আদর্শগত বিজয়। কমিউনিস্টদের সাথে আমাদের লড়াইটা আদর্শগত লড়াই, শুধু দলগত বিষয় নয়। যে কারণে লাতিন আমেরিকার চিলির নির্বাচিত আলেন্দের সরকারকে মেনে নিতে পারেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যে কারণে ইন্দোনেশিয়ায় লক্ষ লক্ষ কমিউনিস্টদের হত্যা করে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়, যে কারণে সদ্য স্বাধীন ভারতে গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত কেরলার প্রথম কমিউনিস্ট সরকারকে অগণতান্ত্রিকভাবে ভেঙে দেয় কংগ্রেস সরকার ও তাদের নেপথ্যে থাকে মার্কিন দূতাবাস, সেই একই কারণে যেন তেন প্রকারেন ত্রিপুরায় কমিউনিস্টদের পরাস্ত করাটা নরেন্দ্র মোদীদের রাজনীতির জন্যে একটি প্রধান কাজ।
এবারের ত্রিপুরার ফলাফলের পর নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছেন, পরবর্তী লক্ষ্য কেরলা। সেই লক্ষ্য পূরণ হবে কিনা তা ভবিষ্যৎ বলবে, তবে বিজেপি-র রাজনীতির প্রধান অভিমুখ এতে স্পষ্ট।
বিজেপি রাজনীতির এই প্রধান অভিমুখটি সম্পর্কে সম্যক উপলব্ধি ছাড়া এই মুহূর্তে কোনও রাজনৈতিক লড়াইই গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ত্রিপুরার সাম্প্রতিক রাজনীতিই দেখিয়েছে, বিজেপি তার রাজনৈতিক লক্ষ্যপূরণ শুধুমাত্র নিজেদের রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমেই করে না। অনেক সময়ই আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ পৃথক বা বৈরী চরিত্রের সংগঠনও প্রচ্ছন্নে বিজেপির কর্মসূচি রূপায়ন করে দেয়। এই সমস্ত কিছুই দেখিয়ে দেয়, ত্রিপুরার নির্বাচনের তাৎপর্য ফলাফলের সীমা ছাড়িয়ে আরো সুদূরপ্রসারী। এর মধ্যে রাজনীতির নানা দিক রয়েছে— যা শুধুমাত্র নির্বাচনকালীন বাস্তবতার সীমায় আটকে থাকে না। ফলেই ত্রিপুরার চলমান রাজনৈতিক ঘটনাবলীর প্রয়োজনেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উঠে আসা বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রশ্নের আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা এই মুহূর্তে যে রয়েছে সে সম্পর্কে কোনও সন্দেহের অবকাশ থাকে না।
ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর নানা ধরনের পর্যালোচনা উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। কেউ বলছেন, রাজ পরিবারের সন্তানের রাজনৈতিক দল তিপ্রা মথা যদি সংরক্ষণের বাইরে থাকা আসনে প্রার্থী না দিত তবে ১৭ টি সাধারণ আসনে বিজেপি পরাস্ত হয়ে বাম-কংগ্রেস জোট জয়ী হত। এ ছাড়াও ২টি সংরক্ষিত আসনের ফলাফলও দেখিয়ে দিচ্ছে যে তিপ্রা মথার প্রার্থী না থাকলে বিজেপির মোর্চা পরাস্ত হত। এই পর্যালোচনায় অসত্য নেই, তবে এটি পর্যালোচনার একটি দিক মাত্র। এর মধ্য দিয়ে সামগ্রিক বাস্তবতা উঠে নাও আসতে পারে। আবার নির্বাচনে চমকপ্রদ ফল করার পর রাজ পরিবারের সন্তান প্রদ্যোৎ মাণিক্য কিশোরকে একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্র এই প্রশ্ন রেখেছিল যে তাঁর দলের জন্যেই বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, এই অভিযোগ তিনি মেনে নেন কিনা। বলা বাহুল্য, এই অভিযোগ তিনি মানবেন না। তিনি উল্টে যুক্তি দিচ্ছেন যে বাম-কংগ্রেস প্রার্থী না থাকলে তিনি আরো ৭টি আসনে জয়ী হতেন। এটাও হয়ত সত্য। কিন্তু সামগ্রিক সত্য নয়।
নির্বাচন চলাকালীন ত্রিপুরার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরেছেন এমন একজন সাংবাদিকের মতে, ত্রিপুরার এই ফল বিজেপি-র কুশলী নির্বাচন পরিকল্পনা এবং দীর্ঘদিন ধরে ত্রিপুরার কোণে কোণে পড়ে থাকা সঙ্ঘ পরিবারের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সাংগঠনিক বিস্তারের ফল। এই পর্যালোচনাতেও অসত্য নেই। কিন্তু শুধু এই যুক্তি দিয়েও পুরোটা বোঝা যাবে না। এবার রাজনৈতিক দিক থেকে ভিন্ন অংশের মানুষদের অভিমতকে বিবেচনা করে দেখা যেতে পারে। সরাসরি বিরুদ্ধপক্ষ বিজেপির বক্তব্যের কোনও মূল্যই নেই। বলা বাহুল্য, কারণ তারা সবটাই নরেন্দ্র মোদীর মহিমা হিসেবে দেখায়, যার কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই ত্রিপুরার রাজনীতির মাটিতে। বিজেপির বক্তব্য পাশে সরিয়ে রেখে কিছু সংবাদ বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় জনজাতি রাজনীতির সাথে যুক্ত মানুষের কথা বরং শুনি।
এদের প্রায় সকলেরই বক্তব্য, বামপন্থীরা তাদের মূল সমর্থনভিত্তি ত্রিপুরার জনজাতি সমাজ থেকে জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে। ওই মূল সমর্থনভিত্তি হারানোর ফলেই ২০১৮ সালে বিধানসভায় আইপিএফটি এবং ২০২১ সালের স্বশাসিত জেলা পরিষদ ও পরবর্তীতে ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিপ্রা মথার উত্থান ঘটেছে। এদের একটি অংশ এই জনবিচ্ছিন্নতা ঘটার জন্যে দায়ী করেছে ত্রিপুরার জনজাতি সমাজে প্রতিযোগিতামূলক পৃথকত্ব ও বাঙালি বিদ্বেষের রাজনীতির চাষ, যা ত্রিপুরা উপজাতি যুব সমিতি থেকে তিপ্রা মথা অবধি নানা সংগঠন করে এসেছে। এদের মতে পৃথক রাজ্যের শ্লোগান মুখে যে প্রতিযোগিতামূলক উগ্রতার রাজনীতির আত্মপ্রকাশ ঘটেছে তার প্রলোভনের মুখ দাঁড়িয়ে বামপন্থীদের জাতি জনজাতিদের ঐক্য ও সম্প্রীতির রাজনীতিকে ক্লিশে মনে হয়েছে নবীন প্রজন্মের জনজাতিদের। সেজন্যই বামপন্থীরা এই উগ্রতার বিরুদ্ধে তেমন কার্যকরী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। অন্য আরেকটি পক্ষ মনে করছে, জনজাতি সমাজ থেকে জনবিচ্ছিন্নতা ঘটে যাওয়ার জন্যে বামপন্থীদেরও দায়িত্ব রয়েছে। বিগত সময়ের সংগ্রামের সঠিক উত্তরাধিকার বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি সমকালীন সময়ের ত্রিপুরার বামপন্থীদের নেতৃত্বাধীন জনজাতি আন্দোলন। এই সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়েই দীর্ঘদিনের সুপরিকল্পিত নীলনকশায় জনজাতি সমাজে মাথা তুলেছে একদা প্রত্যাখাত রাজ পরিবারের সন্তানের নেতৃত্বাধীন পৃথকত্ববাদী জনজাতি সংগঠন ও তার সমধর্মী পূর্বসূরীরা।
উপরে উল্লেখিত প্রায় সব ক'টি বিশ্লেষণে আংশিক সত্য রয়েছে, তবে সামগ্রিক বাস্তবতার প্রতিফলন নেই। ত্রিপুরার রাজনৈতিক বাস্তবতার সামগ্রিক চিত্র উত্থাপনটিও একটি সহজ চর্চা নয়। কারণ এতে বিচিত্র উৎস থেকে উৎসারিত নানামুখী মাত্রা বিদ্যমান রয়েছে। একে বিবেচনায় আনতে হলে অবশিষ্ট ভারতের রাজনীতির দৃষ্টি দিয়ে সবকিছুকে বুঝতে গেলে ভুল হয়ে যাবে।
প্রথমত, অবশিষ্ট ভারতের রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির সাথে উত্তরপূর্ব ভারতের বাস্তবতার মূলগত তফাৎ রয়েছে অনেকটাই। আবার উত্তরপূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যের রাজনীতির গতিপ্রকৃতির সাথে ত্রিপুরার রাজনৈতিক ইতিহাসের অনেকটাই পার্থক্য। ত্রিপুরাকে এক অর্থে উত্তরপূর্ব ভারত ও অবশিষ্ট ভারতের রাজনৈতিক মোহনা হিসেবেও চিহ্নিত করা যায়। এখানে যেমন উত্তরপূর্বের সহজাত আত্মপরিচয় ও জনজাতি চেতনার রাজনীতির অস্তিত্ব রয়েছে, আবার একইসঙ্গে এখানেই রয়েছে সর্বহারার আন্তর্জাতিকতাবাদের রাজনীতির এক স্পন্দমান ধারা। ক্ষুদ্র জাতিচেতনা ও সর্বহারার আন্তর্জাতিক চেতনার মেলবন্ধনের সচেতন ও সার্থক রাজনৈতিক চর্চার এমন দৃষ্টান্ত গোটা বিশ্বে বিরল। সোভিয়েত-উত্তর বিশ্বে বামপন্থীরা শ্রেণিচেতনা ও আত্মপরিচয়ের রাজনীতির সংশ্লেষের মাধ্যমে যে নতুন ধরনের বামপন্থার অনুসন্ধান করছেন, ত্রিপুরার বামপন্থীরা ১৯৩৮ সাল থেকেই জনমঙ্গল সমিতি থেকে জনশিক্ষা সমিতি, সেখান থেকে ত্রিপুরা প্রজা মণ্ডল হয়ে গণমুক্তি পরিষদ, আবার সেখান থেকে ১৯৭৮ সালের বামফ্রন্ট ও ১৯৮২ সালের ত্রিপুরা স্বশাসিত উপজাতি জেলা পরিষদ অবধি দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তাত্ত্বিক স্তরে ও হাতে কলমে সেই নিরীক্ষার প্রয়োগ করেছে। এই কাজ ছিল অত্যন্ত সুকঠিন। জাতিসমূহের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার সংক্রান্ত মার্কসবাদী তত্ত্বের বাইরে হাতের কাছে কোনও দৃষ্টান্ত ছিল না। একদিকে বাঙালি ও জনজাতি উগ্রতার বিরুদ্ধে লড়াই, অপরদিকে জনজাতি সমাজের অধিকারের দাবি ও জাতি জনজাতি সমাজের ঐক্য সম্প্রীতির লড়াইয়ের মেলবন্ধন— অত্যন্ত কঠিন এর তাত্ত্বিক অবস্থান নির্মাণ ও বাস্তব প্রয়োগ। বিশেষ করে যে রাজ্যে স্বাধীনতাপূর্ব সময় থেকেই বাঙালি আধিপত্যবাদ ও জনজাতি সমাজের পৃথকত্বের রাজনীতি শাসকশ্রেণির প্রত্যক্ষ মদত পেয়েছে।
আসামের মতই ত্রিপুরার রাজনীতির একটি অন্যতম প্রধান বিষয় বাঙালি-অ-বাঙালি আন্তঃসম্পর্ক। এর সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিকটি এড়িয়ে গিয়ে আসামের মতই ত্রিপুরার রাজনীতিরও পথনির্দেশিকা তৈরি করা অসম্ভব। আসাম ও ত্রিপুরার মধ্যে যেমন তফাৎ রয়েছে এ বিষয়ে, তেমনি উত্তরপূর্ব ভারতের অন্য রাজ্যগুলির স্থানীয় জনজাতি রাজনীতির সাথেও এ বিষয়ে অনেকটা তফাৎ রয়েছে আসাম ও ত্রিপুরার। আসাম ও ত্রিপুরার মিল এখানেই, স্বাধীনতাপূর্ব সময় থেকেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিতে বাঙালি জনগোষ্ঠীকে বহিরাগত এবং আগ্রাসী ভূমিকায় দেখা হয়েছে। তবে দু'টি রাজ্যের ক্ষেত্রেই প্রকৃতপক্ষে বাঙালি জনগোষ্ঠীকে যুগপৎ স্থানীয় এবং বহিরাগত বলা যায়। ব্রিটিশ শাসিত আসাম প্রদেশে অবিভক্ত বঙ্গদেশের সিলেট, কাছাড় ও গোয়ালপাড়ার সংযুক্তির মধ্য দিয়ে যে ভূমিপুত্র বাঙালিরা আসামের জনসংখ্যার অংশ হন, তারা সর্বার্থে স্থানীয়। আবার আসামে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেখানকার চা বাগান, সরকারি চাকরি, ব্যবসা বাণিজ্যতে ভাগ্যান্বেষণে যে বাঙালিরা যান তারা বহিরাগতই। তার সাথে যুক্ত হবেন পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ প্রশাসনের উদ্যোগে ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে আসামে নিয়ে গিয়ে বসতি দেওয়া বাঙালি কৃষকরা। তারা অবশ্য স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সরকারি উদ্যোগে সাড়া দিয়ে মাতৃভাষা পরিবর্তন করে সাংস্কৃতিক ভাবে আসামের জনসমাজের অঙ্গীভূত হওয়ার প্রয়াসী হয়েছেন। একইভাবে, স্বাধীনতাপূর্ব রাজন্য শাসিত ত্রিপুরার সীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল পার্বত্য ত্রিপুরার বাইরেও বাংলার এক বিস্তীর্ণ জনপদ যা পরিচিত ছিল চাকলা রোশনাবাদ নামে। নোয়াখালী ও সিলেটের অংশ ও তৎকালীন টিপরা জেলা (আজকের কুমিল্লা) নিয়ে ছিল সেই অঞ্চল। ফলে রাজন্য শাসিত ত্রিপুরায় সব বাঙালিকে বহিরাগত বা শোষক হিসেবে চিহ্নিত করার অবকাশ ছিল না। আবার ত্রিপুরা রাজ পরিবারই উদ্যোগ নিয়ে বাইরে থেকে বাঙালি কর্মচারীদের এনে নিযুক্তি দিয়েছে রাজকীয় প্রশাসনের নানা স্তরে। ফলে মন্ত্রী অমাত্য আমলাদের প্রায় সবাই ছিল বহিরাগত বাঙালি যারা ছিল অত্যাচারী শোষণ যন্ত্রের মূল প্রতিভূ। এছাড়া রাজন্য শাসনে প্রশাসনের উদ্যোগে বাইরে থেকে বাঙালি কৃষকদের এনে জনজাতিদের জমি থেকে উচ্ছেদ করে বসতি দেওয়া হত। উদ্দেশ্য ছিল জনজাতিদের প্রাচীন চাষ পদ্ধতি জুমের পরিবর্তে আধুনিক স্থির চাষের প্রবর্তন। ত্রিপুরার জনজাতি রাজনীতিতে সরকারি ভাষা হিসেবে বাংলা নিয়ে প্রচুর আপত্তি থাকলেও ত্রিপুরায় সরকারি ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার প্রবর্তন হয়েছিল অষ্টাদশ শতকে রাজন্য শাসনেই। জনজাতিদের নিজস্ব ভাষা ত্রিপুরী বা ককবরক রাজারা ভুলেই গিয়েছিলেন। রাজ পরিবারের যে সন্তান এখন জনজাতি রাজনীতির মুখ হিসেবে সামনে এসেছেন তিনি নিজেও ককবরক জানেন না। ত্রিপুরার রাজ পরিবারের ককবরক ভুলে যাওয়া নিয়ে কমিউনিস্ট নেতা দশরথ দেব বলেছিলেন, রাজবাড়িতে শুধু কক-বরক (ভাষা) নয়, চা-বরক (খাদ্য) বা কান-বরক (পোশাক) কোনও কিছুরই চর্চা ছিল না।
সময়ের পরিহাস, এখন রাজ পরিবারের বংশধর ত্রিপুরার আত্মপরিচয়ের কথা বলছেন। শতাংশের বিচারে বাঙালি জনসংখ্যার বৃদ্ধি এবং জনজাতি জনসংখ্যার সংকোচন নিয়ে নিয়ে কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে লাগাতর অপপ্রচার করা হয়। অথচ ভূমিহীন ও ভূমিসন্ধানী বাঙালি কৃষকদের ব্যাপকহারে ত্রিপুরায় নিয়ে আসার ঘটনা ঘটেছিল রাজার উদ্যোগেই। ১৮৭২ সালে রাজার উদ্যোগেই যে প্রথম জনগণনার কাজ হয় তাতেই দেখা যায় যে জনজাতি জনসংখ্যা ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। নতুন শতকে এসে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৪ শতাংশে। পরে ১৯৪০ সালে তা আরো কমে দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। জনজাতি জনসংখ্যার এই সংকোচনের জন্যে সম্পূর্ণ দায়ী ছিল রাজন্য প্রশাসন। নতুন কৃষি পদ্ধতির প্রচলনের জন্যে যেমন বাঙালি কৃষকদের নিয়ে আসা হয়, তেমনি প্রশাসনিক কাজকর্মের আধুনিকীকরণের জন্যেও বহিরাগত বাঙালি কর্মীদের ব্যাপক হারে নিয়ে আসা হয়। এই সময়পর্বে ত্রিপুরায় সাক্ষরতার সামান্য বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় জনজাতি সমাজ থেকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর অভ্যুদয় হয়। এদের মধ্য থেকে আধুনিক পেশায় কর্মসংস্থান লাভের একটি আকাঙ্ক্ষার জন্ম হয়। রাজন্য শাসনের সংবিধানগত সীমিত সংস্কারের আবহে আধুনিক রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ হয় ১৯৩৮ সালে জনমঙ্গল সমিতি গঠনের মধ্য দিয়ে। এই পর্ব থেকে ১৯৪৮ সালে গণমুক্তি পরিষদের গঠন অবধি বামপন্থীদের নেতৃত্বে ত্রিপুরার রাজনীতি একইসাথে জনজাতি সমাজের জমির অধিকার, সামন্ততান্ত্রিক শোষণের অবসান এবং বাঙালি জনজাতি ঐক্য সম্প্রীতির ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিকশিত করার পথে সুদৃঢ়ভাবে এগিয়ে যায়। ত্রিপুরার রাজ পরিবারের শাসন আমলে যেমন জনজাতি সমাজ ছিল সবচেয়ে নিপীড়িত ও শোষিত, একইভাবে রাজ পরিবার যে দলের রাজনীতির নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হয় সেই কংগ্রেসের রাজত্বকালেও জনজাতি কৃষকদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। জনজাতিদের মাতৃভাষার অধিকার সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়।
ত্রিপুরার জনজাতিদের ভাষা সংস্কৃতি ও আত্মশাসনের অধিকার প্রথম স্বীকৃত এবং বাস্তবায়িত হয় ১৯৭৮ সালে বামফ্রন্ট সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে। ২০০০ সালে ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম বামপন্থীরা পরাস্ত হয়। যদিও ২০০৫ সালেই এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে আইএনপিটি ভেঙে বেরিয়ে আসা একটি সংগঠনের সাথে মৈত্রীবদ্ধ হয়ে বামপন্থীরা বিপুলভাবে জয়ী হয়। ২০০৩ সাল থেকে ২০১৩ সালের বিধানসভা নির্বাচন অবধি জনজাতিদের জন্যে সংরক্ষিত আসনের সিংহভাগে বামপন্থীরা বিপুলভাবে জয়ী হয়। ১৯৭৭ সালের পর ২০১৩ সালের নির্বাচনেই বামপন্থীদের জয় ছিল বৃহত্তম। ২০১৮ সালের পরাজয় ছিল বিপুল অর্থব্যয়ে বিজেপি দলের লাগাতর অপপ্রচার ও মিথ্যে প্রতিশ্রুতির ফানুসের সামনে বিভ্রান্ত হয়ে পড়া জনগণের রায়। তবে এই ফলাফলে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক ছিল জনজাতিদের সংরক্ষিত ২০ টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে বিজেপি জোটের জয়। ১৯৮৮ সালে সন্তোষ মোহন দেবের নেতৃত্বে যে রিগিং সর্বস্ব নির্বাচনের মাধ্যমে বামপন্থীরা ক্ষমতাচ্যুত হয়, সেই নির্বাচনেও জনজাতিদের সংরক্ষিত আসনের ৮টিতে জয় পেয়েছিল বামপন্থীরাই। ২০২১ সালের স্বশাসিত জেলা পরিষদের নির্বাচন ও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভার জনজাতি সংরক্ষিত আসনের একটিতেও জয়লাভ করতে পারেনি বামপন্থীরা। পূর্ণাঙ্গ রাজ্য হিসেবে গঠিত হওয়ার পর ১৯৭২ সালের প্রথম নির্বাচনের পর থেকে এখন অবধি এতটা শোচনীয় ফলাফল বামপন্থীদের কখনোই হয়নি।
এর কারণ কী? একটি বিশ্লেষণে বলা হয়ে থাকে যে, স্বশাসন ও মাতৃভাষার অধিকারে বলীয়ান নতুন প্রজন্মের জনজাতিদের মধ্যে আত্মপরিচয়ের প্রশ্নটিও নতুন চেহারায় দেখা দিচ্ছে যার স্বরূপ হয়ত প্রতিবেশী বঙ্গভাষী সমাজ সহ বামপন্থী রাজনীতির তরফেও সম্পূর্ণভাবে অনুধাবন করা সম্ভব হচ্ছে না। বাঙালি ও জনজাতিদের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের যে ধারা ছিল তাতে এক ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে বিগত কয়েকটি দশকে। এই ব্যাঘাত ঘটানোয় বিরোধী রাজনীতির একটি সক্রিয় ভূমিকা থাকলেও একে সময়মত অনুধাবন করে সঠিকভাবে মোকাবিলা করার মতো সাংস্কৃতিক রাজনীতির সংজ্ঞায়নও সম্ভব হয় নি হয়ত বামপন্থী আন্দোলনের তরফে। এখানে বহুভাষিকতার উৎসাহ প্রদানের রাজনীতির চর্চারও হয়ত প্রয়োজন ছিল। রাজ্যের প্রধান দু'টি ভাষাগোষ্ঠীর জনগণকে পরস্পরের ভাষায় সমভাবে সংলাপে সক্ষম করে তোলার জন্যে যে বহুভাষিকতার চর্চার প্রয়োজন তা হয়ত এই সময় দাবিই করে। রাজ্যের প্রথম জন দ্বিতীয় জনের ভাষায় কথা বলতে সক্ষম, অথচ দ্বিতীয় জন প্রথম জনের ভাষা বিন্দুবিসর্গ বোঝে না, এমন একটি বাস্তবতায় পৃথকত্বের রাজনীতিতে সার পানি জোগানো কায়েমী স্বার্থবাদীদের জন্যে সহজতর হয়। এখান থেকে জন্ম নেওয়া পৃথকত্ব সমাজের গভীরে প্রবেশের পথ পেলে বিদ্বেষ ও বিরূপতার রাজনীতি অনভিপ্রেত চেহারা ধারণ করে। ত্রিপুরার ক্ষেত্রে সম্ভবত এই পথেই জনজাতি সমাজকে জাতি-জনজাতির মৈত্রীর রাজনীতি থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে। পৃথকত্ববাদী জনজাতি সংগঠন থেকে শুরু করে হিন্দুত্ববাদী আদিবাসী কল্যাণ আশ্রম এই কাজটিই করে গেছে বিগত কয়েক দশক ধরে নীরবে।
ফলে আগামীদিন দাবি করে জাতি জনজাতির সমন্বয় ও সহযোগিতার রাজনীতিকে সমাজের স্তর থেকে নতুন সাংস্কৃতিক রাজনীতির মাধ্যমে তুলে আনা। স্বাধীনতার পর বামপন্থীরা জনজাতিদের উপর সামন্তবাদী বাঙালি শোষকদের অত্যাচার নিপীড়নের বিরুদ্ধে ও জনজাতিদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি দেশভাগের বলি উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের দাবিতে যে মিলিত সংগ্রাম গড়ে তুলেছিল পারস্পরিক সামাজিক সহমর্মিতার সার্থক রূপায়নের মধ্য দিয়ে সেই লড়াইয়ের যথাযথ উত্তরাধিকার নির্মাণের মধ্য দিয়েই ভবিষ্যৎ ত্রিপুরার নতুন রাজনীতির পথ উন্মুক্ত হবে। ২০২৩ এর নির্বাচনী ফলাফল এই সত্যকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
প্রকাশের তারিখ: ২১-মার্চ-২০২৩
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২৫১ টি নিবন্ধ
২৪-মে-২০২৬
০৭-মে-২০২৬
২৯-মার্চ-২০২৬
২২-মার্চ-২০২৬
১৯-মার্চ-২০২৬
১৩-মার্চ-২০২৬
০৪-মার্চ-২০২৬
২৪-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
২৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
