Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

ইউরোপে থমকে গেল ফ্যাসিবাদের অগ্রগতি

প্রভাত পট্টনায়েক
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একমাত্র প্রাসঙ্গিক ফ্যাসিবিরোধী কর্মসূচি ছিল যুদ্ধ শেষ করা, তখন কোনও বিকল্প অর্থনৈতিক কর্মসূচির প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু অর্থনৈতিক কর্মসূচিবিহীন ফ্যাসিবিরোধী ফ্রন্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন কার্যকরী থাকলেও, এখনকার সন্ধিক্ষণে তা ঠিক উল্টো ফল দেবে। কারণ আমরা এখন সর্বগ্রাসী যুদ্ধের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি না। তাই, এখন যদি ফ্যাসিবিরোধী শক্তিসমূহ শুধুমাত্র কাছাকাছি আসে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবার জন্য কোনও অর্থনৈতিক কর্মসূচি না নেয়, তাহলে তা নয়া উদারবাদকে মেনে নেওয়ারই সামিল হবে।
Europe resists fascism

ফ্যাসিস্তদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা কোনো সরকার ক্ষমতায় চলে আসবে, এটা এখন পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশে হয় বাস্তব সত্য হয়ে উঠেছে, নতুবা সবসময়ই একটা আশঙ্কা হিসাবে কাজ করছে। ইউরোপে এ মুহূর্তে বেশ কয়েকটি দেশের সরকারের নেতৃত্বে রয়েছে ফ্যাসিবাদীরা। ফ্রান্স এই তালিকায় প্রায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল। তা যদি ঘটত তাহলে ইতালির পর ফ্রান্সই হত দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউরোপীয় শক্তি যেখানে ফ্যাসিবাদীরা সরকার গড়েছে। এরকমটা সত্যিই ঘটলে তা হত ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কারণ সেক্ষেত্রে মার্শাল পেঁত্যার নেতৃত্বাধীন ভিচি সরকার, যারা হিটলারের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য কুখ্যাত, তাদের পর এই প্রথম ফ্রান্সে ফের কোনও ফ্যাশিস্ত সরকার ক্ষমতাসীন হত। ফ্রান্সের মতো একটি দেশ, যারা দখলদার নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ পার্টিজান লড়াই গড়ে তুলেছিল, এবং যেদেশে সবসময়ই বামপন্থী ও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন শক্তিশালী ছিল, তেমন একটা দেশে ফ্যাশিস্তদের ক্ষমতায় বসাটা সত্যিই হত খুবই বিয়োগান্তক একটা পরিণতি। এই পরিণতি যে শুধু আটকে দেওয়া গেছে তাই নয়, বরং নিউ পপুলার ফ্রন্ট দ্বিতীয় এবং চূড়ান্ত দফার নির্বাচনে জয়ী হয়েছে।‌

ফ্যাসিবাদের উত্থান কোনো ব্যাখ্যাতীত ঘটনা নয়। ফ্যাসিবাদ রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চের একেবারে মাঝখানে চলে আসে পুঁজিবাদের সঙ্কটের সময়। এই পর্বে বৃহৎ পুঁজি ফ্যাসিবাদী উপাদানগুলোর সাথে জোট বাঁধে তার আধিপত্যের পথে সমস্ত কাঁটা উপড়ে ফেলতে। এজন্য তারা কাজে লাগায় বিভাজনের ফ্যাসিবাদী ডিসকোর্সকে এবং অসহায় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিবিধ ঘৃণার বয়ানকে উস্কে দেয়। এমন ঘটনাই ঘটেছিল ১৯৩০ এর দশকে গ্রেট ডিপ্রেশনের পর্বে। এবং এখন যখন নয়া উদারবাদী পুঁজিবাদ এক দীর্ঘ স্থবিরতা ও সঙ্কটের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, তখনও ঠিক একই ঘটনা ঘটছে। একটা সংখ্যা উল্লেখ করা যাক। ২০২৩ সালে  ইউরোপিয়ান এরিয়ার (যার মধ্যে পড়ে ১৯টি দেশ) প্রকৃত মোট (Real Gross) খরচযোগ্য গড় আয় (অর্থাৎ সরকারি কর এবং ভরতুকি বাদ দিয়ে  পারিবারিক আয়) ছিল ২০০৮ সালের তুলনায় মাত্র ৬.৪% বেশি। এই বৃদ্ধি আসলে তেমন বেশি নয়, বরং খুবই সামান্য। কিন্তু এখানে দুটি বিষয় লক্ষ্য করতে হবে। প্রথমত,‌’পরিবার’ বলতে এখানে ধনী ও দরিদ্র দুই শ্রেণিভুক্ত পরিবারই বোঝানো হয়েছে। 

ফলে এই পর্বে ঘটে যাওয়া আয়ের অসাম্য বৃদ্ধির কথা যদি ধরা যায়, তাহলে বেশির ভাগ লোকের খরচ করার মতো মাথাপিছু আয় আদৌ বাড়েনি।  দ্বিতীয়ত, ছোট পুঁজির মালিক ও ছোট উৎপাদকদের মজুত পুঁজির যে মূল্যহ্রাস, তা মোট পারিবারিক আয়ের হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, এই গোষ্ঠীর মোট পারিবারিক আয়ের এই ধরনের মূল্যহ্রাসের যে অনুপাত, এখন তা ২০০৮ সালের চেয়ে বেশিই হবে (কারণ উৎপাদন ক্ষমতা কম ব্যবহার হওয়ার কারণে পুঁজি বনাম উৎপাদনের অনুপাত এখন আগের চেয়ে বেশি)। একই কারণে বেশির ভাগ মানুষের মাথাপিছু নীট পারিবারিক খরচযোগ্য আয় বেড়েছে খুব সামান্যই। মানুষের মধ্যে জমে ওঠা মূল যে ক্রোধটাকে ফ্যাসিবাদ কাজে লাগাচ্ছে, সেটার উৎপত্তি স্থল হচ্ছে তাদের ক্রমশ তলিয়ে যাওয়া জীবনধারনের মান। অথচ নয়া উদারবাদী পুঁজিবাদের প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণেই সেটা ঘটছে। 

বৃহৎ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী  এবং হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা ফ্যাসিস্টদের মধ্যে আঁতাত গড়ে ওঠে নানান বৈচিত্র্যময় উপায় অবলম্বন করে । মানুষের ক্ষোভকে ব্যবহার করে ফ্যাসিস্টরা অনেক সময় গোড়ার দিকে বৃহৎ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বিরোধী অবস্থান নেয়।  উদাহরণ হিসাবে  বলা চলে, হিটলারের ঠিক এটাই করেছিল। তবে যখন তারা একরম ভেক ধরে তখনও সাধারণত কোনও না কোনও একচেটিয়া পুঁজির মালিক খোলাখুলি না হলেও, গোপনে তাদের মদত দেয়।  কিন্তু যেই মাত্র ফ্যাসিবাদ ক্ষমতায় আসে তখনই তারা খোলাখুলিভাবে বড় পুঁজির অংশীদার হিসেব নিজেদের আসল চেহারটা স্পষ্ট করে দেয়।  এমনকি তাদের যে সব সমর্থক একচেটিয়া বিরোধী পুরনো অবস্থান আঁকড়ে থাকে,  নিজেদের সেই সমস্ত সমর্থককেও রক্তাপ্লুত পথে নিকেশ করে ফেলতেও এরা দ্বিধাবোধ করেন না।

ভারত এই ব্যাপারে একটা ব্যতিক্রম। ভারতের ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো যখন একটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ায় , তখনও তারা বৃহৎ পুঁজির সঙ্গে, বিশেষ করে কয়েকটি নতুন একচেটিয়া পুঁজির সঙ্গে তাদের নৈকট্য নিয়ে কোনও রাখঢাক রােখ না। গ্রিসে যখন সাইরিজা আগেরকার সরকারগুলির চেয়ে ভিন্ন পথে এগোনোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিনান্স পুঁজির চাপের কাছে নতিস্বীকার করে, তখন ফরাসি ফ্যাসিবাদী নেতা মেরিন লে পেন, যিনি শুধু মুখে নয়া উদারবাদের তীব্র বাগাড়ম্বর করতেন, তিনিও বলেছিলেন সাইরিজা ‘‌বিশ্বাসঘাতকতা’‌ করেছে। কিন্তু তাঁর দৃশ্যত বিরোধী অবস্থান সত্ত্বেও, প্রকৃত প্রস্তাবে ফরাসি সংবাদমাধ্যমের ব্যারন ও ধনকুবের লগ্নিকারী ভিনসেন্ট বোল্যার লে পেনকে পূর্ণ মাত্রায় সমর্থন করেন। এবং নির্বাচনের সময় পেনের পার্টির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী জর্ডন বারদেল্লা লগ্নিপুঁজি-বিরোধী তাদের ঘোষিত পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে আসতে শুরু করেন। সেই পূর্ববর্তী অবস্থান ছিল ফিনান্স পুঁজির স্বার্থবিরোধী। তবে নির্বাচন এগিয়ে আসতেই সেই সময় তারা ফিনান্স পুঁজির কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে চাইছিল।  ইতালিতেও একই ঘটনা ঘটেছে। ফ্যাসিস্টদের নেতা গিওরগিয়া মেলোনি এমন ভাব করছিলেন যেন তাঁর পূর্বসূরী মারিয়ো দ্রাঘির চেয়ে তাঁর কর্মসূচিটাই আলাদা। এক্ষেত্রে দ্রাঘির কর্মসূচি ছিল একটা খোলামেলা নয়া উদারবাদী অ্যাজেন্ডা।  কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর, মেলোনি তাঁর পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে সরে আসেন এবং লগ্নিপুঁজির বিশ্বস্ত মিত্র হয়ে ওঠেন।

ঠিক একইরকমভাবে ইউরোপীয় ফ্যাসিবাদীরা ইউক্রেন যুদ্ধ বিষয়ে তাদের অবস্থান বদলেছে। ইউরোপের শ্রমিক শ্রেণি স্পষ্টতই যুদ্ধ বিরোধী। রাশিয়া থেকে পেট্রোপণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে জ্বালানি তেলের দাম খুব চড়া ও তার ফলে যে  মূল্যস্ফীতি ঘটছে তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শ্রমিকশ্রেণিই। শ্রমিকরা চাইছেন শান্তি। শ্রমিকদের সমর্থন পাওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে ফ্যাসিবাদীরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাদের নানা আপত্তির কথা জানায়। কিন্তু একবার ক্ষমতায় এসে যাওয়ার পর তারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পথেই হাঁটতে শুরু করে। যে লিবারাল বুর্জোয়া পার্টিগুলিকে সরিয়ে ফ্যাসিবাদীরা ক্ষমতায় এসেছে, ক্ষমতায় বসার পর তারা তাদের পূর্ববর্তীদের পদাঙ্কই অনুসরণ করে।  মেলোনি ঠিক এটাই করেছেন, এবং বারদেল্লাও ফ্রান্সে তাই করছিলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে ঘোষিত শান্তিকামী অবস্থান থেকে সাধারণভাবে সরে আসছিলেন।

সংক্ষেপে বললে, যে ফ্যাসিবাদ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে শ্রমিকশ্রেণিকে দ্বিধাবিভক্ত করে, তারা শ্রমিকদের সঙ্গে জালিয়াতি করার জন্য কুকর্মও করে।  উদারপন্থী বুর্জোয়া রাজনৈতিক দলগুলোর থেকে আলাদা হওয়ার ভান করা, তা সে অর্থনৈতিক নীতি সম্বন্ধে হোক বা ইউক্রেন যুদ্ধ বিষয়ে হোক, তাদের অবস্থান পুরোপুরি নকল এবং মিথ্যাশ্রয়ী। ইসলামবিদ্বেষ বা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে শত্রুতা বাড়াতে উস্কানি দেওয়া বা ঘৃণামূলক অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে অবশ্যই তাঁরা লিবারাল ডেমোক্রাটদের চেয়ে  চরমতরভাবে দক্ষিণপন্থী। কিন্তু যুদ্ধ ও শান্তি বিষয়ে এবং অর্থনৈতিক নীতি বিষয়ে লিবারাল ডেমোক্রাটদের চেয়ে আলাদা কিছু নয়। যদিও তারা শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করার ভান করেন। 

এরকম ভান করার সুযোগ তৈরি হয় যখন বামপন্থীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করার দায়বদ্ধতা পরিত্যাগ করে বুর্জোয়াদের পিছনে গিয়ে ভিড় করে। জার্মানিতে শ্রমিক শ্রেণি ব্যাপক ধাক্কা খেয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমী শক্তিগুলির অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ঘটা মূল্যস্ফীতির কারণে এবং জার্মান শ্রমিকশ্রেণি ইউক্রেন যুদ্ধের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেখানে কেবলমাত্র সোশ্যাল ডেমোক্রাটরাই না, এমনকি বামপন্থী দলগুলোও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পিছনে জড়ো হয়েছে। অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, বামপন্থী দলগুলো থেকে বেরিয়ে আসা সাহরা ওয়াগেনেট গোষ্ঠী শান্তির পক্ষে দাঁড়িয়েছে বলে তারা এসময় বেশি সমর্থন পাচ্ছে। একইভাবে, ইউরোপের বামেদের একটা বড় অংশ নয়া উদারবাদের ভোটদাতায় পরিণত হয়েছে, এবং এই অবস্থান  শ্রমিক শ্রেণিকে ভুল পথে চালনা করার কাজে ফ্যাসিবাদীদের সুবিধা করে দিচ্ছে। কার্যত,  বামেদের খুব বড় একটা অংশের আত্মসমর্পণের ফলে ইউরোপীয় ফ্যাসিবাদ ক্রমশ ফুলে ফেঁপে উঠছে।

কিন্তু এখানেই ফ্রান্স আলাদা। এখানে বামেরা কেবল নিউ পপুলার ফ্রন্টে ঐক্যবদ্ধ হননি, বরং নয়া উদারবাদকে এড়িয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থানকারী এক বিকল্প অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। ফ্রান্সে প্রাথমিকভাবে ফ্যাসিবাদের শক্তিসঞ্চয় ত্বরান্বিত হয়েছিল কারণ ফ্যাসিবাদকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার ইচ্ছা ও প্রচেষ্টার সমর্থনকারী কোনো বিকল্প অর্থনৈতিক কর্মসূচি উপস্থিত করা হয় নি। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়েই পুরোমাত্রায় উপভোগ করে ম্যাক্রোঁ ক্ষমতায় থেকে যান এবং শ্রমজীবী জনতার ক্রমাগত বিরোধিতা সত্ত্বেও নয়া উদারবাদী কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। ম্যাক্রোঁর সমর্থন যত কমছিল,  ততই বেশি বেশি করে ফ্যাসিবাদ এ সময়ে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছিল, কারণ তারাই তখন ঘৃণ্য অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে মূল কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল। এই দ্বান্দ্বিকতা এখন ভেঙে পড়েছে, এবং সেটা সত্যিই একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একমাত্র প্রাসঙ্গিক ফ্যাসিবিরোধী কর্মসূচি ছিল যুদ্ধ শেষ করা, তখন কোনও বিকল্প অর্থনৈতিক কর্মসূচির প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু অর্থনৈতিক কর্মসূচিবিহীন ফ্যাসিবিরোধী ফ্রন্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন কার্যকরী থাকলেও, এখনকার সন্ধিক্ষণে তা ঠিক উল্টো ফল দেবে। কারণ আমরা এখন সর্বগ্রাসী যুদ্ধের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি না। তাই, এখন যদি ফ্যাসিবিরোধী শক্তিসমূহ শুধুমাত্র কাছাকাছি আসে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবার জন্য কোনও অর্থনৈতিক কর্মসূচি না নেয়, তাহলে তাতে নয়া উদারবাদকে এবং সাম্রাজ্যবাদের উস্কে দেওয়া স্থানীয় যুদ্ধগুলোকেই পুরোপুরি মেনে নেওয়ারই সামিল হবে। এতে সময় যত যাবে ততই ফ্যাসিবাদকে জেতার সুযোগে মদত দেওয়ার সামিল হবে এবং স্বল্পকালীন বিচারে তা যত কার্যকর হোক না কেন, আসলে সেটার পরিণাম হবে স্ববিরোধী।

অবশ্যই, ইউরোপীয় বামপন্থীদের একাংশের আত্মসমর্পণ দীর্ঘদিন ধরে ঘটে চলেছে। ঘটে চলেছে সেই সময় থেকে যখন বামপন্থীদের একটা বড় অংশ যুগোস্লাভিয়ায় বোমা বর্ষণে সম্মতিজ্ঞাপন করেছিল। সাম্রাজ্যবাদের লেজুড় হয়ে চলার এই প্রবণতা এখন পরিপূর্ণতা লাভ করছে ইউক্রেনে সাম্রাজ্যবাদের কার্যক্রমের পরিপূর্ণ সম্মতিতে এবং নয়া উদারবাদের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপনের মাধ্যমে। আর এর ফলশ্রুতিতে,  ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে একচেটিয়া পুঁজির  বোঝাপড়া স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত, শান্তি ও মুক্তির পূজারি হিসাবে স্বীকৃতি পেয়ে যাচ্ছে ফ্যাসিবাদীরা।  এই প্রসঙ্গে ফ্রান্সই দেখাল নয়া উদারবাদের বিকল্প একটি অর্থনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণ করলে, নয়া উদারবাদকে অতিক্রম করে যাওয়া যায় এবং সেটাই ফ্যাসিবাদের পায়ের তলা থেকে জমি কেড়ে নেওযার কার্যকর রাস্তা। 


সূত্র: পিপলস ডেমোক্রেসি, ৮-১৪ জুলাই, ২০২৪
ভাষান্তর: নবারুণ চক্রবর্তী


আরও পড়ুন: নয়া উদারবাদের বিরুদ্ধে নয়া পপুলার ফ্রন্টের কর্মসূচি


 


প্রকাশের তারিখ: ১৬-জুলাই-২০২৪
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২৫০ টি নিবন্ধ
০৭-মে-২০২৬

২৯-মার্চ-২০২৬

২২-মার্চ-২০২৬

১৯-মার্চ-২০২৬

১৩-মার্চ-২০২৬

০৪-মার্চ-২০২৬

২৪-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২০-ফেব্রুয়ারি-২০২৬