সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ও বিজেপি-আরএস এস-এর মতলব - শেষ পর্ব
মালিনী ভট্টাচার্য
এর আগেও এমনটা ঘটেছে, শাহ বানো মামলার সময়। শাহ বানো মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটা খোরপোষের হুকুম দেওয়া হয়েছিল। ফৌজদারি আইনের ১২৫ নং ধারা অনুযায়ী। রাজীব গান্ধী বলেছিলেন, এই আইনের আওতায় মুসলিম মহিলারা পড়বেন না। মুসলিম মহিলাদের জন্যে একটা আলাদা আইন বানাতে হবে। আমরা অনেক প্রতিবাদ করেছি, অনেক আন্দোলন করেছি। সরকার শোনেনি। তারা নতুন আইন তৈরি করে।

শেষ পর্ব
অনেকে বলবেন তাহলে মোদী তো ঠিকই করছে। ৪৪ ধারা অনুযায়ী কাজই তো করছে, তবে বেশ করছে। বহুত্বের খাতিরে আমরা সাম্যকে তো বিসর্জন দিতে পারি না। বহু উদারবাদী মানুষও এই সমানাধিকারের যুক্তিই দিচ্ছেন। আসলে পারিবারিক আইন সময়ে বদলায়, তেমন নজিরও আছে। কিন্তু মোদী যেভাবে বদলাতে চাইছে সেটা বিপজ্জনক। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির চেহারাটা ঠিক কী, কী তার রূপরেখা তা এখনো অবধি আমাদের কাছে অজানা। ওরা যা বলবে, তাই মেনে নিতে হচ্ছে বা হবে। সংবিধানের ৪৪ ধারায় যা বলা ছিল তা গণতন্ত্রকে মাথায় রেখেই বলা ছিল। আর যদি এই গণতন্ত্রকেই বাদ দিয়ে ফেলা হয়, যদি আলোচনা, মতামত আদানপ্রদান, বিতর্ক এগুলির ভূমিকা ছাঁটাই হয়ে যায়, যদি সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের মতামতগুলিই না তুলে আনা হয়, তাহলে এই প্রচেষ্টাটি কার্যত সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক একটা প্রচেষ্টা। এটা তাহলে আদতে ৪৪ নং ধারার পরিপন্থী।
নির্বাচনী ইস্তেহারে বিজেপি বলেছিল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করবে। মোদী আসার পরে এ চেষ্টা আগেও ওরা করেছে একুশতম আইন কমিশনকে দিয়ে। ৭৫ হাজার মানুষের সাক্ষ্য নিয়েছিল আইন কমিশন। অনেক আলাপ আলোচনা করেছে। তারপর যে রিপোর্ট পেশ করেছে তারা, তার মূল সুপারিশ ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা প্রয়োজনীয় নয়, প্রার্থিতও নয়। এই রিপোর্টে আরও সুচিন্তিত বক্তব্য ছিল কোন কোন পারিবারিক আইনের সংবিধান অনুযায়ী সংশোধন প্রয়োজন, তাই নিয়ে। কিন্তু বিজেপি সর্বক্ষেত্রেই যেভাবে সংবিধানকে পদদলিত করছে, গণতন্ত্রকে পদদলিত করছে, বহুমতের থেকে একমতে পৌঁছানোর যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া তাকে অগ্রাহ্য করছে, তারই একটা উদাহরণ হল তারা একুশতম আইন কমিশনের এই সুপারিশ অগ্রাহ্য করে ২২তম আইন কমিশনকে আবার বাধ্য করেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা করতে।
পারিবারিক আইনের সংশোধন কীভাবে হতে পারে? শুধু এটুকু বললেই চলবে না যে মোদী অগণতান্ত্রিকভাবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করছে। আসল রাস্তা কোনটা সেটার সন্ধানও জানতে হবে। এই প্রক্রিয়া যে হয়নি গত ৭০-৭৫ বছরে তা কিন্তু নয়। স্বাধীনতার পরে বহুবার নানান আইনের পরিবর্তন হয়েছে। কিছু গণআন্দোলন, মেয়েদের আন্দোলনের সূত্র ধরে কিছু নতুন আইন এসেছে। স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট যেমন এবিষয়ে সামনের দিকে এগোনোর অসামান্য এক নজির। আম্বেদকর বলেছিলেন, সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মেনে নিতে হবে অভিন্ন দেওয়ানি আইন, তা নয়। কিন্তু যাঁরা পারিবারিক আইনের বাইরে নিজেদের জন্য কিছু সাধারণ বিধি চান তাঁদেরও যেন সে সুযোগ থাকে। স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট কোনো নির্দিষ্ট ধর্মভিত্তিক বিবাহের আইন না। কিন্তু যারা এই আইনের মধ্য দিয়ে বিবাহিত হবেন তাদের ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পত্তির অধিকার-সহ অন্যান্য পারিবারিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
এছাড়াও মেয়েদের ওপর পরিবারের মধ্যে যে অত্যাচার চলে তার বিরুদ্ধে মেয়েদের আন্দোলনের চাপেই একাধিক আইন তৈরি হয়েছে। পণপ্রথার দরুণ যে অত্যাচার হয়, সেটা এখন শুধু হিন্দু সমাজেই আবদ্ধ নয়, অন্যান্য সমাজেও এই পণপ্রথার প্রকোপ দেখতে পারছি আমরা। পণপ্রথার জন্য অত্যাচার নিবারণের উদ্দেশ্যে যে আইন তা কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মেয়েদের সুরক্ষার জন্য না, সব সম্প্রদায়ের মেয়েদের জন্যেই এই আইন। তারপরে পারিবারিক পরিসরে অত্যাচারের বিরুদ্ধে যে আইন, Protection of Women from Domestic Violence Act, 2005 তাও অনেক লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই তৈরি হয়েছে। কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য নয় এগুলো। বরং পারিবারিক প্রথার অত্যাচার থেকে মেয়েদের রক্ষা করবার জন্য সমস্ত সম্প্রদায়ের মেয়েদের সমতা ও সুবিচারের ভাবনা থেকে এই আইনগুলোর নির্মাণ।
এই আইনগুলো কিন্তু একদিনে পাশ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল নানান স্তরে। কেন পাশ হচ্ছিল না একদিনে? আরএসএস ও তার সমমনোভাবাপন্ন সম-মানসিকতার লোকেরাই তো বাধা দিচ্ছিল। তাদের ক্রমিক বাধার মুখে দীর্ঘদিন ধরে আলাপ আলোচনা তর্ক হতে হতে শেষে এই আইনগুলির পক্ষে জনমত জোরালো হতে শুরু করল। এগুলি যে পারিবারিক আইনের শৃঙ্খল থেকে কিছুটা মেয়েদের মুক্তি দিয়েছে, কিছুটা সুরাহা করেছে তাতে কিন্তু সন্দেহ নেই। পারিবারিক আইনের সংশোধন হতে পারে আরও একভাবে। সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে যাঁরা প্রগতিশীল চিন্তার মানুষ, যাঁরা মনে করছেন পুরোনো প্রথা সময়ের সঙ্গে খাপ খাচ্ছে না, বরং নানা সমস্যা, অসুবিধার জন্ম দিচ্ছে, মানুষকে কষ্ট বা অত্যাচারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এটা যারা বুঝছেন তাঁরা কিন্তু নিজেদের সম্প্রদায়ের ভিতর থেকে নানা ধরনের আন্দোলন তৈরি করেছেন, জনমত তৈরি করেছেন, এবং এর ফলে কিছু আইনি সংশোধনও সম্ভব হয়েছে। হিন্দু কোড বিল বা হিন্দু পারিবারিক আইনের কিছু সংশোধন, খ্রিস্টানদের বিবাহবিচ্ছেদ আইনের কিছু সংশোধন কিন্তু এই পদ্ধতিতেই হয়েছে। তাৎক্ষণিক তিন তালাকের অমানবিক প্রথা যে রদ হয়েছে, তাকে সামনে রেখে মোদি নাম কুড়োতে চাইছে। মোদীর কৃতিত্ব কিন্তু একেবারেই নয় এটা। মেয়েদের নানান সংগঠন, মুসলিম মেয়েদের সংগঠন, মুসলিম সমাজের মধ্যে প্রগতিশীল সংগঠন এরা সবাই মিলে দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টের কাছে এই প্রথা রদ করার আবেদন রাখছিল। তারই পরিণতিতে সুপ্রিম কোর্ট এই রায় দিয়েছে যে তাৎক্ষণিক তিন তালাক আর আইনত সিদ্ধ বলে গণ্য হবে না। মুসলিম পারিবারিক আইনের মধ্যে এইভাবেই নারীসাম্যের অনুকূল একটা সংশোধন ঘটতে দেখলাম আমরা। আর এই তাগিদ এসেছিল সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকেই।
একুশতম আইন কমিশনের একটি সুপারিশ হল : যে মেয়েদের তাৎক্ষণিক তালাকপ্রাপ্ত হচ্ছে তাদের অর্থনৈতিক ও অন্যান্য অধিকার রক্ষা করতে হবে। শুধু কোর্ট বলে দিলেই সমাজের মধ্যে তিন তালাক রদ হয়ে যাবে তা তো নয়। এই অধিকার রক্ষার দায়িত্ব তো সরকারের। মোদী সরকার কিন্তু সেই মেয়েদের অধিকার রক্ষার রাস্তাতেই গেল না। বরং তার বদলে একটা ফৌজদারি আইন নিয়ে এল। যদি কোনো মুসলিম পুরুষ তিন তালাক দেবার চেষ্টা করে তাহলে তাকে জেলে দিতে হবে। আমরা যখন মুসলিম মেয়েদের কাছে যাই এই বিষয়টা নিয়ে প্রচার করতে তারা অনেক সময় বলেছে, ওরা যদি জেলে যায় যাক না! এত অত্যাচার করেছে ওরা। তোমরাই বা ওদের হয়ে এত বলতে আসছ কেন! মোদী তো ভালই করেছে। এরকম কথাও শুনতে হয়েছে আমাদের। পশ্চিমবঙ্গেই আমরা দেখেছি, যে মেয়েটি তিন তালাকের মামলায় বাদীপক্ষে ছিল এবং যাকে তার অসহায়তার মুহূর্তে আমাদের সংগঠন সাহায্য করেছিল এই আইন চালু হবার পরে সে প্রলুব্ধ হয়ে বিজেপির পক্ষে চলে গেছে। আমরা মুসলিম পুরুষদের অত্যাচারে ছাড় দিতে চাইছি, ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। ব্যাপারটা আসলে এই, কোনো স্বামী যদি কোনো স্ত্রীর উপরে অত্যাচার করে তাহলে তার প্রতিষেধক কিছু সাধারণ আইন ইতিমধ্যেই রয়েছে যা হিন্দু-মুসলিম-নির্বিশেষে সমস্ত মহিলার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাহলে মোদী আসলে কী করল? সাধারণ যে আইনগুলিতে মুসলিম মেয়েদের প্রবেশাধিকার ছিল তাদের সেখান থেকে সরিয়ে একটা কুঠুরির মধ্যে আটকে দিল! তোমরা মুসলিম মহিলা, তোমাদের জন্য এই আইন। সাধারণ ফৌজদারি আইনে তোমাদের যে অধিকার তা আর তোমাদের থাকবে না! এই বিশেষ আইন অনুযায়ীই বেআইনিভাবে তিন তালাক দেওয়া পুরুষদের শাস্তি চাইতে পারবে তোমরা। মোদীর এই কূট কায়দা মুসলিম সহ সমস্ত মহিলাদের কাছেই বুঝিয়ে বলা দরকার। যে আইন সবার জন্য রয়েছে, সে আইন কেন এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না!
এর আগেও এমনটা ঘটেছে, শাহ বানো মামলার সময়। শাহ বানো মামলায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটা খোরপোষের হুকুম দেওয়া হয়েছিল। ফৌজদারি আইনের ১২৫ নং ধারা অনুযায়ী। রাজীব গান্ধী বলেছিলেন, এই আইনের আওতায় মুসলিম মহিলারা পড়বেন না। মুসলিম মহিলাদের জন্যে একটা আলাদা আইন বানাতে হবে। আমরা অনেক প্রতিবাদ করেছি, অনেক আন্দোলন করেছি। সরকার শোনেনি। তারা নতুন আইন তৈরি করে। বড় আইনজ্ঞরা, যেমন ড্যানিয়েল লতিফি, বলেছিলেন এখনও কিন্তু অনেক মুসলিম মহিলাকেই খোরপোষের অধিকার পাইয়ে দিই আমরা ওই ১২৫ নং ধারাতেই। সার্বিক সুরাহার আওতা থেকে মুসলিম মহিলাদের আলাদা করে দেওয়া আসলে এক রকমের বিভাজন। এই ধরনের বিভাজনে সমাজের মধ্যে যারা কট্টরপন্থী তারাই উৎসাহিত হবে। তারা যুক্তিসহকারেই বলবে, মেয়েদের সুরাহার জন্য নয়, মুসলিম পুরুষদের জেলে পাঠানোর জন্যই এই আইন। দু'রকমভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই যখন আইন বদলানো যায় তখন মোদীর বিপরীত বন্দোবস্ত যে আসলে সংবিধানে গণতন্ত্রের অন্তঃসারকে খতম করার জন্যই তাতে সন্দেহ নেই।
মোদী বলছে তার এক বিশেষ স্নেহ আছে মুসলিম মেয়েদের প্রতি। যদি সত্যিই মোদী লিঙ্গসাম্যে বিশ্বাস করত, যদি পরিবারের মধ্যে মেয়েদের প্রতি যে অসাম্য তাকে রুখতে সত্যিই সে মনেপ্রাণে সচেষ্ট হত তাহলে ইতিমধ্যেই যেসব আইনি সংশোধনীর বা নতুন কিছু লিঙ্গসাম্যসূচক আইন প্রণয়নের দাবি উঠেছে, তা নিয়ে তার কিছুটা মাথাব্যথা থাকত। কিন্তু মুসলিম মেয়েদের প্রতি লোকদেখানো প্রীতির জায়গাতে দাঁড়িয়ে কেবল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর এই অনড় দাবিতেই লুকিয়ে মোদীর আসল উদ্দেশ্য।
কয়েকটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা খোলসা হবে আরও। মেয়েদের বিবাহ পরবর্তী অবস্থায় যে সম্পত্তি অর্জিত হয়, তা যদি তার নিজের নামে না হয়, তাহলে সেই সম্পত্তিতে মেয়েদের কোনো অধিকার থাকে না। আমরা বহুদিন ধরে বলছি, এই বিবাহোত্তর সম্পত্তিতে মেয়েদের অধিকার নিয়ে একটা আইন হওয়া দরকার। যে মেয়ের আয় নেই, রোজগার নেই, তারা তো সংসারে সারাজীবন শ্রম দেয়। কিন্তু সংসারে তাদের শ্রমের ফল যে সম্পত্তি তাতে তাদের কোনো অধিকার থাকে না। এইটুকু তো করতেই পারত চাইলে মোদী! এছাড়াও বহুদিন আগে জাতীয় মহিলা কমিশনে একটা খসড়া আইন তৈরি হয়েছিল যার মধ্যে আমাদের সংগঠনের (AIDWA) একটি বিশেষ ভূমিকা ছিল। পারিবারিক সম্মানের নাম করে যে অপরাধগুলো হয়, বা যারা তরুণ দম্পত্তি ভিন্ন জাতপাতধর্মের, তাদের উপর যে অত্যাচার হয়, খুন হয়, তা নিয়েই এই সার্বিক খসড়া আইন। এধরনের এত অপরাধ বিভিন্ন রাজ্যে ঘটছে যে মেয়েদের নিয়ে মোদীর বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তা থাকলে অনায়াসে এ আইন লাগু করতে পারত! খসড়াটি সরকারের কাছে জমা পড়েছিল; আজ কোন্ আস্তাকুঁড়ে তার স্থান হয়েছে আমরা জানি না। এছাড়াও আমাদের দীর্ঘদিনকার দাবি, ধর্ষণ সংক্রান্ত আইনের মধ্যে বৈবাহিক ধর্ষণ বা বিবাহ-অন্তর্ভুক্ত ধর্ষণের কথা আসে না, ব্যতিক্রম বলে বাদ আছে। আমরা বলছি অবিলম্বে একে অপরাধ বলে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। এতে মেয়েদের বৈবাহিক জীবনে নিরাপত্তা, পারিবারিক জীবনে নিরাপত্তা অনেকটা বাড়বে। কিন্তু এটা তারা করবে না, পরিবারের দোহাই দিয়ে। পরিবারের কথা বললে আমরাও যে অনেকে পিছিয়ে যাই নানান সময়ে। অনেকদিন ধরে দাবি আছে পূর্ণবয়স্কদের মধ্যে সমলিঙ্গ বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হোক। মোদীরা কিন্তু এর ঘোরতর বিরোধী। তাই এ নিয়ে কোনো কথা তারা বলছে না। অথচ এইসবই লিঙ্গসাম্যের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সার্বজনীন আইনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীদের নিজস্ব পৃথক পৃথক পারিবারিক আইন রয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলিকে বশে রাখতে চায় বলে মোদী ও তার সহযোগীরা এখন বলছে, আদিবাসীদের আইনগুলিকে সুরক্ষা দেওয়া হবে। কিন্তু একটা জিনিস তো বদলাতে পারে। নাগাদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক সমাজ। ওদের ভিলেজ কাউন্সিলগুলোতে মেয়েদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। ওখানকার মেয়েরা দীর্ঘদিন ধরে চাইছে সংরক্ষিত প্রতিনিধিত্ব। সে বেলায় মোদী চুপ।
কাজেই কোন জায়গায় মোদী বেশি কথা বলছে আর কোন জায়গায় চুপ করে থাকছে তা বিশদে খেয়াল করলেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আড়ালে আরএসএস-এর আসল উদ্দেশ্য কী তা বুঝতে পারব। আর আমরা যদি ভাবি এটি কেবল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যাপার, এটিতে বাকিদের কোনো বিপদ হবে না, তবে আমরা ভুল করব। আরএসএস-বিজেপি সরকারের এই অতিরিক্ত আইনি সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে সংবিধানে আমাদের আলাপ আলোচনার, বিতর্কের, ভিন্নমত পোষণ করবার অধিকারের কথা ভুলিয়ে দেবার চক্রান্ত চলছে। এতে তাদের জবরদস্তি প্রভুত্ববাদী ঐক্যের প্রচার সংগঠিত ও জোরদার হবে আরও। আমাদের পুরো জিনিসটা নিয়ে দেখে, ভেবে তবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা নীতিগতভাবে সাধারণ দেওয়ানি বিধির বিরুদ্ধে নই, কিন্তু কেন জোরজার করে বা কথায় ভুলিয়ে এইমুহূর্তেই ওপর থেকে তা চাপানোর চেষ্টা চলছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝার ওপরে নির্ভর করছে আমাদের অবস্থান।
নরেন সেন স্মারক বক্তৃতার অনুলিখন
প্রথম পর্ব পড়ার জন্য ক্লিক করুন।
প্রকাশের তারিখ: ৩০-সেপ্টেম্বর-২০২৩
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
