Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

ব্রাজিল পারে, পারে না ভারত

সুচিক্কণ দাস
ব্রাজিল পারে ট্রাম্পের পালটা জবাব দিতে। পারে মেক্সিকো-ও। কারণ তাদের নিজের শক্তির ওপর, সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী নীতির ওপর, স্বাধীন বিদেশনীতির ওপর এবং সাম্রাজ্যবাদের পালটা বিকল্প অর্থনীতি গড়ার অঙ্গীকার আছে।... আরএসএস, বিজেপি ও তাদের সহযোগী হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও কর্পোরেটের জোট এই অবস্থান নিতে পারে না। কারণ এই শক্তি ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতি বিসর্জন দিয়ে দেশকে সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অনুগামী করে তুলেছে।
Brazil can, India can't

শুল্কযুদ্ধে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চাপের বিরুদ্ধে মোদী সরকার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, এমন কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি। এবং নরেন্দ্র মোদী এখনও পর্যন্ত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ খোলার সাহস দেখাননি। 

বরং, এই দুটোই ছিল প্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া। 

অথচ, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মার্কিন হুমকি ও বঙ্গোপসাগরে পাঠানো মার্কিন রণতরীর ভীতি উপেক্ষা করে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টিতে সক্রিয় সহযোগিতা করে এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও পাক সামরিক জুন্টাকে দুর্বল করেছিল ভারত।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হুমকির প্রেক্ষিতে মোদী সরকার ও প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধী সরকারের পৃথক দুই দৃষ্টিভঙ্গীর পিছনে রয়েছে ভিন্ন ধরনের বিশ্ব পরিস্থিতি। বিভিন্ন শক্তির ভারসাম্য এবং তার ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট দেশের শাসকের মনোভাব। শ্রীমতি গান্ধী যখন মার্কিন হুমকি ও হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন, তখন ভারতের অন্যতম শক্তি ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত অর্থনীতির ক্ষেত্র। এবং তারই শক্তিতে বলীয়ান হয়ে বিদেশনীতির ক্ষেত্রে ছিল জোট নিরপেক্ষ অবস্থান। এই দুইয়ের সমন্বয়ে ভারত তখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হুমকির কাছে নতিস্বীকার না করে বরং আমেরিকার চোখরাঙানি অগ্রাহ্য করেছিল। আর এখন মোদী সরকারের অবস্থান ঠিক বিপরীত। 

নয়া উদারবাদী কাঠামোকে অনুসরণ করে অর্থনীতির ক্ষেত্রে মোদীর আমলে ধারাবাহিক ভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রকে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে। উল্টে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ পরিসরগুলি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে দেশি ও বিদেশি একচেটিয়া পুঁজির হাতে– যাদের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। এদেরকে এড়িয়ে গিয়ে মোদী সরকার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার পথে অগ্রসর হতে পারবে না। অন্যদিকে, মোদীর আমলে ভারত তার পুরনো জোট-নিরপেক্ষ অবস্থান ত্যাগ করে ক্রমশ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসী বিশ্ব রণনীতির অংশ হয়ে উঠেছে। একদিকে মার্কিন মদতে চীনের সঙ্গে শত্রুতা বাড়িয়েছে। সামরিকভাবে রুশ নির্ভরতা কমিয়ে বেশি বেশি করে মার্কিন অস্ত্র ও সাজসরঞ্জাম কিনছে। চীনকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় আটকাতে গিয়ে সাম্রাজ্যবাদী কোয়াড বা চতুঃশক্তির জোটে শরিক হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় খোলাখুলি ইজরায়েলের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এবং ইজরায়েলকে যুদ্ধের সময় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে প্যালেস্তাইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। গাজায় গণহত্যা ও দুর্ভিক্ষ সত্ত্বেও ভারত সরকার এনিয়ে কোনও বিবৃতি পর্যন্ত দেয়নি।

এই রকম একটা পরিস্থিতিতে মোদীর বন্ধু ট্রাম্প শুল্ক সাম্রাজ্যবাদের পর্ব শুরু করলেন। যখন দেখা গেল, দু’দেশের বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা পাঁচ দফার পরেও এগোচ্ছে না, তখন মোক্ষম চাল দিলেন ট্রাম্প। ভারতের ওপর তিনি চাপিয়ে দিলেন ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক। এর পিছনের গূঢ় কারণ হল, মার্কিন দাপুটে সংস্থাগুলি এদেশের কৃষি ও ডেয়ারি ক্ষেত্রে মার্কিন পণ্য রপ্তানির জন্য খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। এর ফলে কৃষক ও দুগ্ধ চাষিদের মধ্যে বিক্ষোভ ছড়ানোর ভয়ে রাজি হচ্ছিল না মোদী সরকার। ফলে বন্ধু ট্রাম্প চাপালেন ২৫ শতাংশ শুল্ক। এখন অবশ্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সাফাই দিচ্ছেন, কৃষির অসংবেদনশীল ক্ষেত্র খুলে দেওয়া হতে পারে। এর মানে শব্দের কারসাজিতে তৈরি করা হচ্ছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে আত্মসমর্পণের ছক।

অবশ্য ট্রাম্প এখানেই থামেননি। তিনি ফতোয়া দিলেন, সস্তায় রাশিয়ার তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধের খরচ যোগাচ্ছে ভারত। অতএব রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে হবে। সেকথা না শোনার অপরাধে তিনি চাপালেন আরও ২৫ শতাংশ জরিমানা শুল্ক। সব মিলিয়ে, ভারতের ওপর চাপানো হল ৫০ শতাংশ শুল্ক। যাতে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয়ে ভারত আত্মসমর্পণ করে আমারিকার বাণিজ্যে নীতির কাছে। স্পষ্ট ভাষায়, এ হল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ভণ্ডামি। 

কিন্তু রুশ তেল চীনও কেনে। এবং বিক্রি করে। সেই তেল চীন আসলে বিক্রি করে ইউরোপকে। চীন রাশিয়ার পরিশোধিত তেল ইউরোপকে বিক্রি না করলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়বে। তাতে আরও লাভ রাশিয়ার। ক্ষতি ইউরোপের। অথচ, চীনের গায়ে হাত দেওয়ার ক্ষমতা নেই ট্রাম্পের। তাছাড়া অর্থনীতিতে ইতিমধ্যেই চীন পিছনে ফেলে দিয়েছে আমেরিকাকে। যুদ্ধে হেরে আমেরিকা এখন চীনকে ধরে ফেলতে চাইছে। তাই চীনকে ঘাঁটানোর সাহস তাদের নেই। ইউরোপ রাশিয়ার কাছ থেকে অনেক পণ্য এবং এলএনজি কেনে। সেই বাণিজ্যের পরিমাণ ভারতের তেল বাণিজ্যের চেয়ে বেশি। তবু স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থে ট্রাম্প ইউরোপকে ছাড় দেবেন।

অন্যদিকে, ভারতের ওপর তিনি শুল্ক চাপিয়েই যাবেন। স্বাধীন সার্বভৌম দেশ ভারত। কার থেকে তেল কিনবে সেটা তার নিজের বিষয়। তার নিজের সুবিধার্থে সে যার কাছ থেকে খুশি তেল কিনবে। কিন্তু ভারতে যে আমেরিকার কাছ থেকে না কিনে রাশিয়ার কাছ থেকে কিনছে, সেটাই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের গাত্রদাহ। এনিয়ে মার্কিন কর্তাদের হুমকির বিরাম নেই। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স, প্রতিরক্ষা-সচিব পিট হেগসেথ, বিদেশ-সচিব মার্কো রুবিও, বাণিজ্যসচিব হাওয়ার্ড লুটনিক, প্রাক্তন বাণিজ্য-সচিব পিটার নাভারো, রিপাবলিক দলের নেত্রী নিকি হ্যালি, হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিয়েভিট– মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এই সব ডাকসাইটে প্রতিনিধিরা প্রতিদিন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ভারতকে কার্যত হুমকিই দিচ্ছেন রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে। এমনকী ভারত যেহেতু রুশ তেল পরিশোধন করে বিক্রি করে তাই এদেশকে তাঁরা কটাক্ষ করেছেন রাশিয়ার লন্ড্রোম্যাট বলে। 

অপারেশন সিঁদুরের পর কমপক্ষে তিরিশবারেরও বেশি ট্রাম্প দাবি করেছেন ভারত-পাক সংঘর্ষ তিনিই থামিয়েছেন। এর আগে অবৈধ অনাবাসী ভারতীয়দের হাতে পায়ে শিকল বেঁধে দেশে ফিরিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। অথচ শ্রী ৫৬ ইঞ্চি, যিনি নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় এখন এদেশের নাগরিকদের ভোটাধিকার কাড়তে চাইছেন এবং বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের জেলে পুরতে বিচার বিভাগের ক্ষমতা ছিনতাই করতে চাইছেন, সেই বীরপুঙ্গব মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হুমকির বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি করার সাহস পাচ্ছেন না। এখানেই সাম্রাজ্যাবাদের কাছে শ্রী ৫৬ ইঞ্চির আত্মসমর্পণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে যদি আমরা ১৯৭১ এ শ্রীমতি গান্ধীর ভূমিকার তুলনা করি তাহলেই নরেন্দ্র মোদীর ভীরুতা আরও স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়বে।

নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে যদি তৃতীয় বিশ্বের অন্য কয়েকটা দেশের তুলনা করা যায়, তাহলে এই আত্মসমর্পণ আরও স্পষ্ট হবে। ব্রাজিলে ব্রিকসের সম্মেলন শেষের পরেই ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যারা যারা মার্কিন ডলারের ক্ষমতা কমাতে চায় তাদের কড়া শাস্তি দেওয়া হবে। এরপর ট্রাম্প প্রথমে ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপালেন। উত্তরে কী বললেন লুলা? বললেন, ‘ট্রাম্প ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে আমাদের ভয় দেখাচ্ছেন। নিশ্চিতভাবেই আমরা বিষয়টিতে চূড়ান্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। কিন্তু গুরুত্ব দেওয়া মানে অধীনতা স্বীকার করা নয়। আমি সবাইকে সম্মান করি। আমিও চাই লোকে আমাকে সম্মান করুক। কোনও অবস্থাতেই বড় কোনও দেশের সঙ্গে ছোট দেশের মতো কথা বলবে না ব্রাজিল। আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষমতা কী তা জানি। ওদের প্রযুক্তির আয়তনের কথাও জানি। তবে সেজন্য আমরা ভীত নই।’ ট্রাম্পের মুখের ওপর একেবারে স্পষ্ট বার্তা। এর ফলে নিউইয়র্ক টাইমস লিখতে বাধ্য হল, লুলার মতো কেউই এভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অগ্রাহ্য করেননি (দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, ৩০ জুলাই, ২০২৫)।

দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসেই ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে দিয়ে তিনি রাখবেন আমেরিকান উপসাগর। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম জবাব দিয়েছিলেন, ‘উনি বলছেন উনি নাম দেবেন আমেরিকান উপসাগর। আমাদের কাছে এবং গোটা দুনিয়ার কাছে এটা মেক্সিকো উপসাগর। আমরা ও সারা দুনিয়া একে মেক্সিকো উপসাগর বলেই ডাকবে।’ (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ২১ জানুয়ারি, ২০২৫)। 

ব্রাজিল পারে ট্রাম্পের পালটা জবাব দিতে। পারে মেক্সিকো-ও। কারণ তাদের নিজের শক্তির ওপর, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নীতির ওপর, স্বাধীন বিদেশনীতির ওপর এবং সাম্রাজ্যবাদের পালটা বিকল্প অর্থনীতি গড়ার অঙ্গীকার আছে। সেই লড়াইয়ে নিত্যদিন শামিল তারা। আলাস্কায় লাল কার্পেটের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে পুতিন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আর্থিক নিষেধাজ্ঞাকে হাস্যকর করে তুলতে পারেন। কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে অগ্রাহ্য করে চলার মতো আর্থিক শক্তি এবং অফুরন্ত জ্বালানির ভাণ্ডার রাশিয়ার আছে। আর আছে নিজেদের সার্বভৌমত্বে অগাধ আস্থা। এবং তারা কখনই সাম্রাজ্যবাদী হুমকির কাছে মাথা নত করতে শেখেনি। কিংবা চীনও ট্রাম্পকে বুঝিয়ে দিতে পারে তারা আমেরিকাকে এক ইঞ্চিও জায়গা ছাড়বে না। কারণ গত কয়েক দশকে তারা নিঃশব্দে অর্থনীতিতে পিছনে ফেলে দিয়েছে মার্কিন সাম্রজ্যবাদকে। তার মানে হয়, আপনার আর্থিক ক্ষমতা থাকতে হবে, নতুবা কঠোর সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান থাকতে হবে। তবেই কোনও দেশ এত কঠিন অবস্থার মধ্যেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের তথা ট্রাম্পের হুমকিকে অগ্রাহ্য করতে পারে।

এদেশে আরএসএস, বিজেপি ও তাদের সহযোগী হিন্দুত্ববাদী শক্তি ও কর্পোরেটের জোট এই অবস্থান নিতে পারে না। কারণ এই শক্তি ভারতের স্বাধীন বিদেশ নীতি বিসর্জন দিয়ে দেশকে সাম্রাজ্যবাদ, বিশেষত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অনুগামী করে তুলেছে। অন্যদিকে অর্থনীতিকে দেশি ও বিদেশি কর্পোরেটদের হাতে তুলে দিয়ে গত সাত দশকে ধরে গড়ে তোলা ভারতের আর্থিক স্বনির্ভরতার নীতিকে বিসর্জন দিয়েছে। হিন্দুত্বের শক্তি ও কর্পোরেট জোট এদেশকে আর্থিকভাবে ও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে আরও বেশি করে সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর করে তুলেছে। তাই এদের পক্ষে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুখ খোলার কোনও সাহস থাকতে পারে না। এরা জানে শুধু আত্মসমর্পণ করতে। 

যেহেতু সাম্রাজ্যবাদ চায় এই ধরনের আত্মসমর্পণবাদী শক্তিগুলিই দেশে ক্ষমতায় থাকুক, তাই তারা রাজনৈতিকভাবে পূর্ণ মদত দিয়ে যায় এই শক্তিগুলিকে। এই শক্তিগুলিও ক্ষমতায় থাকার স্বার্থে বেশি বেশি করে বিশ্বায়িত লগ্নি পুঁজি এবং সাম্রাজ্যাবদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এভাবেই তৈরি হয় এই দুই জনবিরোধী শক্তির একটা সুবিধাজনক বোঝাপড়া। ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে হিন্দুত্বের শক্তি ও কর্পোরেট জোটকে অর্থনীতির আরও পরিসর ছেড়ে দিতে হয় সাম্রাজ্যবাদকে। অন্যদিকে আর্থিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় থাকার জন্য আরও বেশি স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে হয় এই জোটকে। 

ফলে হিন্দুত্বের শক্তি ও কর্পোরেট জোট ক্ষমতায় টিঁকে থাকার স্বার্থে এসআইআর-এর নামে ভোটধিকার কাড়ে, ভারতের সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বৈচিত্রকে বিসর্জন দিয়ে, কার্যত সংবিধানকে হত্যা করে ফ্যাসিস্ত হিন্দুত্বের একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়। তাই এদেশে আরএসএস, বিজেপিসহ হিন্দুত্বের শক্তি ও কর্পোরেট জোটের বিরুদ্ধে লড়াই ও লুঠেরা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত। একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটা লড়াই আলাদাভাবে সফল হতে পারে না।


প্রকাশের তারিখ: ০১-সেপ্টেম্বর-২০২৫
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২৫০ টি নিবন্ধ
০৭-মে-২০২৬

২৯-মার্চ-২০২৬

২২-মার্চ-২০২৬

১৯-মার্চ-২০২৬

১৩-মার্চ-২০২৬

০৪-মার্চ-২০২৬

২৪-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২০-ফেব্রুয়ারি-২০২৬