Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

ট্যাঙ্ক রপ্তানিই যুদ্ধজয়ের একমাত্র শর্ত নয়

সুচিক্কণ দাস
মনে রাখা দরকার মার্কিন এম১ অ্যাব্রাম ট্যাঙ্ক এখনও তৈরির প্রক্রিয়ায়। আমেরিকা কখনই চাইবে না অত্যাধুনিক এই ট্যাঙ্ক, যা তাদের শক্তির প্রতীক, তা রুশ গোলার ঘায়ে যুদ্ধক্ষেত্রে জ্বলতে থাকুক। তেমনটা হলে সেই ছবি ভাইরাল করবে রাশিয়া। তাছাড়া চেষ্টা করবে দখল করা ট্যাঙ্ক অস্ত্র কারখানায় নিয়ে গিয়ে তার কলকব্জা খুলে সব বুঝে নেওয়ার। সেরকম পরিস্থিতি যাতে তৈরি হয় সেজন্য ন্যাটোর একটা ট্যাঙ্ক ধ্বংস বা অকোজো বা দখল করতে পারলে ওয়াগনার  গ্রুপের সেনাদের জন্য বিপুল পরিমাণ ইনসেনটিভ ঘোষণা করেছে রাশিয়ার  বৃহৎ কর্পোরেশনগুলি। ফলে দুঃসাহসী রুশ বাহিনী ধ্বস্ত করতে পারে মার্কিন ট্যাঙ্ককেও। তেমন ছবি ভাইরাল হোক তা আমেরিকা নিশ্চয় চাইবে না। তাই তারা ধীরে চলো নীতি নিয়ে জার্মানিকে বলির পাঁঠা করেছে।
exporting tanks in Ukraine war

১। ন্যূনতম কত ট্যাঙ্ক দরকার ইউক্রেনের?

প্রশ্ন হল ন্যাটো বাহিনীর ট্যাঙ্ক পেলেই কি ইউক্রেন রাশিয়ার বাহিনীকে বেগ দিতে পারবে? এই সব ট্যাঙ্কের সঙ্গে রাশিয়ার টি ৯০ ট্যাঙ্ক, সেগুলির পুরু ইস্পাতের চাদর, কামান, বন্দুক, গতিবেগ, দ্রুত বিভিন্ন ধরনের রাস্তায় মানিয়ে চলার ক্ষমতা — এসব বিষয়ে পাল্লা দিয়ে যুদ্ধে জিততে পারবে? প্রতিটি যুদ্ধক্ষেত্রের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি এতটাই জটিল ও অস্থির যে এপ্রশ্নের আগাম উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। তবে কিছুটা অনুমানের ভিত্তিতে আলোচনা করা যেতে পারে।

সামরিক বাহিনীতে ট্যাঙ্ক আর্মার্ড ডিভিশনের অংশ। সোভিয়েত আমলের সামরিক ম্যানুয়ালের হিসাবে একটা আর্মার্ড ডিভিশনে অবশ্যই থাকতে হবে। কমপক্ষে ২৯৬টি ট্যাঙ্ক, ২৩০টি পদাতিক যোদ্ধাদের জন্য গাড়ি, ৫৪টি সেল্ফ প্রপেলড আর্টিলারি সিস্টেম, এছাড়া ২০০০ সাধারণ গাড়ি, এবং প্রায় ১২ হাজার সেনা ও অফিসার। যদি রুশ বাহিনীকে চাপে ফেলতে হয় তাহলে লুহানস্ক, ডনেৎস ও ঝপোরিজঝিয়া ফ্রন্টে অন্তত ১টা করে আর্মার্ড ডিভিশন দরকার ইউক্রেনের। মনে রাখতে হবে খেরসন থেকে বাখমুট—  ৮১৫ কিমি দীর্ঘ একটা ফ্রন্ট। এত দীর্ঘ পরিসরে তিনটি আর্মার্ড ডিভিশন মোটেই যথেষ্ট নয়। যুক্তির খাতিরে ধরে নেওয়া যাক ইউক্রেন তিনটি রণাঙ্গনে তিনটি আর্মার্ড ডিভিশন মোতায়েন করবে। তাহলে তাদের লাগবে ৯০০টি ট্যাঙ্ক। এছাড়া যুদ্ধে যদি বেলারুশের দিক থেকে আরও একটা ফ্রন্ট খোলা হয় তাহলে লাগবে ১২০০ ট্যাঙ্ক। এছাড়া লাগবে একটা রিজার্ভ আর্মার্ড ব্যাটেলিয়ন এবং কমান্ডার ইন চিফের নিজস্ব রিজার্ভ আর্মার্ড ব্যাটেলিয়ন। এর মানে দরকার হবে ১৮০০ ট্যাঙ্ক। এই যুদ্ধে ইউক্রেন বাহিনীর আর্মার্ড ইউনিটের গড় দৈনিক ক্ষয়ক্ষতি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে শত্রুর গোলায় অকেজো হয়ে পড়া ট্যাঙ্কের হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এছাড়া রয়েছে জেনারেল মেনটেনেন্স, মাঝারি ধরনের রিপেয়ার এবং পুরো রিপেয়ার করার মতো ট্যাঙ্ক। এর মানে একটা আর্মার্ড ডিভিশনে ন্যূনতম ১৮০০ ট্যাঙ্ক লাগবেই। তিনটি ডিভিশন থাকলে লাগবে ৫৪০০টি ট্যাঙ্ক। এই হিসাব বহু বছর আগের। এখন সংখ্যাটা আরও বেড়ে থাকতে পারে।

২। এখন কত ট্যাঙ্ক পেতে পারে ইউক্রেন

এখনও পর্যন্ত ব্রিটেন ও পোল্যান্ড জানিয়েছে তারা ১৪টি করে ট্যাঙ্ক দেবে। জার্মানিও তাই। আমেরিকা দেবে ৩১টি অ্যাব্রাম ট্যাঙ্ক। এর মানে আর্মার্ড ডিভিশনের ৪টি ইউনিটের ট্যাঙ্ক। সাধারণ ১৪টি ট্যাঙ্কে এক ইউনিট ধরা হয়। মার্কিন নেতৃত্বে জার্মানির রামস্টেইন বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ন্যাটোর ডিফেন্স কনট্যাক্ট গ্রুপের একটা বৈঠক হয় সম্প্রতি। সেখানে ১২টি ন্যাটোভুক্ত দেশ মোট ১৩৯টি ট্যাঙ্ক দিতে রাজি হয়েছে। এর মধ্যে থাকবে ৮৮টি লেপার্ড ১ ও ৫১টি লেপার্ড ২এ৪ ট্যাঙ্ক। এরপরেও জার্মানি জানিয়েছে এবছরের গ্রীষ্মের আগে তারা পাঠাতে পারবে মাত্র ২৯টি ট্যাঙ্ক, মানে ২ ইউনিট।

৩। আমেরিকার সমস্যা

মনে রাখা দরকার মার্কিন এম১ অ্যাব্রাম ট্যাঙ্ক এখনও তৈরির প্রক্রিয়ায়। আমেরিকা কখনই চাইবে না অত্যাধুনিক এই ট্যাঙ্ক, যা তাদের শক্তির প্রতীক, তা রুশ গোলার ঘায়ে যুদ্ধক্ষেত্রে জ্বলতে থাকুক। তেমনটা হলে সেই ছবি ভাইরাল করবে রাশিয়া। তাছাড়া চেষ্টা করবে দখল করা ট্যাঙ্ক অস্ত্র কারখানায় নিয়ে গিয়ে তার কলকব্জা খুলে সব বুঝে নেওয়ার। সেরকম পরিস্থিতি যাতে তৈরি হয় সেজন্য ন্যাটোর একটা ট্যাঙ্ক ধ্বংস বা অকোজো বা দখল করতে পারলে ওয়াগনার  গ্রুপের সেনাদের জন্য বিপুল পরিমাণ ইনসেনটিভ ঘোষণা করেছে রাশিয়ার  বৃহৎ কর্পোরেশনগুলি। ফলে দুঃসাহসী রুশ বাহিনী ধ্বস্ত করতে পারে মার্কিন ট্যাঙ্ককেও। তেমন ছবি ভাইরাল হোক তা আমেরিকা নিশ্চয় চাইবে না। তাই তারা ধীরে চলো নীতি নিয়ে জার্মানিকে বলির পাঁঠা করেছে। 

আমেরিকাকে ট্যাঙ্ক পাঠাতে হলে সঙ্গে পাঠাতে হবে উদ্ধারকারী দল, ট্যাঙ্ক রিপেয়ার ইউনিট, স্পেয়ার পার্টসের সরবরাহ। এবং যারা ওই ট্যাঙ্ক চালাবে তাদের দিতে হবে উন্নত প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ। না হলে কম দক্ষ ইউক্রেন সেনার হাতে পড়লে ক্ষতি হবে মার্কিন অস্ত্রের তথা মার্কিন সামরিক ভাবমূর্তির। নিজের দেশের বেহাল দশা দেখে বিক্ষোভ দেখা দবে খোদ আমেরিকার মাটিতেও। পেন্টাগন এমনটা কখনই হতে দেবে না। ফলে দরকারি সফলতা পেতে দরকার হবে কমপক্ষে ৩০০টি মার্কিন ট্যাঙ্ক।

৪। রুশ সেনার কম শক্তিধর নয়

মনে রাখা দরকার, ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রুশ বাহিনী ধ্বংস করেছে শত্রুপক্ষের ৩৭৬টি বিমান, ২০৩টি কপ্টার, ২৯৪৪ ইউ.এভি, ৪০২টি অ্যান্টি এয়ারক্রাফট মিসাইল সিস্টেম, ৯৮৮টি এম.এল.আরভি এবং ৩৮৯৮ ফিল্ড আর্টিলারি গান। ধ্বংস করেছে ৭৬১৪ ট্যাঙ্ক এবং অন্যান্য সাঁজোয়া গাড়ি। এই দাবি অবশ্য করেছেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইগর কোনাশেনকভ। ফলে খুব কম সংখ্যায় শক্তিশালী ট্যাঙ্ক যদি  কম প্রশিক্ষিত সেনাদের দিয়ে যুদ্ধে নামানো হয় তাহলে ক্ষতি বেশি হওয়ারই আশঙ্কা। ফলে দ্রুত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতেই হবে। আমেরিকা ও ন্যাটোকে। 

উল্টোদিকে সোভিয়েত টি ৯০ ট্যাঙ্ক যে অনেক যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র তা মানেন ন্যাটোর সামরিক কর্তারা। মনে রাখতে হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে স্তালিনগ্রাদের অদূরে কুরস্কের ঐতিহাসিক, কয়েকদিন ব্যাপী নির্মম ট্যাঙ্ক যুদ্ধে মোটা ইস্পাতের চাদরের, নাৎসি জার্মানির উন্নত প্রযুক্তির কয়েকশ ট্যাঙ্ক চুরমার করে দিয়েছিল লালফৌজের ট্যাঙ্ক ব্রিগেড। ট্যাঙ্ক যুদ্ধের ইতিহাসে তা স্মরণীয় হয়ে আছে। সেদিন থেকেই গোটা ইউরোপ ভয় পায় রুশ টি ৩৪ ট্যাঙ্ক বাহিনীকে। পরে এই লড়াই বিখ্যাত হয় ব্যাটল অফ খারকভ নামে। সেই ট্যাঙ্কেরই আরো উন্নত রূপ হল এখনকার টি ৯০ রুশ ট্যাঙ্ক।

৫। রুশ বাহিনীর সমস্যা

তবে একথাও মনে রাখা দরকার যে ইউক্রেনে ভারী অস্ত্র পাঠানো হবে না, এই শর্ত থেকে একবার যখন ন্যাটো সরে এসেছে, তখন ধরে নিতে হবে যে কালক্রমে তারা ১৮০০ ট্যাঙ্কই পাঠাবে। ধরা যাক, এই ট্যাঙ্ক বাহিনী যদি ঝপোরিজঝিয়া ফ্রন্টের প্রতিরোধ ভেঙে তিন দিনে ৮২ কিমি দূরে মেলিটোপোলে পৌঁছে যায়, তাহলে এই অভিযান রুশ প্রতিরোধ ভেঙে বিপন্ন করে তুলতে পারে মূল রাশিয়ার ভূমিকে।

এমন সম্ভাবনার কথা রুশ সেনানায়কেরাও জানেন। সেকারণেই তাঁদের লক্ষ্য হবে বাখমুট ফ্রন্টকে আরও বিস্তৃত করে দ্রুত খারকভ দখল করে ও ডনবাসের ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে কিয়েভের বাহিনীকে ঘিরে ফেলা ও কিয়েভ পৌঁছনোর রাস্তা তৈরি করা। শীতের শেষে, বসন্তের গোড়ায় তাই দুপক্ষই তৈরি হচ্ছে বিরাট অভিযানের জন্য। একদিকে ইউক্রেনের দিক থেকে প্রতি আক্রমণে নেমে রুশ বাহিনীকে পিছু হঠানোর লড়াই। অন্যদিকে সোলেডার, বাখমুটের জয়কে সংহত করে ন্যাটো জোটকে আরও চাপে রাখার প্রয়াস চালিয়ে যাবেরুশ বাহিনী। আক্রমণ শুরু হতে পারে অর্ধচন্দ্রের পশ্চিমপ্রান্তে খেরসন ফ্রন্টেও। কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেই যুদ্ধের পরিণতি, সেটাই এখন দেখার।


(এই অংশটি লেখার জন্য সাহায্য নেওয়া হয়েছে রাশিয়ার সামরিক অবজার্ভার, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ও বিমান প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মিখাইল খোদারিয়োঙ্কোর একটি নিবন্ধ থেকে।)


প্রকাশের তারিখ: ০৮-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২১১ টি নিবন্ধ
১৬-জুলাই-২০২৬

১৩-জুলাই-২০২৬

১৩-জুলাই-২০২৬

১২-জুলাই-২০২৬

২৯-জুন-২০২৬

২৮-জুন-২০২৬

২৭-জুন-২০২৬

১৭-জুন-২০২৬

১৭-জুন-২০২৬

১৬-জুন-২০২৬