সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
লেনিন আজও প্রাসঙ্গিক
সৌভিক ঘোষ
তবে কি আমাদের হাতে শুধুই পেনসিল রয়ে যাবে? না, আমাদেরও হাতিয়ার রয়েছে, আর তাকেই আমরা লেনিন বলে চিনি। তাই বারে বারে মনে রাখি প্রথাসম্মত বুদ্ধিজীবীতার ঝনঝনে মেধাসমৃদ্ধ ঢাকে বেজে ওঠা ফাঁপা আওয়াজের বিরুদ্ধে যে বিবমিষাকে আন্তনিও গ্রামশি’র উত্তরাধিকার বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে সেসব আমরা যার লেখা পড়ে শিখেছি তিনিই ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ, লেনিন। নাঝেদজা ক্রুপস্কায়া’র লেখায় (রেমিনিসেন্সেস অফ লেনিন) পাওয়া যায় কিংবা ‘এক পা আগে দুই পা পিছে’তে লেনিন নিজেই সেকথা লিখেছিলেন। পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে এমনও কেউ কেউ উপস্থিত ছিলেন যারা রাশিয়ার বাইরের মানুষ, বিপ্লববাদে বিশ্বাসী, মার্কসপন্থী হিসাবে নিজেদের জাহির করতে ভালবাসেন।

আমাদের মতো দেশ, যেখানে মেধা, চিন্তার উৎকর্ষ ইত্যাদি বিষয়ে ইউরোপীয় ধ্যান-ধারণাকেই মূলত ‘পাতে দেওয়ার মতো’ বলে ধরে নেওয়া হয়, সময়ের অভিঘাতে সেই দেশ যে ক্রমশ মার্কিনী চিন্তাভাবনার দিকে ঢলে পড়বে এমনটা আর কিছু না হোক অন্তত অর্থনৈতিক প্রসঙ্গের বিচার-বিবেচনায় অবশ্যম্ভাবীই ছিল। বোকা বোকা নিয়তিবাদ কিংবা সুসংহত নিটোল কোনও পরিণতিবাদের দোষে দুষ্ট না হয়েও এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। অ্যাবস্ট্র্যাক্ট অ্যালজ্যাব্রার অন্তর্গত গ্রুপ থিওরিতে উপপাদ্যের অছিলায় বেশ এক মজার কথা পড়েছিলাম- সাবগ্রুপ অফ এভরি সাইক্লিক গ্রুপ ইজ অ্যাগেইন সাইক্লিক। কমিউনিস্ট পার্টির কাজ সম্পর্কে ন্যূনতম বোঝাপড়া রয়েছে কিংবা কর্পোরেট অর্থনীতি ব্যাপারটা আলগোছে হলেও জানেন এমন যে কেউই বুঝবেন অমন সাবগ্রুপ কিভাবে প্রধান গ্রুপের বৈশিষ্টকেই এগিয়ে নিয়ে চলে। তাই আজকের দুনিয়ায় যাকে ‘কনসেন্ট্রেশন অফ ফিন্যান্স ক্যাপিটাল’ কিংবা ‘ফিন্যান্সিয়ালাইজেশন অফ ফিন্যান্স’ বলা হচ্ছে সেই বন্দোবস্তটিকে উপর থেকে দেখতে যতই অন্যরকম লাগুক না কেন আসলে তো সেই পুঁজি যার থেকে এখনও ৩০০ শতাংশ মুনাফার গন্ধ পেলে পুঁজির মালিককে যদি ফাঁসিকাঠেও ঝুলতে হয় তবুও এমন কোনও জঘন্য অপরাধ নেই যা থেকে পিছিয়ে আসার কথা ভাবে। সুতরাং দেশ-দুনিয়ায় যা কিছু ঘটছে সেসবের দিকে ভ্যবাচ্যাকা খেয়ে তাকিয়ে না থেকে মার্কসবাদীদের হয়ত যা কিছুতে মনোযোগী হওয়া উচিত কার্ল মার্কস সেদিকেই ইঙ্গিত করে গেছিলেন। যত বেশি পুঁজির কেন্দ্রীভবন ঘটবে, অবধারিত পরিণতি হিসাবে সমাজতন্ত্রে রূপান্তরিত হওয়ার বস্তুগত শর্তটিও উন্নততর পুঁজিবাদী সভ্যতার জন্য ততই সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে বাধ্য। আজকের পৃথিবীতে ঐ দার্শনিক সত্য প্রতিষ্ঠা হওয়ার বাস্তবিক ভিত্তি মার্কসের নিজের সময়ের চাইতেও অনেক, অনেক বেশি।
এই অবধি পড়েই যারা ‘এ ব্যাটা নিশ্চিত ইউরোসেন্ট্রিক’ বলে চিহ্নিত করতে চাইছেন তারা এখুনি জেনে রাখুন অমন একটা কিছু হওয়া তো দূর অস্ত, আরামকেদারায় বসা গডফ্রে হ্যারল্ড হার্ডির ছবি দেখিয়ে যে কায়দায় ‘এভাবে বসতেও বিশেষ যোগ্যতা লাগে’ বলে ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার্থীদের সিজনড করা হয় সে সুযোগটুকুও আমার নেই। তবে কি আমাদের হাতে শুধুই পেনসিল রয়ে যাবে? না, আমাদেরও হাতিয়ার রয়েছে, আর তাকেই আমরা লেনিন বলে চিনি। তাই বারে বারে মনে রাখি প্রথাসম্মত বুদ্ধিজীবীতার ঝনঝনে মেধাসমৃদ্ধ ঢাকে বেজে ওঠা ফাঁপা আওয়াজের বিরুদ্ধে যে বিবমিষাকে আন্তনিও গ্রামশি’র উত্তরাধিকার বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে সেসব আমরা যার লেখা পড়ে শিখেছি তিনিই ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ, লেনিন। নাঝেদজা ক্রুপস্কায়া’র লেখায় (রেমিনিসেন্সেস অফ লেনিন) পাওয়া যায় কিংবা ‘এক পা আগে দুই পা পিছে’তে লেনিন নিজেই সেকথা লিখেছিলেন। পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে এমনও কেউ কেউ উপস্থিত ছিলেন যারা রাশিয়ার বাইরের মানুষ, বিপ্লববাদে বিশ্বাসী, মার্কসপন্থী হিসাবে নিজেদের জাহির করতে ভালবাসেন। এমনই এক অধ্যাপক (ইনি কেন্দ্রীয় ডেলিগেট হিসাবে উপস্থিত ছিলেন) কংগ্রেসের অধিবেশনে চলা বিতর্ক, বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতান্তর, মনান্তর এমনকি অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে উঠে যাওয়া দেখে ব্যাপক হতাশ হয়েছিলেন। সেই হতাশার কথা নেতাকে জানানো উচিত ভেবে লেনিনের সাথে আলোচনায় বসেও ছিলেন। তার বক্তব্য ছিল- ‘এসব কি চলছে! এত ঝগড়া, অশান্তি, কথা কাটাকাটি! একে অন্যের বিরুদ্ধে এমন কটু কথাবার্তা! এসবই যে অ-কমরেডসুলভ আচরণ! কি বিরক্তিকর পরিবেশ!’ শিক্ষিত, মার্জিত একজন কেন্দ্রীয় ডেলিগেটের তরফে আসা সেই অভিযোগের উত্তরে লেনিন যা বলেছিলেন সে কথাগুলি কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীদের আজও গোটা গোটা করে কাগজে লিখে পড়ার জায়গার সামনে আটকে রাখা উচিত। হাসিমুখে লেনিনের উত্তর ছিল-‘দারুন পরিবেশ তো! সমস্ত মতামত সামনে এসেছে, প্রত্যেকেই নিজেদের মত ও গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছে। সবশেষে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমন বিতর্কই তো সজীব, একদম স্বাভাবিক। সম্মেলন মানেই তো সমস্ত মতামতের জন্য একটা নির্ণায়ক মঞ্চ, সামনে এগোনোর দিকনির্দেশ চিহ্নিতকরণের ময়দান। বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হওয়া অবশ্যম্ভাবী কারণ একটা সিদ্ধান্ত টানতে হবে। লাইব্রেরির চেয়ারে বসে অন্তহীন যে ধরণের বিতর্ক তোমরা চালাও সেসবই তো শেষে গিয়ে অকেজো। কারণ অমন বিতর্ক শেষ হয় এই জন্য নয় যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া গেল বরং এই জন্যই যে অনেকক্ষণ বকবক করে বক্তারা রীতিমত ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন!’ একনিষ্ঠ লেনিনবাদী ছিলেন বলেই প্রথাসম্মত বুদ্ধিজীবীদের অসারতা প্রসঙ্গে গ্রামশি কার্যকরী মেধাবৃত্তির তত্ত্বকে আরও প্রসারিত করেছিলেন। অনেকেই সেসব ভুলিয়ে দিতে চায়, তাই বারে বারে মনে করিয়ে দিতে হয়। অহেতুক অসাধারণ ভদ্রস্থ গোছের কিছু একটা হওয়ার নামে মধ্যবিত্ত আচার-আচরণকে কমিউনিস্ট নর্মস বলে চালিয়ে দিতে চান কেউ কেউ, তাদের জন্য লেনিনের তরফে মস্করা- ‘আমার কথা শেষ হলে উনি আর কিছু বললেন না, কাঁধ ঝাঁকিয়ে উঠে গেলেন। আসলে আমরা দুজনেই আলাদা আলাদা ভাষায় কথা বলছিলাম।’
কথা শুরু হয়েছিল আজকের পৃথিবীতে দক্ষিণ বা বলা ভালো উগ্র-দক্ষিণপন্থার দিকে হেলে পড়া সম্পর্কে। কেউ যেন না ভাবেন সেই থেকে আমরা সরে এসেছি, বরং এতক্ষণ যা বলা হল তাকে ‘আ বিট অফ প্রিপারেশন ফর দ্য কন্সেনট্রেশন অফ অল কমিউনিস্ট ফোর্সেস’ বলেই জানবেন, সহজ কথায় ঘর গুছানোর কাজ। তাতেও যদি কোনো অস্পষ্টতা থাকে তবে ল্যু শ্যুনের লেখালেখি পড়ে নেওয়াই যায়, আর ‘আর্ট অফ ওয়ার’ তো নিছক এক কেতাব মাত্র নয়। আবার এমন প্রিপারেশনকে কেউ গা জোয়ারির সংযুক্তিকরণ বলে দাগিয়ে দিতে পারেন। লেনিন নিজেই তার উত্তর দিয়ে গেছেন। মতাদর্শগত বিতর্ক চালিয়ে প্রতিপক্ষকে দুরমুশ করে দিতে যোসেফ স্তালিন কিংবা মাও সে তুং’এর যে জগতজোড়া খ্যাতি তারও সুত্রপাত লেনিনেরই হাত ধরে। একজায়গায় আসা বা নিয়ে আসা মানেই ‘তুম ভি ভালো, হম ভি ভালো’ না। একে কনশিলিয়েশন বলে, লেনিন তার ঘোর বিরোধী ছিলেন। মতাদর্শগত বিতর্ককে এড়িয়ে গিয়ে শুধুমাত্র পছন্দের লোকজনের ভিড় বাড়ানো যে পার্টির কাজ না একথাও মনে রাখতে হয়। তেমন হলে ত্রৎস্কি মেনশেভিক শিবির থেকে কোনদিনই ফিরতে পারতেন না। লেনিনের হিম্মত ছিল- তাই ভুল মতাদর্শ, ভুল চিন্তাভাবনা, নিজের মনের চিন্তাকে পার্টির ভাবনা বলে চালিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা সেসব সম্পর্কে সতর্ক থাকার কথা যেমন বলেছেন, আবার জিনোভিয়েভ, কামেনেভ কিংবা ত্রৎস্কি’রা আত্মসমালোচনা করে ফিরে আসতে চাইলে বাধা দেননি। মতাদর্শগত বিতর্ক মানেই সবাইকে বাদ দিয়ে একা একা পাহাড়ে চড়ে বসে থাকা না। আবার বন্ধুরা ছেড়ে চলে যাচ্ছে বলে গোদা ভুল’কেও ঠিক বলে মেনে নিতে হবে এমনও না। কাকাবাবু, মুজফফর আহমদ একসময় ‘বন্ধুর থেকে পার্টি বড়’ বলে উল্লেখ করেছিলেন- সেই উক্তির শিকড় লেনিনের ঐতিহ্যেই, এটুকু মনে রাখতে হয়। এই যে অবস্থান একেই অনেকে কুটকৌশল বলে ভুল বোঝেন, ব্যাপারটা যে সংগঠন প্রসঙ্গে দ্বন্দ্ব-তত্ত্বেরই প্রয়োগ এটা ভুলে যান। যেন তেন প্রকারেণ বিপরীতকে এড়িয়ে যাওয়া লেনিনের নীতি না, বিপরীতের সংগ্রামী ঐক্যই যে ডায়ালেক্টিক্যাল মেটিরিয়ালিজমের শাঁস সেকথা লেনিন এমনি এমনি লিখে যাননি।
তবে যে ‘কংক্রিট অ্যানালিসিস অফ দ্য কংক্রিট সিচ্যুয়েশন’ বলে একটা কথা রয়েছে, এবং তাকেই লেনিনের প্রকৃত উত্তরাধিকার বলে ধারণা করা হয়, চর্চা করা হয় তার কি হবে? ওটাও দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদেরই নিয়ম। চোখের সামনে কোনওকিছু ঠিক এই মুহূর্তে যে অবস্থায় রয়েছে তা যেমন সত্য তেমনই সত্য বস্তুর বহমানতা, গতিময় রুপান্তরের বাস্তবতা। ‘টেক দ্য ম্যাটার অ্যাজ ইট ইজ’ বলে বুঝতে শিখিয়ে পণ্ডিতেরা আমাদের মাথাটা গোলমাল করে দিতে চান, আসল কথাটা হল ‘কন্সিডার দ্য ম্যাটার উইদিন ইটস মোশন’। ত্রৎস্কি ভবিষ্যতে নেপোলিয়ন গোছের কিছু একটা হয়ে উঠতে পারেন এই দুশ্চিন্তা থেকেই জিনোভিয়েভ, কামেনেভ’রা নিজেদের অবস্থান পাল্টে স্তালিনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। লেনিনের শেষ চিঠি বা লেনিনের উইল ট্যুইল বলে কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাসকে কন্সপিরেসি থিয়োরির আলোকে ব্যখ্যা দিতে চাইলে অন্য কথা- তা নাহলে সত্য তো এই যে, ঐ চিঠিতেই স্তালিন ও ত্রৎস্কি উভয়ের প্রসঙ্গেই সবচেয়ে কাজের কথাটি তিনিই লিখে গেছিলেন। পার্টির ভিতরের ভয়ানক অকর্মণ্যতার প্রতিরোধে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন যে শেষ অবধি স্তালিন’কে ব্যতিব্যস্ত করে তুলবে, যত দিন যাবে মারাত্মক অধৈর্য হয়ে উঠতে তিনি যে বাধ্য হবেন সেই কথা লেখা ছিল। তাই সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে এমন কারোর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিলেন যিনি কমরেডদের সাথে আলোচনায় অনেক বেশি সহমর্মী হবেন, আর অন্য সব বিষয়ে স্তালিনই হবেন- এই ছিল লেনিনের মত। ত্রৎস্কি সম্পর্কে কি লিখেছিলেন? ইনি যেকোনও সমস্যার সমাধানে আমলাতান্ত্রিক কৌশলে (উপর থেকে সার্কুলার জারী করে) সমাধান করতে চান, নিজের মতামত প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে পার্টির বিরুদ্ধে চলে যেতে যে তার এতটুকু আটকাবে না- লেনিন ছাড়া আর কেই বা এমন কায়দায় সতর্ক করে গেছেন? ইতিহাস প্রমাণ করেছে, লেনিনের দুটি ভাবনাই পরে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। তাই আজ যা রয়েছে সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তাকে ধরেই আজকের জন্য জরুরী সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তেমনই ভবিষ্যতের দিকে চেয়েও কিছু কাজ তোলা থাকে, রাখতে হয়। সবটা একজায়গায় এনে বিচারের নামে গুলিয়ে-মুলিয়ে একাকার করে ফেললে চলে না।
আমরা স্কুলে, কলেজে এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও যে কায়দায় লেখাপড়া করি সেসবই ফর্ম্যাল লজিক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাই আমরা উঠতে বসতে সবকিছুতে একটা চেনা জানা নকশা (প্যাটার্ন) বা ছক খুঁজি। এমন ছকমেলানো চলায় একধরণের মানসিক শান্তি পাওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথের তাসের দেশ’কে কেউ কেউ কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে লালায়িত হন। তারা যেন মনে রাখেন দুনিয়াজোড়া পুঁজির শাসন যে কায়দায় এক মনস্তাত্বিক আধিপত্য কায়েম করে রাখে তার বিরুদ্ধে অমন ব্যাখ্যা আর দুটি নেই। তাই আমাদের কেন গ্রামশি’র মতো কেউ নেই বলে হা-হুতাশ করার কিছু নেই। আমাদের যা আছে সেই দিয়েই আমরা অনেকদূর অবধি এগোতে পারি। কখনো যদি কোথাও আটকেও যাই, তখন লেনিন আছেন।
রাশিয়ার পথ বনাম চিনের পথ বলে একটা আড়বোঝা কথা চলে। কেউ যেন না ভুলি, ‘শত পুষ্প বিকশিত হোক’ বলে মাও সে তুং যা কিছুর প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তা আসলে লেনিনেরই উত্তরাধিকার। লেনিনের পার্টিতে স্তালিনও ছিলেন, যতদিন অবধি রাখা যায় ততদিন ত্রৎস্কি’ও ছিলেন।
প্রকাশের তারিখ: ২৫-জানুয়ারি-২০২৪
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
