সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
দুই কংগ্রেস
রতন খাসনবিশ
বাজারমুখী সংস্কারের নামে এক সময় চীনে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত এন্টারপ্রাইজগুলিকে কমজোর করে, তার জায়গায় বেসরকারি পুঁজি চালিত এন্টারপ্রাইজগুলির গুরুত্ব বৃদ্ধির চেষ্টা চলছিল। সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতিতে রাষ্ট্র যে বাজারের ওপর কর্তৃত্ব করে দেঙ শিয়াও পিংয়ের এই মূল উপলব্ধিটিকে কালক্রমে দুর্বল করে তোলা হচ্ছিল।

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেস শুরু হতে চলেছে ২০২২ এর ১৬ অক্টোবর। এই পার্টি কংগ্রেসের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে চীনে শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে পার্টিকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে সমাজতান্ত্রিক আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়াটি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। বাজারমুখী সংস্কারের নামে এক সময় চীনে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত এন্টারপ্রাইজগুলিকে কমজোর করে, তার জায়গায় বেসরকারি পুঁজি–চালিত এন্টারপ্রাইজগুলির গুরুত্ব বৃদ্ধির চেষ্টা চলছিল। সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতিতে রাষ্ট্র যে বাজারের ওপর কর্তৃত্ব করে দেঙ শিয়াও পিংয়ের এই মূল উপলব্ধিটিকে কালক্রমে দুর্বল করে তোলা হচ্ছিল। সমাজতন্ত্র চায় স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি মারফৎ উৎপাদী শক্তির বিকাশ, যে কোনও বৃদ্ধিই সমাজতন্ত্রের অনুকূলে যায় না, বৃদ্ধির চাই যৌথ স্বাচ্ছন্দ্য দৃঢ়তর করার শক্তি — সমাজতন্ত্রের যাত্রাপথে বহু অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এই উপলব্ধিতে উপনীত হয়। সংক্ষেপে সমাজতন্ত্র বলতে বোঝায় ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিলোপ, কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো কথিত সমাজতন্ত্রের এই রূপরেখাটি প্রকৃত সমাজতন্ত্র গড়ার পক্ষে যে যথেষ্ট নয়, সোভিয়েতের সমাজতন্ত্র গড়ার পরীক্ষায় তা প্রমাণিত হয়। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সমাজতন্ত্র গড়ার অভিজ্ঞতাও প্রমাণ করে বিষয়টি অত সহজ নয়। সমাজতন্ত্র ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিলোপ ঘটাতে পারবে না একটা দীর্ঘ পর্যায় জুড়ে। সমাজতন্ত্র বাজারকেও বাদ দিয়ে চলতে পারবে না। উৎপাদন কুশলতা রক্ষা করার স্বার্থে একইসঙ্গে সমাজতন্ত্র চাইবে যৌথ স্বাচ্ছন্দ্যের বিকাশ যার জন্য সর্বহারার শ্রেণি রাষ্ট্রকে রাখতে হবে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায়।
বিষয়টি অত্যন্ত জটিল, প্রতি পদে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দেঙ তাঁর জীবৎকালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি গড়ার দিশা কীভাবে গড়ে তোলা যাবে, সে নিয়ে পরীক্ষা–নিরীক্ষায় নামেন। দুটি জিনিস তাঁর কাছে পরিষ্কার ছিল। এক, লেনিনবাদ সমাজজীবনে কমিউনিস্ট পার্টির যে গুরুত্বের কথা বলে সেটা রক্ষা করতে হবে। কোনও কারণেই তা থেকে সরে আসা যাবে না— কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্ব লঘু করে এনজিও অথবা কোনও দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে সমাজতন্ত্র গড়া যাবে না। সমাজতন্ত্রের জন্য চাই কমিউনিস্ট পার্টি, লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি, যা সমাজতন্ত্র গড়ার ক্ষেত্রে কিংবা বিপ্লব সংগঠিত করার ক্ষেত্রে কমিউনিস্টদের অগ্রণী ভূমিকার গুরুত্ব লঘু করে না। দ্বিতীয় শিক্ষা এই যে, বাজার অর্থনীতির উৎপাদন কুশলতা স্বীকার করার অর্থ এই নয় যে, বাজারকে অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। যদি উৎপাদন কুশলতা রক্ষার জন্য বাজার ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা থাকে, সেই বাজারকেও থাকতে হবে কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রের অধীনে। রাষ্ট্রের চরিত্র নির্ধারণ করবে কমিউনিস্টরা, এই নির্ধারিত চরিত্রটি হবে যৌথ স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধিকারী সমাজ, একমাত্র সমাজতন্ত্রই যা দিতে পারে।
পার্টির গুরুত্ব লঘু করার যতগুলি উপায় আছে তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় হল পার্টির ভুলত্রুটির জন্য পার্টি নেতাদের হেনস্থা করা, সোভিয়েতে স্তালিনের মূল্যায়নের নামে যে কাজটা করা হয়েছিল এবং যার ফলে শেষ পর্যন্ত দেশটি তার সমাজতান্ত্রিক লক্ষ্যই হারিয়ে ফেলে। একইভাবে বাজার অর্থনীতির উৎপাদন কুশলতার নামে মুক্ত অর্থনীতির জয়গান গাওয়ার যে প্রবণতা আছে, বহু বিদগ্ধ মার্কসবাদী অর্থনীতিবিদ যার শিকার হয়েছেন, সমাজতন্ত্র গড়তে হলে সেটিকেই নাকচ করতে হবে সবার আগে। অনিয়ন্ত্রিত বাজার অর্থনীতি পুঁজির সেবা করে, পুঁজি হল যৌথ স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধির প্রতিকূল শক্তি। বাজার কার কাজে লাগবে এটা নির্ভর করে বাজারকে কে দখলে আনছে, কার স্বার্থে বাজার অর্থনীতি কাজ করছে, এই মৌলিক বিষয়টি দিয়ে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি যখন এই বিষয়গুলির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে শুরু করেছে, তখন বিশ্বজোড়া এক টালমাটাল পরিস্থিতি। নয়া-উদারবাদ বিপুল গতিতে সমাজজীবনকে গ্রাস করছে। সোভিয়েত–বিহীন পৃথিবীতে পুঁজিবাদের বিকল্প হিসাবে আদৌ কোনও কিছু আছে কিনা এ প্রশ্ন উঠেছে। বাজারমুখী সংস্কারের নামে দেশে দেশে ভেঙে পড়ছে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো। এই রকম এককঠিন পরিস্থিতিতে দেঙ এবং দেঙ–উত্তর চীন এক অচেনা পৃথিবীতে নতুন এক লং মার্চে নামে। এই দীর্ঘ এবং জটিল পথ পরিক্রমায় দেঙের মৃত্যু (১৯৮৯) থেকে শি জিনপিং–এর ক্ষমতায় আসা (২০১২), এক কঠিন সমস্যাসঙ্কুল পর্যায়। সমাজতন্ত্র গড়ে তোলার জন্য কমিউনিস্ট পার্টির যে নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা আছে, তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেই যে সমাজতন্ত্র গড়ে ওঠে, কিংবা ভাঙনের মুখে পড়ে (যেমনটি ঘটেছে সোভিয়েত রাশিয়ায়)— এই কঠিন সত্যটি ক্রমশ লঘু করে দেখা শুরু হয়েছিল। বাজার অর্থনীতির সমাজতান্ত্রিক দিশাটি কী হতে পারে এনিয়ে নানা বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল। বাজারমুখী সংস্কার এবং একইসঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্ব হ্রাস, সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল যে চীনের ইতিহাস রচিত হতে চলেছে এই পথে। জিডিপির উচ্চহারে বৃদ্ধি দাঁড়িয়ে গিয়েছিল চীনের রাষ্ট্রনায়কদের প্রায় একমাত্র লক্ষ্য। যে নীতি রচিত হচ্ছিল তাতে বাজারের সঙ্গে আপোষের নামে নয়া-উদারবাদের সঙ্গে আপোষের রাস্তা খুলে যাচ্ছিল গণ চীনে। পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতির রাষ্ট্রনায়কেরা এই পর্যায়ে চীনকে একটি ‘সহযোগী শক্তি’ হিসাবে দেখা শুরু করেছিল।
২০১২ সাল থেকে এটা স্পষ্ট হল যে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে সেই সব কমিউনিস্ট কর্মীরাই উঠে আসছেন যাঁরা লেনিনবাদী পার্টির সার্বভৌম ভূমিকাটিকে অর্থনীতির বিকাশের স্বার্থে পিছনে ফেলে দিতে রাজি নন। রাজি নন নেতৃত্বের মূল্যায়নের নামে সমাজতন্ত্রের জন্য যে সংগ্রাম সেটিকে লঘু করার কোনও প্রচেষ্টাকেই মেনে নিতে। এটাও স্পষ্ট হল যে, বাজার অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক যে-রাষ্ট্র চীনে গড়ে উঠেছে এই রাষ্ট্রটিকে কোনওভাবেই দুর্বল করা যাবে না। বাজার যৌথ স্বাচ্ছন্দ্যবৃদ্ধির অনুকূল উপাদান হিসাবে কাজ করবে, পুঁজিকে তাই এই বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখবে। যে চীন গড়ে উঠবে সেটি পুঁজিবাদী দুনিয়ার সহযোগী শক্তি নয়, পুঁজিবাদী দুনিয়ার অনিষ্টসাধনকারী শক্তি। এই চীন তাইওয়ান নিয়ে জিয়াও জেমিনের মতো আড়ষ্ট কথা বলে না। এই চীন হংকংয়ের গণতন্ত্রপ্রেমীদের ঠিক সেভাবেই মোকাবিলা করে যেভাবে তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে জড়ো হওয়া গণতন্ত্রপ্রেমীদের দেঙ শিয়াও পিং বুঝিয়ে দিয়েছিলেন শ্রমিকশ্রেণির একনায়কতন্ত্রের ভাষাটি আসলে কী।
যে শক্তিটি ২০১২ সাল থেকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অধিষ্ঠিত হয়েছে, শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত সেই শক্তিটিকে ক্ষমতা থেকে হঠাবার একটা প্রচেষ্টা চালু আছে। এতে অবশ্যই অবাক হওয়ার কিছু নেই। পুঁজিবাদের ‘সহযোগী’ শক্তিটি যখন পুঁজিবাদের বিশ্বজয়ের পথে অন্তরায় হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে, তখন সেটিকে মোকাবিলা করার রাস্তা খুঁজতেই হয়। সমাজতান্ত্রিক দেশে ক্ষমতাদখলের বা ক্ষমতা পরিবর্তনের সহজ উপায় হল সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী যে কমিউনিস্ট পার্টি সেটিকে ভিতর থেকে দখল করা। লেনিনবাদী পার্টিগুলি পরিচালিত হয় গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার নিয়মে। এই ধরনের পার্টিগুলির সাংগঠনিক জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল পার্টি কংগ্রেস। সোভিয়েতে সংশোধনবাদীরা ক্ষমতা দখলের এই কাজটি শুরু করেছিল ২০তম পার্টি কংগ্রেসে যা ১৯৫৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়। পার্টি কংগ্রেসে লেনিনবাদী নিয়ম অনুসারে পার্টি সদস্যদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা মিলিত হন দুই কংগ্রেসের মধ্যবর্তী সময়ে পার্টির সাধারণ রাজনৈতিক লাইন নির্ধারণ করার জন্য। কংগ্রেস থেকেই গঠিত হয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি, দুই কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী সময়ে পার্টির ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয় যেখানে। কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন করে পলিটব্যুরো, পলিটব্যুরোর থাকে স্ট্যান্ডিং কমিটি, নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছা প্রতিফলিত হয় এই প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে দিয়ে। সোভিয়েত রাশিয়ায় লেনিনের জীবদ্দশায় কমিউনিস্ট পার্টি এই নীতিতে পরিচালিত হতে শুরু করে। এবং লেনিনের মৃত্যুর পর যোশেফ স্তালিনের নেতৃত্বে এই পার্টিটি আরও শক্তিশালী হয়— কতটা শক্তিশালী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তার পাথুরে প্রমাণ রয়েছে। এই শক্তিশালী পার্টিটিকে ভেতর থেকে দখল করে ক্রুশ্চভপন্থীরা। প্রত্যাশিত ভাবেই সমাজজীবনে পার্টির গুরুত্ব লঘু করার জন্য মূল্যায়নের নামে স্তালিন নিন্দা শুরু করেন তাঁরা এই পার্টি কংগ্রেস থেকেই। সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেলিগেটদের সমর্থন যাতে থাকে তার যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দুর্গটি দখল করা হয় দুর্গের মধ্য থেকেই। সোভিয়েতের পরবর্তী পার্টি কংগ্রেসগুলি দলটিকে ক্রমাগত আরও সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল যার পরিণতি হল গর্বাচভের গ্লাসনস্ত ও পেরেস্ত্রৈকা। রাতারাতি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুঠ হয়ে সোভিয়েতে গড়ে উঠল এক পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতি, যৌথ স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যা প্রতিকূল শক্তি হিসাবে কাজ করে।
অন্য একটি ২০তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অন্য দেশে, অন্য প্রেক্ষিতে। ৯ কোটি সদস্যের লেনিনবাদী পার্টিটি সে-দেশে পার্টি কংগ্রেস সংগঠিত করতে চলেছে যেখানে আছেন ২২৯৬ জন প্রতিনিধি। সম্প্রতি প্রতিনিধিদের যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে তা দেখে অনুমান করা যায় এই কংগ্রেসেও শি জিনপিংয়ের অনুগামীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে। ২০১২ সাল থেকে যে-দিশায় পার্টিটি পরিচালিত হচ্ছে, আশা করা যায় এই কংগ্রেসও সেই দিশা অক্ষুন্ন রাখবে। আপাত নিস্তরঙ্গ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির জীবনে ইতিমধ্যে বহু ঘটনা ঘটেছে। পার্টি কংগ্রেসের অব্যবহিত পূর্বে জন–নিরাপত্তা বিভাগীয় উপমন্ত্রী সুন লি জুনসহ ৪ জন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আর্থিক দুর্নীতির অপরাধে। অনুমান করা যায়, এই শক্তিটিও চীনের রাজনৈতিক রঙ বদলানোর যে-চেষ্টা, দুর্গকে ভেতর থেকে দখল করার যে-কৌশল, সেগুলোকে কাজে লাগাচ্ছিল। এই শক্তিগুলি ক্রুশ্চভ সংশোধনবাদীদের মতো শক্তি অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে চীনে। এর কারণ হল শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত ১৮তম ও ১৯তম কেন্দ্রীয় কমিটি সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে একটি বৃহৎ উল্লম্ফন ঘটিয়েছে সে-দেশে। পার্টি নেতৃত্বে একটি দক্ষ প্রশাসন গড়ে উঠেছে সে-দেশে, কোভিড ১৯ মোকাবিলায় যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সমাজতন্ত্র গণ–দারিদ্র নিয়ে চলতে পারে না। শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীন সেদেশের শেষ ১০ কোটি দরিদ্র মানুষকে দারিদ্র থেকে মুক্ত দিয়েছে। দেশটি ক্রমশ বুঝতে শুরু করেছে বাজার ব্যবস্থা যৌথ স্বাচ্ছন্দ্যবৃদ্ধির অনুকূলে কাজ করে যখন রাষ্ট্রটি থাকে লেনিনবাদী পার্টির হাতে এবং রাষ্ট্র বাজারের ওপরে তার আধিপত্য রক্ষার যাবতীয় অস্ত্রগুলিকে সবসময় তৈয়ার রাখে। ২০তম পার্টি কংগ্রেসে ২২৯৬ জন ডেলিগেটের সংখ্যাগুরু অংশ সম্ভবত বিদ্যমান সাধারণ রাজনৈতিক লাইনই সমর্থন করবেন। কেন্দ্রীয় কমিটিও সম্ভবত বিদ্যমান ব্যবস্থাটিকেই চালু রাখবে। পুঁজিবাদের সহযোগী শক্তি হিসাবে চীনকে পাওয়া যাবে না, পাওয়া যাবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবেই।
১৯৫৬ সালে একটি কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস সমাজতন্ত্র কীভাবে ধ্বংস করতে হয় তার রাস্তা দেখিয়েছিল। এই ঘটনার ৬৪ বছর পরে আর একটি লেনিনবাদী পার্টির ২০তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। লং মার্চ করে আসা এই পার্টিটি সমস্ত প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সমাজতন্ত্র গড়ার কাজে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে এমন একটি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত করতে চলেছে যা পার্টিকে আরও শক্তিশালী করে, রাষ্ট্রের ওপর সর্বহারা একনায়কতন্ত্র আরও বেশি মজবুত করে এবং বাজারকে নিয়ন্ত্রণে রেখে যৌথ স্বাচ্ছন্দ্য বিকাশের মধ্যে দিয়ে মার্কস–বর্ণিত সাম্যবাদী সমাজ গড়ার লক্ষ্যে তার আরও বড় লং মার্চের ইতিহাস রচনা করে।
— মতামত লেখকের নিজস্ব
প্রকাশের তারিখ: ১৭-অক্টোবর-২০২২
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
