Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

আর্জেন্টিনায় উগ্র দক্ষিণপন্থার জয়, ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত

অর্কপ্রভ সেনগুপ্ত
বৈদেশিক ক্ষেত্রে মিলেই-এর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিঃশর্ত সমর্থন, ব্রাজিল ও চিন বিরোধিতা - ইত্যাদি তো তাঁদের ভাবনায় আরও জায়গা পায়নি। আদতে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যে চুড়ান্ত হতাশা তাঁদের গ্রাস করেছে, মিলেই-কে তাঁরা ভোট প্রদান করেছেন সেই হতাশা এবং তা থেকে সৃষ্ট ক্রোধের জায়গা থেকেই।
victory of far right in Argentina, historical perspective

আশঙ্কা ছিলই। কিন্তু তা সত্ত্বেও সবাইকে অবাক করে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে জাস্টিসিয়ালিস্ট দলের নেতৃত্বে পরিচালিত বাম ও মধ্য-বাম জোটের প্রার্থী সের্গিও মাসার আশাতীত ভোট লাভে অনেকেই আশা রেখেছিলেন সেই আশঙ্কা সত্যি হবে না। বিগত ১৯-শে নভেম্বর আর্জেন্টিনায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোট গণনা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য এই আশা নির্বাপিত হয়েছে অতি দ্রুত। উগ্র-দক্ষিণপন্থী ও স্ব-ঘোষিত নৈরাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী (Anarcho-Capitalist) হাভিয়ের মিলেই মধ্যপন্থী মাসাকে শুধু পরাজিতই করেননি, ১০%-এরও অধিক ভোট পেয়েছেন। বিপুল ব্যবধানের এই বিজয়ে মিলেই পেয়েছেন ৫৫.৬৫ শতাংশ ভোট আর মাসা পেয়েছেন ৪৪.৩৫ শতাংশ । এক বছর আগেও মিলেই এই প্রকার নির্বাচন জিততে পারেন, এ ছিল অনেকেরই কল্পনার বাইরে। মিলেই শুধু জয় লাভই করেননি, তিনি দীর্ঘদিনের পেরোনিস্টদের দুর্ভেদ্য দুর্গেও ফাটল ধরিয়েছেন সারা দেশ জুড়ে। আর্জেন্টিনার ২৩-টি প্রদেশের মধ্যে ২০-টিতেই তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন। এই বিজয়ের রাজনৈতিক ফলাফল কী হতে পারে, মধ্য-বাম রাজনৈতিক জোট কেন এই রকম ভয়াবহ ফলাফল করল, সেই আলোচনায় প্রবেশ করার আগে আর্জেন্টিনায় পেরোনবাদ সম্পর্কে কিছু কথা ঝালিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

 বিংশ শতকের মধ্যভাগে আর্জেন্টিনার বিশেষ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে উদ্ভূত হয়েছিল পেরোনবাদ। এই রাজনৈতিক মতবাদের প্রবক্তা আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি হুয়ান ডোমিনিগো পেরোন রাজনৈতিক ভাবে স্থিতচিত্ত ছিলেন না। তাঁর ভাবনাও অতীব বিতর্কিত। প্রাথমিক ভাবে তা ফ্যাসিবাদ দ্বারা প্রভাবিত হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তার গতিপথ কিছুটা সমাজতন্ত্রের দিকে চালিত হয়েছিল। এই দ্বৈততা ও স্ব-বিরোধিতা পেরোনবাদী চিন্তাধারার ও রাজনৈতিক প্রকল্পের প্রত্যেক স্তরে উপস্থিত। একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। পেরোনবাদ উগ্র-জাতীয়তাবাদ সমর্থন করে না, নাৎসি ‘ফোল্কিশ’ ভাবনার ‘রক্ত ও মৃত্তিকা’-র যুক্তিও সেখানে অনুপস্থিত, পেরোনের শাসনকালেই দেশের আদিবাসীরা প্রথম সরকারের সাহায্য ও স্বীকৃতি লাভ করতে শুরু করে – এগুলি প্রত্যেকটিই সত্য। আবার তার পাশাপাশি এ-কথাও সত্যি পেরোনবাদী আর্জেন্টিনাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসানে আশ্রয় প্রদান করে বহু পলাতক নাৎসিকে।

চল্লিশের দশকের মধ্যভাগে ক্ষমতায় এসে পেরোন যখন তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ব্যাখ্যা করতে বসলেন, তাতে সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা বললেন, কথা বললেন শ্রমিকদের অধিকারের।  কিন্তু একই সঙ্গে ঘোষণা করলেন এই আদর্শ সমাজতন্ত্রের বিরোধী। সমাজতন্ত্র নির্মাণ নয়, বরং তাঁর উদ্দেশ্য একটি মিশ্র অর্থনীতির প্রতিষ্ঠা, যা পুঁজিবাদ এবং সমাজতন্ত্র উভয়ের উপাদানকে একত্রিত করবে। এই কাজে তিনি জোর দেন একটি শক্তিশালী, কেন্দ্রীভূত সরকারের উপর। সামাজিক বৈষম্য মোকাবিলায় এবং শ্রমিক শ্রেণির কল্যাণে পেরোন রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপকে অপরিহার্য বলে মনে করতেন। সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব – এই তিন আদর্শকে স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করে বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণির মধ্যে ব্যবধান দূর করে জাতীয় ঐক্যের প্রতিষ্ঠাকে পেরোন তাঁর মতাদর্শের মূল কথা বলে গণ্য করেন। এই সূত্রে পেরোনবাদ শ্রেণি সংগ্রামকেও অস্বীকার করেন।

১৯৪৬ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে পেরোন একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তাঁর আমলে আর্জেন্টিনার দ্রুত শিল্পায়ন হয়। নব উত্থিত সংগঠিত শ্রমিক শ্রেণি তাঁর সংস্কারমুখী কাজকর্মের অন্যতম সুবিধাভোগী ছিল। এঁরাই ছিলেন পেরোনবাদী সরকারের প্রধান মেরুদন্ড। শ্রমিকরাই যে পেরোনবাদী রাজনৈতিক প্রকল্পের সর্বাপেক্ষা বিশ্বস্ত স্তম্ভ ও পেরোনবাদ বিরোধী আর্জেন্টিনার সামরিক হুন্টার বিরুদ্ধে রাস্তার লড়াই লড়তে সক্ষম, এই কথা পেরোন উপলব্ধি করেন। ক্ষমতায় থাকাকালীন তাঁর ভাষ্য তাই ক্রমশঃ বামদিকে সরেছিল। পেরোনবাদের সঙ্গে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যের কোনও বিরোধ নেই, এইরকম বক্তব্যও শ্রমিকদের সমর্থন লাভের জন্য তাঁকে রাখতে শোনা যায়। ক্রমশঃ একথা স্পষ্ট হতে থাকে, ‘পেরোনবাদ’ বলতে আদতে কি বোঝানো হচ্ছে, তার নিয়ন্ত্রণ স্বয়ং পেরোনেরও হাতে নেই। পেরোনবাদী আন্দোলনের মধ্যে এমন একটি প্রবণতা দানা বাঁধতে শুরু করে যা শুধু মিশ্র অর্থনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে রাজি ছিল না। পেরোনের ‘ন্যায়সম্মত সমাজ’ একমাত্র সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্ভব, তাই সমাজতন্ত্রের সঙ্গে পেরোনবাদের কোনও বিরোধ নেই, এমন একটি অবস্থান এই প্রবণতা গ্রহণ করতে শুরু করে। পেরোনবাদী আন্দোলনের মধ্যে উপস্থিত এই বিপ্লবী অংশ পরিচিত ছিল ‘টেন্ডেন্সিয়া রেভোলিউশানারিয়া’ (‘Tendencia Revolucionaria’, যার অর্থ ‘বিপ্লবী প্রবণতা’)নামে। ১৯৫৫ সালে সামরিক ক্যু-এ পেরোন ক্ষমতাচ্যুত হলে পেরোনবাদী আন্দোলনের দক্ষিণপন্থী অংশ এই ক্যু-এর কাণ্ডারিদের সঙ্গে আপোষ করে নিলেও ‘টেন্ডেন্সিয়া রেভোলিউশানারিয়া’ সশস্ত্র আন্দোলনের পন্থা অবলম্বন করেছিল। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল ‘মুভমেন্তো পেরোনিস্তা মন্তনেরো’ (‘Movimiento Peronista Montonero’, সংক্ষেপে শুধু ‘Montonero’)। মন্তনেরোরা প্রত্যক্ষ ভাবে কমিউনিস্টদের সঙ্গেও হাতে হাত মিলিয়ে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সমগ্র ষাটের দশক জুড়ে সংগ্রামে রত ছিল। তাঁদের আন্দোলন ও সংগ্রাম ১৯৭৩ সালে পেরোনের আর্জেন্টিয়ান প্রত্যাবর্তন ও প্রেসিডেন্ট পদে পুনরায় আসীন হওয়ার জন্য অপরিহার্য ছিল। পেরোন কিন্তু ক্ষমতায় এসে মন্তনেরোদের বিশ্বাসের মান দেননি। ক্রমশঃ এই সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সংঘাত চুড়ান্ত পর্যায়ে যায়। ১-লা মে, ১৯৭৩ সালে এসেইজা গণহত্যা পেরোনবাদী আন্দোলনের বামপন্থী ও দক্ষিণপন্থীদের মধ্যে বিভাজনকে স্থায়ী রূপ প্রদান করে। মন্তনেরোরা আশা করেছিলেন এই আন্তঃপার্টি সংগ্রামে পেরোন তাঁদের সহায় হবেন। তাঁদের আশায় জল ঢেলে পেরোন ১৯৭৪ সালে মন্তনেরো সহ পেরোনবাদী জাস্টিসিয়ালিস্ট দলের সকল বামপন্থী অংশকে বহিষ্কার করেন। শুধু তাই নয়, প্রথমে পেরোন স্বয়ং এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী ইজাবেল পেরোন বামপন্থী পেরোনবাদীদের বিরুদ্ধে ভয়ংকর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালান। এই সন্ত্রাসের অন্যতম বাহন ছিল নব্য-ফ্যাসিবাদী পেরোনবাদী আন্দোলনের উগ্র দক্ষিণপন্থার প্রতিনিধি ‘আর্জেন্টাইন অ্যান্টিকমিউনিস্ট অ্যালায়েন্স’ (‘Alianza Anticomunista Argentina’)।

এই প্রেক্ষিতে বামপন্থী পেরোনবাদীরা এমন এক ’পেরোনবাদ’-এর ডাক দেন যা কার্যত পেরোনকেই বর্জন করে। তাঁদের বক্তব্য ছিল চল্লিশের দশকে যে রাজনৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে আর্জেন্টিনায় পেরোন ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেই ন্যায়, শ্রমিক ঐক্য ও মানবিক জনকল্যাণের আদর্শই আদত ‘পেরোনবাদ’। পেরোন স্বয়ং এই আদর্শগুলি থেকে শুধু বিচ্যুতই হননি, তার সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে পেরোনবাদী আন্দোলনকে নিয়ে গেছেন। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ইজাবেল পেরোন এতে আরও বিকৃতি ও বিচ্যুতি ঘটিয়েছেন। তাই বামপন্থী পেরোনবাদীদের কর্তব্য হল এই মতাদর্শকে তার সকল দক্ষিণপন্থী বিচ্যুতি ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতা থেকে মুক্ত করা এবং আর্জেন্টিনার জাতীয় মুক্তির উপযুক্ত একটি বিপ্লবী আদর্শ হিসেবে তার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

বলাই বাহুল্য, এই প্রচেষ্টায় বামপন্থী পেরোনবাদীরা বিশেষ সফল হননি। ইজাবেল পেরোন নিজেই ১৯৭৬ সালে মার্কিন সমর্থিত সামরিক ক্যু-তে ক্ষমতাচ্যুত হন। জেনারেল হোর্হে রাফায়েল ভিদেলার শাসনকালে বামপন্থী পেরোনবাদীদের উপর দমনপীড়ন বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। ১৯৮৪ অবধি মার্কিন সমর্থিত অপারেশন কন্ডোর-এর অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনায় যে ‘ডার্টি ওয়ার’ চলে, তাতে খুব কম করে হলেও তিরিশ হাজার বামপন্থী ও সমাজতন্ত্রী নিহত হন। এঁদের একটি বড়ো অংশই ছিল বামপন্থী পেরোনবাদীরা। ১৯৮৪ সালে তাই ফকল্যান্ড যুদ্ধের শেষে আর্জেন্টিনার হুন্টা যখন ক্ষমতাচ্যুত হল এবং দেশে আবার গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল, তখন পেরোনবাদী আন্দোলন এবং জাস্টিসিয়ালিস্ট পার্টির রাশ একক ভাবে দক্ষিণপন্থীদের হাতে। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে কার্লোস মেনেমের নেতৃত্বে যে পেরোনবাদী জাস্টিসিয়ালিস্ট পার্টি আর্জেন্টিনার ক্ষমতায় আসীন হয়, তা বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী বা বামপন্থী কোনও আন্দোলন দূরে থাক, ন্যূনতম জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ মধ্য-বাম কোনও রাজনৈতিক দলও ছিল না। বস্তুত, ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৯ – এই দশ বছরে মেনেম যে সরকার চালিয়েছিলেন তার মূল মন্ত্র ছিল ইন্টারন্যাশনাল মনেটারি ফান্ড বা ‘IMF’ নির্দেশিত নব্য-উদারনৈতিক অর্থনীতির শক থেরাপির রোলারে আর্জেন্টিনার জনগণকে পিষ্ট করা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে জনকল্যাণের আদর্শের শেষ চিহ্নও মুছে ফেলার প্রচেষ্টা হয়, বহু সংখ্যক জাতীয় ভারি শিল্প ও রেল ব্যবস্থা বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হয়। মেনেম খনিজ তেল থেকে টেলিকম, সব ক্ষেত্রেই শুধু বেসরকারী নয়, বিদেশী পুঁজিরও দ্বার হাট করে খুলে দেন।

বলাই বাহুল্য নব্য-উদারনীতির এই শক থেরাপি পৃথিবীর আর যে কোনও স্থানের মতো আর্জেন্টিনাতেও সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মানে উন্নতি ঘটাতে অসমর্থ হয়েছিল। এর বিরুদ্ধে ক্রমশঃ সামাজিক আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে। এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন বামপন্থী পেরোনবাদীরা। নেস্তর কিশনার (Néstor Kirchner) এবং তাঁর স্ত্রী ক্রিস্টিনা কিশনার (Cristina Kirchner) এই আন্দোলন নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। নেস্তরের অন্যতম কৃতিত্ব ছিল আর্জেন্টিনার সকল সোশ্যালিস্ট ও কমিউনিস্ট পার্টি সহ বাম ও মধ্য-বাম শক্তিকে তিনি এক ছাতার তলায় আনতে সক্ষম হন। এর পাশাপশি তিনি জাস্টিসিয়ালিস্ট দলকে গণ আন্দোলনে ভর করে ভিতর থেকে দখল করেন। তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই জাস্টিসিয়ালিস্ট দল এবং পেরোনবাদী আন্দোলনের রাশ বামপন্থী পেরোনবাদীরা কব্জা করতে সক্ষম হন। ২০০৩-এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেস্তর জাস্টিসিয়ালিস্ট দলের ভেতরে ও বাইরে মেনেমের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে বিজয়ী হন। তাঁর আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিষ্ঠা একপ্রকার রাজনৈতিক জলবিভাজিকা। তিনি এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন সঙ্ঘবদ্ধ বামপন্থী জোট মেনেম কর্তৃক ক্ষত-বিক্ষত জনকল্যাণ ব্যবস্থা অনেকটাই মেরামত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। নেস্তরের অকাল মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি ক্রিস্টিনা জাস্টিসিয়ালিস্ট দলকে আরও বামদিকে নিয়ে যান এবং আর্জেন্টিনাকে একটি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী, মার্কিন কর্তৃত্ববিরোধী, তৃতীয় বিশ্বের প্রতি দায়বদ্ধ শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন। ২০১৫ সালে মৌরিসিও মাক্রির নেতৃত্বাধীন ‘হুন্তোস এল পর ক্যাম্বিও’ (Juntos por el Cambio) নামক দক্ষিণপন্থী জোট সরকার আর্জেন্টিনায় ক্ষমতায় এলে এই প্রচেষ্টায় ছেদ পড়ে। মাক্রি আর্জেন্টিনাকে পুনরায় একটি পশ্চিমের জোটের নির্ভরযোগ্য সহায়ক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়াসী হন। তিনি IMF-এর থেকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার ঋণ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং বিনিময়ে আর্জেন্টিনার অর্থনীতিকে কঠোর মিতব্যায়িতার (‘Austerity’) দিকে নিয়ে যান। এই ‘মিতব্যায়িতা’-এর আদত অর্থ ছিল অবশ্য ছিল সরকারের জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক কাটছাঁট। অন্যদিকে ঋণে প্রাপ্ত ৫০ বিলিয়ন ডলারের অধিকাংশই বকলমে ব্যবহৃত হয়েছে বেসরকারি পুঁজির ঋণ মেটাতে, সেই বেসরকারি পুঁজি যা ঋণমুক্ত হয়েই আর্জেন্টিনা থেকে পত্রপাঠ নিজেকে সরিয়ে নিয়ে গেছে বিদেশী ক্ষেত্রে। বুয়েনোস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ক্লাউডিও কাটজ দেখিয়েছিলেন  মাক্রি সরকার IMF-এর থেকে আর্জেন্টিনার জন্য যে ৫০ বিলিয়ন ডলার ঋণ হিসেবে গ্রহণ করেছে, তার প্রায় ৮৩% বকলমে ব্যয় করা হয়েছে দেশীয় বেসরকারি পুঁজিপতিদের ঋণমুক্তিতে, অথচ তার মাশুল গুনেছে সাধারণ জনগণ।

স্বাভাবিক ভাবেই, এই জনবিরোধী নীতি মাক্রির পক্ষে দীর্ঘ সময় পরিচালনা করা অসম্ভব ছিল। কাটজ বলেন, ‘ক্যাম্বিও’ বা ‘পরিবর্তন’-এর অর্থ যে আদতে - “Massive overnight devaluations of the national currency, dismemberment of national industry, indiscriminate market deregulation, labor flexibilization, and perhaps most important of all, the effective subsiding of capital flight through astronomic debt” তা আর্জেন্টিনার জনতার বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি। দেশের এই অভিমুখ যে তাঁরা পছন্দ করছেন না, তা বুঝিয়ে দিয়েই জনগণ ২০১৯-এর নির্বাচনে জাস্টিসিয়ালিস্ট দলের নেতৃত্বাধীন মধ্য-বাম জোটকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি আলবের্তো ফার্নান্দেজের এই নতুন সরকারে বাম-পেরোনিস্ট বা কিশনারিস্টদের প্রভাব পূর্বের তুলনায় অনেক কম ছিল। কিশনারিস্টদের নেতৃত্বে যে জাস্টিসিয়ালিস্ট পার্টি একদা IMF-কে শয়তানের অপর নাম হিসেবে তুলে ধরেছিল, তার বিরুদ্ধে ভয়ংকর গণসংগ্রাম গড়ে তুলেছিল এবং যাঁদের আলোচনা টেবিলে নিজেদের দাবি থেকে এক ইঞ্চি সরাতেও IMF-কে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়েছিল, কিশনারিস্টরা দুর্বল হতেই সেই একই জাস্টিসিয়ালিস্ট পার্টি ক্ষমতায় এসে IMF-এর সঙ্গে বোঝাপড়ায় আগ্রহী হল। প্রবল জনমত থাকা সত্ত্বেও ফার্নান্দেজ সরকার অক্ষম হল পূর্বতন মাক্রি সরকারের জনকল্যাণমূলক ক্ষেত্রে যে ব্যয়সংকোচন নীতি, তা থেকে পরিপূর্ণ ভাবে সরে আসতে। এদিকে মাক্রি সরকারের নীতি থেকে যথাযথ ভাবে না সরার ফলে দ্রব্যমূল্য প্রায় ১৪০ % স্পর্শ করল। এর জন্য খুব স্বাভাবিক ভাবে জনতা যেমন মাক্রি সরকারকে দায়ী  করল, তার সঙ্গে সঙ্গে দায়ী করল জনতার রায়ে ক্ষমতায় এসেও পথ না বদলানো জাস্টিসিয়ালিস্টদেরও।

এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, যখন চিরাচরিত রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি জনতা বীতশ্রদ্ধ, তখনই আর্জেন্টিনার রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে আবির্ভাব হল হাভিয়ের মিলেই-এর। মিলেই পরিচিত ‘এল লোকো’ নামে, যার অর্থ ‘উন্মাদ’। তাঁর নিজের শখের কুকুর ক্লোন করে তাদের নাম পছন্দের অস্ট্রিয়ান স্কুলের অর্থনীতিবিদদের নামে রাখা, ক্ষমতায় আসলে মুক্ত বাজারে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে শিশু – সবই কেনাবেচার সুযোগ দেবেন বলে মন্তব্য করা, মিছিলে একটি স্বয়ংক্রিয় করাত হাতে উন্মত্ত নৃত্য করা, প্রেসিডেন্ট হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনার মুদ্রা পেসো বাতিল করে অর্থনীতি পুরো ডলারে চালাবেন বলে ঘোষণা করা, ক্ষমতায় এলে স্বাস্থ্য – শিক্ষা – নারী ও শিশুকল্যাণের মতো সকল সরকারী দপ্তর তুলে দেবেন বলে কথা দেওয়া – এগুলো মানসিক ভারসাম্যের লক্ষণ এমন বলা চলে না। ঠিক এই কারণেই এমনকি মাক্রিপন্থী দক্ষিণপন্থীরাও প্রথমে মিলেই-এর সমর্থনে দাঁড়ায়নি। কিন্তু মিলেই সাধারণ জনগণের কাছে যে আবেদন করেছেন, তা মোক্ষম। তাঁর বক্তব্য, এই জাস্টিসিয়ালিস্টরা আর মাক্রিপন্থীরা – দুটোই আদতে একই রাজনৈতিক গোষ্ঠী, ‘লা কাস্তা’-এর অন্তর্গত। এঁদেরকে তো অনেক দেখলেন, এবার আমাকে একবার ভোট দিয়ে দেখুন, আমি বহিরাগত এবং আমি এই ঘুঘুর বাসা চূর্ণ করব। স্বাভাবিক ভাবেই, সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা কর্তৃক প্রতারিত ও বীতশ্রদ্ধ মানুষের কাছে এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছে। নব্যউদারনীতির রাজনৈতিক যুক্তি মানুষের মনে যে ক্ষোভের সঞ্চার করে, তা যদি বামপন্থীরা বিকল্পের অভিমুখে চালনা করতে না পারেন, তাহলে খুব স্বাভাবিক ভাবেই তা বেছে নেবে এমন কোনও মুখ বা আন্দোলন, যার মাধ্যমে তাঁরা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ সম্ভব হবে। এই ক্ষেত্রে মিলেই সেই বহিপ্রকাশের মাধ্যম হয়েছেন, এমন বলা যেতে পারে। যে বিপুল সংখ্যক অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক ও বেকার যুবসমাজ মিলেই-কে ভোট প্রদান করেছেন তাঁরা মিলেই-এর রাজনৈতিক বিশ্বাস বা কর্মসূচী খুব বুঝে ভোট প্রদান করেছেন এমন বলা চলে না। মিলেই নিজেকে ‘নৈরাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী’ বলেন। এই আদর্শ মিল্টন ফ্রিডম্যান ও মুরে রথবার্ডের অর্থনৈতিক চিন্তা দ্বারা পরিচালিত, যার মূল কথাই হল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকবে শুধু ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার রক্ষার জন্য এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। এছাড়া সমগ্র অর্থনীতি পরিচালিত হবে মুক্ত-বাজারের যুক্তিতে। অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের কোনও ভূমিকা থাকবে না। এর অর্থই হলো, রাষ্ট্রের সকল জনকল্যাণমূলক নীতিতে ইতি টানা। আর্জেন্টিনার বিপুল সংখ্যক মানুষ, যাঁরা বছর চারেক আগেই মাক্রিকে জনকল্যাণমূলক নীতিতে ব্যয়সংকোচনের জন্য নির্বাচনে বাইরের রাস্তা দেখিয়েছিল, তাঁরা হঠাৎ করে মুক্তবাজার মৌলবাদের সমর্থক হয়ে গেছেন অথবা খোলা বাজারে দেহের অঙ্গ অবধি বিকিকিনির রাজনীতি সমর্থন করছেন, এমন সম্ভবতঃ মনে করার কারণ নেই। এমন বহু মানুষ এখনও রয়েছেন যাঁরা বাম-পেরোনবাদী কিশনার নেতৃত্বাধীন জাস্টিসিয়ালিস্ট পার্টি ঠিক কী করতে পারে, সেই সম্পর্কে অবগত আছেন। ২০০১ সালে ৫৪% আর্জেন্টিনার জনগণ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিলেন। ২০১৩ নাগাদ এই পরিসংখ্যান নেমে আসে ১০%-এর কাছে। মাক্রি সরকারকে পরাজিত করে জাস্টিসিয়ালিস্টরা ২০১৯ সালে আবার যখন ক্ষমতায় ফেরে এই পরিসংখ্যান আবার বেড়ে ৩০%-এর উপর চলে গেছিল। এর পর ২০২৩ পর্যন্ত তাঁদের অধীনেও দারিদ্র্যবৃদ্ধি অব্যহত থেকেছে। বর্তমানে প্রায় ৪০%-এর অধিক মানুষ আর্জেন্টিনায় দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। ২০১৫-এর পর যে যুব সমাজ রাজনৈতিক চেতনা লাভ করেছে, সে রাষ্ট্রের থেকে কোনদিনই কিছু পায় নি। তাঁরা দেখেছে মুখের কথা ছাড়া বর্তমান জাস্টিসিয়ালিস্ট এবং মাক্রি সরকারের নীতির খুব বিশাল কিছু ফারাক নেই। এই যুব সমাজের একটি বড়ো অংশই আবার কর্মরত অর্থনীতির অসংগঠিত ক্ষেত্রে যেখানে পেরোনবাদী রাষ্ট্রপরিচালিত জনকল্যাণমুখী কাঠামোর প্রভাব সামান্যই। সংগঠিত ক্ষেত্রে শ্রমিকরা রাষ্ট্রের থেকে যে সহযোগিতা পান, তা তাঁরা পান না। এই অসন্তোষকেও মিলেই কাজে লাগিয়েছেন সুচারু ভাবে। তাই তিনি যখন বলেছেন এই সব রাষ্ট্রীয় প্রকল্প আসলে রাজনৈতিক ‘লা কাস্টা’-র দুর্নীতি আর টাকা খাওয়ার জায়গা, অকর্মণ্যদের পোষার জায়গা, সব বেসরকারি করে দিলেই আদতে অর্থনীতির ভালো, তখন এঁদের কাছে কথাটা ভুল বলে মনে হয় নি। আর বৈদেশিক ক্ষেত্রে মিলেই-এর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিঃশর্ত সমর্থন, ব্রাজিল ও চিন বিরোধিতা - ইত্যাদি তো তাঁদের ভাবনায় আরও জায়গা পায়নি। আদতে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যে চুড়ান্ত হতাশা তাঁদের গ্রাস করেছে, মিলেই-কে তাঁরা ভোট প্রদান করেছেন সেই হতাশা এবং তা থেকে সৃষ্ট ক্রোধের জায়গা থেকেই।

উপসংহারে বলা যেতে পারে, মিলেই-এর সঙ্গে প্রথমে বিরোধ থাকলেও বর্তমানে তাঁকে ঘিরে পূর্বতন সামরিক শাসনের সমর্থকরা, মাক্রিপন্থী দক্ষিণপন্থীদের একটি বড়ো অংশ, মেনেমিস্ট দক্ষিণপন্থী পেরোনবাদীদের একটি অংশ সংহত হয়েছে। যে কাজ একদা বামপন্থীদের ক্ষেত্রে একুশ শতকের শুরুতে নেস্তর কিশনার করেছিলেন, সেই কাজ এখন দক্ষিণপন্থীদের ক্ষেত্রে মিলেই করছেন। তা সত্ত্বেও, প্রতিরোধের রাস্তা লুপ্ত হয়ে যায়নি। আইনসভায় এখনও মিলেই-এর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। দক্ষিণপন্থীদের নিজেদের মধ্যেও এখনও বিরোধ বর্তমান। বাম ও মধ্য-বামদের নিয়ে গঠিত জোট ‘ইউনিয়ন ফর দ্য হোমল্যান্ড’ (‘Unión por la Patria’) তুলনায় অনেক বেশি সংহত ও ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। মিলেই নিজের আদর্শে বিশ্বাস রাখেন। অপরদিকে বাম ও মধ্য-বাম জোটে, বিশেষ করে জাস্টিসিয়ালিস্টদের মধ্যে নিজেদেরই আদর্শে ও ভাষ্যে বিশ্বাস এবং আস্থার বিলক্ষণ অভাব দেখা যাচ্ছে। কিশনারপন্থীদের প্রভাব জাস্টিসিয়ালিস্ট দলের মধ্যে হ্রাস পাচ্ছে আরও দ্রুত বেগে। এর ফলে বামপন্থী পেরোনবাদীদের দলের উপর যে নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা ক্রমশঃ দুর্বল হচ্ছে। কিশনারপন্থীদের সর্ববৃহৎ কৃতিত্ব ছিল দেশের সকল বাম ও মধ্য-বাম শক্তিকে একটি সাধারণ কর্মসূচীর ভিত্তিতে এক ছাতার নিচে আনা। তাঁদের হাত থেকে যদি জাস্টিসিয়ালিস্ট দলের নিয়ন্ত্রণ বেরিয়ে যায়, এই জোটেরও ইতি ঘটবে। তার ফলাফল হবে আরও ভয়াবহ। এই বিপদ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার একমাত্র রাস্তা হল রাস্তা। রাস্তার লড়াকু রাজনীতিই একদা বাম পেরোনিস্টদের অনেক প্রতিকুলতা উপেক্ষা করেও আন্তঃপার্টি সংগ্রামে বিজয়ী হতে সাহায্য করেছিল। এই পন্থাতেই তাঁদের আবার ফিরতে হবে। তাঁদের প্রস্তুত হতে হবে সমাজকাঠামোর আরও আমূল পরিবর্তনের কর্মসূচী গ্রহণ করার জন্য। একথা বুঝতে হবে, মিলেই আর বাকি যে কথাই ‘উন্মাদ’-এর মতো বলুন, একটা কথা ঠিক বলেছেন - আর্জেন্টিনায় মধ্যপন্থার দিন গত হয়েছে। রাস্তার রাজনীতি ও প্রতিপক্ষদের থেকে বৈপ্লবিক ভাবে পৃথক কর্মসূচীই একমাত্র বাম-পেরোনিস্টদের জনতার বিশ্বাস অর্জন করতে সহায়তা করতে পারবে। সেই পথে তাঁদের হাঁটার সামর্থ্য আছে কিনা, তার উত্তর লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের গর্ভে।          

 


প্রকাশের তারিখ: ১৫-ডিসেম্বর-২০২৩
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নির্বাচন ২০২৬ বিভাগে প্রকাশিত ৯১ টি নিবন্ধ
২৭-এপ্রিল-২০২৬

২৬-এপ্রিল-২০২৬

২১-এপ্রিল-২০২৬

২০-এপ্রিল-২০২৬

১৯-এপ্রিল-২০২৬

১৮-এপ্রিল-২০২৬

১৭-এপ্রিল-২০২৬

১৬-এপ্রিল-২০২৬

১৪-এপ্রিল-২০২৬

১৩-এপ্রিল-২০২৬