সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
২০২৬-২৭ এর কেরলের বাজেটের অর্থনীতি ও রাজনীতি
টমাস আইজ্যাক
কেরলের এলডিএফ সরকারের উন্নয়নের যে দ্বিমুখী কৌশল ২০২৬-২৭ সালের কেরলের বাজেটে সেই বিষয়টি পরিস্ফুট হয়েছে। উন্নয়নের এই দ্বিমুখী কৌশল হল একদিকে জনগণের সার্বিক কল্যাণকে প্রাথমিক গুরুত্বের জায়গায় রাখা। এর পাশাপাশি রাজ্যের পিছিয়ে থাকা পরিকাঠামোর উন্নয়নে জোরদার প্রচেষ্টা চালানো এবং রাজ্যের অর্থনীতিকে নলেজ ইকনমি বা জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের গতি দ্রুততর করা। আপাতদৃষ্টিতে এই কাজ দুটি পরস্পরবিরোধী। এই দুটি ধারাকে মিলিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল বাজেট-বহির্ভূত সম্পদের ওপর নির্ভর করে এবং সেই সম্পদ পরিকাঠামো নির্মাণে কাজে লাাগিয়ে। ২০১৬ থেকে ২০২১ এর পর্বে এই কৌশল সফল হয়েছিল এবং সে কারণেই বিধানসভা নির্বাচনে সেই প্রথমবার টানা দ্বিতীয় বারের জন্য জয় পেয়েছিল বামেরা।

যে কোনও বাজেটই নতুন আর্থিক বছরের জন্য সরকারের আয় ও ব্যয় সংক্রান্ত আনুমানিক হিসাবের বিবৃতি। তবে ২০২৬-২৭ সালের কেরলের বাজেট তার চেয়েও বেশি কিছু। রাজ্য সরকার জনগণের প্রতি কতটা দায়বদ্ধ, এই বাজেট সেই সংক্রান্ত একটা রাজনৈতিক বিবৃতি। বিশেষ করে এটা গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, এখন আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে এবং গোটা বিষয়টাকে নয়া উদারবাদী ব্যবস্থার মধ্যে সরাসরি এনে ফেলা হচ্ছে।
কেরলের এলডিএফ সরকারের উন্নয়নের যে দ্বিমুখী কৌশল ২০২৬-২৭ সালের কেরলের বাজেটে সেই বিষয়টি পরিস্ফুট হয়েছে। উন্নয়নের এই দ্বিমুখী কৌশল হল একদিকে জনগণের সার্বিক কল্যাণকে প্রাথমিক গুরুত্বের জায়গায় রাখা। এর পাশাপাশি রাজ্যের পিছিয়ে থাকা পরিকাঠামোর উন্নয়নে জোরদার প্রচেষ্টা চালানো এবং রাজ্যের অর্থনীতিকে নলেজ ইকনমি বা জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের গতি দ্রুততর করা। আপাতদৃষ্টিতে এই কাজ দুিট পরস্পরবিরোধী। এই দুটি ধারাকে মিলিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল বাজেট-বহির্ভূত সম্পদের ওপর নির্ভর করে এবং সেই সম্পদ পরিকাঠামো নির্মাণে কাজে লাাগিয়ে। ২০১৬ থেকে ২০২১ এর পর্বে এই কৌশল সফল হয়েছিল এবং সে কারণেই বিধানসভা নির্বাচনে সেই প্রথমবার টানা দ্বিতীয় বারের জন্য জয় পেয়েছিল বামেরা।
কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা কার্যত অর্থনৈতিক অবরোধ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বামেরা যাতে জয় না পায়, সেজন্য একেবারে মরিয়া হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্য সরকার সারা বছরে স্বাভাবিক ভাবে যত টাকা ধার করতে পারে সেই কোটার সীমা দারুনভাবে ছাঁটাই করেছে কেন্দ্র।রাজ্য সরকার যে টাকাটা ধার করে তার মধ্যে রয়েছে পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণের হাতিয়ার (স্পেশাল পারপাজ ভেহিকলস) হিসেবে ঋণ। সেই ধারের টাকার হিসাব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। তাও আবার হিসাব নেওয়া হবে আগেকার খরচের। এখানে খেয়াল করা দরকার যে, এনএইচএআই এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের পরিকাঠামো নির্মাণ সংস্থাগুলি যে টাকাটা ধার করে, তা এখনও কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটের হিসাবে সরকারি ধার বা সরকারি ঋণ হিসাবে দেখানো হয় না।
এর ওপর আবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে রাজ্যকে দেয় রাজস্বের পরিমাণ দারুনভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে পাঠানো মোট রাজস্ব, যার পরিমাণ ২০২০-২১ সালে ছিল জিএসডিপির ৫.৫২ শতাংশ, সেটা কমতে কমতে ২০২৪-২৫ সালে নেমে এসেছে ২.৫৪ শতাংশে। পরিণামে রাজ্যের মোট রাজস্ব খরচ যা ২০২০-২১ সালে ছিল জিএসডিপির ১৮ শতাংশ, তা ২০২৪-২৫ সালে কমে হয়েেছ ১৩.৯২ শতাংশ। এ হল কেন্দ্রের জারি করা কার্যত অর্থনৈতিক অবরোধ। এই অবরোধের প্রেক্ষিতেই দ্বিতীয় পিনারাই সরকারের চূড়ান্ত বাজেট পেশ করা হয়েছে।
কল্যাণমূলক কর্মসূচিকে আরও বাড়ানো হয়েছে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিবৃতি হল জনগণকে কল্যাণমূলক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি আরও প্রসারিত করার কাজে বামেদের সার্বিক অঙ্গীকারবদ্ধতা। এবং ওপরে উল্লেখিত কেন্দ্রের জারি করা অর্থনৈতিক অবরোধ সত্ত্বেও এই অঙ্গীকার অটুট থাকছে। এটাই হবে প্রাথমিক গুরুত্বের জায়গা। ২০১৬ সালে এলডিএফ যখন ক্ষমতায় এসেছিল তখন ৩২ লক্ষ লোককে ওয়েলফেয়ার পেনশন দেওয়া হত মাত্র ৬০০ টাকা করে। এখন এই পেনশন পান ৬২ লক্ষ লোক এবং পান মাসে ২০০০ টাকা করে। ২০১১-১৬ সালে ইউডিএফ সরকারের আমলে ওয়েলফেয়ার পেনশনের পিছনে খরচ হত মোট ১০,৭০০ কোটি টাকা। ২০১৬-২০২১ এর পর্বে এলডিএসফ সরকারের আমলে এই টাকার পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৩৫,০৮৯ কোটি টাকা। ২০২১-২০২৬ পর্বে এলডিএফ সরকারের আমলে এই খাতে মোট খরচ বেড়ে হয়েছে ৫৪,০০০ কোটি টাকা। বর্তমান বাজেটে ওয়েল ফেয়ার পেনশন খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ১৪,০০০ কোটি টাকা।
📲 এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে
এই বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নতুন একগুচ্ছ কল্যাণ কর্মসূচি এবং গরিবদের জন্য জনকল্যাণ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি। এবং স্কিমের শ্রমিকদের জন্য আরও ভাতা বৃদ্ধি। গরিব পরিবারের ১৬ লক্ষ গৃহবধূর জন্য নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে বরাদ্দ করা হয়েছে ৩৭২০ কোটি টাকা। যে সব বেকার যুবক দক্ষতা বৃদ্ধির কোর্সে নাম লিখিয়েছেন তাদের স্কলারশিপের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, আশা কর্মী, প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মী, যাঁরা মিড ডে মিলের পরিষেবা দেন, এবং যারা সাক্ষরতা কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবক — এদের ভাতা তিন মাস আগে ১০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এই বাজেটে তাদের টাকা আরও ১০০০ বাড়ানো হয়েছে। ফলে কেরলের স্কিম কর্মীরা সারা ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মজুরি পান।
বিরোধীরা খুব দ্রুতই এই বাজেটকে নির্বাচনী গিমিক বলে চিহ্নিত করেছে। তাদের সমালোচনা, এ হল ফাঁকা প্রতিশ্রুতি। রাজ্য সরকারের এখনকার যা আর্থিক পরিস্থিতি তার প্রেক্ষিতে কল্যাণমূলক প্রস্তাবগুলি নিয়ে তাদের সমালোচনায় স্পষ্ট ধরা পড়ে তাদের জনবিরোধী চেহারা। এবং একথাও স্পষ্ট হয় যে, আর্থিক পরিস্থিতি যত শোচনীয় হোক না কেন বামেদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার গরিব মানুষের দিকেই। তবে এই বাজেটের বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি হল কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু করা এবং সেগুলিকে সম্প্রসারিত করার কাজে অতীতে বামেদের ভূমিকা।
সামাজিক ক্ষেত্রগুলিতে নজর
এই বাজেটের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হল, সামাজিক ক্ষেত্রে অনেক বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব ব্যয়ের ৩৪ শতাংশ সামাজিক পরিষেবা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে, এর মধ্যে ৬২ শতাংশ অর্থ খরচ করা হবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে। কর্ম সংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প, যা পুরোপুরি বিসর্জন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার, সেটা চালু রাখবে রাজ্য সরকার। এক্ষেত্রে বাড়তি ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকারগুলির জন্য অর্থ বরাদ্দের ধারা বজায় রাখা হয়েছে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে যে বরাদ্দ ছিল ৫৭ কোটি টাকা আগামী বছরের বাজেটে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৭,০৯১ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকারগুলির নির্বাচনে ফল যে খারাপ হয়েছে, তাতেও গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের প্রক্রিয়ায় বামেদের উৎসাহে কোনও ভাবেই ভাটা পড়েনি।
সরকারি কর্মচারী
সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের একটা বড় ক্ষোভ হল ডিএ ও ডিআর এর বকেয়া টাকা। নতুন বাজেটে বলা হয়েছে, মার্চ শেষের মধ্যে ডিএ ও ডিআর এর কিস্তির টাকা পুরোপুরি মঞ্জুর করা হবে। এবং সময়ে বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে। কর্মচারীদের জন্য বেতন সংশোধন কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, কেরল চালু কনট্রিবিউটরি পেনশন স্কিম থেকে চলে যাচ্ছে নিশ্চিত পেনশন স্কিমে। এতে গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে যে শেষ মূল বেতনের ৫০ শতাংশের সঙ্গে দেওয়া হবে ডিআর।
মূলধনী ব্যয়
রাজস্বখাতে ব্যয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই বাজেটে মূলধনী খাতে ব্যয় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে রাজকোষ ঘাটতির মাত্রা দাঁড়াবে জিএসডিপির ৩.৪ শতাংশ। এতদসত্ত্বেও, পরিকাঠামো খাতে খরচের একটা বড় অংশ আসতে হবে বাজেট বহির্ভূত সূত্র থেকে। এর মানে হল, নতুন সরকারকে আরও তীব্রভাবে যুদ্ধে নামতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে। পরিকাঠামো এসপিভিকে প্রায়-রাজস্ব মডেল হিসেবে সংশোধন করার ফলে সুপ্রিম কোর্টে সাংবিধানিক বিতর্ককে আরও জোরেসোরে চালিয়ে যাওয়ার দরকার হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজেট ঘোষণা হল, কেরলের জন্য রিজিওনাল রাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (আরআরটিএস)-এর বিষয়টি। এটা হল দিল্লি-মিরাট আরআরটিএস করিডোরের মতো। এজন্য প্রত্যাশিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা। অনেকগুলি রাস্তা নির্মাণের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। পরিকাঠামো এসপিভি কেআইআইএফবি হাতে নিয়েছে ১২১৬টি প্রকল্প। এর জন্য এ পর্যন্ত মোট বরাদ্দ করা হয়েছে ৯৬,৫৫৪.৫৩ কোটি টাকা। এর ফলে জাতীয় সড়ক ও ভিজিনজাম বন্দরের জন্য বিনিয়োগেরও সুবিধা হবে।
ষষ্ঠদশ কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের সুপারিশ
যদিও জিএসডিপি তুলনায় মূলধনী ব্যয়ের অনুপাত, ২০১০-১১ সালে যা ছিল ১.২৭ শতাংশ, তা ২০২০-২১ সালে বেড়ে হয়েছে ২.০ শতাংশ, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই অনুপাত কমছে। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার সম্পদ হস্তান্তরের পরিমাণ ক্রমাগত সঙ্কুচিত করছে। রাজস্ব খাতে মোট যত আয়, কেরলের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার দেয় তার ২০ শতাংশেরও কম।
রাজ্য বাজেট পেশ করার পর ইউনিয়ন ফিনান্স কমিশন (ইউএফসি) রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজস্ব ঘাটতি সহায়তা তুলে দিয়ে বড়সড় আঘাত নামিয়ে আনা হয়েছে। এই খাতে গত পাঁচ বছরে রাজ্য পেয়েছে ৫৩,০০০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় সরকার এবং ইউনিয়ন ফিনান্স কমিশনের মধ্যে যে ‘বিরাট বোঝাপড়া’ হয়েছে তাতে বিশেষ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের প্রাপ্য করের ভাগ ১.৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.৪ শতাংশ করার দরুণ যে লাভ হয়েছে, সেই লাভের গুড়ের চেয়েও বেশি অর্থ হাতছাড়া হয়েছে বিশেষ সহায়তা তুলে দেওয়ায়।
কেন্দ্রের বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রচার
এর রাজনৈতিক তাৎপর্য হল, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সমাবেশিত করার কাজটা হয়ে দাঁড়াবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা। পরিস্থিতি হল উপভোক্তা রাজ্য কেরল তাদের ৭০ শতাংশ উপভোগের জন্য আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। অথচ আইজিএসটির (আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যে কর) কম অংশই পায় কেরল। তাই জিএসটিকে রাজ্যের অনুকূল করতে হলে এবং জিএসটি কার্যকর করার ব্যাপারে সংস্কারের জন্য কেরলকে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই লড়তে হবে। জিএসটি যাতে সত্যিসত্যি গন্তব্যস্থল-ভিত্তিক কর হয়ে ওঠে, সেটাই হবে এই লড়াইয়ের লক্ষ্য। রাজ্য সরকারের নিজস্ব রাজস্বের প্রাচুর্য রাজ্য সরকারের আর্থিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যাই ঘটুক না কেন, বামেদের প্রথম অঙ্গীকার হবে সাধারণ মানুষের কল্যাণ। কেরলের উন্নয়নের পথ গুরুত্বপূর্ণ ভাবে নির্ভরশীল হয়ে থাকবে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে বাজেট বহির্ভূত সম্পদ সংগ্রহের ওপর। এই জনাদেশ পাওয়ার জন্যই বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট জনগণের দরবারে যাবে।
ইউডিএফ এবং বিজেপিকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। জনকল্যাণ নিয়ে যে সব ঘোষণা করা হয়েছে সেগুলিকে তারা কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা কি এই ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার চেষ্টা করবে? বাজেটের বাইরে ধার করার বিরোধিতা করছে তারা, তাহলে পরিকাঠামোয় পশ্চাদপদতা কাটিয়ে তুলতে তাদের বিকল্প কী? যদি জনকল্যাণ কর্মসূচিকে টিকিয়ে রাখতে হয় এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রের উদ্যোগগুলিকে সফলভাবে সম্পূর্ণ করতে হয়, তাহলে ধারাবাহিক ভাবে আরও একটা পাঁচ বছরের মেয়াদ ক্ষমতায় থাকা দরকার।
সূত্র:পিপলস ডেমোক্রেসি
ভাষান্তর: সুচিক্কণ দাস
প্রকাশের তারিখ: ০৫-মার্চ-২০২৬
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
