Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

ধর্ষণ-সহায়ক সংস্কৃতির প্রসার ঘটাচ্ছে তৃণমূল

বৃন্দা কারাত
ন্যায়ের জন্য লড়াই করতে গেলে যে ‘রাজনীতিকরণ’ আবশ্যিক ও প্রয়োজনীয় তার সঙ্গে রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির পার্থক্য করব কীভাবে তা আমাদের শিখতেই হবে। কেন এই পার্থক্য করা জরুরি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল পশ্চিমবঙ্গ। যে সর্বাত্মক স্বতস্ফুর্ত আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গে চলছে, যার সামনের সারিতে রয়েছেন চিকিৎসকরা তাকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি এবং এই উদ্দেশ্যে তারা সবচাইতে লিঙ্গ অসংবেদী ‘বাইনারি’কে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।
TMC Expanding Rape Supportive Cultures

যে ভয়াবহ আক্রমণ ও বর্বরতার শিকার হয়েছিল মেয়েটি তার বিরুদ্ধে সমাজের সব স্তরের মানুষ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। এই বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদের গর্ভে জন্ম নিয়েছে আর জি কর হাসপাতালের মধ্যে ধর্ষিতা ও নিহত মেয়েটির নতুন নাম। তার নাম দেওয়া হয়েছে তিলোত্তমা। তিলোত্তমার ন্যায়বিচারের দাবিতে যে গণ আন্দোলন শুরু হয়েছে তার অভিঘাতে কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশ আলোড়িত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে আন্দোলনের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছেন। এই আন্দোলনের সামনের সারিতে রয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস্‌ অ্যাসোসিয়েশন এবং জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অব ডক্টরস্‌। সবকটি বামপন্থী গণসংগঠন ন্যায়বিচার অর্জনের লক্ষ্যে অবিচল থেকে একনিষ্ঠভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে রয়েছেন। বামফ্রন্ট এই আন্দোলনে নেমে সাধারণ মানুষের সমর্থন পেয়েছে। প্রতিবাদের স্বরগুলো শহর থেকে শহরতলি হয়ে গ্রামাঞ্চলে, রাজ্যের দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামগুলোতে সাধারণ মানুষ আন্দোলনের সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, বিভিন্ন সম্প্রদায় ভুক্ত, নানান পেশায় নিযুক্ত অজস্র মানুষ অক্লান্তভাবে প্রত্যেকদিন বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। যত দিন যাচ্ছে প্রতিবাদের চিৎকার আরও তীব্র হচ্ছে। আন্দোলনের একেবারে গোড়া থেকেই এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে ‘জাস্টিস’ মানে কেবল বিশেষ কোনও এক ব্যক্তির গ্রেপ্তারি নয়। ‘জাস্টিস’ মানে এই ভয়াবহ অপরাধ, দুর্নীতির পিছনে যে দুষ্টচক্র রয়েছে যারা এই অপরাধকে আড়াল করতে চেয়েছিল এবং যারা এর পৃষ্ঠপোষক তাদের সবাইকে সমূলে উৎখাত করা। এই পচে-যাওয়া ‘সিস্টেম’-ই একজন অপরাধীকে, এই তথাকথিত সিভিক ভলান্টিয়ারকে একটা সরকারি হাসপাতালের মধ্যে এক চিকিৎসককে ধর্ষণ করার সুযোগ করে দিয়েছে। তাই অপরাধীর এই আত্মবিশ্বাস ছিল যে এমন কাজ করেও সে পার পেয়ে যাবে। এবং যদি প্রতিটি ধাপে সাধারণ মানুষ জোটবদ্ধভাবে রুখে না দাঁড়াতেন তাহলে তো সত্যিই সে পার পেয়েও যেত। প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলি ন্যায়বিচারের দাবিকে অগ্রাহ্য করতে চায়। কিন্তু এই আন্দোলন আমাদের মনে আশার সঞ্চার করেছে যে এই শক্তিগুলোর সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব, এদের প্রতিহত করা এবং চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব যদি হাজার হাজার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়। সুপ্রিম কোর্টের শুনানি এবং সিবিআই কোর্টে যা রিপোর্ট পেশ করেছে কোর্টের বয়ান অনুযায়ী তা থেকে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, ‘যেটুকু এখনও পর্যন্ত জানা গেছে তার চাইতেও ভয়াবহ সব তথ্য তদন্তের মাধ্যমে উঠে আসছে’। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের কালিমালিপ্ত করার অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছু দাবিদাওয়া মেনে নিয়ে পিছু হঠতেও বাধ্য হয়েছে। নানান পদ্ধতিতে আন্দোলন এখনও চলছে।

ধর্ষণের সংস্কৃতি ও কাঠামোগত বৈষম্য

এই নিবন্ধে আমি আর জি করের ঘটনার একটি বিশেষ দিকে আলোকপাত করতে চাই যা ধর্ষণের সংস্কৃতির নানান মাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত, এক্ষেত্রে যার প্রচলন করছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং তার প্রতিনিধিরা। ভারতে মেয়েদের সামাজিক মর্যাদাগত অবস্থান গৌণ এবং এই অবস্থানের একটা সামগ্রিক কাঠামোগত চেহারা রয়েছে। ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে নেমে বিভিন্ন নারী সংগঠন ও আন্দোলন কর্মীরা এটুকু বুঝতে পেরেছেন যে আমাদের দেশে ধর্ষণের সংস্কৃতি ডাল-পালা বিস্তার করে এই কাঠামোকে আশ্রয় করে। ভারতে যৌন নির্যাতন ও লিঙ্গ-জাত-পাত-বর্ণের ভিত্তিতে যে বর্বরতা প্রচলিত তার শিকড় প্রোথিত রয়েছে নারী-পুরুষের কাঠামোগত বৈষম্যের মাটিতে। অকথ্য, কদর্য বৈষম্যের এই দেশে শ্রমজীবী নারীর অবস্থান দুর্বল ও অসুরক্ষিত, বিশেষত গ্রামের গরিব মহিলাদের কর্মক্ষেত্র নিরাপত্তাহীন এবং গ্রামীণ ক্ষমতাবান অভিজাত শ্রেণির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত— এইটা একটা কাঠামোগত সমস্যা। ভারতে জাতিভেদ, বর্ণপ্রথা পুঁজিবাদ দ্বারা স্বীকৃত ও সমর্থিত। এই কাঠামোটাই দলিত ও আদিবাসী মহিলাদের ওপর তীব্র হিংসা ও আক্রমণ নামিয়ে আনে। ভারতের এই নির্দিষ্ট সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেই ধর্ষণের সংস্কৃতি আরও প্রসারিত হচ্ছে। নারী সংগঠনগুলির যৌথ সংগ্রাম এবং তার পাশাপাশি নানান মেয়ের ব্যক্তিগত অবদান ও কৃতিত্বে একটি সম্মিলিত প্রতিরোধ-ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে যা বেশ শক্তিশালী এবং তার ফলে অনেক বাধা বিপত্তি অতিক্রম করাও সম্ভব হয়েছে। আবার এই সাফল্যের বিরোধিতা, সাফল্যকে খাটো করে দেখাবার প্রচেষ্টাও চলছে। প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলো নানাভাবে এই প্রচেষ্টা চালায়। আসলে ঘরের ভিতরে, বাইরের দুনিয়ায় মেয়েরা যত এগিয়ে যাচ্ছে তত বেশি করে সমানাধিকারের দাবি উঠছে— এগুলো তারই পালটা প্রতিক্রিয়া বা প্রত্যাঘাত। এই পাল্টা আঘাতেরই প্রতিফলন দেখা যায় ধর্ষণ সহায়ক সংস্কৃতিতে।

ধর্ষণ সহায়ক সংস্কৃতি

ধর্ষণ সহায়ক সংস্কৃতি বা ধর্ষণ সংস্কৃতি (Rape Culture) কী?  যা যৌন হিংসাকে ন্যায়সঙ্গত বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, অস্বীকার করে, মনে করে ওটা যেন একটা তুচ্ছ ব্যাপার। ধর্ষণের সংস্কৃতি এমন একটা পরিবেশ তৈরি করে যেখানে ধর্ষিতার মনে হয় ন্যায়বিচার পাওয়া দুঃসাধ্য, ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও দুরূহ। ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়াকে আগাগোড়া ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় গণমাধ্যমের অপব্যবহার ও আরও একাধিক উপায়ে অন্তর্ঘাত চালিয়ে। নিপীড়ক অথবা ধর্ষককে চিহ্নিত এবং অভিযুক্ত করার পরিবর্তে নির্যাতিতার দিকেই আঙুল তোলা হয়। যে নির্যাতনের শিকার সে হয়েছে তার জন্য যেন সে নিজেই দায়ী। ভারতে ধর্ষণের সংস্কৃতির আরও বহু মাত্রা রয়েছে। তার যোগ রয়েছে নিপীড়ক ও নির্যাতিতার ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচিতির সঙ্গে। ভারতীয় সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করে মনুবাদী মতাদর্শ ও সংস্কৃতি। মনুবাদী মতাদর্শ তীব্রভাবে নারী বিরোধী এবং কঠোরভাবে বর্ণ ও জাতপাতের অনুশাসনকে মান্যতা দিয়ে চলে। ধর্ষণ সংস্কৃতির বাড়বাড়ন্ত এভাবেই হয়। বিজেপি’র শাসনকালে রাষ্ট্র ও তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বলে বলীয়ান হয়ে বিজেপি-আরএসএসের যৌথ ইকোসিস্টেম যে মতাদর্শের প্রচার করে চলেছে তা মূলত নারীর বিরুদ্ধে হিংসার ব্যবহারকে উচিত বলে মনে করে এবং তাকে ন্যায্যতা দেয়। তা একইসঙ্গে আক্রমণের নিশানায় রাখে মুসলমান নারীকে এবং দলিত নারীসহ সমাজের সব স্তরের মেয়েদের। সবাই জানেন কীভাবে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে রাষ্ট্রক্ষমতাকে ব্যবহার করে ধর্ম ও জাতের পরিচিতির ভিত্তিতে ধর্ষক ও যৌন নির্যাতনকারীদের আড়াল করা হয়। আইনের শাসন বা বিচারপ্রক্রিয়া নয়, কোন অপরাধী শাস্তি পাবে আর কোন অপরাধী স্বাধীনভাবে বুক ফুলিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে সেইটা ঠিক হয় ধর্ষক ও ধর্ষিতার জাত ও ধর্মীয় পরিচিতি দিয়ে। এইসব ক্ষেত্রে ধর্ষণের সংস্কৃতি ও অপরাধগুলো ধর্ম ও বর্ণের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

আর জি করের ঘটনায় কাঠামোগত সমস্যা

তৃণমূল কংগ্রেস শাসনাধীন পশ্চিমবঙ্গে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে। একটি নির্দিষ্ট অপরাধমূলক ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে যেমন— কোন প্রক্রিয়ায় সরকার তথাকথিত সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজে নিযুক্ত করে, প্রিন্সিপালকে বাঁচাবার জন্য সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীর আপ্রাণ প্রচেষ্টা কেন, এই নির্দিষ্ট ঘটনায় যারা যুক্ত এবং এই দুর্নীতির সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের মধ্যে কী সম্পর্ক, প্রিন্সিপাল ও পুলিশের তদন্তপ্রক্রিয়ায় অন্তর্ঘাত ঘটাবার প্রচেষ্টা, প্রশাসনিক দুর্নীতি, কীভাবে একজন সিভিক ভলান্টিয়ার অনায়াসে হাসপাতালের সর্বত্র অবাধে ঘুরে বেড়াবার অনুমতি পায় এমনকি একটা সেমিনার কক্ষের ভিতরেও, হাসপাতালে কর্মরত মহিলা ও অন্যান্য কর্মচারীদের নিরাপত্তা ইত্যাদি। এই প্রশ্নগুলোর একটা কাঠামোগত চরিত্র আছে কারণ এই ঘটনার সূত্রে সরাসরি সরকার, প্রশাসন, পুলিশ ও সরকারি নিয়মনীতির বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে।

এই প্রশ্নগুলোর কোনও সদুত্তর না দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস একটা ভাষ্য নির্মাণ করেছে যাতে ধর্ষণের সংস্কৃতির ছকটাকে আরও বিস্তৃত করা যায়। বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় এই ভাষ্য নির্মিত হচ্ছে প্রাথমিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সাংসদদের নেতৃত্বে। আসলে পুলিশ ও সরকারের যোগসাজশে দুর্নীতি ও অপরাধের চক্রকে আড়াল করার, রক্ষা করার যে প্রচেষ্টা চলছে তার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো থেকে সাধারণ মানুষের মনোযোগ যাতে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছিল। যেন সেইটা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।

ধর্ষণ সংস্কৃতির বিস্তার

ভুয়ো খবর প্রচার করা হচ্ছে— এই অভিযোগ তুলে একজন মহিলা সাংসদ ধর্ষিতা ও নিহত মেয়েটির পোস্টমর্টেম রিপোর্টের সবিস্তার বর্ণনা ও বিশ্লেষণ করছেন— এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক ঘটনা। একটি বহুল প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ওই মহিলা সাংসদ নিজ দায়িত্বে বর্ণনা করছেন নিহত মেয়েটির শরীরে কতটা বীর্য পাওয়া গেছে বা পাওয়া যায়নি, তার বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওজন ইত্যাদি এবং তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন এটা গণধর্ষণের ঘটনা নয়। তার পরের ভিডিওতে এই সাংসদ আলোচনা করছেন কোমরের হাড় ভেঙেছিল নাকি ভাঙেনি এবং আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছেন যে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী কোমরের হাড় ভাঙেনি সুতরাং সব অভিযোগ মিথ্যা। যৌন হিংসার শিকার হয়েছে এমন একটি মেয়ের পক্ষে এটা ভয়ঙ্কর অবমাননাকর। এটা আসলে ধর্ষণের মত অপরাধের ভয়াবহতা থেকে সাধারণ মানুষের মনোযোগ সরিয়ে দিয়ে নির্যাতিতা ও তার শরীরের বিস্তারিত প্রকাশ্য আলোচনার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করার একরকমের ফন্দি ছাড়া কিছুই নয়। অর্থাৎ, যদি না প্রমাণ হয় হাড় ভেঙেছে ইত্যাদি তাহলে এই ধর্ষণটা নিছক ‘সাধারণ ধর্ষণের’ ঘটনা মাত্র। ধর্ষণ সংস্কৃতি মানে ঠিক এইটাই— ধর্ষণকে ‘সাধারণ ঘটনা’র মত স্বাভাবিক করে তোলা। একটি মেয়ে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় ধর্ষিতা হল, তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হল— এইটা যেন যথেষ্ট ভয়াবহ বা বীভৎস ঘটনা নয়, কেবল এই ঘটনার জন্য এত মানুষের বিক্ষোভ যেন মেনে নেওয়া যায় না, যেন আরও বেশি বীভৎসতা প্রমাণ করা গেলে তবেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, প্রতিবাদ ইত্যাদি ন্যায়সঙ্গত বলে মেনে নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে ওই সাংসদ তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এই ক্ষমতাবলে তিনি পোস্টমর্টেম রিপোর্টসহ নানান আইনি কাগজপত্র হস্তগত করেছেন এবং এইটা তিনি করেছেন সাধারণ মানুষের নজর অন্যদিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য। ভুয়ো সংবাদের বিরোধিতা করার সঠিক পদ্ধতি কখনও এইটা হতে পারে না। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও অন্যান্য আইনি তথ্যপ্রমাণ ইত্যাদির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে কিন্তু কোনও একজন মহিলা সাংসদ যখন এই নথিপত্রগুলোকে এইভাবে ব্যবহার করেন তখন তা করা হয় একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা তৈরি করার জন্য, এই প্রামাণ্য নথিগুলিতে তখন একটি ভিন্ন অর্থ আরোপিত হয় যা আবার নতুন করে ধর্ষণ সংস্কৃতিকেই নির্মাণ করে। 

আর একজন মহিলা সাংসদ টেলিভিশনের পর্দায় বললেন 'ছাত্রীদের কোলে বসিয়ে পাস করানোর চল শুরু হয়েছিল' এই ধরনের গতে বাঁধা নারী বিদ্বেষী মন্তব্য বিশেষ করে একটি ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রেক্ষিতে ধর্ষণ সহায়ক সংস্কৃতিকে আরও পোক্ত করে তোলে। প্রথমত এর ফলে ধর্ষণের বিষয়টি সামগ্রিকভাবে একটা অন্তঃসারশূন্য রাজনৈতিক দলাদলি আর পারস্পরিক অনর্থক বাকবিতণ্ডার বিষয় হয়ে ওঠে। অনর্থক কেননা এর ফলে একটি নিম্নমানের কদর্য তর্ক বিতর্ক  শুরু হয় যেখানে  'এর আগের আমলেও এমন ঘটেছে' এই কথা বলে বর্তমানে যা ঘটছে তাকে এক প্রকার সমর্থন  জানানো হয়। এরফলে ধর্ষণের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, ধর্ষণের ভয়াবহতা একটি নিছক সামান্য ঘটনার মত রাজনৈতিক লড়াইয়ের মার প্যাঁচে সীমাবদ্ধ থেকে যায়। এইটে করতে গিয়েই এই মহিলা সংসদ যিনি নিজেও একজন চিকিৎসক তিনি চিকিৎসা ক্ষেত্রে কর্মরত মহিলাদের  অপমান করে বসেন। এ কথা বলার অর্থ যেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের  ছাত্রীরা বিশেষ যৌন প্রশ্রয় দেওয়ার বিনিময়ে পরীক্ষায় পাশ করতে পেরেছেন। একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যখন এ ধরনের মন্তব্য করেন তখন কর্মজীবী মেয়েরা ‘সহজলভ্য’ এই ধরনের চূড়ান্ত নারীবিদ্বেষী প্রচলিত মন্তব্যের সঙ্গে তার কোনও তফাৎ থাকে না। প্রতিবাদের তীব্র ঝড় ওঠায় ওই সাংসদকে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হয় কিন্তু এই সমস্ত ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় কীভাবে রাজনৈতিক তর্কবিতর্ক আলাপ আলোচনার মাধ্যমেও ধর্ষণ সংস্কৃতি প্রসারিত হয়।

আরেকজন মহিলা সাংসদ প্রায় প্রত্যেকদিন এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসনের সমর্থনে ভিডিও বার্তা রেকর্ড করেছেন এবং প্রচার করেছেন। তদন্ত চলাকালীন তাঁর বিভ্রান্তিকর দাবিগুলি ভুল প্রমাণিত হয়েছে । তদন্তের প্রতিটি ধাপে তিনি পুলিশ প্রশাসনকে সমর্থন করতে গিয়ে নানা প্রসঙ্গে ‘এর থেকে প্রমাণিত হয় যে কলকাতা পুলিশ গোড়া থেকেই সঠিক পথে এগোচ্ছিল’ ইত্যাদি এই ধরনের মন্তব্য করেছেন। কেন একটি সরকারি হাসপাতাল একজন তরুণী চিকিৎসকের জন্য এতখানি অসুরক্ষিত, কেন হাসপাতালে এসে এফআইআর করতে প্রিন্সিপালের এতখানি সময় লাগলো, কেন মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে সমর্থন করছেন এবং আড়াল করার চেষ্টা করছেন, কেন নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে জঘন্য দুর্ব্যবহার করা হল – এই প্রশ্ন গুলি করার কথা কি তিনি একবারও ভেবেছেন? তার কোন বিবৃতিতেই এই গুরুতর অপরাধের ভয়াবহতার কোন উল্লেখ নেই। একটি অল্পবয়স্ক মেয়ে যে এই ঘটনার অভিঘাতে ত্রস্ত শঙ্কিত ও আতঙ্কিত হয়ে রয়েছে তার মানসিক অবস্থা কী হতে পারে একজন মহিলা সাংসদের এই অসংবেদনশীল বিবৃতি শোনার পরে? তার কী এটা মনে হওয়াই স্বাভাবিক নয় যে, এই ধরণের আচরণ সহ্য করার চাইতে বরং চুপ করে থাকাই শ্রেয়? যে মানুষেরা মেয়েদের জন্য উন্নততর পৃথিবী গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন এই ধরণের বক্তব্য তাদের মনোবল ভেঙে দেয়।  লড়াইটা আরও খানিকটা কঠিন হয়ে ওঠে। তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা নেত্রীরা সাধারণ মহিলাদের হতাশ করেছেন।

ভুলে গেলে চলবে না নিজের সরকারের পক্ষ অবলম্বন করতে গিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা এবং ধর্ষণ সংস্কৃতিকে জায়গা করে দেওয়ার ঘটনা কিন্তু এই প্রথমবার ঘটেছে তা নয়। পার্ক স্ট্রিট, কামদুনি, সন্দেশখালির ঘটনায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী ধর্ষিতাদের অপমান করেছেন। যে মহিলা নেত্রীরা এই ধরণের মন্তব্য করেন তাদের চিহ্নিত করে প্রকাশ্যে সমালোচনা করা উচিত।

এক পুরুষ তৃণমূল কাউন্সিলর বলেছেন, ‘যারা মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে সমাজ মাধ্যমে নানান মন্তব্য করছে আমি তাদের মা-বোন এবং পরিবারের অন্যান্য মেয়েদের ছবি বিকৃত করে তাদের বাড়ির দরজায় টাঙিয়ে দেব।’ এটাও ধর্ষণ সংস্কৃতির গতেবাঁধা উদাহরণ। মেয়েদের শরীরকে ব্যবহার করা হয় প্রতিপক্ষকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য। এখানে যৌন হিংসা ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার হাতিয়ার। একটি মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে, কিন্তু আমাকে নেতৃত্বের পাশে দাঁড়াতে হবে বলে সেটা আমার কাছে আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। এ কথা সত্যি যে মমতা ব্যানার্জীকে বিভিন্ন সময়ে অভদ্র ও অমার্জিত ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে। তিনি যদি তাঁর প্রতিপক্ষ সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন তা হলেও তাঁকে আক্রমণ করতে গিয়ে অশ্লীল ইঙ্গিত ও ভাষা কোনও মতেই ব্যবহার করা যায় না। এক্ষেত্রে কিন্তু ধর্ষণের প্রতিবাদে  মেয়েরাই রাস্তায় নেমেছেন, বিশেষ করে অল্পবয়সী মেয়েরা। নেতার পক্ষাবলম্বন করার অজুহাতে প্রতিবাদীদের অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করে যৌন হিংসার ভয় দেখানো অত্যন্ত নিন্দনীয়। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তো এমনিতেই মুখ্য মন্ত্রীর সমালোচনা করার অভিযোগে মামলা দাখিল করার ক্ষেত্রে রেকর্ড করে ফেলেছে। এমনকী সমাজ মাধ্যমে, টিভি স্টুডিওতে উপস্থিত তরুণী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নিজের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা কৃষক কেউ বাদ যায়নি। মুখ্য মন্ত্রীকে নিয়ে কেউ ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করলে পুলিশ তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিয়েছে। এই কাউন্সিলর যে ধরণের মন্তব্য করেছেন তা ধর্ষণ সংস্কৃতির আরেকটি বৈশিষ্ট্য। প্রতিবাদী পুরুষের মুখ বন্ধ করার জন্য তার পরিবারের মেয়েদের ওপর যৌন অবমাননা, আক্রমণ ও হিংসার ভয় দেখানো ধর্ষণ সংস্কৃতির একটি রূপ। 

ধর্ষণের ‘রাজনীতিকরণ’

প্রায়শই দেখা যায় রাজনৈতিক দলগুলো মেয়েদের ওপর ঘটে চলা অত্যাচার ও অপরাধ প্রতিহত করতে না পারার অভিযোগ তুলে একে অপরকে দোষারোপ করে। এক্ষেত্রে ধর্ষণ একটা আলোচ্য বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে। ধর্ষণের ‘রাজনীতিকরণ’ করা হচ্ছে বলে এর বিরুদ্ধ সমালোচনাও হয়। প্রায় প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার ক্ষেত্রে যখন প্রশাসনিক ঔদাসীন্য, অভিযুক্ত ও অপরাধীদের আড়াল করার প্রচেষ্টা ইত্যাদি দেখা যায় তখন সরকারকেই তার দায় বহন করতে হবে এবং জবাবদিহিও করতে হবে। ধর্ষণ একটি রাজনৈতিক সমস্যা। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ক্ষমতার প্রয়োগ, প্রবল পিতৃতান্ত্রিক ও বর্ণবাদী সমাজে পুরুষ আধিপত্যের সংস্কৃতি ইত্যাদি। মহিলাদের বিরুদ্ধে ঘটে চলা অপরাধ, ক্রমবর্দ্ধমান যৌন অপরাধ— সবকিছুই গভীর ‘রাজনৈতিক সংকট’। স্থিতাবস্থার রাজনীতি সবসময়ে এই সংকটগুলোকে রাজনৈতিক ভাষায় ‘সফট ইস্যু’ বলে দেগে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যেমন— পণ আদায়ের জন্য হত্যা, গার্হস্থ্য হিংসা, শিশুর উপর যৌন নিপীড়ন চালানো, যৌন অত্যাচার— এই সমস্যাগুলোকে এক ধার থেকে ‘অরাজনৈতিক সমস্যা’ হিসেবে আলাদা করে দেগে দিয়ে মেয়েদের সমস্যার পৃথক একটা খুপরির মধ্যে বাক্সবন্দী করে রেখে দেওয়া হয়েছে। মহিলাদের লড়াই, লড়াই করে বেঁচে যাওয়া, টিঁকে যাওয়া মেয়েদের লড়াই এই খুপরির দরজা ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু লিঙ্গ সংবেদনশীল রাজনীতির চর্চা থেকে আমরা এখনও বহু দূরে অবস্থান করছি। যে রাজনীতি এবং সংস্কৃতি মেয়েদের যৌন আক্রমণ ও অপরাধের নিশানা করে তোলে, অপরাধের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেয় তার প্রকাশ্য সমালোচনা হওয়া খুব জরুরি এবং এইটা ধর্ষণের ‘রাজনীতিকরণ’— এই অভিযোগকে আমাদের নাকচ করতেই হবে।

ন্যায়ের জন্য লড়াই করতে গেলে যে ‘রাজনীতিকরণ’ আবশ্যিক ও প্রয়োজনীয় তার সঙ্গে রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির পার্থক্য করব কীভাবে তা আমাদের শিখতেই হবে। কেন এই পার্থক্য করা জরুরি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল পশ্চিমবঙ্গ। যে সর্বাত্মক স্বতস্ফুর্ত আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গে চলছে, যার সামনের সারিতে রয়েছেন চিকিৎসকরা তাকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি এবং এই উদ্দেশ্যে তারা সবচাইতে লিঙ্গ অসংবেদী ‘বাইনারি’কে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। বিজেপি এই আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটা তথাকথিত ছাত্রসমাজ নামের মঞ্চের কথা হাওয়ায় ভাসিয়ে দিয়েছিল যা প্রচ্ছন্নভাবে বিজেপি-আরএসএসের মস্তিষ্কপ্রসূত। তারা তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে এক ধরণের উগ্র অভিযানমূলক কর্মসূচি প্রদর্শন করল। পুলিশকে উস্কানি দিয়ে আন্দোলনকে দখল করে নেওয়ার জমিও প্রস্তুত করা হল যাতে উভয় পক্ষের সুবিধা মত এটাকে ‘বিজেপি বনাম তৃণমূল’— এই সংকীর্ণ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পরিচিত ছকে বেঁধে ফেলা যায়। বিজেপি নিজেদের ‘নির্যাতিত’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করল, একটা বন্ধ ডাকল যাতে ধর্ষিতার উপর থেকে ফোকাস সরিয়ে দিয়ে তারা নিজেরাই ফোকাসের কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে পারে। বাংলার মানুষ কিন্তু এই খেলাটা ধরে ফেললেন এবং এটাকে একটুও পাত্তা দিলেন না। উল্টোদিকে বাম ফ্রন্টের দলগুলো সমান্তরালভাবে বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করেছে যা স্বতস্ফূর্ত আন্দোলনকেই দরকারমত আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। এভাবেই বাম ফ্রন্ট ‘অরাজনৈতিক, শুধু মেয়েদের সমস্যা’র স্বতন্ত্র পৃথক কুঠরিটাকে ভাঙতেও সাহায্য করেছে। তারা দেখিয়েছে একটি দায়িত্ববান রাজনৈতিক দল কীভাবে একটি আন্দোলনের দাবিদাওয়াকে লাগাতার সমর্থন জানিয়ে যেতে পারে, যারা আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁদের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস সবরকমভাবে চেষ্টা চালিয়েছে মানুষের স্বতস্ফূর্ত আন্দোলন ও বাম ফ্রন্টের স্বাধীন আন্দোলনকে কলঙ্কিত করার। তারা এই সংহতিকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছে যাতে ন্যায়বিচার যারা চাইছে তাদের স্তব্ধ করে দেওয়া যায়। এমনটা করা হয় নির্যাতিতা ও তার পরিবারকে সামাজিক সমর্থন থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার জন্য আর সেই ফাঁকে অপরাধী পার পেয়ে যায়।

নতুন আইন তৈরির নাটক

যৌন অপরাধকে প্রতিহত করার দায় সরকারের, পুলিশের এবং বৃহত্তর অর্থে সমাজের। দিল্লির নির্ভয়া কান্ডের পরবর্তী কালে ভার্মা কমিশন একগুচ্ছ সুপারিশ এনেছিল, সেখানে আইনে কিছু পরিবর্তন আনার কথাও বলা হয়। তার কিছুটা কার্যকরী হয়েছিল। খুব পরিষ্কারভাবে একটা কথা বলা দরকার— আর জি কর হাসপাতালের ঘটনাটা আইনি দুর্বলতার কারণে ঘটেনি। আর জি করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার কারণ এই নয় যে আইন দুর্বল। তা সত্ত্বেও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আবার একটা নতুন আইন পাশ করাবার নাটক করছেন। এটা সাধারণ মানুষের মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করে দেওয়ার চিরাচরিত পদ্ধতি। প্রস্তাবিত নতুন আইনে অজস্র ভুলত্রুটি রয়েছে এবং তা ভার্মা কমিশনের সুপারিশগুলিকে লঙ্ঘন করছে। যে মেয়েটি ধর্ষিতা ও নিহত হয়েছে তার জন্য ন্যায়বিচার অর্জন করার লড়াইয়ে এই আইনের কোনও ভূমিকা নেই। সরকার ও প্রশাসনকে চাপ দিতেই হবে যাতে তারা নিজেদের দায় স্বীকার করতে বাধ্য হয়।


পিপলস্‌ ডেমোক্রেসি
সেপ্টেম্বর ৩০ – অক্টোবর ০৬, ২০২৪- এ প্রকাশিত

ভাষান্তর : শিঞ্জিনী সরকার

আরও পড়ুন: প্রসঙ্গ আরজি কর: কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, নারী স্বাধীনতা


প্রকাশের তারিখ: ০৮-অক্টোবর-২০২৪
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

'রোজা' বইটির জন্য ধন্যবাদ। উৎসা পট্টনায়কের লেখাটি নতুন কথা হাজির করেছে। রতন খাসনবিশের লেখায় আছে উত্তর। যা না পেলে রোজার বক্তব্য নিয়ে উদভ্রান্ত হয়ে পড়তাম।
- চন্দন দাস, ০৮-অক্টোবর-২০২৪


Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নির্বাচন ২০২৬ বিভাগে প্রকাশিত ৯১ টি নিবন্ধ
২৭-এপ্রিল-২০২৬

২৬-এপ্রিল-২০২৬

২১-এপ্রিল-২০২৬

২০-এপ্রিল-২০২৬

১৯-এপ্রিল-২০২৬

১৮-এপ্রিল-২০২৬

১৭-এপ্রিল-২০২৬

১৬-এপ্রিল-২০২৬

১৪-এপ্রিল-২০২৬

১৩-এপ্রিল-২০২৬