Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

পরিবেশ রক্ষার লড়াই ও জীবিকার লড়াই অবিচ্ছেদ্য

তপন মিশ্র
অনেকেই ভাবছেন, আবার ইচ্ছে করেও প্রচার করা হচ্ছে যে প্রকৃতির পরিবর্তনকে কেউ খণ্ডাতে পারে না। এমন প্রচারের একটা উদ্দেশ্য আছে, তা হলো আসল দোষীকে আড়াল করা। প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করে যারা মুনাফা করতে চায় তাদের লাগাম পরানোর দায় সরকারের থাকা উচিত।
poribesh o shromikshreni
এ বছরের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আহ্বান হলো ‘প্লাস্টিক দূষণকে জয় করো’ (বিট প্লাস্টিক পলিউশন)। 
 
প্লাস্টিক ধীরে ধীরে দানবের রূপ নিচ্ছে। মারাত্মক আকার নিচ্ছে ছড়িয়ে পড়া মাইক্রোপ্লাস্টিক। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (সিঙ্গল ইউস প্লাস্টিক)-এর উপর গত ১ জুলাই থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই তালিকার মধ্যে মাত্র একুশটি প্লাস্টিক উপকরণ রয়েছে। আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে প্লাস্টিক উপকরণগুলি ব্যবহার করি এই তালিকা সেই তুলনায় হিমশৈলের উপরিভাগ মাত্র। কুয়োর দড়ি, বালতি, জলের বোতল, গুটকা এবং আলু চিপসের প্যাকেট থেকে মোবাইল সেট এবং গাড়ির ভেতর পর্যন্ত কয়েক শত ধরণের প্লাস্টিকজাত উপকরণ আমারা দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করে থাকি। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রোদে কষে যাওয়া প্লাস্টিকের গুঁড়ো। এগুলি আমাদের খাদ্য শৃঙ্খলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রবেশ করছে। 
 
প্লাস্টিক দূষণ এবং সরকারের দ্বিচারিতা 
সন্দেহ নেই যে প্লাস্টিকের নিষিদ্ধ উপকরণ গুলির উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক বড় পরিবেশগত বিপদ আমাদের সামন আসছে। এই নিষেধাজ্ঞা যে আগে ছিল না তা নয়। কিন্তু যে বিষয়গুলি ভাবার তা হল কোনওরকমের প্রস্তুতি এবং বিকল্প ভাবনা ব্যতিরেকে এই নিষেধাজ্ঞাকে নতুন করে জাহির করা। আর এতে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন আমাদের সামনে উঠে এসেছে।
 
চিপস, গুটখা বা খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে ব্যবহার করা বহু-স্তরযুক্ত প্লাস্টিকগুলি মূলত বড় এবং বহুজাতিক সংস্থাগুলির দ্বারা প্রস্তুত ভোগ্যপণ্যের বিপণনের জন্য তৈরি হয়। এগুলি সমস্যাবহুল। কারণ এগুলি প্রায় অ-পুনর্ব্যবহারযোগ্য। এর কারণ, এই প্লাস্টিকের সাথে অ্যালুমিনিয়াম বা কাগজের দু’টি বা ততোধিক স্তর রয়েছে। ফলে এগুলি পুনর্ব্যবহার করা যায় না, বা করতে গেলে যে খরচ হয় তা অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হয় না। আমাজন, ফ্লিপকার্টের মতো ঘরে বিভিন্ন জিনিস পৌছে দেয়, এমন বহুজাতিক সংস্থাগুলি যে পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি করে, তা সমুদ্র দূষণের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের সরকার এদের ব্যবহার করা বাবল র‌্যাপ, প্যাক, ইত্যদির উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা চাপায়নি। এই বিজ্ঞপ্তিটি ভাল করে দেখলে বোঝা যাবে যে বিশ্বের এবং দেশের বড় ব্র্যান্ডগুলি এই আইনে মোটেই প্রভাবিত হবে না। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারা হল ছোট বিনিয়োগকারী। ভারতবর্ষে এই মুহূর্তে প্রায় ৮৮,০০০ এই একুশটি দ্রব্য উৎপাদনকারী ইউনিট কাজ করছে। এবং এর সঙ্গে যুক্ত কর্মাচারীর সংখ্যা প্রায় ১০,০০,০০০। এদের জন্য কোনও বিকল্প রোজগারের প্রস্তাব এই বিজ্ঞপ্তিতে নেই। অর্থাৎ এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রায় ১০ লক্ষ পরিবারের রুজির উপর আঘাত পড়বে। এদের পাশে দাঁড়ানোর কোনও সদিচ্ছাই সরকারের নেই।
 
বড় চ্যালেঞ্জ বিশ্ব উষ্ণায়ন  
কেবল প্লাস্টিক নয়। বছর বছর যেন অতি-গরম দিনের সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে বৃষ্টিপাতের হেরফের নাহলে বর্ষার দিনের সংখ্যা কমছে। ইদানীংকালে বর্ষাকাল প্রায় নেই বললে চলে। কালবৈশাখীর সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে উপকূল অঞ্চলে সাইক্লোনের তীব্রতা। দু’-একদিন যখন অতি বৃষ্টি হয়, তখন ঘরের মধ্যে জল থই থই করে। একেই বুঝি জলবায়ুর পরিবর্তন বলে। বিশ্বউষ্ণায়ন এখন আর শুধু বিজ্ঞানের কথা নয়। সমুদ্র যত গরম হবে তত বেশি জলীয় বাষ্প বাতাসে মিশবে। ফলে সবসময় যেন গুমোট গরম!
 
দৈনন্দিন বেঁচে থাকার লড়াইয়ের মধ্যে গরম ঠাণ্ডা এসব ভাবনার কোনও সময় ছিল না। গরমের সময় গরম, শীতের সময় শীত ইত্যাদি। এখন মনে হচ্ছে আবহাওয়া নিয়ে না ভাবলেই নয়। এপ্রিল, মে বা জুন মাসের দুপুরে ঘরের বাইরে কাজ করতে বেরনো অসহ্য হয়ে যাচ্ছে। রাজমিস্ত্রির কাজ, তাদের জোগান-শ্রমিকের কাজ, রিক্সা বা ঠেলাগাড়ি টানার কাজ, কৃষি কাজ এগুলি না করলেই নয়। কিন্তু করতে গেলেই অসুস্থতা বাড়ছে। ফলে কাজের সময় কমছে এবং সাথে সাথে রোজগার। 
জলবায়ু সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক গবেষণা সংগঠন আইপিসিসি (ইন্টার-গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ)-র   বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০৩০ সাল নাগাদ আরও বিপদ বাড়বে। অর্থাৎ ১৮৭০ এর তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। সাথে সাথে তারা এটাও বলছেন যে তাদের অনুমান মিথ্যে হয়ে ২০২৭-২৮ নাগাদই ১.৫ ডিগ্রি লক্ষে পৌঁছে যেতে পারে। সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা বিশ্ব উষ্ণায়নের গতি প্রকৃতি জানার জন্য ১৯৮৮ সাল থেকে বিভিন্ন ধরণের গবেষণার বিশ্লেষণ করছেন। ২০২১ এবং ২০২২ সালে তিন ধরণের তথ্য তাঁদের সামনে এসেছে। প্রথমটি হলো কতটা গরম হচ্ছে পৃথিবী এবং গরম হলে কী কী বিপদ ঘটার সম্ভাবনা বাড়ছে। দ্বিতীয়টি হল এই বিপদ বাড়লে প্রান্তিক মানুষ বিশেষ করে কৃষক, শ্রমিক, মৎস্যজীবী ইত্যদিদের রক্ষা করতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। আর তৃতীয়টি এই দৃশ্যমান বিপদ থেকে মুক্তির উপায় কী। 
 
আমাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত যে বিশ্বব্যাপী আলোচনা চলছে এবং যে প্রভাব অনুভূত হচ্ছে তা কতটা মিলছে তা পরখ করা দরকার। বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং তার ফলশ্রুতি হিসাবে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত পরিবেশ বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা আইপিসিসি তাদের প্রতিবেদনে বলছে—  
 
১। গ্রীষ্মকালে তাপপ্রবাহের তীব্রতা এবং দিনের সংখ্যা আমরা এখন যা লক্ষ করছি তা ধীরে ধীরে আরও বাড়বে। ফলে শ্রমজীবী মানুষের কর্মক্ষমতা কমবে। এবং বিভিন্ন ধরণের পেশাগত স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও)-র মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন ফলে দেশগুলির যে উৎপাদন ক্ষমতা কমবে, তা প্রায় ৩.৪ কোটি মানুষের কর্মচ্যুতির সমতুল্য। 
 
২। আমাদের দেশে কৃষিক্ষেত্রে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। ২০১৯ সালে জলবায়ু পরিবর্তনের ফল স্বরূপ দেশের ৪৫ শতাংশ অংশে খরা দেখা দেয়। ১২ টি রাজ্যে প্রবল বন্যার ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্রমবর্ধমান খরা এবং বর্ষার দাপটে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে গাঙ্গেয় সমভূমি, যার মধ্যে পশ্চিমবাংলার একটি বড় অংশ রয়েছে।
    
৩। ফসল, প্রাণী, এমনকি মানুষের রোগ সৃষ্টিকারী পোকামাকড় এবং জীবাণুর জীবন চক্রে পরিবর্তন ঘটবে। ফলে যদি প্রতিনিয়ত গবেষণার মধ্য দিয়ে এই ক্ষতিকর রোগ জীবাণুর দমন এবং নিয়ন্ত্রণ না করা যায়, তাহলে নতুন মহামারি দেখা দেবে। ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রাণিবাহিত আসন্ন অতিমারির সতর্কবাণী শুনিয়েছে। 
 
৪। এই আশঙ্কাও জোরদার হচ্ছে যে পরাগ-মিলনকারি পোকামাকড় বিশেষ করে মৌমাছির সংখ্যা কমবে। ফলে শস্যের ফলন কমবে। 
 
৫। নির্দিষ্টভাবে আঞ্চলিক যে ভয়ঙ্কর প্রভাবের কথা বিজ্ঞানীদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেগুলি হল—  
 
(ক) মূলত শহর এলাকায় জমা এরোসলের কারণে মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাই ইত্যাদি শহরে কম সময়ে বেশি বৃষ্টিপাত হবে। ফলে জল জমা ছাড়াও মশা বাহিত ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ইত্যদি রোগের যন্ত্রণা বাড়বে।
  
(খ) ১৯৫০ থেকে ২০১৮-র মধ্যে কলকাতার গড় তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপর আছে তেহেরান (২.৩ ডিগ্রি) এবং মস্কো (১ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। ১৮৫০ এর তুলনায় ২০৮১ থেকে ২১০০ সালের মধ্যে কলকাতাতে তাপমাত্রা ৪.৫ ডিগ্রি বৃদ্ধি পাবে। পৃথিবীতে আইপিসিসির ফ্যাক্ট শিটে উল্লেখিত সমস্ত শহরের মধ্যে এটি এক নম্বরে। ফলে আমাদের ছেলেমেয়ে এবং তাঁদের ছেলে মেয়েদের বেঁচে থাকা দুর্বিষহ হয়ে যাবে।
 
(গ) কলকাতার খিদিরপুরে এপর্যন্ত (১৮৫০ এর তুলনায়) সমুদ্রতলের উচ্চতা ০.১৫ মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাইতে এই পরিমাণ হল ০.৫৭ মিটার। মুম্বাইয়ে ০.৫৮ মিটার। কলকাতার পাশে সুন্দরবনে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রতল বৃদ্ধি পাবে ৬০ সেন্টিমিটার। হুগলী নদীতে যদি জলস্তর উপরে থাকে তাহলে কলকাতা শহরের অতিবৃষ্টির জল শহরের বস্তিতে, রাস্তায় না জমে যাবে কোথায়?
বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক সংস্থা আইপিসিসি বিভিন্ন দেশের সরকারগুলির করণীয় কি এবং আসন্ন বিপদ থেকে কীভাবে দেশ, দেশের প্রান্তিক মানুষ যেমন বস্তিবাসী, শ্রমিক, কৃষক, মৎস্যজীবীর মতো মানুষদের রক্ষা করা যায়, তার কিছু পথ দেখিয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের সরকার এই ধর্মের কাহিনি শুনতে রাজি নয়। তাদের অন্য ধর্ম আছে! পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন এবং আমরা দেখতেও পাচ্ছি যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম আঘাত পড়ছে প্রান্তিক মানুষের উপর। আয়লা, আম্ফানের মত ঘুর্ণিঝড়ে সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে গরিব মানুষের। তারাই এখন পরিবেশ-উদ্বাস্তু। শহরে অতিবৃষ্টিতে বস্তিবাসীদের জীবন-জীবিকার উপর প্রথম আঘাত আসে। ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে স্টারলাইট তামা কারখানা-দূষণের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯৯ শতাংশ বস্তিবাসী মানুষ।
 
দায়ী কে?
অনেকেই ভাবছেন, আবার ইচ্ছে করেও প্রচার করা হচ্ছে যে ‘প্রকৃতির পরিবর্তনকে কেউ খণ্ডাতে পারে না’। এমন প্রচারের একটা উদ্দেশ্য আছে– তা হলো আসল দোষীকে আড়াল করা। প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করে যারা মুনাফা করতে চায় তাদের লাগাম পরানোর দায় সরকারের থাকা উচিত। আমাদের দেশেও দীর্ঘ আলোচনা এবং আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিবেশ রক্ষার আইনি ব্যবস্থা কিছুটা তৈরি হয়েছিল। ১৯৮৪ সালে ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এবং অসংখ্য মানুষ বিকলাঙ্গ হওয়ার পর ১৯৮৬ সালে এনভায়রনমেন্ট (প্রোটেকশন) অ্যাক্ট বা পরিবেশ রক্ষা আইন তৈরি হয়। কল-কারখানার বর্জ্য এবং দূষণ রোধ করার উপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনতে এই আইন। কিন্তু তারপরেও এই মাত্রার না হলেও স্টারলাইট কারখানার মতো দুর্ঘটনা ঘটেছে।
  
ব্যবস্থার প্রয়োগের ক্ষেত্র ত্রুটি ছিল ঠিকই। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ধীরে ধীরে পরিবেশ রক্ষার আইনি ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। কর্পোরেট-নির্ভর পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থা পরিবেশ রক্ষার পরোয়া করে না। জঙ্গলের পর জঙ্গল উজাড় করে খনিজ সম্পদ আহরণ করা হয়েছে। কিন্তু তারপর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে অরণ্যের পুনঃসৃজন করা হয়নি। গুটিকতক গাছ লাগিয়ে আত্মসন্তুষ্টি পাওয়া যায় ঠিকই, তেমন কাজের কাজ হয় না। 
ধনী দেশগুলি মার্কিনীদের নেতৃত্বে বিগত অর্ধশতক ধরে বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নিদান বিজ্ঞানীরা দিচ্ছেন তার প্রয়োগে বাধা দিয়ে আসছে। বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাইঅক্সাইড গ্যাস নির্গমনের আধিক্য রোধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে এখনও এই পৃথিবীর জীবজগতকে বাঁচানো যায়। বায়ুমণ্ডলকে বাঁচার উপযোগী করে রাখতে হলে যে বিনিয়োগ করতে হবে বহুজাতিক পুঁজি তা করতে প্রস্তুত নয়। দেশের সরকারগুলিও পুঁজির তাঁবেদারি করার জন্য কর্পোরেটদের চাপ দেয় না। 
 
মার্কস তৎকালীন ব্রিটেনের শ্রমিকদের মহল্লায় দূষণ এবং বেঁচে থাকার ন্যূনতম চাহিদার অভাব সম্পর্কে লেখেন ‘শ্রমিকের জন্য প্রয়োজনীয় বাতাসেরও অভাব ছিল শ্রমিকবসতি গুলিতে। ওরা কাজের পর যেন এক গুহাজীবি মানুষের মতো যে যার গুহায় ফিরে আসতো। সে যেন ছিল সভ্যতার এক আদিম যুগের এক মহামারির দূষিত নিঃশ্বাস। তাদের এই অবস্থা যেন ছিল মৃতদেহ রাখার স্থান যার জন্য তাকে মূল্য দিতে হতো।’ (ইকোনমিক অ্যান্ড ফিলোজফিক্যাল ম্যানুস্ক্রিপ্টস, ১৮৪৪)। 
 
মার্কসের চিন্তা এবং আধুনিককালের পরিবেশ সমস্যাকে সামনে রেখে পার্টির একবিংশতম কংগ্রেসের আহ্বান ছিল ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের দ্বারা আরোপিত নয়া-উদারনীতির বিরুদ্ধে বহুমুখী সংগ্রাম, পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের আন্দোলনকে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে (ধারা ১.৪২)’।
 
প্রতিদিনের জীবন-জীবিকার লড়াইয়ে সাথে আর এক লড়াই যুক্ত না করলে আমাদের অস্তিত্ব সংকটে। এ লড়াই শুধু গাছ লাগানো বা প্লাস্টিক ক্যারি ব্যাগ, থর্মোকলের থালা ব্যবহার নিষিদ্ধ করলে হবে না। যারা প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করে মুনাফা করছে এবং পরিবেশ রক্ষার কোনও দায় নিচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগঠিত করাও আমাদের দায়িত্ব। এই লড়াই সেই সরকারের বিরুদ্ধে, যারা দেশের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের বাঁচার পরিবেশের প্রতি নজর না দিয়ে কর্পোরেটদের স্বার্থ রক্ষা করে।

প্রকাশের তারিখ: ০৩-জুন-২০২৩
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

খুব ভালো ও সময়োপযোগী লেখা। ধন্যবাদ আপনাকে - (সম্পাদিত)
- খুব ভালো ও সময়োপযোগী লেখা। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। , ০৩-জুন-২০২৩


খুব সময়োপযোগী, তথ্যসমৃদ্ধ লেখা। পৃথিবীকে পরিবেশগত বিপন্নতা থেকে রক্ষা করতে গেলে এই বার্তা জনে জনে প্রচার করতে হবে ও স্বার্থান্বেষীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলতে হবে। - (সম্পাদিত)
- অমিতাভ বিশ্বাস, ০৩-জুন-২০২৩


খুবই উপযোগী এবং সধারনের মধ্যে বিশেষ ভাবে শ্রমিক শ্রেণী, ছাত্র যুবকদের মধ্যে ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন।
- ধীরেন্দ্রনাথ সুর, ০৬-জুন-২০২৩


Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নির্বাচন ২০২৬ বিভাগে প্রকাশিত ৯১ টি নিবন্ধ
২৭-এপ্রিল-২০২৬

২৬-এপ্রিল-২০২৬

২১-এপ্রিল-২০২৬

২০-এপ্রিল-২০২৬

১৯-এপ্রিল-২০২৬

১৮-এপ্রিল-২০২৬

১৭-এপ্রিল-২০২৬

১৬-এপ্রিল-২০২৬

১৪-এপ্রিল-২০২৬

১৩-এপ্রিল-২০২৬