সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি
শুভনীল চৌধুরী
২০২৩-২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের একজন গড় বেতনভুক্ত মহিলা শ্রমিকের মাসিক মজুরি ছিল ১০৯৩৫ টাকা, ভারতের ক্ষেত্রে যার পরিমাণ ছিল ১৬৫০৮ টাকা, ঠিকা শ্রমিকের দৈনিক গড় মজুরি পশ্চিমবঙ্গের মহিলা শ্রমিকের ক্ষেত্রে ২৭৮ টাকা, ভারতের ক্ষেত্রে ২৯৬ টাকা, স্বনিযুক্ত মহিলা শ্রমিকের মাসিক গড় আয় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ৩২৮০ টাকা, ভারতের ক্ষেত্রে ৫৪৯৭ টাকা। অর্থাৎ প্রত্যেক ধরনের মহিলা শ্রমিক রাজ্যে দেশের গড়ের তুলনায় কম আয় করেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা মহিলাদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। কিন্তু কর্মসংস্থান থেকে এই ক্ষুদ্র আয় নিয়ে মহিলা শ্রমিকরা নিজেদের বা সংসারের খরচ চালাবেন কী করে?

রাজ্য তথা দেশের রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে মহিলাদের রাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। এই গুরুত্ব বৃদ্ধিকে দলমত নির্বিশেষে স্বাগত জানানো হয়েছে। মহিলাদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক মতামত, ভোট দানের ক্ষেত্রে তাদের স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান, মহিলা কেন্দ্রিক রাজনৈতিক আখ্যান এবং বিশেষ করে তাদের জন্য তৈরি হওয়া বিবিধ সরকারী প্রকল্প দেশ তথা বিভিন্ন রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আমাদের রাজ্যের নেতৃত্বে রয়েছেন একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে যে মহিলাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট শাসক দল পেয়ে থাকে। আবার মহিলাদের জন্য রাজ্যে বিভিন্ন প্রকল্প চালু রয়েছে। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ইত্যাদি প্রকল্পের নাম এখন রাজ্যের শিশুরাও জানে। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক অবস্থা কেমন হয়েছে, তা নিয়ে কিছু তথ্যভিত্তিক আলোচনা করার উদ্দেশ্যে এই নিবন্ধের অবতারণা।
মহিলাদের বাল্যবিবাহ
আলোচনার সূত্রপাত করা যেতে পারে মহিলাদের বিয়ের বয়স নিয়ে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ দুটি কারণে। প্রথমত, আমাদের রাজ্যে তথা দেশে মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দেওয়ার একটা প্রবণতা আছে, নানান সামাজিক কুযুক্তির কারণে। যেমন ২০০৫-০৬ সালের জাতীয় স্বাস্থ্য সমীক্ষা রিপোর্ট থেকে আমরা জানতে পারছি যে দেশের ৪৭.৪ শতাংশ (২০-২৪ বয়সী) মহিলাদের বিয়ে হয়েছিল ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে। সংখ্যাটি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ছিল ৫৪ শতাংশ। ২০১৫-১৬ সালে দেশে এই সংখ্যাটি কমে হয় ২৬.৮ শতাংশ, আর আমাদের রাজ্যে তা কমে হয় ৪১.৬ শতাংশ। অর্থাৎ আমাদের রাজ্যের থেকে দেশে এই হ্রাসের গতি অনেক বেশি ছিল। দেশের ক্ষেত্রে এই অনুপাত কমেছে এই সময়ে ২১ শতাংশ বিন্দু আর রাজ্যের ক্ষেত্রে একই সময়ে কমেছে ১২ শতাংশ বিন্দু।
ইতিমধ্যে রাজ্যে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু হয়ে যায় ২০১৩ সালে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেরকম মেয়েদের শিক্ষায় বজায় থাকার প্রণোদনা ছিল, অন্যদিকে, ১৮ বছরের আগে যাতে তারা বিয়ে না করে, তাও লক্ষ্য ছিল। অবশ্যই দুই বছরের মধ্যে এই প্রকল্প মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেবে, তা ভাবা ঠিক নয়। কিন্তু ২০১৯-২০ সালের জাতীয় স্বাস্থ্য সমীক্ষা রিপোর্টে যে ছবি উঠে এল তা চিন্তার। দেখা যাচ্ছে যে ২০১৯-২০ সালেও রাজ্যে মহিলাদের ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে হয়ে যাওয়ার অনুপাত সেই ২০১৫-১৬ সালের ৪১.৬ শতাংশেই আটকে রয়েছে। দেশের ছবিটা কিন্তু ভিন্ন। দেশের ক্ষেত্রে এই অনুপাত ২৬.৮ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ২৩.৩ শতাংশ।
দুটি কথা এখানে ভাবার মত। প্রথম, পশ্চিমবঙ্গে যেখানে এই অনুপাত এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে দেশের ক্ষেত্রে এই অনুপাত কমা মানে আসলে অন্যান্য রাজ্যগুলিতে এই প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই বিষয়ে রাজস্থানের উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। ২০০৫-০৬ সালে রাজস্থানে ৬৫.২ শতাংশ মহিলার (যাদের বয়স ২০-২৪) বিয়ে হয়ে গিয়েছিল ১৮ বছরের কম বয়সে। ২০১৫-১৬ এই অনুপাত কমে হয় ৩৫.৪ শতাংশ, যা ২০১৯-২০ সালে আরও কমে হয় ২৫.৪ শতাংশ। ২০০৫-০৬ সালে রাজস্থান এই নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল। কিন্তু ১৫ বছরের মধ্যে তারা অনেক এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের রাজ্যে এই অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমল না কেন? কন্যাশ্রী প্রকল্পের বাস্তবায়ন হওয়ার পরেও এই পরিসংখ্যান দেখায় যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলারা শিক্ষাক্ষেত্রে কিছু সুবিধা পেলেও, সামাজিক ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের মতন সামাজিক ব্যাধি এখনও রাজ্যে বেশ জাঁকিয়ে বসে রয়েছে।
শিক্ষা
শিক্ষার কথা যখন এসে পড়ল, তখন শিক্ষা সংক্রান্ত কিছু পরিসংখ্যান দেখে নেওয়া যাক। ভারতের জাতীয় নমুনা সমীক্ষা অনুযায়ী ২০১১-১২ সালে ভারতের গ্রামীণ মহিলাদের সাক্ষরতার হার ছিল ৫৭.৫ শতাংশ যা পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ছিল ৬৩.৪ শতাংশ। ২০২৩-২৪ সালে এই হার ভারতের ক্ষেত্রে বেড়ে হয় ৭২.৭ শতাংশ এবং পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বেড়ে হয় ৭৯.৮ শতাংশ। শহরের মহিলাদের ক্ষেত্রে এই হার ভারতের ক্ষেত্রে একই সময়ে ৮১.২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৮৭.৫ শতাংশ। আমাদের রাজ্যের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাগুলি হল যথাক্রমে ৮৪.১ শতাংশ এবং ৮৮.১ শতাংশ। অর্থাৎ, সাক্ষরতার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা ভারতের থেকে এগিয়ে রয়েছে।
কিন্তু উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা দেশের মহিলাদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। ২০১১-১২ সালের গ্রামীণ ভারতের ৯ শতাংশ মহিলাদের উচ্চমাধ্যমিক ও তার অধিক শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল, যা ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ২০ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ মহিলাদের ৪.৪ শতাংশের এই উচ্চমাধ্যমিক ও পরবর্তী শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল ২০১১-১২ সালে যা ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ১৪.৮ শতাংশ। শহরের ক্ষেত্রে এই হার দেশের ক্ষেত্রে ২০১১-১২ থেকে ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে ৩১.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৪২ শতাংশ। একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ২৮.২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৩৪.৮ শতাংশ। ২০২১-২২ এর রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ১৮-২৩ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে ২৬.৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষায় নথিভুক্ত, দেশের ক্ষেত্রে যা ২৮.৫ শতাংশ (সূত্র: কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা প্রকাশিত ২০২৫-২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা)। যদিও পশ্চিমবঙ্গে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ক্ষেত্রে এই হার বেশি, কিন্তু গোটা দেশের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা উচ্চশিক্ষায় ভারতের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে।
কর্মসংস্থান ও আয়
শিক্ষা, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কর্মসংস্থানের প্রশ্ন। ভারতের নমুনা সমীক্ষা সংস্থা দেশের কর্মসংস্থানের বিষয়ে প্রামাণ্য পরিসংখ্যান সংগ্রহ ও প্রকাশ করে। এই আলোচনা আমরা করব এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে। ভারতে বহু বছর ধরেই শ্রমের বাজারে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব খুব কম। ২০১৭-১৮ সাল থেকে এই হার বাড়তে শুরু করে। কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনায় শিশু ও বৃদ্ধদের বাদ দেওয়া উচিত। তাই এই আলোচনা আমরা করব ১৫-৫৯ বছর বয়সী মহিলাদের নিয়ে। ভারতে ২০১১-১২ সালে এই মহিলাদের মধ্যে ৩৩.১ শতাংশ শ্রমের বাজারে অংশগ্রহণ করে, অর্থাৎ ৩৩.১ শতাংশ মহিলা হয় কর্মরতা ছিলেন অথবা চাকুরি খুঁজছিলেন। ২০২৩-২৪ সালে ভারতে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৫.২ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে শ্রমের বাজারে মহিলাদের প্রতিনিধিত্বের হার ২০১১-১২ সালে ২৭.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৪৪.৭ শতাংশ।
📲 এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে
আপাতদৃষ্টিতে এই বৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক হলেও, আমাদের আরেকটু গভীরে গিয়ে দেখতে হবে। ভারতের নমুনা সমীক্ষা সংস্থা কর্মরত মানুষকে মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত করে—স্বনিযুক্ত শ্রমিক, বেতনভুক্ত শ্রমিক এবং ঠিকা শ্রমিক। ২০১১-১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের কর্মরতা মহিলাদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ স্বনিযুক্ত শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন, ১৮.১ শতাংশ বেতনভুক্ত শ্রমিক এবং ২৭.৯ শতাংশ ঠিকা শ্রমিক ছিলেন। ২০২৩-২৪ সালে, স্বনিযুক্ত শ্রমিকের অনুপাত বেড়ে হয় ৭০ শতাংশ, বেতনভুক্ত শ্রমিকের অনুপাত কমে হয় ১৬.৭ শতাংশ এবং ঠিকা শ্রমিকের অনুপাত কমে হয় ১৩.২ শতাংশ। অর্থাৎ রাজ্যে মজুরিভিত্তিক মহিলা শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
কেউ মনে করতে পারেন যে স্বনিযুক্ত শ্রমিকের সংখ্যায় যে বৃদ্ধি হয়েছে তা মহিলাদের জন্য ভালো। কিন্তু পুঁজিবাদী বিকাশের সঙ্গে মজুরিভিত্তিক শ্রমিকের সংখ্যা বা অনুপাত বৃদ্ধি পাওয়া উচিত। তা যে হচ্ছে না, তা আসলে প্রমাণ করে যে রাজ্যে পুঁজিবাদী বিকাশের গতি অত্যন্ত মন্থর। কিন্তু সমস্যা এখানেই শেষ নয়। স্বনিযুক্ত শ্রমিকদের ভারতের নমুনা সমীক্ষা সংস্থা তিনটি ভাগে বিভক্ত করে—স্বনির্ভর এবং একক শ্রমিক, পারিবারিক অর্থনৈতিক কাজে সহায়ক এবং স্বনিযুক্ত শ্রমিক যিনি নিয়োগকর্তা। পশ্চিমবঙ্গে ২০১১-১২ সালে মোট মহিলা কর্মরতাদের মধ্যে স্বনির্ভর একক শ্রমিকের অনুপাত ছিল ৩৮ শতাংশ যা ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে হয় ৪৬.৯ শতাংশ, সহায়কদের অনুপাত বেড়ে ১৫.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ২২.৫ শতাংশ এবং নিয়োগকর্তাদের অনুপাত খুবই সামান্য থাকে। অর্থাৎ রাজ্যে যে শ্রম বাজারে প্রতিনিধিত্বের হারের বৃদ্ধি তার প্রায় পুরোটাই স্বনির্ভর একক শ্রমিক এবং সহায়কদের বৃদ্ধির মাধ্যমেই হয়েছে। মনে রাখতে হবে যে সহায়করা আদতে পরিবারের কর্মকাণ্ডে বিনা পারিশ্রমিকে শ্রম দান করেন। মহিলাদের মধ্যে এর অনুপাতের ব্যাপক বৃদ্ধি আসলে পরিবারের কাজেই বিনা পারিশ্রমিকে নিযুক্তি। অন্যদিকে, স্বনির্ভর একক শ্রমিক মানে তিনি খুব ছোট কোনও ব্যবসা হয়ত চালাচ্ছেন যার থেকে পর্যাপ্ত আয় হওয়া মুশকিল।
যদি আমরা পশ্চিমবঙ্গের মহিলা শ্রমিকদের সঙ্গে ভারতের মহিলা শ্রমিকদের আয়ের তুলনা করি, তাহলে যে চিত্র উঠে আসে, তা সুখকর নয়। ২০২৩-২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের একজন গড় বেতনভুক্ত মহিলা শ্রমিকের মাসিক মজুরি ছিল ১০৯৩৫ টাকা, ভারতের ক্ষেত্রে যার পরিমাণ ছিল ১৬৫০৮ টাকা, ঠিকা শ্রমিকের দৈনিক গড় মজুরি পশ্চিমবঙ্গের মহিলা শ্রমিকের ক্ষেত্রে ২৭৮ টাকা, ভারতের ক্ষেত্রে ২৯৬ টাকা, স্বনিযুক্ত মহিলা শ্রমিকের মাসিক গড় আয় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ৩২৮০ টাকা, ভারতের ক্ষেত্রে ৫৪৯৭ টাকা। অর্থাৎ প্রত্যেক ধরনের মহিলা শ্রমিক রাজ্যে দেশের গড়ের তুলনায় কম আয় করেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা মহিলাদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। কিন্তু কর্মসংস্থান থেকে এই ক্ষুদ্র আয় নিয়ে মহিলা শ্রমিকরা নিজেদের বা সংসারের খরচ চালাবেন কী করে?
মহিলাদের কর্মসংস্থান ও শ্রমের মূল্য নিয়ে বরাবরই আলোচনা কম। এর পরিবর্তন প্রয়োজন। মহিলাদের গার্হস্থ্য শ্রমের কোনও মূল্য তাঁরা পান না। সমীক্ষা থেকে জানা যায় যে ঘরের কাজ মূলত করেন মেয়েরা, পুরুষরা প্রায় কোনও কাজই ঘরের ভিতর করেন না। মহিলাদের গার্হস্থ্য বিনামূল্যের শ্রমের ভিত্তিতেই সমাজ চলে, যা চলতি রাজনৈতিক আলোচনায় অনুচ্চারিত থেকে যায়। তদুপরি, ঘরের বাইরে শ্রমের বাজারে মহিলারা যে মেহনত করেন, তার পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক তাঁরা পান না। পুরুষদের তুলনায় তারা কম মজুরি পান। এই ঘটনা গোটা ভারতেই ঘটে। কিন্তু আমাদের রাজ্যের মহিলারা দেশের অন্য মহিলাদের থেকেও কম মজুরি পাচ্ছেন। যেহেতু গার্হস্থ্য শ্রমের প্রশ্নে আমাদের রাজ্য তথা দেশের অন্য মহিলাদের মধ্যে প্রায় কোনও ফারাক নেই, তাই বলা যেতে পারে যে আমাদের রাজ্যের মহিলারা দেশের অন্য মহিলাদের তুলনায় বেশি পরিমাণে শোষিত হচ্ছেন। লিঙ্গভিত্তিক এই শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া একান্ত জরুরি। যখন গোটা দেশে মহিলাদের নতুন করে একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, সেখানে কিন্তু মহিলা শ্রমিকদের এই দু-মুখো শোষণ (ঘর ও শ্রম বাজারে) নিয়ে কোনও রাজনৈতিক দলই সোচ্চার নয়। একুশ শতকের সাম্যের রাজনীতি এই প্রশ্নকে এড়িয়ে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
কৃতজ্ঞতা: এই নিবন্ধের তথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ করতে সহায়তা করেছেন সমীরণ সেনগুপ্ত
প্রকাশের তারিখ: ০৯-মার্চ-২০২৬
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
