Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

কোন কথায় কান দেব অথবা দেব না?

অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী
অনেকের ধারণা মুসলমান না হলে কেউ উর্দু ভাষা বলতে পারেন না। অর্থাৎ উর্দু যেন শুধু মুসলমানের ভাষা। অথচ আমাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং শৈশবে পাকিস্তানে পড়াশোনা করেছেন এবং তাঁর মাতৃভাষা ছিল উর্দু। তাঁর স্কুলের মার্কশিট উর্দু ভাষায় লেখা। সিপিআই(এম) নেতা হরকিষাণ সিং সুরজিৎ, উর্দু ভাষায় স্বচ্ছন্দ ছিলেন। তিনি ও তাঁর শৈশব কৈশোর যৌবন কাটিয়েছেন পাকিস্তানে। তিনি মাকে চিঠি লিখতেন উর্দু ভাষায়।
What words will we listen to or not

কানে লাগল কথাটা।

ভদ্রলোক আমার পরিচিত। শিক্ষিত মানুষ। খুব উচ্চ পদে না হলেও সরকারি চাকরি করেন।

তাঁর সঙ্গে একথা সে কথার পর তিনি হঠাৎ বলে বসলেন, আমাদের পাড়ায় এত কাল শুধু বাঙালিরা থাকত। এখন আস্তে আস্তে মুসলমানরাও ঢুকে পড়ছে। কোন দিন দেখব আমরা বাঙালিরা মাইনরিটি হয়ে গেছি।

আমি তাকে বললুম, দাঁড়ান দাঁড়ান।

যে মুসলমানরা আপনাদের পাড়ায় নতুন বাড়ি কিনছে তাদের মধ্যে কোন বাঙালি নেই?

ভদ্রলোক নির্দ্বিধায় বললেন, বাঙালির কথা উঠছে কেন? আমি তো মুসলমানের কথা বলছি। বাঙালিরা ছিল এখন আর থাকতে পারছে না।

আমি আবার বললাম, ওই মুসলমানদের মধ্যে কোন বাঙালি আছে না নেই?

ভদ্রলোক এবার অবলীলায় প্রশ্ন করলেন, মুসলমানদের মধ্যে বাঙালি থাকবে কেন?

আমি পাল্টা প্রশ্ন করলাম, বাঙালি কি শুধু হিন্দুরাই হয়? মুসলমানরা হয়না?

ভদ্রলোক এতক্ষণে এইবার একটু থতমত খেলেন। না মানে ইয়ে... মুসলমান তো মুসলমান, তারা বাঙালি হবে কি করে?

আমি প্রশ্ন করলাম, কাজী নজরুল ইসলাম কি বাঙালি নন?

ভদ্রলোকের মুখে বাক্য সরলো না।

শেখ মুজিবুর রহমান কি বাঙালি নন?

ভদ্রলোক এইবার রীতিমতো ভাবিত হয়ে পড়লেন।

সেদিনকার মত সেই আলোচনা একেবারে ঘেঁটে গেল।

আলোচনা যে চালিয়ে যাওয়া যেত না তা নয়। কিন্তু দেখলাম ভদ্রলোক নিজের ভুল স্বীকার করলেন না। ইগোতে আটকে গেল আর কি।

একবার ধর্মতলা থেকে লিন্ডসে স্ট্রিট ধরে অফিসের দিকে ফিরছি। বিকেল বেলা। পথে এক সাংবাদিক বন্ধুর সঙ্গে দেখা। নাম বলছি না এখানে। তিনি বাঙালি মুসলমান এবং কলকাতার একটি নামকরা দৈনিকে সপ্তাহে একটি কলাম লিখতেন। যারা নিয়মিত খবরের কাগজ পড়েন তারা ওই নামের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন।

আমার সঙ্গে দেখা হতেই তিনি বললেন, কতদূর যাচ্ছেন?

আমি যখন বললাম অফিসে যাচ্ছি, তখন তিনি বললেন আমিও আপনার অফিসের কাছাকাছি যাব। একসঙ্গে যাওয়া যাবে। আমার গাড়ি ওই ধারটায় রেখেছি। তবে এখন একটা দোকানে যাচ্ছি। গিফট আইটেম কিনব। পাঁচ মিনিটে বেরিয়ে আসবো। যাবেন নাকি আমার সঙ্গে?

আমি বললাম, চলুন।

ভেতরে গিয়ে তিনি একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি কিনলেন। দোকানটি ছিল সরকারি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দপ্তরের। সম্ভবত মঞ্জুশ্রী।

কেনাকাটির পর কাউন্টারের ভদ্রলোক সেই সাংবাদিক বন্ধুটিকে বললেন, একটা কথা বলব?

তিনি বললেন হ্যাঁ বলুন।

সেই ভদ্রলোক বললেন, মানে ইয়ে আপনি এত সুন্দর বাংলা বলছেন, যে বোঝাই যাচ্ছে না আপনি বাঙালি নন। অনেকদিন আছেন নিশ্চয়ই আমাদের এখানে।

এই মন্তব্য শুনে তো আমার পিলে চমকে যাওয়ার মত অবস্থা।

কিন্তু সাংবাদিক বন্ধুটি যেন এ ধরনের প্রশ্ন শুনতে অভ্যস্ত। তিনি ঠান্ডা মাথায় বললেন। আমি তো বাঙালি। হাওড়ার আমতার বাসিন্দা আমরা। অন্তত পাঁচ পুরুষের বাস।

কাউন্টারের ভদ্রলোক বললেন, ও আচ্ছা। আপনার মুসলিম নাম কিনা, তাই ভাবলাম আপনি বোধহয় উত্তর প্রদেশ, বিহার এই সব রাজ্যের হবেন।

সাংবাদিক বন্ধুটি কার্যত কোন প্রতিবাদ না করায় আমি থাকতে না পেরে বললাম, কেন মুসলমান কি বাঙালি হয় না?

কাজী নজরুল ইসলাম কি বাঙালি নন? শেখ মুজিবুর রহমান কি বাঙালি নন?

সাংবাদিক বন্ধুটি বললেন চলুন চলুন কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। এরকম মন্তব্য আমাদের প্রায়শই শুনতে হয়। ট্রাজেডি কি জানেন? উর্দুভাষী মুসলমানদের অনেকে বাঙালি মুসলমানকে মুসলমান বলেই মনে করে না। তারা বলে, ওরা পহেলা বৈশাখ করে, রবীন্দ্রনাথের গান গায়, ওরা আসলে হিন্দু।

আরেকটি অভিজ্ঞতার কথা বলি। চিকিৎসার প্রয়োজনে গিয়েছিলাম ভেলোরে।

সেখানে তাদের নিজস্ব ওষুধের কাউন্টারে দাঁড়িয়ে ছিলাম ওষুধ কিনবো বলে।

আমার সামনেই এক পুরুষ ও মহিলা বাংলা ভাষায় অনেকক্ষণ ধরে কাউন্টারে বসে থাকা তামিল মহিলাকে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। তারা হিন্দি বা তামিল কোনটাই জানেন না। ইংরেজিতেও স্বচ্ছন্দ নন। গরিব মুসলমান বলা চলে।

ভাষার সমস্যায় অচল অবস্থা দেখা দিল। তখন আমি দোভাষীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলাম। বাংলায় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে সেই কাউন্টারে ইংরেজিতে বলে দিলাম। সমস্যা পাঁচ মিনিটে মিটে গেল।

মজাটা এরপরে। আমি কাউন্টারে পৌঁছাতেই ভিতরে বসে থাকা ভদ্রলোক ইংরেজি ভাষায় আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন আচ্ছা আপনি ওই দুজনকে কি ভাষায় কথা বললেন?

আমি বললাম, কেন বাংলা ভাষায়!

তিনি প্রশ্ন করলেন আপনি বাংলাদেশী জানেন? মানে আপনি ইন্ডিয়ান হয়েও বাংলাদেশি ভাষা জানেন এইটা দেখে বেশ ভালো লাগছে।

আমি তাকে বললাম, আমিও তো বাংলা ভাষায় কথা বলি। আমি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা।

কাউন্টারে বসে থাকা ভদ্রলোক কি রকম থতমতো খেয়ে গেলেন যেন। বুঝলাম পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবং বাংলাদেশের মানুষ যে একই ভাষায় কথা বলেন অর্থাৎ বাংলা ভাষায়, এই বিষয়ে তাঁর সম্যক ধারণা ছিল না। যদিও তিনি শিক্ষিত মানুষ। এবং বয়সটা নেহাতই কম নয়।

আমরা ধর্মে হিন্দু-মুসলমান-শিখ আলাদা হলেও ভাষায় এক হতে পারি, আমরা বাঙালি হতে পারি, আমরা পাঞ্জাবি হতে পারি।

আমি এক প্রবীণ শিখকে জানতাম যিনি পাঞ্জাবি নন, বিহারী শিখ।

তিনি কলকাতার একটি হিন্দি দৈনিকের সাংবাদিক ছিলেন। মাথায় সাদা পাগড়ী পড়তেন। খদ্দরের পাঞ্জাবি এবং ধুতি। পায়ে কাবলি জুতো। হাতে কালো ছাতা।

তিনি ধর্মে শিখ, কিন্তু পাঞ্জাবের সাথে কোন সম্পর্ক নেই।

আবার পাঞ্জাবের মানুষ মানেই কিন্তু শিখ নন। হিন্দু পাঞ্জাবিও হতে পারেন। যেমন রাজ কাপুর পরিবার।

আরেক দিক দিয়ে সমস্যা আছে। কেউ কেউ যেমন মনে করেন মুসলমান হলে বাঙালি হতে পারে না, তেমনি অনেকের ধারণা মুসলমান না হলে কেউ উর্দু ভাষা বলতে পারেন না। অর্থাৎ উর্দু যেন শুধু মুসলমানের ভাষা।

অথচ আমাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং শৈশবে পাকিস্তানের পড়াশোনা করেছেন এবং তার মাতৃভাষা ছিল উর্দু। তার স্কুলের মার্কশিট উর্দু ভাষায় লেখা।সিপিআইএম নেতা হরকিষাণ সিং সুরজিৎ, উর্দু ভাষায় স্বচ্ছন্দ ছিলেন। তিনি ও তাঁর শৈশব কৈশোর যৌবন কাটিয়েছেন পাকিস্তানে। তিনি মাকে চিঠি লিখতেন উর্দু ভাষায়।

পশ্চিমবঙ্গে যেমন হিন্দুদের কেউ কেউ মুসলমান কে বাঙালি বলে ভাবতে রাজি নন, ঠিক উল্টোটা ঘটে কলকাতার উর্দুভাষী এলাকায়। সেখানে সেখানে হিন্দুদের বলা হয়: বাঙ্গালি লোগ।

একই অবস্থা বাংলাদেশে।

শঙ্খ ঘোষ যাচ্ছিলেন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম। সেই যাত্রার বর্ণনা তিনি লিখেছিলেন ‘যাইতাছি যাইতাছি কই যাই জানিনা’ শীর্ষক একটি ভ্রমণ বৃত্তান্তে। তাঁর লেখা থেকে উদ্ধৃত করছি না। আমার নিজের মতো করে বলছি।

সেখানে একটি চায়ের দোকানের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়েছিলেন শঙ্খ ঘোষ।

রাস্তার ধারে কয়টি বাচ্চা ছেলে শাপলা ফুল বিক্রি করছিল।

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন তোরা শাপলা ফুল বিক্রি করছিস, স্কুলে যাস না?

তারা বলল, না।

কেন? যাসনা কেন?

আমাদের পয়সা কড়ি নাই জমি জায়গা নাই।

কেন? নেই কেন?

কি করে থাকবে? আমরা তো বাঙালি নই!

তোরা বাঙালি নোস, তো তোরা তাহলে কি?

বাচ্চাগুলি জবাব দেয়, আমরা বাঙালি নই আমরা হিন্দু!!

খোদ ঢাকা শহরের অভিজাত ঢাকা ক্লাবে এক বিশিষ্ট সাংবাদিক আমাকে বলেছিলেন, বাঙালি বলে কেউ নেই।

আমি বললাম তার মানে?

তিনি বললেন আমরা হলাম বাংলাদেশী।

আমি বললাম আচ্ছা বেশ, কিন্তু আমরা তো বাঙালি।

তিনি বললেন মোটেই না। আপনারা ইন্ডিয়ান।

তাছাড়া আপনারা তো হাফ মাড়োয়ারী হয়ে গেছেন। আপনাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলেই বোঝা যায়।

আর বাংলাদেশের যেসব হিন্দু বাংলাভাষী আছে, তাদের মন পড়ে আছে ইন্ডিয়ায়। সেখানে টাকা পাঠায়। চান্স পেলেই ইন্ডিয়া পালাবে।

ভদ্রলোকের এহেন মন্তব্যে আমি রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু বলার আগেই অন্য আরেকজন আমাকে টেনে নিয়ে চলে গেলেন। বললেন, ওই ফালতু লোকটার কথায় কান দিচ্ছেন কেন?

কোন কথায় কান দেবো আর কোন কথায় কান দেবনা সেটাই বুঝে উঠতে পারি না ইদানিং। শুনলাম সেদিন খাস শিয়ালদা এলাকায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙালি ছাত্রকে কিছু হিন্দিভাষী নাকি ‘বাংলাদেশী’ বলে চড় থাপ্পড় মেরেছে।

এমন যে কোনদিন শুনতে হবে তা ভাবিনি।

লেখক: প্রবীণ সাংবাদিক, বর্তমানে নন্দন পত্রিকার সম্পাদক
ঋণ: লেখা ও পড়া উৎসব সংখ্যা, ২০২৫


প্রকাশের তারিখ: ১৪-ডিসেম্বর-২০২৫
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Nice and essential write up
- Rahul Majumder , ১৪-ডিসেম্বর-২০২৫


এমন অবস্থার সম্মুখীন আমিও হয়েছি। ২০১৬/১৭ হবে, একজন বয়স্ক হিন্দু বাঙালিকে আমি বোঝাতে পারিনি বাঙালি মুসলমান বিষয়টি কি! তিনি এমন ভয়ঙ্কর ভাবে কথা বলতে শুরু করলেন যেন আমি কোন জঙ্গি সংগঠনের লোক। কোন রকমে পালিয়ে বাঁচি।
- Chandranath Bandyopadhya, ১৭-ডিসেম্বর-২০২৫


লেখাটি অসাধারণ লাগলো। সত্যি, সম্প্রতি পরিচিতি সত্তা নিয়ে যে অকথ্য রাজনীতি শুরু হয়েছে, তার ভিত্তি যে এমন কত অজ্ঞানতার ওপর প্রতিষ্ঠিত! লেখক এক গভীর সমস্যাকে তাঁর সরস এবং সাবলীল কলমে এঁকেছেন। অভিনন্দন।
- সঞ্চারী সেন , ১৭-ডিসেম্বর-২০২৫


সব কথাতেই কান দিতে হবে।তারপর বিচার। লেখক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ বড় হাল্কা চালে লিখেছেন, বিষয়টি এত হাল্কা নয়।
- SUSNATA DAS, ১৮-ডিসেম্বর-২০২৫


অনিরুদ্ধবাবুর লেখাটি এখন এইসময় ভারত ও বাংলাদেশে যে জাতি ও ভাষাবিভেদ মাথা চাড়া দিয়েছে তার প্রতি আমাদের ভুল ধারণাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। আমার‌ও বাংলাদেশে গিয়ে সমান অভিজ্ঞতা হয়েছিল। এছাড়া অনিরুদ্ধবাবুর এই প্রতিবেদনটি যেহেতু সরাসরি 'আঁখো দেখা হাল' তাই তা পড়ার পরে পাঠকের মনে একরকম প্রশ্ন তুলে ধরে : কোন কথাটি শোনার মতো আর কোনটি নয়। এ লেখা বহুসংখ্যক পাঠকের দরবারে পৌঁছনো উচিৎ। সশ্রদ্ধ, ঋত্বিক ঠাকুর।।
- ঋত্বিক ঠাকু্র, ১৮-ডিসেম্বর-২০২৫


Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নির্বাচন ২০২৬ বিভাগে প্রকাশিত ৯১ টি নিবন্ধ
২৭-এপ্রিল-২০২৬

২৬-এপ্রিল-২০২৬

২১-এপ্রিল-২০২৬

২০-এপ্রিল-২০২৬

১৯-এপ্রিল-২০২৬

১৮-এপ্রিল-২০২৬

১৭-এপ্রিল-২০২৬

১৬-এপ্রিল-২০২৬

১৪-এপ্রিল-২০২৬

১৩-এপ্রিল-২০২৬