সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
বাংলায় মহিলাদের বাঁচার পথ
ঈশিতা মুখার্জী
বামফ্রন্টের ইশতেহারে তাই বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য এবং শিক্ষায়। স্বাস্থ্যে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি হেলথ সেন্টার প্রতি ব্লকে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। ইশতেহারে গণ পরিবহনকেও ঢেলে সাজানোর কথা বলা হয়েছে। আগামী দিনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাটের কথা সরকার না ভাবলে কারা ভাববে? বর্তমান শাসকদল উদাসীন থাকলেও বাম বিকল্পের সরকার তাদের ইশতেহারে বুঝিয়ে দিয়েছে কোথায় তাদের অগ্রাধিকার।

আজ বাংলায় মহিলারা কেমন আছেন? মহিলাদের নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপি-র প্রকাশ্যে ভাষণে-বক্তৃতায় এ নিয়ে অনেক মাথাব্যাথা। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে এই দলগুলি হৈ হৈ রৈ রৈ ফেলে দেয় মহিলাদের নিয়ে— কত প্রকল্পের ঝুড়ি নিয়ে তাদের কাছে পৌঁছে যাবে তাই ফলাও করে প্রচার করে। মহিলাদের প্রকল্পে তিল ধারণের জায়গা নেই।
কিন্তু প্রশ্ন এখানেই। প্রকল্প রয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও গ্রাম-শহরে মহিলাদের এই দুরবস্থা কেন? খবরের কাগজের পাতায় আর সরকারি পরিসংখ্যানে দুরবস্থা চেপে রাখা যাচ্ছে না। দূরবিন দিয়ে নয়, চোখের সামনে চলে আসছে সেই দুরবস্থার কথা। কাজ নেই— রাজ্যে এই আর্থিক দুরবস্থা আজ কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে বাংলার গ্রাম ও শহরের গরিব মধ্যবিত্ত মহিলাদের। তাই তাঁরা যেখান থেকে পারছেন ঋণ নিচ্ছেন। এর ফায়দা তুলছে বেসরকারি ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থার কোম্পানিগুলি। রাজ্যের ২৩টি জেলায় বেসরকারি ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থার থেকে মোট ক্ষুদ্রঋণের পরিমাণ ৩৩,১৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৩.৮ লক্ষ মহিলা ঋণগ্রস্ত বলে সমীক্ষায় প্রকাশ। সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি-র এক সমীক্ষায় জানা যায় যে একাধিক সংস্থা থেকে ক্ষুদ্র ফিনান্স কোম্পানি থেকে ঋণ নিয়েছে ৩৩.৮ শতাংশ ঋণগ্রহীতা। এক জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে অন্য জায়গার ঋণশোধ করেছেন তাঁরা। এর উপর বাউন্সার পাঠিয়ে, যৌন পরিষেবার বিনিময়ে ঋণশোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এই দুষ্কৃতীরাজ রাজ্যে। দুর্নীতি ও দুষ্কৃতীর সঙ্গে যুক্ত যারা তারাই এই ক্ষুদ্রফিনান্স কোম্পানি চালায়। এদের হাতে আজ প্রায় পণবন্দী হয়ে আছে রাজ্যের বেশ কিছু পরিবারের মহিলারা।
বামফ্রন্টের ইশতেহারে স্পষ্ট বলা আছে যে গ্রামীণ অর্থনীতিকে অবৈধ, বেআইনি ক্ষুদ্র ফিনান্স মুক্ত করবে বাম বিকল্পের সরকার। বকেয়া আদায়ের নামে মহিলাদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আছে ইশতেহারে। এই কথা জোরের সাথে বামফ্রন্ট ছাড়া বিজেপি বা তৃণমূল কংগ্রেস বলতে পারছে না কারণ এই বেআইনি ক্ষুদ্র ঋণসংস্থাগুলি যুক্ত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সাথে।
তৃণমূল বা বিজেপি দলের প্রস্তাবিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা দেওয়ার প্রকল্প এই পণবন্দী অবস্থায় কিছুটা আর্থিক সুরাহা করলেও, এই দুরবস্থা থেকে কি বাঁচার কোন পথই নেই রাজ্যের গরিব মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলাদের? 
এখানেই বামফ্রন্ট বিকল্পের কথা বলছে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে। বামফ্রন্টের ইশতেহারে বলা আছে মহিলাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন করার কথা, যাতে বিপর্যয়ের এক দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথ পাওয়া যায়। কাজ নেই, রেগার কাজ বন্ধ। রেগার কাজ ছিল এক কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প। বামদলগুলির চেষ্টায় এই প্রকল্প চালু হয়েছিল। এই প্রকল্পে ৩০ শতাংশ কাজ মহিলাদের দেওয়ার কথা এবং এই প্রকল্প জেন্ডার বাজেটের অন্তর্গত। কিন্তু কি হয়েছে এই প্রকল্পে? ২০২২ সালের পর থেকে কেন্দ্রীয় সরকারি তথ্য জানাচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই প্রকল্পে কেন্দ্রের অনুমোদিত শ্রম বাজেট ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ সালের জন্য শূন্য। ২৩টি জেলায় ১৩৬.৬ লক্ষ জব কার্ড ইস্যু করা হয়েছিল। বর্তমানে প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে গ্রামজি প্রকল্প বলে এই প্রকল্পের সুযোগ সংকুচিত করেছে মোদী সরকার। তাহলে কাজ কোথায় পাবে মেয়েরা? রেগায় কাজ না পেয়ে সেই ঋণের পথেই যাচ্ছে মহিলারা। বাম দলগুলি একদিকে যেমন এই প্রকল্পের পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে এবং সংসদীয় পথে মোকাবিলা করছে, অন্যদিকে এই নির্বাচনে এই ভাবনাও ইশতেহারে আছে, এখনই আপতকালীন মোকাবিলা কিভাবে করবে মহিলারা।
বামফ্রন্টের ইশতেহারে তাই স্পষ্ট বলা আছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, সমবায় ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক এবং নাবার্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ঋণ দেওয়া হবে। আগামী ৫ বছরে ২০ লক্ষ স্বনির্ভরগোষ্ঠী তৈরি করা হবে। এই লক্ষ্যমাত্রার কথা বলা আছে বামফ্রন্টের ইশতেহারে। এই ব্যাপকভাবে কাজ হারানো পরিবারের মহিলাদের, কৃষিকাজের পরিবারের মহিলাদের, রেগায় জবকার্ড থাকলেও কাজ হারানো মহিলাদের জন্য একমাত্র বামফ্রন্ট বিকল্পের ভাবনার কথা বলছে তাদের ইশতেহারে। সমবায় বাঁচাও আন্দোলনের সঙ্গে এই প্রকল্প ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। সমবায় গঠন করে ঋণদানের মাধ্যমে স্বনির্ভরগোষ্ঠী উপকৃত হয়েছে, অতীতে এই অভিজ্ঞতা এই রাজ্যে রয়েছে।
📌 বিধানসভা নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য লেখাগুলি পড়তে ক্লিক করুন
আপাতত না বাঁচার কোন উপায় না থাকলে কমানো যাবে না নারী পাচার এবং নাবালিকা বিয়ে। এই দুটি আমাদের রাজ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২০২২ সালে সরকারি পরিসংখ্যান দপ্তরের এক রিপোর্টে দেখা গেল সারা দেশে নাবালিকা বিয়ে কমে গেলেও এ রাজ্যে কমেনি। ২০২৪ সালে লান্সেট গবেষণা পত্রে দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গে নাবালিকা বিয়ে বেড়ে গেছে। শুধু তাই নয়, কন্যাশ্রী প্রকল্পের পড়েও নাবালিকা মায়ের সংখ্যা বেড়ে গেছে এ রাজ্যে। বেশির ভাগ নাবালিকা বিয়ে আসলে নারীপাচারের এক পথ। বিয়ে হয়ে যাচ্ছে কিন্তু পরে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাচ্ছে এ রাজ্যে অনেক কিশোরী। এইভাবেই ২০২৩ সালে নিখোঁজ হয়েছে ৫৩৬৫৫ জন মহিলা।
জাতীয় ক্রাইম রিসার্চ ব্যুরো জানাচ্ছে মাত্র ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গে ঘটেছে ৩৪৬৯১টি নারী নির্যাতনের ঘটনা। ২০২২ সাল থেকে নিষ্পত্তি হয়নি এরকম কেসের সংখ্যা ১০০৩৪। তাহলে ২০২৩ সালে আসলে কেসের সংখ্যা ৪৪৭৩১। এই তথ্য সরকারি সূত্রে জানা যায়, আসলে সংখ্যা আরও অনেক বেশি। অ্যাসিড আক্রান্তের ঘটনায় বাংলা সব রাজ্যের মধ্যে প্রথম। তাহলে এক্ষেত্রে সরকারের কি কিছুই করার নেই? তৃণমূল কংগ্রেস বা বিজেপি এই সমস্যা নিয়ে কোন কথা বলেনি, শুধু তাই নয়; এ ধরণের ঘটনা অস্বীকার করে। অপরাধীদের আড়াল করেছে শাসক দল। এ রাজ্যে অপরাধীদের মধ্যে সাজাপ্রাপ্তদের হার ৩.৭ শতাংশ। রাজ্যগুলির মধ্যে এ দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। সবথেকে কম হার বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশে।
কিন্তু এই বাস্তব পরিস্থিতিতে সরকার কি করবে এবং বামবিকল্পের রাজনীতি কিভাবে মোকাবিলা করবে, সেই কথা রয়েছে বামফ্রন্টের ইশতেহারে। প্রতিটি জেলায় পুলিশের নিজস্ব অভয়া বাহিনী তৈরি হবে যারা বিশেষ ক্ষমতা নিয়ে নারী নির্যাতন দমন করবে। নারী নির্যাতনকে অস্বীকার করছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি। কিন্তু রাজ্যে ঘটে গেছে একের পড় এক ঘটনা। ঘটনা ঘটে গেছে বিজেপি শাসিত রাজ্যেও। সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তারের ধর্ষণ ও খুনের বিচার আজও অধরা। সেই কথা মাথায় রেখেই নারী নির্যাতন রোধ করার জন্য অভয়া বাহিনী গঠন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারে যথাযথভাবেই স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অনেক মহিলা শিক্ষক ক্ষতিগ্রস্ত। ওদিকে শিক্ষকের অভাবে স্কুল ধুঁকছে। শিক্ষা সংক্রান্ত দেশজোড়া সমীক্ষায় দেখা গেছে ২০২২ সালে শিশুকন্যার স্কুলে তালিকাভুক্তি ছিল ৯৩.১ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা কমে হয়েছে ৮৯.৪ শতাংশ!
এই সমীক্ষা আরও জানাচ্ছে যে স্কুলে মেয়েদের ব্যবহারযোগ্য শৌচাগারের সংখ্যা ২০২২ এর চেয়ে ২০২৪-এ কমেছে। শিক্ষায় এই দুরবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষার দুরবস্থা। কোথায় পাবেন মহিলারা স্বাস্থ্যপরিষেবা? ভেঙ্গে পড়ছে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি। সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা কমেছে। প্রসূতি মায়ের মৃত্যু বেড়েছে।মেদিনীপুরের স্যালাইন কাণ্ডের স্মৃতি আমাদের এখনও টাটকা। মহিলারা ভুগছেন বেশি রক্তাল্পতায়, এবং অপুষ্টি ও ক্ষুধায়। ২০২০ সালের একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে যে মহিলাদের ১৮.৭ শতাংশ ঘুমোতে যান অভুক্ত অবস্থায় এবং ৪৪ শতাংশ অন্যদের উপর খাওয়ার জন্য নির্ভর করে।
বামফ্রন্টের ইশতেহারে তাই বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য এবং শিক্ষায়। স্বাস্থ্যে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি হেলথ সেন্টার প্রতি ব্লকে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। ইশতেহারে গণ পরিবহনকেও ঢেলে সাজানোর কথা বলা হয়েছে। আগামী দিনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাটের কথা সরকার না ভাবলে কারা ভাববে? বর্তমান শাসকদল উদাসীন থাকলেও বাম বিকল্পের সরকার তাদের ইশতেহারে বুঝিয়ে দিয়েছে কোথায় তাদের অগ্রাধিকার।
কেউ খোঁজ রাখেনি বাংলায় মহিলারা কেমন আছেন? ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি তো মনেই করেনি যে মহিলাদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করে ক্ষমতা বৃদ্ধি করার কথা। উল্টে তাদের ধর্মীয় কুসংস্কারে আবদ্ধ করে রেখেছে যাতে তারা নিজেদের মৌলিক দাবিগুলি ভুলে যায়। বামফ্রন্টের ইশতেহারে রয়েছে সামাজিক কুসংস্কার দূর করার প্রচেষ্টার কথা।
মহিলাদের কাজ নেই। কর্মরতা মহিলাদের মধ্যে বেশির ভাগ স্বনিযুক্ত। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে। সরকারের কি কিছুই করার নেই? একমাত্র বামফ্রন্ট সরকারের ইশতেহারে রয়েছে কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তার কথা। শিল্পাঞ্চলে শিশুসেবা কেন্দ্র স্থাপন করার কথা রয়েছে ইশতেহারে।
মহিলাদের কথা বিবেচনার মধ্যে নির্বাচনে থাকে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির। কিরকম সেই বিবেচনা? সেই বিবেচনা হল মহিলাদের নিজস্ব ক্ষমতায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কথা নয়। সেই বিবেচনা মহিলাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীদের সঙ্গে শাসক যোগ কমানো নয়। সেই বিবেচনা আপাতত নির্বাচনের প্রাক্বালে কিছু আর্থিক সুযোগ সুবিধার কথা বলে নির্বাচন উতরে যাওয়ার বিবেচনা। বিজেপি এরকমই করেছে অন্যান্য রাজ্যের ভোটে। তৃণমূল কংগ্রেস তো হুমকির সুরে বলছে যে ভোট না দিলে মহিলাদের প্রকল্পের ভাতা মহিলারা পাবে না। সমস্যা তো ভাতায় নয়। সমস্যা হল ভাতা সত্ত্বেও এত দুরবস্থা কেন সরকার কেন উত্তর দিতে পারছে না।
তাই চাই এমন পরিকল্পনা যা দীর্ঘমেয়াদী, শুধুমাত্র নির্বাচনী কৌশল নয়। বাম এবং গণতান্ত্রিক শক্তির ইশতেহারে মহিলাদের আর্থিক, সামাজিক বিপর্যয় থেকে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজা হয়েছে অর্থবহ কর্মসূচীর মাধ্যমে। আবার সাধারণভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনাতেও মহিলাদের বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা হয়েছে।
📲এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে
প্রকাশের তারিখ: ০৮-এপ্রিল-২০২৬
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
