Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

বিধানসভা ভোটের জন্য তৈরি হচ্ছে কেরালা

টমাস আইজ‍্যাক
এই মুহূর্তে কী ঘটছে? দশ বছর ধরে ক্ষমতায় নেই ইউডিএফ। যেনতেন প্রকারেণ ক্ষমতায় ফেরার একটি মাত্র কৌশলই তাদের জানা। সেটি হল সাম্প্রদায়িক ভাবাবেগে উস্কানি দেওয়া। অত্যন্ত ভয়ংকরভাবে এই খেলাটিই এখন খেলছে ইউডিএফ। তাদের চিরন্তন সঙ্গী মুসলিম লিগের পাশাপাশি এবার তারা জামাতে ইসলামি ও এসডিপিআইকে সঙ্গে নিয়ে এ-ধরনের একটি বয়ান নির্মাণের চেষ্টা করছে, সিপিআই(এম) হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছে। আবার একইসঙ্গে, গুরুতর পরিস্থিতিতে বিজেপি-র সঙ্গে কৌশলগত সমঝোতার সুবিধাবাদও পরিহার করছে না।
Kerala is gearing up for assembly election

২০২১ সালের কেরালায় বিধানসভার নির্বাচন ভেঙে দিয়েছিল একাদিক্রমে কোনও দলের দ্বিতীয়বার জয়ী না-হতে না-পারার তিন দশকের ‘কালদোষ’। বিপুলভাবে জয়ী করেছিল বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টকে। এবারে, ২০২৬ সালে কেরালা কি আরও পাঁচ বছরের জন্যে একটি এলডিএফ সরকারকে নির্বাচিত করবে?

এই প্রশ্নের উত্তর কেবল কেরালার বামপন্থীদের জন্য নয়, সারা দেশের বামপন্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কেরালাই এই মুহূর্তে দেশের একমাত্র রাজ্য, যেখানে বামপন্থীদের সরকার রয়েছে। দশ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা ইউডিএফ সরকারে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাদের ভয়, আরও পাঁচ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকাটা হয়তো তাদের শক্তিকে আরও ক্ষীণ করে দেবে। অন্য রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে একের পর এক পরাজয়ের পর কংগ্রেস মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি বিজয়ের পালক পেতে। বিধানসভায় যাদের কোনও প্রতিনিধি নেই, মাঠের বাইরে দীর্ঘকাল ঠায় বসে থাকা সেই বিজেপি-ও রাজ্যে তাদের উপস্থিতিকে নির্বাচনী আসনে পরিণত করতে চাইছে। 

স্থানীয় সরকারের নির্বাচন

প্রতিটি বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্‌পর্বে কেরালায় সাধারণভাবে যে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হয়ে থাকে, ২০২৫ সালের সেই নির্বাচনে এলডিএফ-এর অপ্রত্যাশিত পরাজয় হয়েছে। স্থানীয় সরকারে এলডিএফ-এর আধিপত্যে ব্যাপক ধ্বস নেমে ৫৭৭ থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যা নেমে এসেছে ৩৪০-এ, ১১১ ব্লক পঞ্চায়েত থেকে ৬৩-তে এবং ১১টি জেলা পঞ্চায়েত থেকে সাতটিতে। পাশাপাশি, পাঁচটি কর্পোরেশন থেকে একটিতে এবং ৪৩টি পৌরসভা থেকে ২৯টিতে নেমে আসার মধ্য দিয়ে শহরাঞ্চলে পরাজয়ের মাত্রা আরও তীব্রভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। এমন পর্যায়ের পরাজয় অতীতে একবারই ঘটেছিল, ২০১০ সালে। যদিও, তারপরেও হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে এলডিএফ-এর আসন সংখ্যা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র ২টি কম। উপরের ছবিটিতে যদিও হতাশার প্রকাশ রয়েছে, কিন্তু বিভিন্ন অংশের প্রাপ্ত ভোটকে যখন আমরা হিসেবে নেব, তখন চিত্রটা অনেকটাই বদলে যাবে।

প্রথমত, গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় এলডিএফ-এর ভোট বৃদ্ধি পেয়েছে ৬.৩৭ শতাংশ। যদিও এই বৃদ্ধি ইউডিএফ-এর প্রাপ্ত ভোট ৪৩.২১ শতাংশকে ছাপিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। তা সত্ত্বেও এলডিএফ-এর প্রাপ্ত ভোট এখনও ৪০ শতাংশের কাছাকাছি। এবং দুটি ফ্রন্টের মধ্যে ভোটের ব্যবধান অনেকটাই কম।

দ্বিতীয়ত, বিধানসভার আসনের নিরিখে ইউডিএফ-এর সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে ৮১টি আসনে। এলডিএফ-এর সংখ্যাগরিষ্ঠতা মাত্র ৫৭টি আসনে থাকলেও, তারমধ্যে ৩২টি আসনে আসনে পরাজয়ের ব্যবধান ১,০০০ থেকে ১০,০০০ ভোটের মধ্যে। এনডিএ-র সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে মাত্র ২টি আসনে।

তৃতীয়ত, এনডিএ-র সমর্থনের হার মাত্র ১৬ শতাংশ, ২০২০ সালে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের (১৫.৫৬ শতাংশ) চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে সামান্যই। এনডিএ-র প্রাপ্ত ভোট গত লোকসভা নির্বাচনে বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছেছিল ১৯.৪ শতাংশে। সেটা ছিল ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত ১৫.৬ শতাংশ ভোটের চেয়ে অনেকটাই বেশি। যা থেকে প্রত্যাশা বেড়ে গিয়ে অত্যুৎসাহে অমিত শাহের মতো নেতারা ২০২৫ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ২৫ শতাংশ ভোটপ্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিলেন। যদিও ফলাফল দেখিয়ে দিয়েছে বিজেপি-র প্রাথমিক সমর্থন ভিত্তি ১৫-১৬ শতাংশেই আটকে আছে

📲 এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে

চতুর্থত, লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে পছন্দ-অপছন্দের অভিমুখ মূলত সেই দলগুলির দিকেই আকর্ষিত হয়, যারা কেন্দ্রীয় সরকারের উপর প্রভাব বিস্তারে সক্ষম। এটা বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে। ধারণা করা হয়ে থাকে, সংখ্যালঘু ভোটের যে উল্লেখযোগ্য অংশটি ইউডিএফ-র দিকে চলে গিয়েছিল, সেটি আর এলডিএফ-র দিকে ফেরেনি। কারণ ইউডিএফ-র প্রাপ্ত ভোট হ্রাস পেয়েছে মাত্র ২.১৯ শতাংশ

পঞ্চমত, একই সঙ্গে ভোটের গতিপ্রকৃতি এটাই দেখাচ্ছে, সমস্ত অংশের সংখ্যালঘুরা বামপন্থীদের পরিত্যাগ করেছে বলে দাবিরও কোনও সারবত্তা নেই। কারণ স্থানীয় সরকারে নির্বাচনে এলডিএফ সংখ্যালঘু ভোটের ৪০ শতাংশের কাছাকাছি ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে। যে রাজ্যে জনসংখ্যার অর্ধেক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত, সেখানে তাঁদের অন্তত এক-চতুর্থাংশের সমর্থন ছাড়া এলডিএফ-র পক্ষে ৪০ শতাংশ ভোট পাওয়া কখনোই সম্ভব না। 

ইউডিএফ-এর সাম্প্রদায়িক রাজনীতি

বামপন্থীরা সব সময়ই খেটেখাওয়া মানুষকে জাতপাত ও ধর্মের বেড়ার ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠিত করতে চান। কেরালায় বামপন্থীদের অগ্রগতি জাত বা ধর্মের চেতনায় সুড়সুড়ি দিয়ে ঘটেনি। পরিবর্তে, তারা গড়ে তুলেছে শ্রমজীবী মানুষের শ্রেণিসংগঠন। এবং লড়েছে তাদের অধিকারের স্বপক্ষে। পেনশন বৃদ্ধি, নারীদের সুরক্ষাগত ভাতা-সহ এলডিএফ সরকারের নানা কল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলি সমাজের সমস্ত অংশের দরিদ্রদের জীবনমানকে উন্নীত করার লক্ষ্যেই গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি, কেরালায় সংঘ পরিবারের বিরুদ্ধে ও সংখ্যালঘু অধিকার ও সামাজিক কল্যাণের স্বপক্ষে বরাবর সুদৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন বামপন্থীরা।

ইউডিএফ-র রাজনীতি তুলনায় ভিন্নতর। ইউডিএফ সবসময়ই ছিল নানা ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তির একটি কনফেডারেশন বা ঘোঁট। নির্বাচনে জেতার জন্যে কংগ্রেস নেতারা সুচতুরভাবে পরস্পর বিবদমান সাম্প্রদায়িক শক্তিকেও এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার জন্যে নিয়েছে নানান কৌশল। সেই ১৯৬১ সালে, ইএমএসকে হারাতে জনসংঘের সঙ্গে জোট বাঁধা, কিংবা ভাদাকারা এবং বেপুরে কংগ্রেস-লিগ-বিজেপি আঁতাতেরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা— এসবই কেরালায় তাদের রাজনীতির ন্যক্কারজনক অধ্যায়।

এই মুহূর্তে কী ঘটছে? দশ বছর ধরে ক্ষমতায় নেই ইউডিএফ। যেনতেন প্রকারেণ ক্ষমতায় ফেরার একটি মাত্র কৌশলই তাদের জানা। সেটি হল সাম্প্রদায়িক ভাবাবেগে উস্কানি দেওয়া। অত্যন্ত ভয়ংকরভাবে এই খেলাটিই এখন খেলছে ইউডিএফ। তাদের চিরন্তন সঙ্গী মুসলিম লিগের পাশাপাশি এবার তারা জামাতে ইসলামি ও এসডিপিআইকে সঙ্গে নিয়ে এ-ধরনের একটি বয়ান নির্মাণের চেষ্টা করছে, সিপিআই(এম) হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছে। আবার একইসঙ্গে, গুরুতর পরিস্থিতিতে বিজেপি-র সঙ্গে কৌশলগত সমঝোতার সুবিধাবাদও পরিহার করছে না।

২০২৫-র তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনের নির্বাচনে বিজেপির জয়ের ক্ষেত্রে ঠিক এটাই ঘটেছে। বিজেপির জেতা ওয়ার্ডগুলির অধিকাংশতেই ইউডিএফ-র ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। বিজেপি ও ইউডিএফ-এর মধ্যে এই নীরব সমঝোতা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বেশ কিছু এলাকায় স্থানীয় সরকারের পদাধিকারী নির্বাচনের সময়ে।

সিপিআই(এম)-এর গায়ে হিন্দুত্বের তকমা এঁটে দিতে ইউডিএফ ও তাদের সমর্থক সংবাদ মাধ্যম যে ভয়ংকর প্রচার চালিয়ে গিয়েছে, সেটা সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে নির্বাচনের সময়ে মুসলিমদের একাংশকে নিশ্চিতভাবেই প্রভাবিত করেছে। ইউডিএফ আবার একইসঙ্গে নিজেদেরকে ‘ভিক্টিম’ বা ভুক্তভোগী হিসেবে প্রমাণ করতে দাবি করেছে— তৃতীয় চেষ্টাতেও ক্ষমতায় যেতে না-পারলে তারা সমূলে বিনাশ হয়ে যাবে। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যের রাজনীতি বামপন্থী ও বিজেপির মধ্যে মেরুকৃত হয়ে কংগ্রেসকে মুছে দেবে। এই প্রচারও সংখ্যালঘুদের একটি অংশকে প্রভাবিত করেছে। 

সরকার-বিরোধী মনোভাবের অনুপস্থিতি

এটা প্রায় সর্বসম্মত মত যে, প্রতিষ্ঠান-বিরোধী মনোভাব নির্বাচনী ফলাফলে কোনওভাবেই মুখ্য ভূমিকা পালন করেনি। এলডিএফ-এর দশ বছরের শাসন চরম দারিদ্রের নির্মূলীকরণ, উন্নততর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, পরিষেবা এবং সমাজ কল্যাণমুখী ভাতা ৬০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকায় বৃদ্ধি করার মধ্য দিয়ে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ঘরণীদের জন্যে নানা ধরনের সামাজিক সুরক্ষা সহায়তার নানা ধরনের কল্যাণমুখী কর্মসূচিও সম্প্রতি চালু হয়েছে। পাশাপাশিভাবে, বাজেট ও বাজেট বহির্ভূত অর্থসংস্থানে প্রায় দুই লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ের মাধ্যমে রাস্তা, সেতু, ভবন ও উদ্যান নির্মাণের মতো মৌলিক পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিস্ময়কর বিস্তৃতি ঘটেছে।

সাধারণ মানুষের কল্যাণ এবং একইসঙ্গে পরিকাঠামোগত ঘাটতি দ্রুত পূরণ করার মাধ্যমে কেরালাকে একটি জ্ঞান-ভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের এই ব্যাপকতম কর্মোদ্যোগ কেরালায় বামপন্থীদের বরাবরের সমর্থক গরিব মানুষ এবং উন্নয়ন-প্রত্যাশী মধ্যবিত্ত সমাজের চাহিদাকে পূরণ করতে পেরেছে। এলডিএফ-এর এই উন্নয়নমূলক কর্মসূচিই ২০২১ সালের দ্বিতীয় বিজয়কে সুনিশ্চিত করেছিল।

আজকের পরিস্থিতির তফাৎটা কোথায়? কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে রাজস্বের ক্ষেত্রে রাজ্যের প্রাপ্য অংশ দিচ্ছে না। ঋণ গ্রহণের যে স্বাভাবিক ঊর্ধ্বসীমা, তা থেকে বঞ্চিত করছে। কেন্দ্রীয় সরকার সৃষ্ট অবরোধের ফলে রাজ্যে আর্থিক সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। যার প্রভাবে কল্যাণমুখী কর্মসূচির বরাদ্দ বকেয়া থাকছে। এর ফলশ্রুতিতে বামপন্থী সমর্থকদের পরিমণ্ডলে ক্ষোভের জন্ম হচ্ছে। এটাই ছিল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপট। নির্বাচনী পর্যালোচনার পর এলডিএফ-এর তরফে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রকে এমনভাবে পুনর্অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে যাতে কল্যাণমুখী কর্মসূচিতে বরাদ্দ বকেয়া না-থাকা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়।

প্রতিষ্ঠান-বিরোধী মনোভাব না-থাকা সত্ত্বেও, কেন তার প্রতিফলন এলডিএফ-এর প্রাপ্ত ভোটে ঘটল না? আমরা ঠিক করেছি এ-বিষয়ে জনগণের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েই নীতি রূপায়ন ও কাজের পদ্ধতির ক্ষেত্রে থাকা ভুলত্রুটিগুলির সংশোধন করব। আমরা ঠিক করেছি সমগ্র পার্টি যাবে প্রতিটি মানুষের বাড়ির দরজায়— যেখানে পার্টির সাধারণ সম্পাদক, পলিটবুরোর সদস্য থেকে শুরু করে শাখা সম্পাদক পর্যন্ত সমস্ত স্তরের কর্মীরা অংশ নেবেন— মানুষ কী বলছেন, তা শুনবে। এর পরেই জানুয়ারির শেষ থেকে শুরু হবে মহল্লা স্তরের সভা।

কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতি ও অবরোধের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান

আমরা উপলব্ধি করেছি যে কেন্দ্রের কেরালা বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ সচেতনতা তৈরি করতে আমরা যথেষ্ট পরিমাণে সক্ষম হইনি। ১২ জানুয়ারি, মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে গোটা মন্ত্রীসভা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে ধর্ণায় বসেছেন। এর পরের পর্যায়ে এলডিএফ নেতৃত্বের অংশগ্রহণে তিনটি জাঠা রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকা পরিক্রমা করবে। এটি হবে একটি রাজ্যব্যাপী কর্মসূচি, যার চূড়ান্ত রূপরেখা এখনও স্থির হয়নি।

মনরেগা কর্মসূচির বিনাশ হচ্ছে আরেকটি বিষয়— যার বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শ্রম কোড বিরোধী প্রচারও গতি পাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রচারাভিযানের গুরুত্ব বিবেচনা করে ঠিক হয়েছে প্রতিটি লোকাল কমিটি এলাকায় অন্তত একটি করে জনসভা করা হবে।

সংবাদমাধ্যম, পুরোনো ও নতুন 

আজকের ভারতের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল মূলধারার সমগ্র সংবাদমাধ্যম চলে গিয়েছে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের কবলে। কেরালায় তারা এলডিএফ সরকারের বিরুদ্ধে এককাট্টা। ভাড়াটে পেশাদার ভোট-ম্যানেজার এবং সমাজমাধ্যম-সহ প্রচারের ক্ষেত্রে কংগ্রেস ও বিজেপি-র বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের বিপরীতে এলডিএফ গভীরভাবে অনুভব করছে জনগণের সঙ্গে নিবিড় সংলাপের প্রয়োজনীয়তাকে। 

জনসাধারণের সঙ্গে সংলাপ তৈরিতে বামপন্থীরা দুটি প্রণালীর উপর নির্ভর করবে। প্রথমত, ব্যক্তিগত স্তরে সংযোগ— বাড়ি বাড়ি যাওয়া ও মহল্লা স্তরের সভাসমিতির মাধ্যমে— যা চিরদিনই ছিল বামপন্থীদের কৃতিত্বের ক্ষেত্র। এর পাশাপাশি সমাজমাধ্যমের জন্য সুনির্দিষ্ট একটি কর্মীবাহিনীকে সংগঠিত করা হচ্ছে— যা বিজেপি ও কংগ্রেসের ভাড়াটে সংবাদমাধ্যমের পালটা প্রচার করবে। বামপন্থী সংবাদপত্র, চ্যানেল ও সাময়িকী তো আছেই। প্রধান যুদ্ধটি পরিচালিত হবে এলডিএফ সরকার ও বামপন্থী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যে অভূতপূর্ব চেহারায় মিথ্যা প্রচার চলছে— তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাকে বেআব্রু করে দেওয়া।

বিজয়ের এই প্রত্যাশা আর আত্মবিশ্বাস নিয়েই কেরালায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছে এলডিএফ। 

ভাষান্তর— শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার


প্রকাশের তারিখ: ২৭-জানুয়ারি-২০২৬
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

লেখাটি ভাল লেগেছে। কেরালার বিধানসভা নির্বাচন ও প্রস্তুতি সম্পর্কে আরও জানতে চাই।
- Mahul rai, ২৮-জানুয়ারি-২০২৬


Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নির্বাচন ২০২৬ বিভাগে প্রকাশিত ৯১ টি নিবন্ধ
২৭-এপ্রিল-২০২৬

২৬-এপ্রিল-২০২৬

২১-এপ্রিল-২০২৬

২০-এপ্রিল-২০২৬

১৯-এপ্রিল-২০২৬

১৮-এপ্রিল-২০২৬

১৭-এপ্রিল-২০২৬

১৬-এপ্রিল-২০২৬

১৪-এপ্রিল-২০২৬

১৩-এপ্রিল-২০২৬