সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
যাত্রাপথে বিকল্পের অনুশীলন
সুদীপ্ত বসু
...স্রেফ যাত্রা পথের রুট ম্যাপ দেখুন- বিবর্ণ বাংলার যন্ত্রনা আর মরিয়া প্রতিরোধের চিহ্ন আঁকা নদী-জঙ্গল-জমি-বনবস্তি-চা বাগিচা, শ্রমিক মহল্লা, ভাঙনের গ্রাসে অনিশ্চিত জীবন,মজুরির দাবিতে কারখানার গেট আগলে লড়ে যাওয়া হিম্মতের প্রতিটি প্রান্তর শুনলো বাংলার রাজনীতিতে নতুন ভাষ্য। এখানেই অনন্য, এখানেই ব্যতিক্রমী ১৯ দিন ধরে হাজার কিলোমিটার পথ পেরোনো বাংলা যাত্রা। আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ যখন হলো তখন ‘মেঘ পিওনের ব্যাগের ভিতর’ বিবর্ন বাংলাকে বদলানোর লক্ষ অযুত আর্তি জমা হয়েছে।

বাংলা বাঁচাও যাত্রার চতুর্থ দিন। আগের রাতে হেমতাবাদ হয়ে দক্ষিন দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে প্রবেশ করেছেন অভিযাত্রীরা। সকালে গঙ্গারামপুর থেকে কুমারগঞ্জের দিকে তখন এগোচ্ছে বাংলা বাঁচাও যাত্রা।
সেই যাত্রাপথেই অশোক পঞ্চায়েতের রাইসিনা গ্রাম। তহমিন বিবি। রাইসিনা গ্রামের গৃহবধূ, তিন সন্তানের জননী। সেদিন সকালে তাঁর বাড়ির দাওয়ায় হাজির বন্ধন ব্যাঙ্কের লোকজন। কিস্তির টাকা দিতে হবে। তিন সন্তানকে নিয়ে দু বেলা খবার যোগাড় করবে নাকি হপ্তার কিস্তির টাকা দেবেন দিনমজুর পরিবারের জননী? জানেন না।‘বিষ খেয়ে মরে যেতে হবে আমাদের। তিনটে ছেলে মেয়ে, কী করবো? প্রতি সপ্তাহে এই কিস্তির টাকা দেবো কী করে, টাকা নিতে হয়েছিল বাচ্চাগুলোর পড়াশুনোর জন্য’। গলায় দলা পাকানো কান্না।হুমকি, অপমানের পরে ঘরে কোনমতে লুকিয়ে ছিলেন তিনি। তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে এসে হুমকি দিচ্ছে মাইক্রো ফিনান্স সংস্থার লোকজন।
তাঁর স্বামী রহমত মিঞা দিনমজুরের কাজ করে।প্রথমবার ৫০ হাজার, দ্বিতীয় বার ২০ হাজার। দু দফায় বন্ধন ব্যাঙ্ক থেকে ৭০ হাজার টাকা চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। এক সপ্তাহ অন্তর ২১০০ টাকার কিস্তি। এক সপ্তাহ বকেয়া থাকলেই মাইক্রো ফিনান্স সংস্থার হয়ে এমনকি টাকা তুলতে চলে আসেন শাসক দলের বাহিনী, এমনকি পঞ্চায়েত সদস্যও।
মাকড়সার জালের মত একের পর এক গ্রামীন জনপদকে ঘিরে ধরেছে কোথাও বন্ধন, কোথাও স্বতন্ত্র কোথাও আরোহনের মত একের পর এক মাইক্রো ফিনান্স সংস্থা। চড়া হারে সুরের জালে গঙ্গারামপুর থেকে কুমারগঞ্জ, বুনিয়াদপুর, পতিরামের মত গোটা জেলার বিস্তীর্ণ তল্লাট। বিস্তীর্ণ তল্লাটে এমন একটি ঘরও নেই মাইক্রো ফিনান্সের ছায়া যেখানে পড়েনি।
গরিব পরিবার গুলিকে কোন কাগজপত্র ছাড়াই সহজে ঋণ দিতে ঘরে চলে আসে মাইক্রো ফিনান্স সংস্থাগুলো। চড়া হারে সুদ দিতে হয়। দারিদ্র্যের যন্ত্রনা থেকে অন্তত কটা দিনের মুক্তির আশায় চড়া হারে সুদ দোওয়ার হিসাব থাকেনা গরিব ঘরগুলিতে। গ্রামীন জনপদ, অর্থনীতিকে কার্যত সুদের চক্রব্যূহে ঘিরে ফেলেছে এরা। গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা আকলিনা বিবির কথায়- ব্যাঙ্কের দরজা বন্ধ। তাই গরিব মানুষের সহজে ঋণের দুয়ারে হাজির মাইক্রো ফিনান্স। সরকার চোখ বন্ধ করে আছে। একের পর এক গ্রাম তছনছ হয়ে যাচ্ছে, পালাবেন কোথায়?
শুধু দক্ষিন দিনাজপুর নয়, উত্তর দিনাজপুর থেকে মালদহ, মু্শিদাবাদ থেকে বর্ধমান, হুগলী- বাংলা বাঁচাও যাত্রা শুনেছে, দেখেছে মাইক্রো ফিনান্সের দাপট। একের পর এক সভা, সমাবেশ থেকে উঠে এসেছে সঙ্কটের দিনলিপির বয়ান।
তবে কেবল সঙ্কটের ভাষাকে অনুবাদ নয়, বিকল্প কী? উত্তরণের পথ কী? জানাতে জানাতেই এগিয়েছে বাংলা বাঁচাও যাত্রা। এখানেই গত ১৯ দিনের হাজার কিলোমিটার যাত্রাপথের বিশেষত্ব।
আর তাই যাত্রাপথের ১৪তম দিনে হুগলীর পাণ্ডুয়ায় মাইক্রোফিনান্সের কবলে পড়া বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতো চালু হয় আইনী সহায়তা কেন্দ্র।পাণ্ডুয়ায় খেতমজুর রমনী লক্ষ্মী দাস,পূর্ণিমা ক্ষেত্রপালরা বাংলা বাঁচাও যাত্তায় সামিল হয়েই তাঁদের যন্ত্রনা তুলে ধরছিলেন। সেখানে তাঁদের জন্যই আইনী সহায়তা কেন্দ্র উদ্বোধন করে সেলিম বলছিলেন বলছিলেন, আজ যে সংস্থা আপনাদের নোটিস দিচ্ছে সেই সংস্থা একদিন তৈরি হয়েছিলো গরিবদের বিনামূল্যে আর্থিক সহায়তার জন্য। এখন মমতা ব্যানার্জির জমানায় ঋণগ্রস্ত মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় চলছে। সুদখোর মহাজনের পক্ষ নিয়ে সরকার প্রশাসনকে ব্যবহার করে এই কাজ করছে।
যাত্রাপথের তৃতীয় দিন। করণদিঘীতে এসে পৌছেছে বাংলা বাঁচাও যাত্রা। করণদিঘী বাজারে তখন সভা। বলছেন মীনাক্ষী মুখার্জি। সেখানেই দেখা মিলেছিলে মোজবুল হক, শেক সাজ্জামানের মত দুই যুবকের সঙ্গে। ওঁরা পরিযায়ী শ্রমিক,মু্ম্বাইতে কাঠের কাজ করে। মাসখানেকের জন্য গ্রামে ফিরেছেন। গত ১০ তারিখ আবার চলে গেছেন মুম্বাইতে। ‘কী হবে এখানে থেকে। গ্রামে কাজ নেই। মুখ্যমন্ত্রী বলছেন রাজ্যে ফিরে আসলে ৫ হাজার টাকা মিলবে। তাতে কী হবে? ৫ হাজার টাকায় চারজনের সংসার? গ্রামে বেকার আরো বাড়বে। আমরা ভিনরাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্যও কত সমস্যায় পড়ছি। সরকার কোথায়? লাল পার্টি কী বলে তা শুনতে এসেছি’।
বাংলা বাঁচাও যাত্রা পরিযায়ী শ্রমিকদের যন্ত্রনার ভাষাকেও তুলে এনেছে মূলস্রোতের রাজনীতির অ্যাজেন্ডায়। মুর্শিদাবাব, মালদহেরমত জেলায় একের পর এক গ্রাম কার্যত পুরুষ শূন্য।
মালদহের রতুয়া-২নম্বর ব্লকের চাঁদপাড়া গ্রাম। প্রায় ২৪০০ পরিবার। শুধু এই একটা গ্রামেই পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা চার হাজারের বেশি। পরিবার পিছু অন্তত দু’জন করে কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে। একটা গ্রাম, গত ১১ সাল থেকে শুধু এখানেই ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে মারা গেছেন ৭৩জন! ভিনরাজ্যে টাওয়ারে কাজে, নির্মাণে কাজে গিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়ে পা খুঁইয়েছেন, একটা হাত হারিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যাও কুড়ি! এখানে রাজ্য সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রাপকের সংখ্যা শূন্য! চার হাজারের বেশি মানুষ গ্রাম ছেড়ে গোটা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে, এমনকি কাশ্মীরেও।সরকারিভাবে শুধু মালদহ জেলাতেই এখনও ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। আজও একজন পরিযায়ীও শংসাপত্র পাননি।

শুধুই যন্ত্রনার বিবরণ? সরকার অনুপস্থিত। ১১দিনে মাথায় বাংলা বাঁচাও যাত্রা চলার পথেই এরাজ্যের বুকে সর্বপ্রথম সিপিআই(এম)’র উদ্যোগে ডোমকলে ‘পরিয়ায়ী শ্রমিক সহায়তা কেন্দ্র’ চালু হয়। সরকার নয়, খাতায় কলমে বিরোধী দল বিজেপি নয়, সিপিআই(এম)’র উদোগে তৈরি হয় এই সহয়তা কেন্দ্র। ডোমকলের বাসিন্দা,কেরালায় কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিক হাসানুর মন্ডলের মা হাসিনা বেগমের হাত ধরেই তার সূচনা হয়। ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে কোন বিপদে পড়লে এই সহায়তা কেন্দ্র থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে,যে কোন ধরণের সমস্যায় হস্তক্ষেপ করা হবে।
বিকল্পের অনুশীলন গ্রাম-নগর-মাঠ পাথারে।
উত্তরের চা-বাগিচা, বনবস্তি, তরাই-ডুয়ার্সের চলার পথেই বাংলা বাঁচাও যাত্রা দেখেছে আরএসএসের সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেহারা। এসআইআর নিয়েও বিষাক্ত প্রচার। বিভাজনের রাজনীতিকে পুষ্ট করছে শাসক তৃণমূলের দুর্নীতি আর লুটের চেহারা। নির্দিষ্ট এলাকা, পরিবার চিহ্নিত করে গত কয়েকমাস ধরে বাড়ি বাড়ি পৌছে যাচ্ছে পিতলের বাটি, পিতলের পঞ্চ পল্লব, পঞ্চ প্রদীপ। পৌছে দিচ্ছেন মাতৃমন্ডলীর সদস্যরা। সংঘের মহিলা শাখা। গৃহস্থের বাড়িতে, দাওয়ায় পৌছে যাচ্ছেন পিতলের পঞ্চ পল্লব নিয়ে। কখনও শিবের পুজোয় বা কখনও রাম-মঙ্গল যাত্রা উপলক্ষ্যে। নীরবে সংঘটিত ভাবে চলছে বিস্তীর্ণ তল্লাটে ধর্মীয় উন্মাদনা, বিভাজনের সলতে পাকানোর কাজ। আরো আশ্চর্য শাসক তৃণমূলের একাধিপত্যের পঞ্চায়েত, গ্রামেই দেখা যাচ্ছে সংঘের এমন বাড়বাড়ন্ত।
মোহভঙ্গও ঘটছে। যেমন মুসলিম প্রধান তল্লাটে ওয়াকফ নিয়ে বিজেপির পাশাপাশি শাসক তৃণমূলের দ্বিচারিতার ছবি ধরা পড়েছে যাত্রাপথে শামিল গ্রামবাসীদের মধ্যেও।বিহারের কাটিহার থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে হরিশচন্দ্রপুরের সাদলিচকে বাংলা বাঁচাও যাত্রার সমাবেশে হাজির হওয়া স্থানীয় যুবক জুলফিকার আলি বলছিলেন- সবাই মিলে একসঙ্গে থাকি আমরা। কিন্তু তৃণমূল ভোট আসলেই মুসলিমদের আবেগ নিয়ে খেলা করে। কত কথা ওয়াকফ আইন এখানে হতে দেবেনা এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের ঐ পোর্টালে সব তথ্য আপলোড করার কাজ শুরু করে দিয়ছে। এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধেই ভয়ের মধ্যেও মুখ খুলছে মানুষজন, দেখছেন না বাংলা বাঁচাও যাত্রার সভা শুনতে এত লোক, মাঠে চাষের কাজ ছেড়েও।’
তখন সমাবেশ থেকে মীনাক্ষী মুখার্জি বলছেন- কাজ দাও, কাজ। ধর্মতে কি পেট ভরে? ৮ হাজার প্রাথমিক স্কুল বন্ধ হয়েছে, ২২ হাজার মদের দেকান নতুন করে খুলেছে রাজ্যে।এটা সুস্থ বাংলার লক্ষন? বদলাবেন না এই পরিবেশ?
যাত্রপথের ছয় নম্বর দিনে রতুয়া-২নম্বর ব্লকের লস্করপুরে যখন বাংলা বাঁচাও যাত্রা এসে পৌছালো তখন গ্রামের মানুষজনই বললেন এই এলাকাতেই এখনও পর্যন্ত ১০টা প্রাইমারি, এসএসকে বন্ধ হয়ে গেছে। রাজ্যর যে ৮হাজার ২৩২টা প্রাইমারি ও এসএসকে বন্ধ হয়েছে সরকারি ফতোয়ায়, সেই তালিকাতেই রয়েছে এই তল্লাটের ১০টা স্কুল। আরো একাধিক স্কুল ধুঁকছে। গড়ে ১৫জন ছাত্র নিয়ে চলছে স্কুল। অথচ গাজোল থেকে রতুয়া, মালতিপুরেই দেখা যাচ্ছে একের পর এক বেসরিকারি স্কুল। কোনমতে সেখানে এক বছর পড়াতে পারলে পরের বছরে পড়ানোর আর্থিক সামর্থ্য নেই, হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে ড্রপ আউটের সংখ্যা।
মূলস্রোতের রাজনীতিতে ক্রমেই পিছু হটা এই বাংলার আসল চেহারা, জবনজীবনের সঙ্কটের ছবিকেই সামনে এনে, প্রতিদিনকার টিকে থাকার লড়াইকে বাঙ্ময় করেই ধুলো ওড়ানো মেঠো পথ থেকে জাতীয় সড়কের পথে এগিয়েছে বাংলা বাঁচাও যাত্রা। দুই শাসকের ছায়া-যুদ্ধে ভুলিয়ে দেওয়া অ্যাজেন্ডাকে টেনে আনো রাজনীতির ভরকেন্দ্রে- গত ছয় দিনে সাতটি জেলা পেরানো এই বাংলা বাঁচাও যাত্রা শুনছে সঙ্কটের ভাষা, হাজির করছে বিকল্পের ছবিকেও।
📲 এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে
উত্তরবঙ্গের জল-জমিন-জঙ্গল রক্ষায় যাত্রাপথের মাঝেই গত ৩০ নভেম্বর শিলিগুড়ির বিশাল সমাবেশ থেকে হাজির করা হয়েছে উন্নয়নের সনদ। তা খসড়া আকারে। উত্তরবঙ্গ জুড়ে মানুষের অভিমত নিয়ে হবে চূড়ান্ত ইস্তেহার। আবার গোটা উত্তরবঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যার পরে হাজার হাজার বিঘার পর বিঘা জমির ফসল নষ্ট করে চোষক পোকা। কৃষি দপ্তর উদাসীন। সরকারের তরফে চোষক পোকা ঠেকাতে এডামা কোম্পানির কীটনাশক দেওয়া হয়েছে। নিম্নমানের সেই কীটনাশক। কৃষকদের দাবি তাই শস্যবীমা দ্বিগুন করো।মুর্শিদাবাদ,মালদহে বিডি শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি, চিকিৎসার দাবি তুলেছে এই যাত্রাপথ। আরএসএস –বিজেপির বিভাজনের খেলা, সাম্প্রদায়িকতার আগুনে পোড়া জনপদে দাঁড়িয়ে সম্প্রীতির ডাক দেওয়াই শুধু নয়, বিভেদের শক্তিকে সর্বশক্তি দিয়েই কোনঠাসা করার শপথ মিশেছে বাংলাকে রক্ষার লড়াইয়ে।
ছয় দশক আগে তুফানগঞ্জে রায়ডাকের চরে জেগে ওঠা প্রান্তর থেকে শুরু হওয়া যাত্রা ১১টি জেলা পেরিয়ে ইছামতির পারের যন্ত্রনাকে সঙ্গী করেই এসে মিলেছিল সমরেশ বসুর ‘বি টি রোডের‘ ধারে। তিস্তা-তোর্সা পেরিয়ে ইছামতির পাড়। স্রেফ যাত্রা পথের রুট ম্যাপ দেখুন- বিবর্ণ বাংলার যন্ত্রনা আর মরিয়া প্রতিরোধের চিহ্ন আঁকা নদী-জঙ্গল-জমি-বনবস্তি-চা বাগিচা, শ্রমিক মহল্লা, ভাঙনের গ্রাসে অনিশ্চিত জীবন,মজুরির দাবিতে কারখানার গেট আগলে লড়ে যাওয়া হিম্মত প্রতিটি প্রান্তর শুনলো বাংলার রাজনীতিতে নতুন ভাষ্য।
এখানেই অনন্য, এখানেই ব্যতিক্রমী ১৯ দিন ধরে হাজার কিলোমিটার পথ পেরোনো বাংলা যাত্রা। আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ যখন হলো তখন ‘মেঘ পিওনের ব্যাগের ভিতর’ বিবর্ন বাংলাকে বদলানোর লক্ষ অযুত আর্তি জমা হয়েছে।
প্রকাশের তারিখ: ১৯-ডিসেম্বর-২০২৫
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
