সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নিবন্ধের খোঁজ
এখানে আপনি লেখক, নিবন্ধের বিষয়, তথ্য, প্রকাশের তারিখ দিয়ে বিভিন্নভাবে খুঁজতে পারেন, বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই খোঁজা যাবে।
আর কারুমালাইয়ান
শ্রমিকদের অধিকারের যে ধারণা তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শ্রমিকদের বহু সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে। এই সব সংগ্রাম গোড়ার দিকে ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। পরে শ্রমিকেরা নিজেদের ট্রেড ইউনিয়নে সংগঠিত করেন। শ্রমিক শ্রেণির এই সব সংগ্রামের ফলে শাসক শ্রেণিগুলি বাধ্য হয়েছিল এমন আইন প্রণয়ন করতে যাতে শ্রমিকদের কিছু অধিকার ও সুবিধা পাওয়া নিশ্চিত হয়। এর মধ্যে ছিল সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধাও। সারা পৃথিবী জুড়ে এখন কার্যকর করা হচ্ছে নয়া উদারনৈতিক নীতিসমূহ এবং তার ফলে শ্রমিক শ্রেণির অর্জিত অধিকার ও সুবিধাগুলির ওপর সরকারের আক্রমণ নেমে আসছে। এই আক্রমণ নেমে আসছে আমাদের দেশেও। এর লক্ষ্য হল শ্রমিক শোষণ বাড়িয়ে কর্পোরেটের মুনাফাকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়া। পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সঙ্কট গভীরতর হওয়ায় মালিকপক্ষের শোষণ ও হামলা তীব্রতর হয়েছে। ...more
০২-ডিসেম্বর-২০২৫
আর কারুমালাইয়ান
‘সুপারভাইজার’ ও ‘ম্যানেজার’ নামকরণ করে শ্রমিক ও কর্মচারীদের বিরাট অংশকে শ্রম কোডের আওতার বাইরে করে দেওয়া হবে। যারা ‘সুপারভাইজরি পদে’ কাজ করছেন এবং মজুরি হিসাবে মাসে ১৮ হাজার টাকার বেশি পাচ্ছেন তারাও শ্রমিক সংজ্ঞা থেকে বাদ পড়বেন। এই পদে মজুরির পরিমাণ সময়ে সময়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংশোধনও করা যাবে। ইতিমধ্যেই বহু প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের একাংশকে ‘সুপারভাইজার’ /‘ম্যানেজার’/ ‘অফিসার’/ ‘এগজিকিউটিভ’ ইত্যাদি নামে যথেচ্ছভাবে চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়ে গেছে। এসবের লক্ষ্য হল ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার থেকে এদের বঞ্চিত করা এবং ‘ইউনিয়নভুক্ত নন’ হিসেবে এদের বিবেচনা করা। এই বিষয়টাকে শিল্প সম্পর্ক কোডের মাধ্যমে আইনসম্মত করা হয়েছে। ...more
০১-ডিসেম্বর-২০২৫
আর কারুমালাইয়ান
১৯৯১ সালে শ্রমিকদের আইনি অধিকার শাসক শ্রেণির পরিকল্পিত আক্রমণের মুথে পড়েছিল। পিভি নরসিংহ রাওয়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার মালিকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ‘এগজিট পলিসি’ আইন চালু করা হবে যেখানে তাদের অধিকার থাকবে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে কোনও রকম বিধিনিষেধ ছাড়াই শ্রমিকদের রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দেওয়ার। তখন থেকেই পুঁজিপতিরা পরের পর সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে তথাকথিত ‘শ্রম আইন সংস্কার’ কার্যকর করার জন্য। বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি ও এনডিএ সরকার দ্বিতীয় জাতীয় শ্রম কমিশন নিয়োগ করে। কমিশনের সুপারিশগুলিই হয়ে দাঁড়িয়েছে মোদির নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের তরফে চালু শ্রম আইনগুলিকে এখনকার শ্রম কোডে পরিণত করার ভিত্তি।
...more৩০-নভেম্বর-২০২৫
আর কারুমালাইয়ান
দীর্ঘমেয়াদি এই সংগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হল ইউনিয়নের স্বীকৃতি। যদিও, চুক্তিতে উল্লেখযোগ্য মজুরি বৃদ্ধির কথাও আছে। তিন বছরে ১৮,০০০ টাকা থেকে ২৩,০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি। সঙ্গে বিশেষ পদোন্নতি, বাড়তি ইনসেনটিভ, সবেতন ছুটির পরিমাণ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধা। তবে, মূল দাবি ছিল ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার। এবং কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেকে যৌথ দরকষাকষির স্বীকৃত প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এবং এই দাবি বর্তমানে সফলভাবে অর্জিত হয়েছে। ...more
৩১-মে-২০২৫
আর কারুমালাইয়ান
ব্রিটিশ উপনিবেশে ভারতীয় শ্রমিকেরা বাধ্য করেছিল ১৯২৬ সালের ভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন আইন প্রণয়ন করতে। এই আইনের দ্বারা শ্রম-অধিকারকে সুনিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের আইনি অধিকার দেয়। স্বাধীন ভারতে নাগরিকদের সংগঠন এবং ইউনিয়ন তৈরির অধিকার সুনিশ্চিত করতে, ভারতীয় সংবিধানে অনুচ্ছেদ ১৯(১)(সি) রয়েছে। সংগঠন তৈরির অধিকার গণতন্ত্রকে সজীব রাখার অন্যতম শর্ত। এই অধিকার ছাড়া তো রাজনৈতিক দলও তৈরি হবে না, আর এরকম দল না থাকলে গণতান্ত্রিক সংসদীয় গঠনতন্ত্র, সরকারি পরিকাঠামো কার্যকর হওয়াই সম্ভব নয়। দু:খের কথা, দক্ষিণ কোরিয়ার বহুজাতিক কোম্পানি স্যামসাং এক বাক্যে এই নৈতিক ও মৌলিক অধিকারকে, এতদিনের ইতিহাসকে, শ্রমিকদের ধারাবাহিক লড়াইকে ‘অবৈধ’ বলে দাগিয়ে দিতে পারছে। বলাবাহুল্য যে, ভারতের বর্তমান শাসকদল বিশ্বপুঁজির সঙ্গে যে সমস্যাজনক সমঝোতায় চলছে- এসব তারই অবদান! ...more
৩০-নভেম্বর-২০২৪
আর কারুমালাইয়ান , কে হেমলতা, এ আর সিন্ধু
কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও প্রচার করবে সিআইটিইউ। আর জি করের ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় সংগঠন। সব ধরনের কর্মক্ষেত্রে প্রতিটি শ্রমজীবী নারীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। নিশ্চিত করতেই হবে সমানাধিকার ও নিরাপদ পরিবেশ। মার্কসবাদী পথ-কে বলেছেন সিআইটিইউ-র সর্বভারতীয় সভাপতি কে হেমলতা। সঙ্গে সিআইটিইউ-র সর্বভারতীয় অন্যতম সম্পাদক এ আর সিন্ধু, সংগঠনের সর্বভারতীয় অন্যতম সম্পাদক আর কারুমালায়ন। ...more
২৪-আগস্ট-২০২৪
আর কারুমালাইয়ান
মোদি সরকার কর্মঘন্টার লাগামছাড়া দীর্ঘায়নকে বৈধ করে দাসপ্রথার মতো এক ব্যবস্থাকে টিঁকিয়ে রেখেছে। প্রাথমিকভাবে চারটি শ্রম কোড বিলে আইনত সর্বোচ্চ কর্মঘন্টায় সীমা টানার মতো কিছুই ছিল না। এমনকী এই কোডগুলি প্রথম আইএলও কনভেনশন ০১ অনুযায়ী ধার্য বাধ্যতামূলক দৈনিক আট ঘন্টা কাজের মতো বুনিয়াদি মানবিক কাজের শর্তটিও নির্দিষ্ট করেনি, উপরন্তু সংশ্লিষ্ট সরকারগুলির উপর সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছে। ...more
২৪-নভেম্বর-২০২৩
আর কারুমালাইয়ান
এই পর্বে সম্ভবত সবচেয়ে নজরকাড়া পদক্ষেপ হল ১৯৪৬ সালে নৌবিদ্রোহের প্রতি সংহতি জানানোর লক্ষ্যে বোম্বের শ্রমিকদের ধর্মঘট ও হরতাল। ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখে কমিউনিস্ট পার্টির আহ্বানে সাড়া দিয়ে দুই থেকে তিন লক্ষ শ্রমিক কারখানায় কাজ বন্ধ করে দেন। এই আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছিল সোশালিস্ট পার্টিও। পুলিশ বাধা দেওয়ায় শান্তিপূর্ণ সভা ও বিক্ষোভ হিংসাত্মক সঙ্ঘর্ষে পরিণত হয়। রাস্তায় রাস্তায় গড়ে তেলা হয় ব্যারিকেড। সেখানে পুলিশ ও সেনার সঙ্গে শ্রমিকদের তীব্র লড়াই শুরু হয়। শহরের স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে সেনাবাহিনীর দুটি ব্যাটেলিয়নকে ডাকতে হয়। ওই দিনের সঙ্ঘর্ষে প্রায় ২৫০ জন বিক্ষোভকারী তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ...more
৩১-মে-২০২৩
আর কারুমালাইয়ান
ভারতে ব্রিটিশরাজ এই বৈপ্লবিক অভ্যুত্থানের প্রত্যুত্তর দেয় আনাড়ির মতো। ১৯১৭-এর মাঝামাঝি সময়ে ভাইসরয় চেমসফোর্ড ভারতে ব্রিটিশ নীতির বদলের প্রয়োজনের কথা ব্রিটিশ সরকারের নজরে আনেন। একই বছর ই. এস. মন্টাগু ভারত রাষ্ট্রে সেক্রেটারি অফ স্টেট হিসাবে নিযুক্ত হন। ১৯১৭ সালের ২০ অগাস্ট তথাকথিত দ্বায়িত্ববান সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য জমি তৈরি করতে ভারতের জন্য তিনি একটি নতুন নীতির ঘোষণা করেন। মূল বিষয়গুলি যুক্ত করা হয় গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৯১৯-এ। এই অ্যাক্ট, ‘মন্টাগু-চেমসফোর্ড রিফর্ম’ নামে পরিচিত ছিল। তবে এই নীতি জনরোষের জোয়ার সামলানোর পক্ষে সামান্যই সাফল্য লাভ করেছিল। ...more
৩০-মে-২০২৩














