সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নারীবাদ ও শ্রেণিচেতনা (১)
অর্চনা প্রসাদ
পিতৃতান্ত্রিক কর্তৃত্ব এবং বৃহৎ ক্ষেত্রে উদ্বৃত্ত উৎপাদনে শ্রমজীবীর শোষণের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। অতএব, শ্রেণি গঠনের প্রক্রিয়াটি নিজেই চরিত্রে একটি লিঙ্গায়িত প্রক্রিয়া।

কমিউনিস্ট আন্দোলনের গোড়ার দিনগুলিতে নারীবাদ ও শ্রেণিচেতনা
শ্রেণি শোষণ ও পিতৃতন্ত্রের শেকল থেকে মুক্তির সংগ্রামে যোগ দিয়ে নারীমুক্তির জন্য নারীদের সংগ্রামের সঙ্গে কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিকাশের যে সংযোগবিন্দু, তা নিয়েই এই লেখা। যদিও বহু বিদ্বজ্জন এবং প্রথম সারির আন্দোলনকারীরা বারবার দেখিয়েছেন যে, শ্রেণি সংগ্রামের যে পিতৃতন্ত্র-বিরোধী চরিত্র, তা নিজে থেকে গড়ে ওঠে না, এটি একটি সংগঠিত প্রক্রিয়া যা কিনা শ্রেণি গঠনের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। একইভাবে নারীদের অধিকারের যাবতীয় আন্দোলন অনিবার্যভাবে পুঁজিবাদ বিরোধী হবেই – এমনটা নয়; বরং সেই আন্দোলনের সীমিত লক্ষ্য, পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় নারীর সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার অর্জন করাও হতে পারে। নারী আন্দোলন এবং শ্রেণিসংগ্রামের পারস্পরিক রূপান্তর তাদের মতাদর্শ এবং পুঁজিবাদ ও পিতৃতন্ত্রের মধ্যেকার সম্পর্কের বোঝাপড়ার উপর নির্ভর করে।
এই লেখায়, আমি সেই প্রস্তাবকে অনুসন্ধান করতে চাইছি যা কমিউনিস্ট পার্টি-র গড়ে ওঠাকে নারীমুক্তির সংগ্রামে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বলে দাবি করে। যে সমস্ত নারীরা কমিউনিস্ট আন্দোলন-সংগ্রামে যোগ দিয়েছেন, তাঁরা লিঙ্গভিত্তিক শ্রম-বিভাজনের প্রথাকে ভেঙে বেরোনোর ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। আন্দোলনের কৌশলের উপর তাঁদের প্রভাব পিতৃতন্ত্র-বিরোধী চেতনা ও শ্রেণিচেতনার মধ্যেকার বাঁধনকে উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে নানাবিধ জটিল পথ খুলে দিয়েছিল। ফলত, এই প্রসঙ্গে কিছু প্রশ্ন করা যুক্তিসঙ্গত হয়ে দাঁড়ায় – ভারতে চলতে থাকা নারীমুক্তির সংগ্রামে কমিউনিস্ট আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাসের অবদান কী? প্রতিটি পিতৃতন্ত্র-বিরোধী কর্মসূচি কি অনিবার্যভাবে পুঁজিবাদ-বিরোধী কর্মসূচিও হবে এবং যদি তা-ই হয়, তাহলে ভারতীয় কমিউনিজম-এ মুক্তির যে দর্শন, তাতে নারীদের অবস্থান কোথায়? সমকালীন তাত্ত্বিক ও মতাদর্শগত দোলাচল কাটানোর ক্ষেত্রে একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে এই প্রশ্নগুলির উত্তর। যে দোলাচল মার্কসবাদী নারীবাদী ও স্বতন্ত্র নারী আন্দোলনের মধ্যেকার বিতর্কের কারণে তৈরি হয়। এই লেখার প্রথম অংশ এই জাতীয় কিছু বিতর্কের রূপরেখা দেয় এবং পুঁজিবাদী সঞ্চয়নের প্রক্রিয়ায় উৎপাদন ও সামাজিক পুনরুৎপাদনের মধ্যেকার সম্পর্কের প্রেক্ষিতে সেইসব বিতর্কের মূল্যায়ন করেছে। দ্বিতীয় অংশটি সংক্ষিপ্তাকারে কমিউনিস্ট আন্দোলনের গোড়ার দিকে নারীর ভূমিকা সম্পর্কে জানাচ্ছে। তৃতীয় অংশ নির্দিষ্টভাবে শ্রেণিভিত্তিক আন্দোলন এবং পিতৃতন্ত্র-বিরোধী চেতনা গড়ে ওঠার মাঝের সম্পর্কের প্রেক্ষিত নিয়ে আলোচনা করেছে।
১
এ কথা বহুচর্চিত যে, পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় সঞ্চয়নের হার বজায় রাখতে ও বাড়াতে পিতৃতান্ত্রিক কর্তৃত্ব এবং প্রতিষ্ঠানগুলি অপরিহার্য। পিতৃতন্ত্র প্রথাগত লিঙ্গভিত্তিক শ্রমের বিভাজনের মাধ্যমে সামাজিক সম্পর্ককে গড়ে তোলে। যে শ্রম উৎপাদনের বৃহত্তর পরিধিকে সহায়তা করে। এই উৎপাদনে নারীর অস্বীকৃত ও হিসাবের বাইরে থাকা কাজ উদ্বৃত্ত মূল্য নিষ্কাশনের অংশ হয়। পিতৃতান্ত্রিক কর্তৃত্ব এবং বৃহৎ ক্ষেত্রে উদ্বৃত্ত উৎপাদনে শ্রমজীবীর শোষণের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। অতএব, শ্রেণি গঠনের প্রক্রিয়াটি নিজেই চরিত্রে একটি লিঙ্গায়িত প্রক্রিয়া। কারণ পুঁজি ও শ্রমের পারস্পরিক যোগাযোগ নারীর মজুরিবিহীন কাজের উপর ন্যস্ত যা কিনা সামাজিক পুনরুৎপাদনের ভিত্তিটি তৈরি করে। উপরন্তু পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় গড়ে ওঠা পরিবারের গঠনের প্রভাব মজুরির শ্রমে নারীর তুলনামূলকভাবে কম যোগদানের উপর রয়েছে। গৃহবধূকরণ সংক্রান্ত যে বিতর্ক তা নারীর ঘরে আবদ্ধ হয়ে থাকায় ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভূমিকার দিকেই নির্দেশ করে (ফেডেরিচি ২০০৪; মাইস ১৯৮৬)। সেই অর্থে নারীর উপর সামাজিক পুনরুৎপাদনের জন্য মজুরিবিহীন কাজের এবং বৈষম্যমূলক মজুরির কাজের বোঝা বৃদ্ধি, আসলে সেই একই উদ্বৃত্ত মূল্য তৈরির প্রক্রিয়ার অংশ। অন্যভাবে বলতে গেলে, পিতৃতন্ত্র সামাজিক সম্পর্কের পুনরুৎপাদনের একটি অপরিহার্য অংশ, যে সম্পর্ক ছাড়া আর্থিক নিষ্কাশনের প্রক্রিয়া বহালো থাকে না, বৃদ্ধিও পায় না। অতএব, নারীর মজুরিবিহীন এবং মজুরি শ্রমের মধ্যেকার অসমঞ্জ যোগসুত্রটি আসলে মূলধন শ্রম এবং বিভিন্ন পদ্ধতিগত প্রকাশের মধ্যে থাকা তার প্রকাশের কাঠামোগত দ্বন্দ্বের ফল। সঞ্চয়নের বৃহত্তর প্রক্রিয়ায় যে পদ্ধতিগত বৈষম্যের শিকার হওয়ার কারণে নারীদের সংখ্যা শ্রমজীবী শ্রেণির নির্দিষ্টভাবে সবচেয়ে শোষিতদের মধ্যে বাড়তে থাকে, তারও ব্যাখ্যা দেয় এই পরিপ্রেক্ষিত।
এ জাতীয় বোঝাপড়া বহু প্রসিদ্ধ নারীবাদী দ্বারা প্রচারিত বোঝাপড়ার থেকে অনেকটা ভিন্ন। এই বিষয়ের উপর লেখা একটি অতি চর্চিত বইয়ের কথায় – ‘নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি স্বীকার করে যে, লিঙ্গগত চারপাশে গড়ে ওঠা বিন্যাস সামাজিক শৃঙ্খলাকে বজায় রাখে, “নারী”, “পুরুষ” হিসাবে চিহ্নিত জীবন বাঁচা হল ভিন্ন কোনো বাস্তবতায় বাঁচা। সমান্তরালে নারীবাদী হওয়ার অর্থ, কেন্দ্রীয় ক্ষেত্রকে গ্রাস করা প্রতিটি কর্তৃত্বময় কাঠামোয় প্রান্তিক, তুলনায় ক্ষমতাহীন অবস্থানকে দখল করার কথা কল্পনা করা।, (মেনন ২০১২, পৃ. viii) এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লিঙ্গ ধারণাটি (যাতে “পুংলিঙ্গ”কে “পুরুষ”, এবং ‘স্ত্রীলিঙ্গ”কে “নারী করে তোলার মতো সামাজিক পুনরুৎপাদন ঘটে), শোষণের সঙ্গে নারীর সম্পর্ককে নির্দিষ্ট করে এমন পদ্ধতিগত অসাম্যের একটি গঠনগত বৈশিষ্ট্য। সুতরাং লিঙ্গগত সম্পর্ক পুঁজিবাদী শোষণ এবং উৎপাদনের সামাজিক সম্পর্কের পরিধির বাইরে। বৃহৎ রাজনৈতিক অর্থনীতিতে “নারীর” অবস্থানকে স্থিত না করে, বরং লিঙ্গগত অবস্থানে স্থিত করে সব ধরনের শোষণ চিহ্নিত হতে শুরু করল। এই ধরনের অবস্থানে স্থিত হওয়ায় ‘শ্রেণি ও পুঁজিবাদ’ চলে যায় গৌণ অবস্থানে: নারী এমন এক গোষ্ঠী হয়ে দাঁড়ায় যাকে “ক্ষমতায়ন”-মুখী কর্মসূচির মাধ্যমে সংহত করা যায়।
যদিও, এ জাতীয় কর্মসূচির নারীবাদী সমালোচকেরা পুরুষ-নারীবাদকে দাঁড় করায় মহিলা-নারীবাদের বিরুদ্ধে, যেখানে পিতৃতন্ত্র-বিরোধী আন্দোলনের পুরুষ নেতৃত্বকে, নারীর কর্তৃত্ব ও নেতৃত্বকে দমন করছে বলে মনে করা হয় (দেবিকা ২০১৮)। যদিও, এই জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বৃহৎ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভূমিকাকে গ্রাহ্য করে না।
তাত্ত্বিক সমালোচকদের দ্বারা আরো একটি নারীবাদী অবস্থানের বিকাশ ঘটে যা মূল্যের শ্রমের তত্ত্বকে কাজের অমর্যাদার তত্ত্বের বিরুদ্ধে দাঁড় করায়। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, নারীদের কাজের সঙ্গে অমর্যাদা, কলঙ্ক জড়িয়ে দেওয়ার পরিণতিতেই শ্রমের লিঙ্গগত বিভাজন ঘটে এবং একে উদ্বৃত্ত নিষ্কাশনের প্রবণতার বদলে সামাজিক বৈষম্যের একটি প্রচলন হিসাবে দেখতে হবে। এমন যুক্তি দেওয়া হয় যে, গার্হস্থ্য ক্ষেত্রকে বিবেচনার সময়ে কেবল নয়, বরং জাত, অস্পৃশ্যতা, অস্পৃশ্য কাজের প্রশ্নেও নারীবাদী লেন্স প্রয়োজন। এই যুক্তিও আছে যে, মূল্যের শ্রম তত্ত্ব জাতপাতের কাঠামোর সমাজের সঙ্গে একটি দ্বন্দ্বের মধ্যে থাকে (জন, ২০১৭)। জন-এর কেন্দ্রীয় যুক্তি ছিল, নারীশ্রম কলঙ্কায়িত এবং তাতে কোনো মূল্য ধার্য হয় না। তার পরিবর্তে, তাকে এমন কোনোভাবে দেখা দরকার যা কি না মার্কস-পরবর্তী ‘ইন্টারসেকশানালিটি” তত্ত্ব দিয়ে বোঝা যায়। যে তত্ত্বে বিবিধ স্তরের অধীনতা রয়েছে, যেগুলি পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে, এবং নির্দিষ্ট ধরনের শ্রমের বিষয় হিসাবে নারীকে দেখে (জন ২০১৩; ২০১৭। জন এবং অন্যান্য নারীবাদীদের দ্বারা প্রস্তাবিত “মূল্য”-এর ধারণা আসলে একটি অসম্পূর্ণ ধারণা, কারণ এটি সামাজিক উৎপাদন, পুনরুৎপাদনকে উদ্বৃত্ত মূল্যের নিষ্কাশনের থেকে আলাদা করে দেখে। এর মতে, মূল্যের শ্রম তত্ত্ব অর্থনৈতিকভাবে খণ্ডবাদী, এবং শ্রমের মূল্যকে উপরিকাঠামো হিসাবে চিহ্নিত করে। পুঁজিবাদী সঞ্চয়নের প্রক্রিয়ায় শ্রমের অবনমনকে চিহ্নিত করে না; এটি ঘরের ও বাইরের পদ্ধতিগত বৈষম্যের ক্ষেত্রে পুঁজির চিরায়ত প্রবণতাস্বরূপ মজুরিবিহীন শ্রমের কলঙ্কের ব্যাখ্যা করে না। এই বাস্তবতাগুলিকে অগ্রাহ্য করে এবং গার্হস্থ্য ও অ-গার্হস্থ্য ক্ষেত্রের বিভাজন করে, এই দৃষ্টিভঙ্গি লিবারেল পাবলিক/ প্রাইভেট ফাঁদে পড়ে গেছে এবং সামাজিক ও পদ্ধতিগত বৈষম্যকে পোষণ করায়, যা কিনা কার্যত পুঁজিবাদে মহামারির মতো বিস্তৃত, পিতৃতন্ত্রের ভূমিকাকেও এই দৃষ্টিভঙ্গি উপেক্ষা করে। প্রচলিত তাত্ত্বিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতায়, শ্রেণি গঠন এবং সামাজিক বৈষম্যের মধ্যে জটিল আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে সমসামায়িক মার্কসবাদী নারীবাদী সাহিত্যের দিকে ফিরে যাওয়া প্রাসঙ্গিক। এই সম্পর্ককে চিহ্নিত করার একটি সাধারণ উপায় হল সামাজিক পুনরুৎপাদন প্রক্রিয়াগুলি (ভোজেল ২০১৩; ভট্টাচার্য ২০১৭)-এর যতদূর সম্ভব অন্বেষণ করা। এইভাবে, সামাজিক পুনরুৎপাদন কেবলমাত্র মজুরিবিহীন পারিবারিক শ্রমের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানের (যেমন বর্ণ), রীতিনীতি এবং নৈতিকতার উপরও নির্ভরশীল যা প্রতিস্থাপিতও হতে পারে না এমনকী সামাজিক শ্রেণির সঙ্গে সমতুল্যও হতে পারে না। পিতৃতান্ত্রিক, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের শ্রেণিবিন্যাস সামাজিক ও আর্থিক দাপটকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে শ্রেণি গঠনের মধ্যস্থতা করতে পারে। অন্যভাবে বললে, পুঁজিবাদী ব্যবস্থা টিঁকিয়ে রাখার জন্য সামাজিক উচ্চাবচের প্রয়োজন থাকেই; পুঁজিবাদী সঞ্চয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে মানানসই করার জন্য এগুলি পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে যা বিভিন্ন সামাজিক বাতাবরনে পিতৃতন্ত্রের নানাবিধ প্রকাশে প্রতিফলিত হয় (প্রসাদ ২০১৬)। যেমন, বহু নারীবাদীই হামেশাই যুক্তি দেন যে, মজুরির কাজে নারীদের প্রবেশাধিকার তার পরিবারে প্রচলিত সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বিধিরীতির কারণে সীমিত ছিল। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে জানা যায় যে, দলিত এবং আদিবাসী নারীরা বাইরে যেতে এবং কাজ করার জন্য এমন কোনো বাধার সম্মুখীন হয়নি, বরং তাদের কাজে যোগদানের হার অন্য যে কোনো সামাজিক গোষ্ঠীর যোগদানের চেয়ে বেশি ছিল। তবুও এটি পিতৃতন্ত্রের মাজা ভাঙেনি, বরং পুরুষের আধিপত্য ও ক্ষমতা টের পাওয়া যায় সাধারণ মানুষের পরিমণ্ডলে বর্ধিত মজুরিবিহীন কাজ এবং যৌন শোষণের মাধ্যমে। সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসগুলি ব্যক্তিগত নৈতিকতা লঙ্ঘন করে, উৎপাদনের উপকরণের উপর মালিকানা লাভ এবং তার উপর নিয়ন্ত্রণ করে শ্রেণি এবং সামাজিক গোষ্ঠীগুলির উপর প্রভুত্ব জাহির করার জন্য। এই ক্ষেত্রে দেখা যায়, বস্তুগত, আদর্শগত এবং সামাজিক আধিপত্যের কারণে পুঁজিবাদী সঞ্চয়নের উপরের দিকে নির্দিষ্ট জাতি এবং অন্যান্য সামাজিক গোষ্ঠীর উপস্থিতি ঘটেছে। এই প্রক্রিয়াটি মার্কস তার জাতিতাত্ত্বিক নোটবুকে বর্ণনা করেছেন (ক্রেডার ১৯৭৪, পৃ,৫৪)। এখানে তিনি দেখান যে অতীতের প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের বস্তুভিত্তিক অবস্থানকে ছোট করে এবং বর্তমানের সঙ্গে সংযুক্ত এবং পুনর্বিন্যাস করা হয়। মরগ্যানের সমালোচনা করে, মার্কস আলোচনা শুরু করেন – ‘ক্ল্যাসিকাল প্রাচীনকালের পরিবার হল সমাজের ক্ষুদ্র সংস্করণ, কিন্তু পরিবারের বাইরের সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর তা একগামীর মতো করে স্থিত থাকে। সেজন্যই 'পরিবারের মধ্যে চলা বৈরিতা' পরিবারের বাইরের বা সমাজের মধ্যেকার শক্তি দ্বারা উৎপন্ন হয় (ক্রেডার ১৯৭৪, পৃ ১৮)। শ্রেণি-দ্বন্দ্বের ঐতিহাসিক বিকাশের সঙ্গে উত্থান এবং বিকাশের সঙ্গে পিতৃতন্ত্রকেও একটি বৈরিতা হিসাবে চিহ্নিত করা দরকার (ফেডেরিচি ২০০৪)। মার্কস নিজেও এই ধারণাটির বিস্তার ঘটিয়েছেন, যেখানে তিনি সম্পত্তির মালিকানাকে পরিবারের মধ্যে 'সুপ্ত দাসত্ব'-এর জন্ম হিসাবে চিহ্নিত করেছেন (মার্কস ১৮৪৫)। সেই অর্থে দেখলে, সমাজতান্ত্রিক এবং মার্কসবাদী নারীবাদীদের দ্বারা পিতৃতন্ত্রকে ইতিহাসে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ব্যাখ্যা করার পথে কেন্দ্রীয় বিষয় হয়েছে শ্রেণির প্রশ্ন (যা মালিকানার সঙ্গে যুক্ত)। নারীমুক্তির জন্য কমিউনিস্ট মতাদর্শ গ্রহণকারী, এবং অন্যান্য 'নারীবাদীদের' মধ্যে পার্থক্য এখানেই।
প্রথম প্রকাশ: Marxist, XXXVI, 1, January-March 2020
ভাষান্তর - উর্বা চৌধুরী
প্রকাশের তারিখ: ০৬-মার্চ-২০২৩
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
লিঙ্গ রাজনীতি বিভাগে প্রকাশিত ৩৮ টি নিবন্ধ
১৮-এপ্রিল-২০২৬
০৯-মার্চ-২০২৬
১১-নভেম্বর-২০২৫
২২-সেপ্টেম্বর-২০২৫
০৬-আগস্ট-২০২৫
৩০-মে-২০২৫
২৯-মে-২০২৫
২৮-মে-২০২৫
৩১-মার্চ-২০২৫
২৮-মার্চ-২০২৫
