Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

পৃথিবী যখন নতুন তারার খোঁজে, বাংলা কেন তিমিরবিলাসী হবে?

সাত্যকি রায়
দুনিয়া যখন নতুন তারার খোঁজে, বাংলা যেন তিমিরবিলাসী না হয়। পরিবর্তনের অভিনয় নয়, ছদ্ম বিরোধিতা নয়, ধর্মের নামে শ্রমজীবীদের বিভক্ত করার অভিসন্ধি নয়, ভোটকে কার্যকরী করার নামে বামপন্থীদের নিকেশ করার ষড়যন্ত্রে শামিল হওয়া নয়— বাংলা যেন পৃথিবীর উদীয়মান অভিমুখকে চিনতে পারে। ভবিষ্যৎ শ্রমজীবীদের— ভবিষ্যৎ বামপন্থার।
When the world is searching for new stars why should Bengal remain enamoured with darkness

পৃথিবীর কোনও এক কোনায় একটি রাজ্য পশ্চিমবাংলা। তার মধ্যে একটি ছোট্ট শহর কলকাতা। এই আয়তনের কয়েক হাজার শহর এ পৃথিবীতে রয়েছে। কিন্তু এই শহর পৃথিবীর রাজনীতির গতিপথের অভিমুখ চিনতে পেরেছে বারবার। এই বাংলার রাজনীতি কোনদিনই শুধু মাত্র ট্রানজাকশনাল বা দেনা পাওনার উপরে নির্ভরশীল ছিল না। তাই ম্যাকনামারাকে ফিরিয়ে দেওয়ার সাহস দেখাতে পেরেছিলো নিম্নবিত্তদের এই শহর। অন্যদিকে ফিদেল কাস্ত্রো থেকে হো চি মিন, ইয়াসের আরাফাত  থেকে নেলসন ম্যান্ডেলা, উগো সাভেজ থেকে পেলে, মারাডোনা অথবা মেসি এই শহর এই বাংলার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছে। এই ভুবণযোগ আমাদের মজ্জাগত। রাজ্যের মানুষ সময়ের অভিমুখকে দূরে সরিয়ে রেখে তার আগামী ভবিষ্যৎ রচনা করবে বলে মনে হয় না।

এটা ঠিক যে ১৯৭০-এর দশকের শেষ থেকে পৃথিবীতে যে দক্ষিণপন্থী ঝোঁক দেখা দিয়েছে সেখানে ক্ষমতাবানরাই প্রধান। তাদের আধিপত্যকে স্বাভাবিকীকরণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রের হাত গুটিয়ে ব্যক্তি মানুষের প্রত্যেকের ভবিষ্যতের দায় অর্পণ করা হয়েছে তার ব্যক্তিগত যোগ্যতা অযোগ্যতার উপরে। অথচ যোগ্যতা অর্জনের রসদ বন্টনে চরম বৈষম্য আজ প্রকট। কৃষকেরা আত্মহত্যা করে, শ্রমিক কারখানার মধ্যে পুড়ে মরে যায়, মধ্যবিত্ত মানসম্মান আত্মমর্যাদা রক্ষার প্রবল টানাটানিতে জর্জরিত। এই পরিপ্রেক্ষিতেই হতোদ্যম জনতা শক্তির উপাসক হয়ে ওঠে। 

পাড়ার গুণ্ডা থেকে রাজ্যের সর্বময় নেত্রী, দেশে ছাপ্পান্ন ইঞ্চি অথবা পৃথিবীর ট্রাম্প পরাজিত জনতার শেষ ভরসা হিসেবে উপস্থিত হয়। নিজেদের সংগঠিত সত্তা যত দুর্বল হতে থাকে সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে নিজের জয়ের কথা ভাবতে ভুলে যায়। বরং আনন্দ পায় অন্যের পরাজয়ে। আম্বানি, আদানি, টাটা, বিড়লা তো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাই চারপাশের সমগোত্রীয় হেরে যাওয়া মানুষের মধ্যেই শত্রু খুঁজে আস্ফালনের আনন্দে সুখী হতে চায় মানুষ। এটাই ফ্যাসিবাদের মনস্তত্ব। শোষণের যাঁতাকলে পরাস্ত মানুষ আরও গভীর পরাজয়ের মধ্যে যেন জয়ের মরীচিকা দেখতে পায়। ধীরে ধীরে সে মনে করতে শেখে আরও উন্নত জীবনের অধিকার অথবা সম্বল কোনওটাই আমার আয়ত্তের মধ্যে নেই, তাই যা আছে তাকে বাঁচিয়ে রাখাটাই বড় জয়। সীমিত পরিসরের আকাঙ্খাকে রাজনীতির ক্ষেত্রে রূপ দেওয়ার সহজ রাস্তাটা হচ্ছে মানুষের মধ্যে এমন পছন্দগুলি জনপ্রিয় করে তোলা, যাতে অতিক্রান্তির সম্ভাবনাকে অবাস্তব বলে মনে হয়। গরিব নিম্নবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার হরণের অর্থনীতি হলো নয়া উদারবাদ। আর শ্বাসরুদ্ধ মানুষের ঐক্যবদ্ধ চেতনাকে খণ্ড-বিখণ্ড করে দেওয়ার রাজনীতির নাম ফ্যাসিবাদ। খণ্ডিত চেতনায় স্বপ্নগুলোও ছোট হয়ে আসে। 

রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আসলে বিভিন্ন মানুষের পাওয়া না পাওয়ার শক্তিগুলির সংঘাত। ইতিহাস এগোয় অবদমিতের ইচ্ছাকে ভাষা দিয়ে। তাই গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সংঘাত মানুষের সামগ্রিক অগ্রগতিকে জায়গা করে দেয়। এরাজ্যে অতীতের রাজনৈতিক পালাবদল এই উন্নয়নের চিহ্ন রেখেছে। কংগ্রেস আমলের কল্যাণী, বেলানগর বিধাননগর ছাপিয়ে বাম আমলে রাজারহাট নিউটাউন, অথবা দুর্গাপুর, চিত্তরঞ্জন পেরিয়ে হলদিয়া, বক্রেশ্বর, মেজিয়া, সেক্টর ফাইভ এই প্রতিযোগিতার ফসল। ভূমিহীনরা জমির অধিকার পেয়েছে, প্রতিনিধিত্বের অধিকার পেয়েছে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে, শ্রমজীবীরা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই এগিয়ে নিয়ে গেছে তাদের যে কোনও পছন্দের ঝাণ্ডাকে কাঁধে নিয়ে। 

এই বাংলায় আজকের লড়াই দেড় হাজার বনাম তিনহাজারে আটকে রয়েছে। প্রতিযোগিতা হচ্ছে জগন্নাথ মন্দির বনাম বাবরি মসজিদ অথবা দুর্গা মন্দির না মহাকাল। মাছ মাংস খাওয়ার অধিকার থাকবে তো? এই ভেবেই বাঙালী স্বস্তির নিঃশাস নিচ্ছে। আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত একটি রাজনৈতিক দল যারা সরকারি পয়সায় মন্দির তৈরি করে তারা ধর্মনিরপেক্ষতার চাদর গায়ে দিয়ে ভোট প্রার্থী। আদবাণী, রাজনাথ সিংরা এদেরকেই ইজারা দিয়েছিল বামেদের উৎখাত করতে। বামপন্থী সরকার সম্পর্কে মানুষের ক্ষোভ সমালোচনাকে ব্যবহার করে দক্ষিণপন্থার উত্থান ঘটানোর মাধ্যম হয়েছিল আরএসএসের মা দুর্গা। এবার হিসাব চোকানোর পালা—পরিবর্তনের আকাঙ্খাকে সর্বতোভাবে কাজে লাগাতে হবে। তার জন্য বহু মানুষকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অংশ গ্রহণের অধিকার থেকেই বঞ্চিত করতে হবে। বাদ পড়েছে বহু মুসলমান, দলিত, মহিলা সহনাগরিকের নাম যারা হিন্দুত্বের প্রকল্পে প্রান্তিক থেকে অদৃশ্যে রূপান্তরিত হয়েছে। যেভাবেই হোক বাংলা এবার চাই! মতাদর্শহীন জনবাদ দিয়ে বামপন্থীদের দুর্বল করার কাজ অনেকটা হয়েছে। বাংলায় গড়ে উঠেছে অজস্র আরএসএস-এর শাখা। রামনবমী, হনুমান মন্দিরকে আলিঙ্গন করেছে বহু বাঙালি। এবার সরাসরি গেরুয়ারাজ প্রতিষ্ঠার লড়াই। নোটে গাছটি মুড়োলো। অগ্নিকন্যার জ্বালানির যোগান বন্ধ করার সময় এসেছে— দৈত্য যেন আলাদিনেরই গলা টিপে ধরতে চাইছে!

মুশকিল হল উগ্র দক্ষিণপন্থী পরিবর্তনের এই পছন্দটি বাংলায় এসেছে অস্তগামী দক্ষিণপন্থার গোধূলিতে। পৃথিবীর অভিমুখ বদলাচ্ছে। শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবীদের কর্মহীনতার হতাশায় আশার সঞ্চার করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ট্রাম্প এখন গোটা আমেরিকায় প্রশ্নের সম্মুখীন। আধিপত্যের দামামা বাজিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসেবে ডলারের কর্তৃত্ব বজায় রাখার শেষ চেষ্টা করে চলেছেন তিনি। দেশের ব্যাপক পরিমাণ বাণিজ্য ঘাটতি এতদিন পর্যন্ত অন্য দেশের পুঁজি ও মুনাফা চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে মেটানোর যে বাস্তবতা ছিল, তা ক্রমাগত সংকটের সম্মুখীন। চড়া শুল্কের হুমকি দিয়ে রপ্তানিকারক দেশগুলোর উপরে দাদাগিরি-কর বসানোর চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ তেলের উপরে কর্তৃত্ব স্থাপন করে ডলারের প্রয়োজনীয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে জাগ্রত রাখার মরিয়া প্রচেষ্টা ইরানে এসে ধাক্কা খেয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রশ্নের সম্মুখীন। অন্যদিকে প্রযুক্তিতে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে চলেছে চীন। লাতিন আমেরিকার বেশ কিছু দেশ মার্কিন নির্ভর সুইফট সিস্টেমের পুঁজি লেনদেন ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে। ব্রিকস-এর পরিসর বাড়ছে। পেট্রো ডলার চুক্তির অবসান ঘটতে চলেছে। পৃথিবীর অর্থনীতির ভরকেন্দ্র ধীরে ধীরে গ্লোবাল সাউথ-এ সরে আসছে। মার্কিন সাম্রাজ্যের সূর্য অস্তগামী। প্যালেস্তাইন ও গাজায় নৃশংস হত্যাকারী জায়নবাদী ইজরায়েলি সরকার ইরান যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যথাযথ শাস্তি পেয়েছে। খোদ নিউইয়র্কে মামদানির জয় অথবা প্যারিসের রাস্তায় বামপন্থীদের উত্থান, গোটা ইউরোপ আমেরিকায় মানুষের বিপুল যুদ্ধ-বিরোধী প্রতিবাদ দুনিয়ার নতুন অভিমুখের সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মার্কিন দাদার কোলে বসে অথবা জঘন্য হত্যাকারী নেতানিয়াহুর কথায় নেচে আমাদের দেশের যারা বিশ্বগুরু হওয়ার স্বপ্ন দেখছিল, তারাও গভীর প্রশ্নের সম্মুখীন। রামমন্দির, পুলওয়ামা, পহেলগাঁও, পাকিস্তান, রোহিঙ্গা এইসব বলে চিৎকার করে সমর্থন আদায় করার দিন ফুরিয়ে এসেছে। বেকারি বাড়ছে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, কাজে নিযুক্ত মানুষের অনিশ্চয়তা বাড়ছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য গরিব মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। গত আর্থিক বছরে বিগত পনেরো বছরের সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে এদেশের কর্পোরেট সংস্থাগুলি। আর অন্যদিকে শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি গত দেড় দশক ধরে কার্যত অপরিবর্তিত থেকেছে। কৃষকের ফসলের মূল্য সুনিশ্চিত হয়নি। বরং ভারতীয় কৃষির বাজার মার্কিন পুঁজির কাছে উন্মুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছে এদেশের সরকার। 

একশো চল্লিশ কোটি মানুষের দেশ ও পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেআইনি দাদাগিরি এমনকি সার্বভৌম দেশের নেতাকে হত্যা করার প্রতিবাদ পর্যন্ত করার ক্ষমতা হারিয়েছে এদেশের তথাকথিত শক্তিশালী শাসক। ৩৭০ ধারা বিলোপ করে কাশ্মীরে সোনা ঝরা দিন আসেনি, মণিপুর আজও জলছে, লাদাখে চলছে প্রতিবাদ। স্রেফ সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জেলবন্দি হয়ে রয়েছে বছরের পর বছর। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাঙ্গনগুলিতে জ্ঞানচর্চা জলাঞ্জলি দিয়ে আরএসএস-এর ভক্তদের কর্তৃত্ব স্থাপন করা হচ্ছে। বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, আমলাতন্ত্র, প্রচারমাধ্যম শ্বাসরুদ্ধ। বিরোধীশূন্য ভারত গড়ার কাজে এরা সবাই নিয়োজিত। সর্বশেষ হাতিয়ার এসআইআর— ভোটদাতাদের বিশেষত সংখ্যালঘু মানুষদের নাগরিকত্বের অধিকার কেড়ে নেওয়ার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। জনপ্রিয়তা কমছে মোদীর, ক্ষমতায় টিকে থাকতে লোকসভায় উত্তর ভারতের আসন বাড়ানোর নানাবিধ চক্রান্ত চলছে। মহিলা অধিকারের নাম করে ডিলিমিটেশনের চক্রান্ত কার্যকরী করার ষড়যন্ত্র পরাস্ত করেছে বিরোধীরা। ভারতীয় জনতা পার্টির প্রস্তাবিত বিল সংসদে ধরাশায়ী হয়েছে।

এর সাথে খেয়াল করে দেখতে হবে পৃথিবীজুড়ে চলেছে নতুন প্রযুক্তির প্রবাহ। এআই, মেশিন লার্নিং, আইওটি এই সব কিছুর প্রভাব পড়তে চলেছে আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। পুঁজিবাদের অধীন প্রযুক্তি মানুষের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। মনে করা হচ্ছে মধ্যস্তরের অধিকাংশ কাজ আগামী দশকের মধ্যেই অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে। ডেলয়েট, মাইক্রোসফটে হাজার হাজার মানুষ ছাঁটাই হচ্ছে— আর তার চাইতে কয়েকগুণ মানুষের জন্য কাজের সম্ভাবনা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে সমাজের একটি অংশের মানুষের দক্ষতার বিশেষ চাহিদা বাড়তে চলেছে। কিন্তু এই দক্ষতা কৃষিকাজের মত বংশানুক্রমিকভাবে বিনা পয়সায় অর্জিত হয় না— নলেজ ইকোনমির জন্য উপযুক্ত দক্ষতা  প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। নয়া উদারবাদের যুগে এই প্রশিক্ষণ বাজার থেকে কিনতে হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনার শিক্ষা ক্রমাগত শুকিয়ে মারা হচ্ছে। সমাজের উচ্চবিত্ত সচ্ছল পরিবারের ছেলেমেয়েরা বাজার থেকে এই প্রশিক্ষণ কিনতে পারবে। বাকি অধিকাংশই পড়তে চলেছে পরাজিতদের দলে যাদের কাছে কোনমতে বেঁচে থাকাই একমাত্র স্বস্তি হতে চলেছে। 

এই আক্রমণ প্রযুক্তির নয়, পুঁজিবাদের। প্রযুক্তির কাজ মানুষের সরাসরি শ্রমকে কমিয়ে আনা— তাতে মানুষের কাজ চলে যায় না, নিযুক্ত মানুষের কাজের সময় কমে আসতে পারে— সেটাই সভ্যতার লক্ষণ। মানুষের হাতে নিজের পছন্দের সময় বৃদ্ধি পায়। বাঁচার জন্য কাজ করার প্রয়োজনীয় সময় কমে আসে। কিন্তু পুঁজিবাদে মুনাফার স্বার্থে পরিণাম হয় উল্টো। অল্প কিছু মানুষ আগের চেয়েও বেশি ঘণ্টা দিনে পরিশ্রম করবে। আর অজস্র মানুষ কাজ হারাবে। আমেরিকা থেকে শুরু করে ইউরোপ এমনকি উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও শ্রমজীবীদের উপর আক্রমণ প্রকট আকার ধারণ করছে। উগ্র জাত্যাভিমান জিগির তুলে সংকটের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার শাসকের রাস্তা ক্রমাগত সীমিত হয়ে আসছে। শ্রমজীবীদের একমাত্র আশার আলো হতে চলেছে বামপন্থা। পৃথিবীজুড়ে সেই ছবি ক্রমাগত পরিষ্কার হচ্ছে।

দুনিয়া যখন নতুন তারার খোঁজে, বাংলা যেন তিমির বিলাসী না হয়। পরিবর্তনের অভিনয় নয়, ছদ্ম বিরোধিতা নয়, ধর্মের নামে শ্রমজীবীদের বিভক্ত করার অভিসন্ধি নয়, ভোটকে কার্যকরী করার নামে বামপন্থীদের নিকেশ করার ষড়যন্ত্রে শামিল হওয়া নয়— বাংলা যেন পৃথিবীর উদীয়মান অভিমুখকে চিনতে পারে। ভবিষ্যৎ শ্রমজীবীদের— ভবিষ্যৎ বামপন্থার। 


প্রকাশের তারিখ: ২৬-এপ্রিল-২০২৬
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নির্বাচন ২০২৬ বিভাগে প্রকাশিত ৯০ টি নিবন্ধ
২৬-এপ্রিল-২০২৬

২১-এপ্রিল-২০২৬

২০-এপ্রিল-২০২৬

১৯-এপ্রিল-২০২৬

১৮-এপ্রিল-২০২৬

১৭-এপ্রিল-২০২৬

১৬-এপ্রিল-২০২৬

১৪-এপ্রিল-২০২৬

১৩-এপ্রিল-২০২৬

১২-এপ্রিল-২০২৬