সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নিবন্ধের খোঁজ
এখানে আপনি লেখক, নিবন্ধের বিষয়, তথ্য, প্রকাশের তারিখ দিয়ে বিভিন্নভাবে খুঁজতে পারেন, বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই খোঁজা যাবে।
রতন খাসনবিশ
নিয়োগের স্থিতিস্থাপকতা মাপা হয়েছে উৎপাদনের সঙ্গে তার সম্পর্ক বিচার করে। অর্থাৎ নিয়োগ বৃদ্ধি বা হ্রাসের শতকরা হার/উৎপাদন বৃদ্ধির শতকরা হার। বাড়তি উৎপাদনের জন্য সাধারণভাবে প্রয়োজন হয় বাড়তি নিয়োগের। তথ্য অনুসারে, এ-রাজ্যের পরিস্থিতি ভিন্নতর। উৎপাদন বাড়লে কৃষি ও শিল্প উভয়ক্ষেত্রেই নিয়োগ কমছে। এর অর্থ হল, যে-পরিমাণে প্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে নিয়োগ সেই পরিমাণে বাড়ছে না কিংবা পিছিয়ে পড়ছে। এই প্রবণতা শুধু বড়ো উদ্যোক্ষেত্রগুলিতেই দেখা দিয়েছে এমন নয়, কৃষির মতো শ্রমঘন উৎপাদন ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। প্রযুক্তির বিকাশ এ-ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে সেটা আমরা জানি। কিন্তু প্রযুক্তির বিকাশ একই সঙ্গে নতুন নতু্ন কাজের সম্ভাবনাও বাড়ায়। পশ্চিমবঙ্গে এই জিনিসটা ঘটছে না। নতুন নতুন নিয়োগ ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না। এর অবশ্যম্ভাবী ফল কর্মহানি। এ-রাজ্যে সেটাই ঘটছে। প্রযুক্তিনির্ভর উৎকৃষ্ট কাজের বিকাশ নেই। পড়ে রয়েছে কিছু অপকৃষ্ট কাজ। যারা একটু স্বাচ্ছন্দ্যের খোঁজ করেন তাঁদেরকে এই রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র জীবিকার সন্ধান করতে হচ্ছে। এই সমস্যা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের কাঠামোগত সমস্যা। এ-সমস্যা মোকাবিলার কোনো দিশা দেখা যাচ্ছে না রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। ...more
২১-মার্চ-২০২৬
রতন খাসনবিশ
তেলেঙ্গানার মাথাপিছু আয় পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় বছরে প্রায় আড়াই গুণ বেশি। কর্ণাটক, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু— এই তিন রাজ্যে মাথাপিছু বার্ষিক আয় পশ্চিমবঙ্গের দ্বিগুণেরও বেশি। কেরল, মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড এবং অন্ধ্রপ্রদেশ হল সেইরকম রাজ্য যেখানে মাথাপিছু বার্ষিক আয় পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় দেড় গুণেরও বেশি। যে-রাজ্যের উন্নয়নের পাঁচালি নিয়ে তৃণমূলের অর্থী, প্রার্থীরা নৃত্য শুরু করে দিয়েছেন, সেই রাজ্যটির মাথাপিছু আয়ের নিরিখে এটাই শুধু বলার আছে যে, এখানকার গড়পড়তা মানুষ ছত্তিশগড় বা মধ্যপ্রদেশের চেয়ে বেশি আয় করেন। উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের তুলনায় বঙ্গবাসী বেশি খরচ করার সামর্থ্য রাখেন— এই দাবি নিয়ে যথেষ্ট গৌরব করার কারণ নেই। মেনে নেওয়া ভালো যে মমতার পশ্চিমবঙ্গ একটি গরিব রাজ্য। সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রী এটি সবচেয়ে ভালো জানেন। জানেন বলেই এ-রাজ্যে তিনি রাজকোষ থেকে জনগণকে অর্থ সাহায্য করার নানাবিধ প্রকরণ উদ্ভাবনের চেষ্টা করেন। এ-কথাগুলি কিছুটা তিক্ত কথা। কিন্তু উন্নয়নের পাঁচালি শোনার আগে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে এই তথ্যটিও হৃদয়ঙ্গম করতে হবে। ...more
২০-মার্চ-২০২৬
রতন খাসনবিশ
কোষাগারের অবস্থা কতটা বেসামাল সেটা অনুমান করার মতো তথ্য নেই। কিন্তু এটা বোঝা যাচ্ছে যে, সরকার প্রাণপণে চেষ্টা করছেন সরকারি কর্মচারি বাবদ খরচ কমিয়ে আনতে। সেটা ডিএ আটকে রেখে, পেনশনে জটিলতা এনে এবং নতুন নিয়োগে নানা ভাবে বাধা সৃষ্টি করে, নানা ভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফল দাঁড়িয়েছে এই, যখন আমরা এগিয়ে বাংলার কথা বলছি, তখন রাজ্যের মাথাপিছু জিডিপির হার দাঁড়িয়েছে ওড়িশার নিচে, শিল্পে বৃদ্ধির হার সর্বভারতীয় গড়ের চেয়ে কম এবং কিছু পরিষেবা বৃদ্ধির হার সর্বভারতীয় গড়ের চেয়ে কম। সরকারি প্রকল্পগুলি চলে মন্থর গতিতে।
...more১৭-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
রতন খাসনবিশ
সুইজির পক্ষে জোশেফ শ্যুমপিটার-সহ একদল বুদ্ধিজীবী হার্ভার্ডের ডিন-এর কাছে আবেদন করেন সুইজিকে হার্ভার্ডে ফিরিয়ে আনার জন্য। মার্কিন রাষ্ট্র একেবারেই সেটা চায়নি। সুইজি আর চাকরি করলেন না। বদলে তিনি শুরু করলেন মান্থলি রিভিউ পত্রিকা। সঙ্গে রাখলেন মার্কসীয় বিদ্যাচর্চা। যার দরুন আমরা পেলাম একচেটিয়া পুঁজির ওপর পল ব্যারনের সঙ্গে তাঁর বিস্তৃত গবেষণা। পেলাম হ্যারি ম্যাগডফের সঙ্গে তাঁর কালোত্তীর্ণ গবেষণা, যে গবেষণার কেন্দ্রে আছে স্ট্যাগনেশন বা মন্দা সংক্রান্ত তাঁর মৌলিক চিন্তা, ফিনান্স ক্যাপিটালের যুগে যেটি নতুনতর সমস্যার জন্ম দিয়েছে পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে। এই পল সুইজির কাছ থেকে আমরা পেলাম মার্কিন যুদ্ধবাজদের কোরিয়া যুদ্ধ ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ। পেলাম কিউবার বিপ্লবের মার্কসবাদী বিশ্লেষণ, পেলাম আলন্দেকে করা তাঁর হুঁশিয়ারি যে, সশস্ত্র বিপ্লব ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকায় সশস্ত্র প্রতিবিপ্লবকে রোধ করা যাবে না। সোভিয়েতের পতনে সুইজি বিব্রত বোধ করেননি। নিজের মতাদর্শে স্থির থেকে তিনি লিখেছিলেন সেই বিখ্যাত কথাগুলি, পুঁজিবাদের ব্যর্থতার ইতিহাস সমাজতন্ত্রের ব্যর্থতার ইতিহাসের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। আজ পল সুইজির ১১৬তম জন্মদিন।
...more১০-এপ্রিল-২০২৫
রতন খাসনবিশ
আমাদের অনুমান, ভারতবর্ষে যেটিকে সনাতন ধর্ম বলা হয় সেটি বহু ঈশ্বরবাদী আর সেকারণেই বহুত্ববাদী। আদি ধর্মটির এই বহুত্ববাদী প্রবণতাটিতেই দেশটি বহুত্ববাদী হয়ে ওঠার প্রেরণা লাভ করে। ইসলাম সহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষেরা যারা এদেশে বসবাস করতে এসেছেন, এই দেশটি সব মানুষকেই বহুত্ববাদকে স্বীকার করে নেওয়ার বাস্তবতার সম্মুখীন করেছে। এখান থেকেই গড়ে উঠেছে ভারতীয়ত্ব বোধ। ভারতবর্ষে যে একটা ভারতীয়ত্বের সত্তা আছে, এই কথা এখন দৃঢ়ভাবে উচ্চারণ করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ...more
১৯-মার্চ-২০২৫
রতন খাসনবিশ
নারীর মধ্যে কিছু স্বাভাবিক গুণাবলি আছে। এগুলি তাদের পুরুষের থেকে আলাদা করে। সেগুলির কারণে সমাজে পুরুষ শাসন হয়ত অনিবার্য হিসাবে দেখা দিতেও পারে। কিন্তু রুশ সোশাল ডেমোক্র্যাটদের অভিন্ন অবস্থান ছিল এটাই যে, মেয়েদের অধীনতার পিছনে একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক উপাদানের অস্তিত্ব থাকে। সোশাল ডেমোক্রেসির প্রাথমিক কর্তব্য হল এই উপাদানগুলির অবসান ঘটিয়ে নারী এবং পুরুষের একটি সমান অধিকারের সমাজ তৈরি করা। ...more
০৯-নভেম্বর-২০২৪
রতন খাসনবিশ
মমতার পক্ষে এটি সম্ভব নয়। কারণ সব সন্দীপ ঘোষকেই প্রশ্রয় দিয়ে রাজ্যে এক বীভৎস প্রশাসন গড়ে তুলেছেন তিনি নিজে। এই প্রশাসন প্রতি পদে মানুষকে দংশন করছে, বিষের জ্বালায় জর্জরিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই মানুষ মমতার পদযাত্রায় আর মুগ্ধ হচ্ছেন না। অ-রাজনৈতিক সমঝোতাকারী নামিয়েও এই জনতরঙ্গ রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। যে দহনে আক্রান্ত পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, সে দহনে বড় বিষ, সে দহনে বড় জ্বালা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ চাইছেন এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি লাভ করতে। ...more
০৫-সেপ্টেম্বর-২০২৪
রতন খাসনবিশ
যেভাবে মোদীর পিছনে ধাওয়া করতে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী ক্রমশ ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, যেভাবে ধান্দাবাজ স্থানীয় নেতারা হিন্দুত্বের একটি দিদি-উদ্ভাবিত ভাষ্য দিয়ে মোদী বিরোধিতার অক্ষম চেষ্টা করছেন, তাতে মনে হয় এই রাজনীতির দিন ফুরিয়ে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গে আসছে এক পালটা রাজনীতির ঢেউ, বামপন্থীদের অ্যাজেন্ডা যেখানে প্রবলভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে। সারা ভারতের রাজনীতিও একটি পরিবর্তনের সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে। ...more
৩১-মে-২০২৪
রতন খাসনবিশ
দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে ওঠা লালঝাণ্ডার মিছিল আসলে এই ন্যারেটিভ বা ভাষ্যকেই ভাঙতে চায়। এই ন্যারেটিভ-কে না ভাঙলে পশ্চিমবঙ্গে যে কোনও সুস্থ রাজনীতি করা যাবে না, এটা বোঝা দরকার। এই ন্যারেটিভ ভাঙার জন্য মোদী-মমতার দ্বিমেরু রাজনীতি বর্জন করার স্পর্ধা দেখানোর দরকার ছিল। দীর্ঘতর হয়ে ওঠা লালঝাণ্ডার মিছিল ইঙ্গিত রাখছে, বাংলার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এই ন্যারেটিভ থেকে মুক্তি চান। পঞ্চায়েত, পৌরসভার ভোট থেকেই বোঝা যাচ্ছিল বিকল্প ন্যারেটিভের চিন্তা শ্রমজীবী মানুষের মনে ক্রমশ তার জায়গা করে নিচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ঘটে যাওয়া পাঁচ দফা নির্বাচনে যেভাবে মানুষ ভোটযন্ত্রের ওপর লুম্পেনের অধিকার আটকে দিতে সক্ষম হয়েছেন, তাতে বোঝা যায় দ্বিমেরু রাজনীতির ন্যারেটিভ এরাজ্যে ক্রমশ তার গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। রাজনীতির রঙ্গমঞ্চ তার প্রকৃত নায়ক-নায়িকার উপস্থিতির জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। ...more
২৩-মে-২০২৪
রতন খাসনবিশ
নির্বাচনের পথে দেশ। কেমন আছেন দেশের মেহনতি মানুষ? এবারে মে দিনে তাঁদের চ্যালেঞ্জ, তাঁদের দায়িত্ব, শপথ নিয়ে আলোচনা করেছেন অর্থনীতিবিদ রতন খাসনবিশ। ...more
০১-মে-২০২৪
রতন খাসনবিশ
রুশ নিহিলিস্ট, ক্রপটকিন, এমনকী প্লেখানভও মুঝিক চাষির না-বলা কথার মধ্যে সমাজ পরিবর্তনের যে-ভাষা লুকিয়েছিল, তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারেননি। লেনিন জানতেন ওই ভাষাটি কী। লেনিন জানতেন পেট্রোগ্রাড গ্যারিসনে যে-সেনা সদস্যরা সম্রাটের নামে জয়ধ্বনি তুলতেন তাদের ভেতরেই লুকিয়ে আছে সেই মুঝিক চাষিটি। লেনিনের বিদ্যাচর্চা তাঁকে শিখিয়েছিল কীভাবে ওই পেট্রোগ্রাড গ্যারিসনে রুশ মুঝিককে খুঁজে পেতে হয়। বেলচাধারী শ্রমিককে কীভাবে রেডগার্ডে রূপান্তরিত করতে হয়। লেনিনের বিদ্যাচর্চা তার উপায় অনুসন্ধানের পথও দেখিয়েছিল।
...more২২-এপ্রিল-২০২৪
রতন খাসনবিশ
রাজনীতিকে ধর্মের বন্ধন থেকে মুক্ত করতে হবে, অর্থনীতিকে মুক্ত করতে হবে নয়া উদারবাদী বন্ধন থেকে। এবিষয়ে স্পষ্ট দিশা দেখাবার ক্ষমতা যাদের আছে তারা হলেন ভারতের বামপন্থী চিন্তাধারার রাজনীতিবিদরা। রাজনৈতিক দিশা গঠনে তাঁদের অসীম ক্ষমতা রয়েছে। ভারতীয় বাস্তবতার এই দিকটি উপলব্ধিতে আনতে হবে যে, বামপন্থাকে বর্জন করে এই সঙ্কটজর্জর ভারতবর্ষকে একটি সঠিক দিশায় পুনর্গঠিত করা একেবারেই অসম্ভব। যাঁরা বলেন ভারতবর্ষে বামপন্থার কোনও ভবিষ্যৎ নেই তাঁদের বুঝতে হবে যে, বামপন্থাহীন ভারতবর্ষেরও কোনও ভবিষ্যৎ নেই। ...more
১৪-এপ্রিল-২০২৪
রতন খাসনবিশ
তৃণমূল কংগ্রেস যত বেশি করে কংগ্রেসের মতাদর্শগত পরিমণ্ডল থেকে নিজেকে আলাদা করার চেষ্টা করেছে, তত বেশি করে তা আরএসএস-নির্মিত বিকল্প যে প্রভাববলয় এদেশে বিদ্যমান ছিল, দলটি সচেতন বা অবচেতনভাবে তারই শিকার হয়েছে। মতাদর্শগত অবস্থানে দুই দলের এই যে অভিন্নতা এতে বোঝা যায়, মতাদর্শগত বিষয়গুলি যখন আলোচনায় আসে এবং সেই প্রসঙ্গে একটি পরিষ্কার অবস্থান নিতে হয়, সেক্ষেত্রে আজ পর্যন্ত কোনও মৌলিক বিষয়ে বিজেপি বিরোধিতার কোনও ইতিহাস নেই পশ্চিমবঙ্গের এই ‘সর্বভারতীয়’ তৃণমূল কংগ্রেসের। ...more
২৮-মার্চ-২০২৪
রতন খাসনবিশ
ইন্ডিয়া টুডে-র ‘মুড অফ দ্য নেশন’ সমীক্ষায় বর্তমান সমাজ নিয়ে উদ্বেগ যাদের উত্তরে ধরা পড়েছে, হেজিমনি গড়ার লড়াইয়ে তাঁরা কতটা এগিয়ে আসবেন সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পাটনার গান্ধী ময়দান ছাপিয়ে যাওয়া মানুষের ভিড় আর লোহিয়ার উত্তরপুরুষ অখিলেশ যাদবের আঞ্চলিক সভাগুলিতে বিপুল জনসমাবেশ প্রমাণ করছে পালটা হেজিমনি গড়ার যুদ্ধ উত্তর ভারতে ভালরকমই জারি আছে। ২০১৫ সালে এনডিএ-কে বিহার নির্বাচনে হারিয়েছিল এই পালটা কোয়ালিশন। কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানার নির্বাচনেও এনডিএ বুঝতে বাধ্য হয়েছে, আরেকটা হেজিমনি তৈরির লড়াইও ভারতে জারি আছে।
...more১০-মার্চ-২০২৪
রতন খাসনবিশ
যাঁরা ভেবেছিলেন ৪৫ টাকা লিটারে জ্বালানি তেল পাওয়া যাবে, ডলার ৪০ টাকায় নামবে, প্রতিটি ভারতবাসী ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ করে টাকা পাবেন, যারা ভেবেছিলেন বাড়ির জোয়ান ছেলে সেনাবাহিনীতে চাকরি পাবে, যারা ভেবেছিলেন আরও বড়ো বড়ো কারখানা গড়ে মোদী প্রতি ঘরে বেকার যুবক যুবতীদের চাকরি দেবেন, যারা ভেবেছিলেন দিনের শেষে নিরাপত্তা দেবে মোদীর রাষ্ট্র যাতে তাঁরা সন্ধেবেলায় নির্বিঘ্নে তুলসীদাসী রামায়ণ পড়ে সময় কাটাতে পারেন, উত্তর ভারতের সেই অগণিত সাধারণ মানুষ মোদীর বিজেপির সরকার কর্তৃক প্রতারিত হয়েছেন। হরিয়ানার শম্ভূ সীমানায় এই মানুষদেরই কাতার ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। রাম লালা কোনও ভাবেই মানুষের এই দীর্ঘ ব্যারিকেড অতিক্রম করতে পারছে না।
...more২৫-ফেব্রুয়ারি-২০২৪
রতন খাসনবিশ
বাম আমলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ মারফৎ রাষ্ট্রকে যে অন্য ভাষায় কথা বলতে শেখানো হয়েছিল, ২০১১র প্রতিবিপ্লব সেটিকে সর্বপ্রথম সংশোধন করে নেয়। প্রতিবিপ্লব ঠিক করে দেয় যে, রাষ্ট্র কথা বলবে ডিজি, আইজির ভাষায়। নির্বাচিত সরকার বলতে বোঝাবে সর্বক্ষমতাসম্পন্না এক রাজনৈতিক নেত্রী। কিছু আঞ্চলিক মাফিয়া আর পর্দার আড়ালে থাকা রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন, তাদের ক্রমাগত ক্ষমতায়নের পথ প্রশস্ত করেছে এই প্রতিবিপ্লব।
...more১৭-ফেব্রুয়ারি-২০২৪
রতন খাসনবিশ
এরাজ্যে পঞ্চায়েতী ব্যবস্থাকে দৃঢ়মূল করার প্রচেষ্টা ছিল বামপন্থীদের দিক থেকে। বলা যায় যে, এবিষয়ে তাদের আছে আদর্শগত দায়বদ্ধতা। কিন্তু বাম শাসন অবসানের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। এই পরিবর্তন অনেকাংশেই নিঃশব্দ পরিবর্তন। কখনও তা করা হয়েছে কাঁসরঘণ্টা বাজিয়ে। এরাজ্যে গত ১০-১২ বছরে আমলাবাহিনীর বিপুল ক্ষমতায়ন ঘটেছে। সরকারি উন্নয়নের কাজ লাইন ডিপার্টমন্টের সঙ্গে ভাগাভাগিতে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পিছু হঠছে। ...more
০৪-জুলাই-২০২৩
রতন খাসনবিশ
তৃণমূলের পঞ্চায়েত শাসনে সর্বপ্রথম অকেজো করে দেওয়া হয়েছে গ্রাম সংসদকে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপরে আধিকারিকদের খবরদারিও এসেছে একই সঙ্গে। ক্ষমতাহীন সংসদ ও ক্ষমতাবান আধিকারিক যে ব্যবস্থায় হাত ধরাধরি করে চলতে পারে, রাজ্যে সেই ব্যবস্থারই উদ্ভব ঘটেছে। জনগণকে নিষ্ক্রিয় রেখে উন্নয়নের বিপুল অর্থ বিলি-বন্দোবস্ত করার রাস্তা খুঁজেছে তৃণমূলী পঞ্চায়েত। এই অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত যা ঘটাতে পারে তা হল পঞ্চায়েতকেন্দ্রিক ক্ষমতার দুর্বৃত্তায়ন। রাজ্যে সেটাই ঘটছে। এই ফর্মুলায় পঞ্চাযেত কেন্দ্রিক উন্নয়নের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বহু ভাদু শেখের উত্থান ঘটেছে । ...more
২৫-জুন-২০২৩
রতন খাসনবিশ
বাজারমুখী সংস্কারের নামে এক সময় চীনে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত এন্টারপ্রাইজগুলিকে কমজোর করে, তার জায়গায় বেসরকারি পুঁজি চালিত এন্টারপ্রাইজগুলির গুরুত্ব বৃদ্ধির চেষ্টা চলছিল। সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতিতে রাষ্ট্র যে বাজারের ওপর কর্তৃত্ব করে দেঙ শিয়াও পিংয়ের এই মূল উপলব্ধিটিকে কালক্রমে দুর্বল করে তোলা হচ্ছিল। ...more
১৭-অক্টোবর-২০২২
























