সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নিবন্ধের খোঁজ
এখানে আপনি লেখক, নিবন্ধের বিষয়, তথ্য, প্রকাশের তারিখ দিয়ে বিভিন্নভাবে খুঁজতে পারেন, বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই খোঁজা যাবে।
সাত্যকি রায়
এই প্রকল্প বন্ধ হলে গ্রামে শ্রমের মজুত বাহিনী আবার ফুলে ফেঁপে উঠবে যা গ্রামের মজুরি হারকে আবার নিম্নগামী করবে। শুধু তাই নয় কাজ না পাওয়ার কারণে গ্রাম থেকে শহর ও শহরতলীর অভিমুখে কৃষি-বহির্ভূত কাজের আশায় পরিযায়ী শ্রমিক হওয়ার প্রবণতা বাড়বে। এর ফলে শহরাঞ্চলে অদক্ষ শ্রমিকের যোগান বাড়বে এবং যে সমস্ত ক্ষেত্রে অদক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা আছে সেখানে মজুরী হারও নিম্নগামী হবে। মনে রাখা দরকার যে গরিব মানুষের অর্জিত অধিকার যদি ধনী ও ক্ষমতাসীনরা প্রত্যাবর্তন করাতে সক্ষম হয় তাহলে ক্ষমতার কাঠামোর কারণে ওই অধিকার প্রতিষ্ঠার আগের অবস্থার চেয়েও প্রত্যাবর্তন পরবর্তী অবস্থা প্রতিকূল হয়ে পড়ে।
...more০৬-জানুয়ারি-২০২৬
সাত্যকি রায়
কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন, ইলেকট্রিক ব্যাটারী, থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক সরঞ্জাম, খেলনা, জামা কাপড় এসবের মার্কিন আমদানির একটা বড় অংশ আসে চীন থেকে। ইচ্ছে করলেই রাতারাতি এগুলি নিজের দেশে উৎপাদন করা সম্ভব নয় বা পছন্দ মত সাপ্লাই চেইন নির্মাণ করাও সহজ নয়। অন্যদিকে চীন আমেরিকা থেকে কেনে মূলত কৃষিজাত পণ্য যা সহজেই অন্য দেশ থেকে আমদানি করা সম্ভব। চীন ইতিমধ্যেই ব্রাজিল থেকে সয়াবিন আমদানি করা শুরু করেছে। আমেরিকা নানাভাবে চীনকে একঘরে করার চেষ্টা করবে। চীনা কোম্পানিগুলিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টক এক্সচেঞ্জে ডি-লিস্ট করার প্রক্রিয়াও চলতে পারে, অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলিতে চীনা বিনিয়োগের পরিমাণ কমানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে। ...more
২৯-এপ্রিল-২০২৫
সাত্যকি রায়
নয়া-ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রাম সেকারণেই শুধু নির্বাচনী লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তা গণতন্ত্রের পরিসরের পুনর্নির্মাণের লড়াই। মুষ্টিমেয় একচেটিয়া ফিন্যান্স পুঁজি যখন খোলাখুলিভাবে সমাজ অর্থনীতি, সংস্কৃতির উপরে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, তখন ব্যাপকতম শ্রমজীবী মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামই হল গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। ...নয়া-উদারবাদের অভিযোজনের দিন শেষ হয়ে আসছে। তাই তা আজ প্রচণ্ড উগ্র এবং নির্লজ্জ। অন্যদিকে, পৃথিবীতে সমাজবাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ক্রমাগত পরিণত ও প্রত্যয়ী রূপ ধারণ করছে। এই যুগসন্ধিক্ষণে শুধু আক্রান্ত মানুষের হাত ধরা নয়, নতুন সর্বজনীন ন্যায়ের স্বপ্ন হাজির করতে হবে বামপন্থীদেরই। ...more
২২-ফেব্রুয়ারি-২০২৫
সাত্যকি রায়
এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই যে পুঁজিবাদ থেকে উত্তরণের এই দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামে সমাজবাদী চিন্তার বাস্তবিক প্রয়োগ সাময়িকভাবে পরাস্ত হয়েছে। কিন্তু একথাও সত্য যে পুঁজিবাদী সমাজের মধ্যেই উৎপাদন প্রক্রিয়া ও মানুষের সমন্বয়ের যে বাস্তব উপাদানগুলি জন্ম নিচ্ছে, তা সর্বতোভাবে ভবিষ্যতের উন্নত সমাজবাদ নির্মাণের পক্ষে উপযোগী পরিপ্রেক্ষিতকে শক্তিশালী করছে। এই সংক্ষিপ্ত আলোচনায় এরকম তিনটি বিশেষ প্রবণতার ওপরই দৃষ্টি আরোপ করা হয়েছে। ...more
০৭-নভেম্বর-২০২৪
সাত্যকি রায়
উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় শোষণের ভিত্তিতেই লাভের মাধ্যমে এই সম্পত্তি গড়ে ওঠেনি। তা গড়ে উঠছে লুঠের মাধ্যমে। বেআইনি লুঠের টাকা যেহেতু পুঁজিতে পরিণত করাটাও সহজ নয়, তাই খাটের তলায়, ফ্ল্যাটের ভিতরে, আলমারির পেছনে অথবা বিদেশে গোপনে নানা আইনি বেআইনি পথে বেনামী নানা একাউন্টে জমা হচ্ছে। এটাই বাংলার নতুন গজিয়ে ওঠা ‘কালীঘাটতন্ত্র’ যা এক অবক্ষয়ী সংস্কৃতির জন্ম দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। আবার একই সাথে এই হুমকি সংস্কৃতির ভিত্তিতেই পাড়ায় পাড়ায় নানা কর্মক্ষেত্রে ফুলে ফেঁপে উঠছে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা মানুষদের সম্পত্তি। খেয়াল করলে দেখা যাবে পশ্চিমবাংলায় সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের আন্দোলন উৎপাদনের ক্ষেত্রকে ঘিরে যতটা না হচ্ছে তার চাইতে বেশি হচ্ছে লুঠের বিরুদ্ধে। তাই সর্বব্যাপক ঐক্যের পরিসরে যারা সামিল তারা সাধারণ মেহনতি মানুষ কিন্ত তাদের যে পরিচয় এই আন্দোলনে প্রকট তা কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্ত এই চেনা বর্গগুলিতে বিভাজিত নয় বরং যা প্রকট তা হল এক সার্বজনীন ক্ষমতাহীন উপভোক্তার পরিচয়, নাগরিকের পরিচয় যারা মূলত লুঠের বিরুদ্ধে নিয়মের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিবাদে সামিল। ...more
১০-অক্টোবর-২০২৪
সাত্যকি রায়
প্রশ্ন হল এই নৃশংস হত্যাকারীদের সরকার আড়াল করতে ব্যস্ত কেন? তার একমাত্র কারণ হল ক্ষমতা পুনরুৎপাদনের দুষ্টচক্রটিকে সুরক্ষিত রাখা। পশ্চিমবাংলায় এই ক্ষমতা পুনরুৎপাদনের দুষ্টচক্রটির দুটি বাহু। একটি হল এক্সটরশান, যার সহজ উপায় হল ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট লুঠ করা, বা এক কথায় যাকে রাষ্ট্রীয় মদতে তোলাবাজি বলা যেতে পারে। আর অপর বাহুটি হল সরকারি বা বেসরকারি অনুদানের রাজনীতি, যা অধিকারের ধারণা বর্জিত এবং সে-কারণেই একপ্রকার সামন্ততান্ত্রিক রাজনৈতিক আনুগত্য তৈরি করতে যথেষ্ট উপযোগী। এই দুইয়ের মিশেলই হল পশ্চিমবাংলার বর্তমান শাসকদের ক্ষমতা পুনরুৎপাদনের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত। ...more
২৪-আগস্ট-২০২৪
সাত্যকি রায়
পুঁজিপতি শ্রমিক নিয়োগ করে তখনই যখন শ্রমিকের দ্বারা উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি করে লাভ করা সম্ভব হয়। শ্রমিককে নিয়োগ করাটা লাভ করার একটি মাধ্যম, যা জিনিস বিক্রির উপর নির্ভরশীল। পুঁজিপতির কাছে শ্রমিক নিয়োগটা লক্ষ্য নয়। অন্যভাবে বলতে গেলে, শ্রমিক শোষণের মাধ্যমে সৃষ্ট উদ্বৃত্তমূল্য মুনাফায় পরিণত হয় তখনই যখন উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি করা সম্ভব হয়। যদি বাজারে বিক্রি করে মুনাফার হার পুঁজিপতির কাছে গ্রহণযোগ্য না হয় তাহলে শ্রমিকের মজুরিতে সরকারি ভর্তুকি দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাবে এ ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। বরং এই স্কিমগুলির মধ্যে দিয়ে কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে সরকারি কোষাগার থেকে মজুরি সংক্রান্ত ব্যয়ে কিছু ভর্তুকি পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হল। ...more
২৯-জুলাই-২০২৪
সাত্যকি রায়
নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে বিজেপি আসলে অস্বচ্ছতার ব্যবস্থাপনা তৈরি করতে চেয়েছিল যা তাদেরকে পুঁজিপতিদের থেকে রসদ সংগ্রহ করার একচেটিয়া অধিকার এনে দেবে। যে পুঁজিপতিরা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলকে বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সাহায্য করেছে তাদেরকে প্রকারান্তরে নানা অসুবিধায় ফেলার মধ্যে দিয়ে এটা বুঝিয়ে দেওয়া সহজ হবে যে কাদের ঘরে টাকা জমা পড়লেই তারা একমাত্র শান্তিতে কাজ করবার চালাতে পারবে। এরকম একটি ব্যবস্থাপনা আসলে রাষ্ট্র ও পুঁজিপতি শ্রেণির মধ্যেকার সম্পর্ককে এতটাই নগ্ন করে তোলে যা প্রকারান্তরে পুঁজিবাদি রাষ্ট্রের আধিপত্যের গ্রহণযোগ্যতাকেই ভঙ্গুর করে তোলার বিপদ তৈরি করতে পারে।
...more০৬-মার্চ-২০২৪
সাত্যকি রায়
পুঁজির আধিপত্যের আজ আর কোন ভৌগোলিক বিন্যাস নেই, পুঁজিবাদী শোষণ আজ সর্বব্যাপী এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মধ্যে কোন কাঠামোগত বৈষম্যের সম্পর্ক নেই।মনে রাখা দরকার সাম্রাজ্যবাদের আলোচনায় বৈষম্য ও শোষণ এই দুটি ধারণাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। ...more
২৯-জানুয়ারি-২০২৪
সাত্যকি রায়
অ্যাডাম স্মিথ থেকে মালথাস সকলেই মনে করতেন যে পরাধীন শ্রম স্বাধীন শ্রমের তুলনায় কম দক্ষ ও তাদের উৎপাদনশীলতা কম হয়ে থাকে। দ্বিতীয়ত, দাস ব্যবস্থায় একজন দাস ও তার পরিবারের সারা জীবনের ভরণ পোষণের দায়িত্ব দাস মালিকের হয়ে থাকে। উৎপাদন প্রক্রিয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হয়। একটি মানুষ জীবনের নানা পর্যায়ে এইসব দক্ষতা অর্জন করতে পারবে এটা খুব স্বাভাবিক নয়। ...more
০৪-জানুয়ারি-২০২৪
সাত্যকি রায়
শোষণ বাড়লেও তুলনামূলক বিচারে নিজেদের আয় আগের তুলনায় বেশি হলেই শ্রমজীবী মানুষ একক ভাবে বিশেষ উদ্বিগ্ন হয় না। একারণেই শ্রেণি শোষণের চেতনা শ্রমজীবী মানুষের কাছে পৌঁছানো দরকার যাতে সে তার শ্রেণিশত্রু এবং শোষণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত হতে পারে। এই সংহতির চেতনাটি কোন ভাবে রুখে দেওয়া বা বিচ্যুত করাই হল ফ্যাসিবাদী বা উগ্র দক্ষিণপন্থী রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য। ...more
৩০-নভেম্বর-২০২৩
সাত্যকি রায়
যে কোনও রিলিফই মানুষের কাছে সাময়িক সমস্যার সুরাহা এনে দেয়। কিন্তু তা যদি তার সংগঠিত চেতনার বোধকে ক্রমাগত দুর্বল করে তবে তা শেষ বিচারে দীর্ঘস্থায়ী অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের প্রতিবন্ধক হয়ে ওঠে। এর বিরুদ্ধে সর্বজনীনতার বোধকে জাগ্রত করা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই একটি বামপন্থী প্রকল্প।
...more২৬-অক্টোবর-২০২৩
সাত্যকি রায়
কিন্তু এই সাধারণ প্রক্রিয়াটি কার্যকরী হওয়া নির্ভর করে দুটি পূর্বশর্তের উপর। প্রথমত প্রযুক্তির বিস্তৃতি এবং দ্বিতীয়তঃ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির থেকে উদ্ভুত আয়ের বন্টন। লক্ষ্যণীয় যে আয় বৈষম্যের সঙ্গে এই দুটি শর্ত ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অর্থনীতিতে আয় বৈষম্য যদি বাড়তে থাকে তাহলে যে ধরনের জিনিস ধনীদের চাহিদায় যুক্ত হয় তা দেশে প্রযুক্তির বিস্তৃতি ঘটাতে বিশেষ সাহায্য করে না, বরং তা অনেক বেশি আমদানি নির্ভর হয়ে ওঠে। ...more
২৮-সেপ্টেম্বর-২০২৩
সাত্যকি রায়
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় নভেম্বর-২০১৯ থেকে এপ্রিল ২০২১ ডালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে গড়ে প্রায় ১৬ শতাংশ হারে, অতিমারির সময় মে-২০২০ থেকে জানুয়ারি-২০২২ এই সময় ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ২২.৪ শতাংশ হারে এবং অক্টোবর ২০২২ এর পরে খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশ হারে। একেবারে সাম্প্রতিক সময় মাস ভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধির হার দেখলে দেখা যাবে যে এবছর জুলাই মাসে সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৮ শতাংশ হারে এবং ওই মাসে টমেটোর মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ২১৩.৭ শতাংশ। অতএব বিগত সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের খাদ্য বাবদ খরচ অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়েছে। ...more
৩০-আগস্ট-২০২৩
সাত্যকি রায়
কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য ও কর্মসূচি রূপায়ণ দপ্তর থেকে টাইম ইউজ সার্ভে প্রকাশিত হয়। এই সার্ভেতে বাড়িতে বিভিন্ন বিনা পারিশ্রমিকের কাজ কিভাবে পুরুষ ও মহিলারা ভাগ করে থাকেন তার তথ্য প্রকাশ করা হয়। এই রিপোর্ট অনুযায়ী ১৫ থেকে ৫৯ বছরের পুরুষদের মাত্র ২৯ শতাংশ পারিশ্রমিক-বিহীন গৃহকর্মে সময় ব্যয় করে থাকেন। অথচ ১৫ থেকে ৫৯ এই বয়সের মহিলাদের ৯২ শতাংশ ওই ধরনের কাজে সময় ব্যয় করে থাকেন। যদি একটা গোটা দিনের সময় ব্যবহারের হিসেব ধরা যায়, ছয় বছরের বেশি বয়সের একজন পুরুষ গোটা দিনে ৬৭ মিনিট পারিশ্রমিক-বিহীন কাজে সময় ব্যয় করেন, ২৪০ মিনিট পারিশ্রমিক যুক্ত কাজে সময় ব্যয় করেন এবং ১১৩৩ মিনিট নিজের উন্নতি ও পরিচর্যা ও অন্যান্য কাজে সময় ব্যয় করে থাকেন। অন্যদিকে একজন মহিলা গোটা দিনে ৩০৫ মিনিট পারিশ্রমিক-বিহীন কাজে সময় ব্যয় করে থাকেন, ৫৬ মিনিট পারিশ্রমিক যুক্ত কাজে সময় ব্যয় করেন ও ১০৭৯ মিনিট অন্যান্য কাজে সময় ব্যয় করে থাকেন। অতএব একজন মহিলা সদস্য বাড়ির পারিশ্রমিক-বিহীন কাজে একজন পুরুষ সদস্যের চেয়ে সাড়ে চারগুণ বেশি সময় ব্যবহার করে থাকেন। এবং একজন পুরুষ সদস্য অন্যদিকে একজন গড় মহিলা সদস্যের তুলনায় ৪.৩ গুণ সময় পারিশ্রমিক যুক্ত কাজে সময় ব্যয় করেন। ...more
০১-জুন-২০২৩
সাত্যকি রায়
মার্কস এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ অবহিত ছিলেন যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শ্রমিক তার শ্রমশক্তির সমমূল্যে মজুরি পায় না। এবং যখনই সুযোগ পেয়েছে পুঁজিবাদ পরাধীন শ্রম ব্যবহার করেছে এবং শ্রমিককে তার শ্রমশক্তির চেয়ে কম মূল্য মজুরি হিসেবে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শিশুশ্রম ব্যবহার করা, দীর্ঘ সময় শ্রমিকদের কাজ করানো, বান্ধুয়া শ্রমিক ব্যবহার করা, ক্রীতদাস প্রথার সুযোগ নেওয়া, ঋণের দ্বারা শ্রমিককে শৃঙ্খলিত করা —এর কোনওটাই কোনওদিন পুঁজিপতিদের কাছে অন্যায় ছিল না। ...more
১৩-মে-২০২৩
সাত্যকি রায়
একমাত্র যে ক্ষেত্রে মালিক অন্য উৎপাদকের চেয়ে খরচ কমাতে পারে, তা হল, তার দ্বারা নিযুক্ত শ্রম বাবদ খরচ। উন্নয়নশীল দেশগুলিতে শ্রমিকের মজুরি উন্নত দেশগুলির তুলনায় কম হওয়ার কারণে এই সব দেশের উৎপাদকেরা প্রতিযোগিতায় প্রচুর সুবিধা পাবে বলে মনে করে একে অপরকে টেক্কা দিতে চাইছে। শ্রমিকের অর্জিত অধিকারগুলি খর্ব করে শ্রম-খরচ কমানোর জন্য নয়া উদারবাদী যুগে রাষ্ট্র ময়দানে অবতীর্ণ। এবং এ ব্যাপারে গত চার দশকের সংস্কার পর্বে এক অদ্ভুত সামাজিক ও রাজনৈতিক সহমত গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে যে - শ্রমিকশ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই উন্নয়ন-বিরোধী, এবং দেশের সামগ্রিক কল্যাণ-বিরোধী, কোনো মতেই একে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত নয়, এবং তাকে যথাসম্ভব অপ্রয়োজনীয় হিসাবে দেখানো দরকার, অথবা জনমানসে কার্য্যত অদৃশ্য করে দিতে হবে। এটা ভুলিয়ে দেওয়া হয় যে, প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র শ্রম খরচের উপর নির্ভর করে না। ...more
০২-এপ্রিল-২০২৩
সাত্যকি রায়
এবার দেখা যাক এহেন সংস্থার উপরে আমাদের দেশের আর্থিক কার্যকলাপে কতটা নির্ভরশীলতা তৈরী করা হয়েছে। এই মুহূর্তে আদানিরা ১৯১ টি বৃহৎ প্রকল্প রূপায়ণের কাজে যুক্ত, যার মোট মূল্য প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা। তারা সম্প্রতি ১২৩ টি প্রকল্প সম্পূর্ণ করেছে যার পরিমাণ প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা। গৃহীত প্রকল্প গুলির মধ্যে রয়েছে ১৩ টি পোর্ট, ৩৩ টি রিন্যুএবল এনার্জি সংক্রান্ত প্রকল্প, ১২ টি বিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প ও বৃহৎ সিমেন্ট প্রকল্প। এই সমস্ত প্রকল্প গুলি যোগ করলে এতে নিযুক্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ যদিও কিছু বছরে বিস্তৃত কিন্তু উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এই পরিমাণ দেশের এক বছরে গড়ে সব প্রকল্পে বিনিয়োগের মোট পরিমাণের সমান। অতএব বোঝা যাচ্ছে যে, পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে আমাদের দেশের সরকার ইতিমধ্যে আদানিদের উপরে কতটা নির্ভরশীলতা তৈরি করেছে। ...more
২৮-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
সাত্যকি রায়
পুঁজিবাদে এই বিভাজন উৎপাদন সম্পর্কের মধ্যেই নিহিত ও পুনরুৎপাদিত হতে থাকে। মানসিক শ্রমকে কায়িক শ্রম থেকে আলাদা করা হয় যাতে উৎপাদন প্রক্রিয়ার উপর পুঁজির কর্তৃত্ব স্থাপন করা সুবিধাজনক হয়। মার্কস এই প্রক্রিয়ার বিস্তৃত বিবরণ ও বিশ্লেষণ করেছেন ক্যাপিটাল এর প্রথম খন্ডে যেখানে তিনি ম্যানুফ্যাকচারিং এর উন্মেষের আলোচনা করেছেন। আধুনিক পুঁজিবাদী উৎপাদনের আগে কারিগর বা আর্টিজান তার উৎপাদন প্রক্রিয়ার উপর পুরো নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারত। বিকশিত পুঁজিবাদ এই প্রক্রিয়াকে ভেঙে দিতে পারল নতুন কারখানাভিত্তিক শ্রম বিভাজনের মাধ্যমে। এই ব্যবস্থায় কায়িক ও মানসিক শ্রমের নির্দিষ্ট বিভাজন তৈরি করা হল। কিছু অল্পসংখ্যক লোক উৎপাদন পরিকল্পনা, ডিজাইন ইত্যাদি করবে, উৎপাদন সংগঠনের উপর নজরদারি করবেন। এরাই ম্যানেজার, সুপারভাইজার, ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি আর বাকি শ্রমিকদের কাজ হল চিন্তা না করে শুধু উপরের লোকদের নির্দেশ পালন করা। ...more
০৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৩
সাত্যকি রায়
মার্কস এর মতে, যে শ্রমকে পুঁজি নিয়োগ করছে উদ্বৃত্ত মূল্য সৃষ্টির কাজে এবং তা যদি উদ্বৃত্ত মূল্য সৃষ্টি করতে পারে তবে পুঁজিবাদের চোখে সেটাই উৎপাদনশীল শ্রম। আর যে সব পরিষেবা মূলত অর্জিত আয় থেকে খরচ করে কেনা হয় সে সবই অনুৎপাদনশীল শ্রম। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে যে রেস্তোরাঁর মালিক যখন শেফ নিয়োগ করে তার উদ্দেশ্য তাকে দিয়ে রান্না করিয়ে নিজে খাওয়া নয়, বরং তার বিশেষ দক্ষতার শ্রমশক্তি ক্রয় করে তাকে দিয়ে খাবার বানিয়ে বিক্রি করে লাভ করা। এই কারিগর পুঁজির চোখে উৎপাদনশীল শ্রম করছে। আবার এই রাঁধুনিকেই কেউ বাড়িতে নিয়োগ করলেন ভালো ভালো রান্না করে খাওয়ানোর জন্য এবং নিজের আয় থেকে মাইনে দিলেন তখন ওই একই রাঁধুনির শ্রমকে অনুৎপাদনশীল ধরা হবে। ...more
০৩-জানুয়ারি-২০২৩

























