সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
লেনিনের মৃত্যুতে
জোসেফ স্তালিন
লেনিন কথনোই সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রকে মনে করতেন না যে তাতেই তার সমাপ্তি। তিনি সর্বদাই তাকে পাশ্চাত্ত্য ও প্রাচ্যের দেশগুলির বিপ্লবী সংগ্রাম শক্তিশালী করার একটি অত্যাবশ্যকীয় যোগসূত্র হিসেবে দেখতেন, পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে সারা দুনিয়ার মেহনতী মানুষের জয়লাভ সুগম করার একটি অত্যাবশ্যক যোগসূত্র হিসেবে দেখতেন।

(সোভিয়েতসমূহের সারা-ইউনিয়ন দ্বিতীয় কংগ্রেসে প্রদত্ত ভাষণ, ২৬শে জানুয়ারি, ১৯২৪)
কমরেডস্, আমরা কমিউনিস্টরা এক বিশেষ ছাঁচে গড়া মানুষ। আমরা এক বিশেষ ধাতুতে গড়া। আমরা হলাম সেই মানুষ যারা গঠন করেছে মহান সর্বহারাশ্রেণির সংগ্রামবিজ্ঞানীদের বাহিনী, কমরেড লেনিনের বাহিনী। এই বাহিনীতে থাকার চেয়ে উচ্চতর সম্মান আর কিছু নেই। এই পার্টির সদস্যপদ লাভ করার থেকে উচ্চতর আর কিছু হতে পারে না, যার প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা ছিলেন কমরেড লেনিন। এই ধরনের পার্টিতে সকলে সদস্য হতে পারে না। এই ধরনের পার্টিতে সদস্যপদের সঙ্গে যে ঝড়ঝাপটা থাকে তা সকলে সহ্য করতে পারে না। শ্রমিকশ্রেণির সন্তানেরা, অনটন ও সংগ্রামের সন্তানেরা, অবিশ্বাস্য বঞ্চনার ও বীরত্বব্যঞ্জক প্রচেষ্টার সন্তানেরাই সকলের আগে এই ধরনের পার্টির সদস্য হতে পারবে। সেই কারণেই, লেনিনবাদীদের পার্টিকে, কমিউনিস্টদের পার্টিকে, শ্রমিকশ্রেণির পার্টিও বলা হয়।
আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় কমরেড লেনিন আমাদের নির্দেশ দিয়ে গেছেন যে পার্টির সদস্যপদের মহান মর্যাদার শুচিতাকে যেন আমরা রক্ষা করি ও তাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরি। কমরেড লেনিন, তোমার কাছে আমরা শপথ করছি যে তোমার নির্দেশ আমরা সসম্মানে পালন করব!
পঁচিশ বছর ধরে কমরেড লেনিন আমাদের পার্টিকে লালন করেছেন এবং তাকে সারা দুনিয়ার সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী সর্বাপেক্ষা উন্নত ইস্পাতদৃঢ় শ্রমিকদের পার্টি হিসেবে গড়ে তুলেছেন। জার ও তার ভৃত্যদের আঘাত, বুর্জোয়া ও জমিদারদের ক্রোধ, কলচাক ও ডেনিকিনের সশস্ত্র আক্রমণ, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সশস্ত্র হস্তক্ষেপ, শতজিহ্ব বুর্জোয়া সংবাদপত্রের মিথ্যা কুৎসা -এইসব বৃশ্চিক প্রতিনিয়তই আমাদের পার্টিকে দংশন করে এসেছে গত পঁচিশ বছর ধরে। কিন্তু আমাদের পার্টি, তার অসংখ্য শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত করে অটলভাবে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থেকেছে এবং শ্রমিকশ্রেণিকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছে বিজয়ের দিকে। আমাদের পার্টি প্রচণ্ড সব যুদ্ধে তার সাধারণ স্তরের কর্মীদের ঐক্য ও সংহতি দৃঢ়তর করেছে এবং ঐক্য ও সংহতির দ্বারা তা শ্রমিকশ্রেণির শত্রুদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছে।
আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় কমরেড লেনিন আমাদের নির্দেশ দিয়ে গেছেন আমাদের পার্টির ঐক্যকে নিজেদের চোখের মণির মতো রক্ষা করতে। কমরেড লেনিন, তোমার কাছে আমরা শপথ করছি যে, তোমার ঐ নির্দেশটিও আমরা সসম্মানেই পালন করব।
দুর্বহ ও অসহ্য হয়ে এসেছে শ্রমিকশ্রেণির ভাগ্য। বেদনাদায়ক ও শোচনীয় হয়ে এসেছে মেহনতী মানুষের দুঃখকষ্ট। ক্রীতদাস ও ক্রীতদাস মালিক, ভূমিদাস ও ভূমিদাস মালিক, কৃষক ও জমিদার, শ্রমিক ও পুঁজিপতি, অত্যাচারিত ও অত্যাচারী-দুনিয়াটা এইভাবেই গড়ে উঠেছে স্মরণাতীত কাল থেকে, এবং তা বেশিরভাগ দেশগুলিতে এভাবেই থেকে গেছে আজও পর্যন্ত। কয়েক শতাব্দীতে কয়েক শতবার মেহনতী মানুষ চেষ্টা করেছে তাদের কাঁধ থেকে তাদের অত্যাচারীদের ছুড়ে ফেলে দিতে এবং নিজেরাই নিজেদের ভাগ্যনিয়ন্তা হতে। কিন্তু প্রতিবারই পরাজিত ও অপমানিত হয়ে তারা পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে, বুকে পোষণ করে এসেছে ক্ষোভ ও অপমান, ক্রোধ ও হতাশা এবং সেই দুর্জ্ঞেয় আকাশের দিকে চোখ ভুলে তাকিয়ে থেকেছে, সেখানে তারা আশা করে এসেছে মুক্তির। দাসত্বের শৃঙ্খল অক্ষতই থেকে গেছে বা পুরানো শৃঙ্খলের জায়গায় এলেছে নতুন শৃঙ্খল যা সমভাবেই দুর্বহ ও অবমাননাকর। আমাদেরই হচ্ছে একমাত্র দেশ যেখানে শোষিত ও পদদলিত মেহনতী জনগণ জমিদার ও পুঁজিবাদীদের শাসন ছুড়ে ফেলে দিতে এবং তার জায়গায় শ্রমিক ও কৃষকদের শাসন কায়েম করতে সক্ষম হয়েছে। আপনারা জানেন, কমরেডস্, এবং সারা দুনিয়াও এখন এটা স্বীকার করে যে, এই বিশাল সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছিল কমরেড লেনিন ও তাঁর পার্টির দ্বারা। লেনিনের বিরাটত্ব সর্বোপরি এখানে যে, সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র সৃষ্টি করে একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত দিয়ে সারা দুনিয়ার শোষিত মানুষকে তিনি দেখালেন যে মুক্তির আশা শেষ হয়ে যায়নি, দেখালেন যে, জমিদার-পুঁজিপতিদের শাসন স্বল্পায়ু; দেখালেন যে, মেহনতী মানুষদের নিজ প্রচেষ্টায় শ্রমিকদের রাজত্ব গড়া যায় এবং সেই শ্রমিকদের রাজত্ব গড়তে হবে স্বর্গে নয়, মর্তে। এভাবেই তিনি সারা দুনিয়ার শ্রমিক ও কৃষকদের হৃদয়কে মুক্তির আশার আলোয় প্রজ্বলিত করলেন। এটাই ব্যাখ্যা করে, কেন লেনিনের নাম মেহনতী ও শোষিত জনগণের কাছে সর্বাধিক প্রিয় একটি নাম হয়েছে।
আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় কমরেড লেনিন আমাদের নির্দেশ দিয়ে গেছেন সর্বহারার একনায়কত্বকে রক্ষা ও শক্তিশালী করতে। কমরেড লেনিন, তোমার কাছে আমরা শপথ করছি যে, তোমার এই নির্দেশটিও সসম্মানে পালন করতে আমরা চেষ্টার কোন ত্রুটি করব না।
আমাদের দেশে সর্বহারার একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শ্রমিক ও কৃষকদের মৈত্রীর ভিত্তিতে। এটাই হচ্ছে সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের প্রাথমিক ও বুনিয়াদী ভিত্তি। শ্রমিক ও কৃষকরা এরকম একটি মৈত্রী ছাড়া পুঁজিপতি ও জমিদারদের পরাভূত করতেই পারত না। শ্রমিকরা পুঁজিপতিদের পরাস্ত করতে পারত না কৃষকদের সমর্থন ছাড়া। কৃষকরা জমিদারদের পরাস্ত করতে পারত না শ্রমিকদের নেতৃত্ব ছাড়া। আমাদের দেশের গৃহযুদ্ধের সমগ্র ইতিহাস এই সাক্ষ্যই বহন করছে। কিন্তু সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রকে সংহত করার সংগ্রাম কোনমতে শেষ হয়ে যায়নি-এটা কেবলমাত্র নতুন একটি রূপ ধারণ করেছে। শ্রমিক ও কৃষকদের মৈত্রী আগে ধারণ করেছিল সামরিক মৈত্রীর রূপ, কারণ তা পরিচালিত হয়েছিল কলচাক ও ডেনিকিনের বিরুদ্ধে। এখন, শ্রমিক ও কৃষকদের মৈত্রী নিশ্চয় শহর ও গ্রামের মধ্যে, শ্রমিক ও কৃষকদের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার রূপ পরিগ্রহ করবে, কারণ এটা পরিচালিত হচ্ছে ব্যবসায়ী ও কুলাকদের (ধনী কৃষক-অনুবাদক) বিরুদ্ধে, এবং তার উদ্দেশ্য হচ্ছে শ্রমিক ও কৃষকদের দ্বারা তাদের প্রয়োজনীয় সবকিছুই পারস্পরিক ভিত্তিতে সরবরাহ করা। আপনারা জানেন যে কেউই এর জন্য কমরেড লেনিনের চেয়ে এত বেশি অধ্যবসায় সহকারে কাজ করেননি।
আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় কমরেড লেনিন আমাদের নির্দেশ দিয়ে গেছেন আমাদের সকল শক্তি দিয়ে শ্রমিক ও কৃষকদের মৈত্রীকে শক্তিশালী করতে। তোমার কাছে আমরা শপথ করছি, কমরেড লেনিন, যে এই নির্দেশটিও আমরা সসম্মানেই পালন করব।
সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের দ্বিতীয় ভিত্তি হচ্ছে আমাদের দেশের বিভিন্ন জাতিসত্তাসমূহের মেহনতী মানুষদের সংহতি। রুশীয় ও ইউক্রেনীয়, বাশ্কির ও বিয়েলোরুশীয়, জর্জীয় ও আজারবাইজানীয়, আর্মেনীয় ও দাঘেস্তানীয়, তাতার ও কিরঘিজ, উজবেক ও তুর্কমেনীয় সকলেই সর্বহারাশ্রেণির একনায়কত্বকে শক্তিশালী করতে সমান আগ্রহী। সর্বহারাশ্রেণির একনায়কত্ব এইসব জাতিকে কেবল বন্ধন ও নির্যাতন থেকেই মুক্ত করেনি, পরন্তু জনগণ সোভিয়েতসমূহের প্রজাতন্ত্রের প্রতি তাদের গভীর অনুরাগ ও তার জন্য আত্মত্যাগ স্বীকারে তাদের প্রস্তুতির দ্বারা শ্রমিকশ্রেণির শত্রুদের চক্রান্ত ও আক্রমণ থেকে আমাদের সোভিয়েতসমূহের প্রজাতন্ত্রকে মুক্ত করেছে। এইজন্মই কমরেড লেনিন প্রজাতন্ত্রসমূহের যুক্তরাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যেই আমাদের দেশের জনগণের স্বেচ্ছামূলক সংযুক্তির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে, তাদের ভ্রাতৃত্বমূলক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমাদেরকে অক্লান্তভাবে নির্দেশ দিয়ে গেছেন।
আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় কমরেড লেনিন প্রজাতন্ত্রসমূহের যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী ও প্রসারিত করতে আমাদের নির্দেশ দিয়ে গেছেন। কমরেড লেনিন, তোমার কাছে আমরা শপথ করছি যে, তোমার নির্দেশটি আমরা সসম্মানেই পালন করব!
সর্বহারাশ্রেণির একনায়কত্বের তৃতীয় ভিত্তি হচ্ছে আমাদের লাল সেনাবাহিনী ও লাল নৌবাহিনী। লেনিন একাধিকবার আমাদের বোঝাতে চেষ্টা করেছেন যে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহের কাছ থেকে যে বিরতিটুকু আমরা জয় করে এনেছি তা ক্ষণস্থায়ী প্রমাণিত হতে পারে। লেনিন একাধিকবার আমাদের দেখিয়েছেন যে লাল সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করা ও তার অবস্থার উন্নতিসাধন করা হল আমাদের পার্টির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। কার্জনের চরমপত্র ও জার্মানির সংকট সম্পর্কিত ঘটনাবলী পুনরায় প্রমাণ করল যে, বরাবরের মতোই, লেনিন সঠিক ছিলেন। তাহলে, আসুন কমরেডস্, আমরা শপথ করি যে, আমরা আমাদের লাল সেনাবাহিনী ও লাস নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার চেষ্টায় কোন ত্রুটি রাখব না।
বুর্জোয়া রাষ্ট্রসমূহের এক বিশাল সাগরের মাঝে আমাদের দেশ এক বৃহৎ পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঢেউয়ের পর ঢেউ তার ওপর আঘাত হেনে চলেছে, হুমকি দিচ্ছে তাকে ডুবিয়ে দেবার ও ধুয়ে সাফ করে দেবার। কিন্তু পাহাড়টি দাঁড়িয়ে আছে অকম্পিত। কোথায় নিহিত এর শক্তি? শুধু এই ঘটনাতেই নিহিত নয় যে আমাদের দেশ দাঁড়িয়ে আছে শ্রমিক ও কৃষকদের এক মৈত্রীর ওপর, এই ঘটনাতেই নয় যে এতে মূর্ত হয়েছে স্বাধীন জাতিসত্তাসমূহের এক স্বেচ্ছাসম্মেলন, এই ঘটনাতেই নয় যে এটি লাল সেনাবাহিনী ও লাল নৌবাহিনীর সবল বাহুর দ্বারা রক্ষিত। আমাদের দেশের শক্তি, দৃঢ়তা ও সংহতির কারণ হল সেই সুগভীর সহানুভূতি ও সুনিশ্চিত সমর্থন যা সে সারা দুনিয়ার শ্রমিক ও কৃষকদের হৃদয়েই পেয়ে থাকে। সারা দুনিয়ার শ্রমিক ও কৃষকরা সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রকে রক্ষা করতে চায় কমরেড লেনিনের নিশ্চিত হাত থেকে শত্রুর শিবিরে নিক্ষিপ্ত এক নায়কের মতো, নিপীড়ন ও শোষণ থেকে তাদের মুক্তির আশার স্তম্ভের মতো, তাদের মুক্তির পথনির্দেশক এক নির্ভরযোগ্য আলোকসংকেতের মতো। তারা চায় একে রক্ষা করতে এবং পুঁজিপতি ও জমিদারদের তারা একে ধ্বংস করতে দেবে না। এখানেই আমাদের শক্তি। এবং এখানেই রয়েছে সকল দেশের মেহনতী মানুষের শক্তি। আর এখানেই নিহিত রয়েছে সারা দুনিয়ার বুর্জোয়াদের দুর্বলতা।
লেনিন কথনোই সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রকে মনে করতেন না যে তাতেই তার সমাপ্তি। তিনি সর্বদাই তাকে পাশ্চাত্ত্য ও প্রাচ্যের দেশগুলির বিপ্লবী সংগ্রাম শক্তিশালী করার একটি অত্যাবশ্যকীয় যোগসূত্র হিসেবে দেখতেন, পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে সারা দুনিয়ার মেহনতী মানুষের জয়লাভ সুগম করার একটি অত্যাবশ্যক যোগসূত্র হিসেবে দেখতেন। লেনিন জানতেন যে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এবং সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের নিজেকে রক্ষা করার দৃষ্টিকোণ থেকে উভয়তই এই হল এক সঠিক ধারণা। লেনিন জানতেন যে শুধুমাত্র এটাই সারা দুনিয়ার মেহনতী মানুষের হৃদয়কে তাদের মুক্তির জন্য চূড়ান্ত যুদ্ধগুলি লড়বার দৃঢ় সংকল্পে প্রজ্বলিত করতে পারবে। এই কারণেই, সর্বহারার একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সাথে সাথেই সেই শ্রেষ্ঠ প্রতিভাধর, যিনি সর্বহারাদের পরিচালনা করে গেছেন তিনি শ্রমিকশ্রেণির আন্তর্জাতিকের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। এই কারণেই, তিনি সারা দুনিয়ার মেহনতী মানুষের সম্মেলন কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিককে সম্প্রসারিত ও শক্তিশালী করতে কখনো ক্লান্তি বোধ করেননি।
আপনারা গত কয়েকদিন ধরে লেনিনের শবাধারের দিকে শত-সহস্র মেহনতী মানুষের তীর্থযাত্রা দেখেছেন। অতি শীঘ্রই আবার আপনারা দেখবেন কমরেড লেনিনের সমাধিক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ মেহনতী মানুষের প্রতিনিধিদের তীর্থযাত্রা। আপনারা নিঃসন্দেহ থাকুন যে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিদের পরেই আসবেন দুনিয়ার সকল অংশ থেকে হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষের প্রতিনিধিরা, তাঁরা আসবেন এই সাক্ষ্য বহন করে যে, লেনিন কেবলমাত্র রাশিয়ার সর্বহারাশ্রেণির, কেবল ইউরোপীয় শ্রমিকদের, কেবল ঔপনিবেশিক প্রাচ্যেরই নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্বের সকল মেহনতী মানুষের নেতা।
আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় কমরেড লেনিন আমাদের নির্দেশ দিয়ে গেছেন কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের নীতিসমুহের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে। কমরেড লেনিন, তোমার কাছে আমরা শপথ করছি, আমরা সারা দুনিয়ার শ্রমজীবী মানুষের সংঘ-কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিককে শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করতে জীবন পণ করতেও কুণ্ঠিত হব না।
প্রাভদা, সংখ্যা ২৩
৩০শে জানুয়ারি, ১৯২৪
লেখাটি নেওয়া হয়েছে নবজাতক প্রকাশন কর্তৃক প্রকাশিত স্তালিন রচনাবলী – ষষ্ঠ খণ্ড (প্রথম প্রকাশ – ১লা ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫) থেকে। প্রকাশক – মজহারুল ইসলাম। সম্পাদকমণ্ডলী – পীযূষ দাশগুপ্ত, কল্পতরু সেনগুপ্ত, প্রভাস সিংহ, শঙ্কর দাশগুপ্ত, সুদর্শন রায় চৌধুরী।
প্রকাশের তারিখ: ২১-জানুয়ারি-২০২৪
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
