সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সঞ্চার সাথী: আন্তর্জালী সুরক্ষা না কারাগার?
প্রবীর পুরকায়স্থ
একমাত্র সরকারই জানে, কেন নিয়মাবলীর এত বড়ো একটি পরিবর্তন সম্পর্কে জনগণের অভিমত যাচাই হল না বা দেশের সংসদকে অবহিত করা হল না। আমরা এখানে এই আলোচনায় যাব না, মোবাইল ব্যবহারকারীদের অধিকারের সীমায় এমন একটি হস্তক্ষেপ করার অধিকার সরকারের আদৌ আছে কিনা কিংবা এমন গোপনীয়তায় এই কাজ করতে পারে কিনা। প্রকৃত সত্য হল, যখন অ্যাপল বা সামসুঙের মতো নির্মাতারা এই অ্যাপের প্রাক-স্থাপন নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করল তখনই জনসমক্ষে এলো গোটা বিষয়টি

মোবাইল ব্যবহারকারী, গোপনীয়তা সম্পর্কিত গোষ্ঠীগুলি এবং ফোন নির্মাতাদের ধাক্কায় মোদী সরকার সকলের মোবাইল ফোনে ‘সংশোধিত’ সঞ্চার সাথী অ্যাপ বাধ্যতামূলক বসানো থেকে আপাতত সরে এসেছে। চুরি হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের অবস্থান নির্ণয়ের জন্যে প্রাথমিকভাবে তৈরি এই অ্যাপটি মোবাইল ফোনকে পরিবর্তিত করতে চাইছিল ব্যবহারকারীর গতিবিধিকে নজরদারিতে আনার যন্ত্রে। অর্থাৎ কার সাথে সে কথা বলছে কোথায় যাচ্ছে, তার ইমেল এবং যা কিছু ফোনে রক্ষিত আছে, এই সমস্ত কিছুকে নজরদারির আওতায় আনতে। অন্যভাবে বললে, প্যাগাসাসের সমতুল্য একটি অ্যাপ মোবাইলে ফোনে স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার যার প্রবেশাধিকার থাকবে সমস্ত তথ্যভাণ্ডারে এবং যাকে কোনও অবস্থাতেই নিষ্ক্রিয় বা মুছে ফেলা যাবে না। এই পদক্ষেপকে অরওয়েলীয় অভিহিত করে প্রাক্তন দায়রা বিচারক ও আইনজীবী ভরত চুঘ বলেছেন, কথোপকথন, বার্তা বিনিময় এবং তথ্যভাণ্ডারে অবাধ প্রবেশাধিকার নিয়ে সক্রিয় থাকা অপসারণ অক্ষম এই অ্যাপ কার্যত পেছনের দরজা দিয়ে আমাদের ওপর স্থায়ী নজরদারির ঝুঁকিই তৈরি করবে।
সঞ্চার সাথীর প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল চুরি বা বেহদিশ হওয়া মোবাইল খোঁজা, যা একটি সাধারণ ব্যাপার। প্রত্যেক মোবাইল ফোনেরই একটি যন্ত্র সংখ্যা থাকে যার পোশাকি নাম আইএমইআই নম্বর বা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট নাম্বার যার ফোনে ব্যবহৃত সিমের সাথে সম্পর্কহীন। সঞ্চার সাথী অ্যাপ যে কোনও ফোনের একই সাথে আইএমইআই এবং সিম নম্বরের নজরদারি করে। মোবাইল হারানো যখন নথিভুক্ত হয়, তখন ওই আইএমইআই নম্বরটি ভারতীয় দূরসঞ্চার বিভাগের কালো তালিকায় চলে যায় এবং ফোন পুনরুদ্ধার হয়ে আবার মালিকের হতে ফিরলেই সেটা পুনর্ব্যবহারে আসে।
ফলে সঞ্চার সাথীর এই প্রয়োগ ব্যবহারকারী বা গোপনীয়তার সম্পর্কিত গোষ্ঠীগুলির মধ্যে তখন ততটা আপত্তির জন্ম দেয়নি। এই অ্যাপের উদ্দেশ্য ছিল সুনির্দিষ্ট এবং সংক্ষিপ্ত। একে স্থাপন ও ব্যবহারের বিষয়টি ছিল ব্যবহারকারীর ইচ্ছাধীন। সমস্যা দাঁড়ালো যখন বেহদিশ হওয়া ফোনের অবস্থান নির্ণয় থেকে অ্যাপের কাজের পরিধি প্রসারিত হয়ে প্রবেশ করল পুরোদস্তুর নজরদারিতে। এই পরিবর্তিত ব্যবস্থাপনায় ব্যবহারকারী যা যা করবে, তার সবটার ওপর নজরদারি করা যাবে। কোথায় তিনি গেলেন বা কার সাথে সাক্ষাৎ হল, সশরীরে বা অনলাইনে, সবটার ওপরই নজর রাখতে পারবে এই পরিবর্তিত অ্যাপ। সবচেয়ে খারাপ বিষয়টি হচ্ছে, নিজের ফোনে এই অ্যাপ নিষ্ক্রিয় বা মুছে দিয়ে এর হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। অন্যভাবে বললে, প্রস্তাবিত এই নতুন সঞ্চার সাথী সঞ্চারসীমার আওতায় থাকা মোবাইল ফোনের অবস্থান নির্ণয় থেকে রূপান্তরিত হবে সরকারের ইচ্ছামত আড়ি পেতে ব্যক্তিগত তথ্য পাচার করার ব্যবস্থাপনায়। এর সুবাদে সরকারি কর্তৃপক্ষ চাইলেই হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল সহ অন্যান্য সমস্ত অ্যাপের মাধ্যমে হওয়া ব্যবহারকারীর সমস্ত যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডারেও প্রবেশাধিকার পেয়ে যাবে।
রাজ্য সরকারের পুলিস বিভাগ সহ অন্তত ১০টি কেন্দ্রীয় সংস্থা রয়েছে যারা একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের অনুমোদন ক্রমে যে কোনও ব্যক্তির ফোনে আড়ি পাততে পারে। ফলে কোনও কারণে নজরদারিতে থাকা ব্যক্তির ফোনে আড়ি পাতার বিধিসম্মত ব্যবস্থাই বিদ্যমান ছিলই। প্রস্তাবিত নতুন সঞ্চার সাথী অ্যাপ দূরভাষের সঞ্চারসীমার আওতায় হওয়া কথোপকথনে আড়িপাতার চেয়েও আরও বহুদূর অবধি বিস্তৃত হবে। এমনকী মোবাইল ফোনে থাকা ক্যামেরা বা মাইক্রোফোনকে নিয়ন্ত্রণে এনে জিপিএস বা বৈশ্বিক অবস্থান নির্ণয় এবং কাছাকাছি অন্য কোনও ফোন থাকলে সেটাও দেখার সক্ষমতা হবে। যার অর্থ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ফোনটি পরিণত হবে রাষ্ট্রের সবকিছু দেখতে পারার চোখে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী ফোনে এই অ্যাপটি স্থাপন করার জন্যে ব্যবহারকারীর কোনও আগাম অনুমতিরও প্রয়োজন নেই। ভারতে বিক্রয় করা সমস্ত ফোনে নির্মাণকারী সংস্থাকেই বাধ্যতামূলকভাবে এই অ্যাপটি আগাম বসিয়ে দিতে হবে। বেন্থাম কথিত প্যানোপটিকন বা সর্বদৃশ্যমান কারাগার এভাবে সত্যিকারের বাস্তব চেহারা পাবে আজকের বৈদ্যুতিন পৃথিবীতে। যেখানে সমস্ত নাগরিক সর্বক্ষণ সর্বদর্শী রাষ্ট্রের নজরে থাকবে।
ইংরেজ দার্শনিক ও আইনজ্ঞ জেরেমি বেন্থাম ভেবেছিলেন কীভাবে এমন একটি কারাগার নির্মাণ করা যায় যেখানে বন্দীরা সর্বক্ষণ রক্ষীদের নজরদারিতে থাকবে যা শৃঙ্খলা কায়েম করবে কারাগারে। তাঁর ভাবনায় ছিল একটি প্যানোপটিকন মানে এমন একটি স্থাপনা যেখানে বন্দিরা সর্বক্ষণ থাকবে রক্ষীদের দৃষ্টিসীমায়। ঘটনাচক্রে, আজকাল সব কারাগারেই ক্যামেরা বসানো থাকে এবং এমনকী যারা বিচারাধীন তারাও সর্বক্ষণ থাকে ক্যামেরা নজরদারিতে। ফলে বেন্থামের প্যানোপটিকন নির্মাণ স্থাপত্যে না-হলেও আধুনিক প্রযুক্তিগত বিকাশের সুবাদে সম্ভব হয়েছে।
সঞ্চার সাথীর প্রথম অ্যাপটি কী বা জনগণের চাপে প্রত্যাহৃত দূরসঞ্চার বিভাগের প্রস্তাবিত নতুন অ্যাপের বৈশিষ্ট্যগুলিই বা কী কী? দ্য ওয়ার-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে অপার গুপ্ত বলেছেন, সঞ্চার সাথীর প্রথম অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে একজন ‘জানতে পারে তার মোবাইল নম্বরকে কারা ওই মুহূর্তে ব্যবহার করছে। আবার তার মোবাইল সেটটি জাল না আসল সেটাও পরখ করা যায় এই অ্যাপের মাধ্যমে’। মোবাইল কেনার সময় যে অভিন্ন আইএমইআই নম্বরটি পাওয়া যায় সেটা সঞ্চার সাথীর ওয়েবসাইটে থাকা প্রকৃত নম্বরের সাথে মিলছে কিনা এবং ফলে মোবাইল যন্ত্রটি আসল না ‘দু’নম্বরী’ সেটাও বোঝা যায়।
নতুন সঞ্চার সাথী অ্যাপ আমাদের ফোনে থাকা ক্যামেরা, মাইক্রোফোন এবং অবস্থান নির্ণায়ককে আমাদের উপর নজরদারি চালানোর হাতিয়ারে পরিণত করতে চাইছে। আমরা জানি মোবাইল ফোন নামক যন্ত্রটি এমনিতেই বহুবিধ সক্ষমতা সম্পন্ন। এটাকে ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন হিসেবে ব্যবহার করা যায়, আবার বৈশ্বিক অবস্থান নির্ণায়ক বা জিপিএস-এর সাহায্যে গতিবিধি অনুসরণের কাজেও ব্যবহার করা যায়। প্রস্তাবিত সঞ্চার সাথী অ্যাপ চালু হলে প্রতিটি মানুষের ফোনে থাকা সমস্ত তথ্য অবাধ প্রবেশাধিকার পেয়ে যেত। মিডিয়ানামা লিখেছে,‘এই অ্যাপ যোগাযোগ তালিকা, ধারণকৃত ধ্বনি, কথোপকথন ও তথ্যভাণ্ডার পরিবর্তন সহ সমস্ত বিষয়ে অত্যধিক প্রবেশাধিকার চায়। এই প্রবেশাধিকার শেষ পর্যন্ত ওই অ্যাপকে কার্যত ফোনে যে কোনও ফাইল প্রবেশ করানো বা মুছে ফেলার অধিকারও দিতে পারে। এই অ্যাপের নির্মাতারা কেউ স্পষ্টভাবে জানে না কোন প্রয়োজনে এমন প্রবেশাধিকার চাওয়া হচ্ছে এই অ্যাপে।’ অন্যভাবে বললে, অ্যাপের উদ্দেশ্য যদি হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া মোবাইল খুঁজে বের করা বা মোবাইল সেটটা আসল না নকল সেটা যাচাই করাই হয়, তবে দূরসঞ্চার কর্তৃপক্ষ তরফে এই বাড়তি প্রবেশাধিকার ফোন নির্মাতাদের কাছে চাওয়ার আদৌ কি কোনও প্রয়োজন আছে?
দূরসঞ্চার কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকায় মোবাইল নির্মাতাদের বলা হয়েছে মোবাইলে সেই সেই অ্যাপকে এমন ব্যবস্থায় আগাম স্থাপন করতে যাতে সেটাকে নিষ্ক্রিয় বা মুছে ফেলার পথ বন্ধ থাকে। ফলে ব্যবহারকারীরা চাইলেও এই অ্যাপ নিষ্ক্রিয় করতে বা মুছে ফেলতে পারবেন না, এমনকী সাময়িকভাবেও না। এই অ্যাপ মোবাইল ফোনকে বাধ্য করবে সর্বক্ষণ ব্যবহারকারীর উপর নজরদারি করতে এবং সঞ্চার সাথীর ওয়েব সাইটে সেই তথ্যগুলি প্রেরণ করতে। তার মানে এই অ্যাপকে অনুমতি দেওয়াই থাকবে ব্যবহারকারীর ওপর গোয়েন্দাগিরি করতে এবং তার সমস্ত তথ্য সরকারকে পাঠাতে। যে-নির্দেশিকাটি মোবাইল নির্মাতারা সম্ভবত ২১ নভেম্বর, ২০২৫ পায় সেটা জনসমক্ষে এসেছে রয়টার-এর একটি প্রতিবেদনের দৌলতে।
একমাত্র সরকারই জানে, কেন নিয়মাবলীর এত বড়ো একটি পরিবর্তন সম্পর্কে জনগণের অভিমত যাচাই হল না বা দেশের সংসদকে অবহিত করা হল না। আমরা এখানে এই আলোচনায় যাব না, মোবাইল ব্যবহারকারীদের অধিকারের সীমায় এমন একটি হস্তক্ষেপ করার অধিকার সরকারের আদৌ আছে কিনা কিংবা এমন গোপনীয়তায় এই কাজ করতে পারে কিনা। প্রকৃত সত্য হল, যখন অ্যাপল বা সামসুঙের মতো নির্মাতারা এই অ্যাপের প্রাক-স্থাপন নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করল তখনই জনসমক্ষে এলো গোটা বিষয়টি।
মোবাইল নির্মাতাদেরই বা আপত্তিটা কোথায়? তাদের আপত্তির রয়েছে দুটি দিক। এক, এই ব্যবস্থাপনায় মোবাইল ফোনের কর্মদক্ষতা অনেকটাই হ্রাস পাবে এবং সেটা ফোনের নিরাপত্তা প্রাচীরে বহু ‘ছিদ্রের’ জন্ম দিয়ে কার্যত পেছনের দরজা উন্মুক্ত করবে। দুই, এই নির্দেশিকায় ওই অ্যাপের ব্যবহারযোগ্যতা, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, অবিরত তথ্য সরবরাহের জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যান্ডউইথ কিংবা সরকারি ওয়েবসাইটে তথ্য সরবরাহের বিষয়টি ফোনের কর্মদক্ষতায় কতটা প্রভাব ফেলবে সে-সম্পর্কে কোনও উল্লেখ করেনি। এই অ্যাপের কার্যাবলী ব্যাটারির চার্জের মেয়াদ কমিয়ে ফোনের কর্মক্ষমতার হ্রাস ঘটাবে। আমরা যারা উপভোক্তা আমাদেরও রয়েছে বাড়তি প্রশ্ন, আমাদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করার জন্যে সরকারি ওয়েবসাইটে তথ্য পাচার করতে যে ডাটা ব্যয়িত হবে তার খরচ কি আবার আমাদেরকেই বহন করতে হবে?
অ্যাপটির নিজের সুরক্ষার বিষয়টিই বা কেমন? এটা যে সহজেই হ্যাক করা যাবে না এবং সাইবার অপরাধীরা যে এই অ্যাপে অনুপ্রবেশ করে আমাদের ফোন হ্যাক করে বসবে না তার যাচাই কে করবে? ফলে অপরাধীদের হাত থেকে আমাদের বাঁচানোর বদলে, উল্টে এটা কি শুধু সরকারই নয়, সাইবার অপরাধীদেরকেও পেছনের দরজা দিয়ে আমাদের অন্দরে সিঁদ কাটার সুযোগ করে দিচ্ছে না? আন্তর্জাল ও দূরসঞ্চার সম্পর্কিত বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে সম্মানিত আইনজীবী মিশি চৌধুরী দেখিয়েছেন, ‘প্রবেশাধিকারের মাত্রার নিরিখে বলা যায় আগাম বসানো অ্যাপ অনেক বেশি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে দাঁড় করাবে আমাদের’। তিনি আরও বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি পদক্ষেপ যার ফলে পন্য ক্রয়কালীন ব্যবহারকারীর স্বাধিকার এবং রাষ্ট্র আরোপিত নিরাপত্তার বাঁধনের মধ্যে থাকা বিদ্যমান ভারসাম্যটি সম্পূর্ণ বদলে যাবে।’
উপরে যা আলোচিত হয়েছে সেগুলি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও বেশি গুরুত্বের বিষয় হল যে আমাদের দূরসঞ্চার ব্যবস্থায় এত বড়ো একটি কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটানো হচ্ছে সংসদে কোনও ধরনের আলাপ আলোচনা ছাড়াই, যা হলে অন্তত গোটা বিষয়টার একটি নিরপেক্ষ পর্যালোচনা হতে পারত। এসব না-করে মন্ত্রক থেকে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে এই দেশে মোবাইল তৈরি বা বিপণন করতে হলে এই অ্যাপ ফোনে আগাম স্থাপন করতে হবে। শোনা যাচ্ছে, একইভাবে সরকার নাকি নির্দেশ দিয়েছে যাতে ‘অধিকতর নজরদারির জন্যে’ ফোনগুলিকে উপগ্রহ-ভিত্তিক অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থার উপযোগী করতে। আমাদের এটাও দেখা উচিত, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংক্রান্ত মামলায় বিচারপতি পুত্তাস্বামী প্রদত্ত ঐতিহাসিক রায়ের পর আমাদের বিচার কাঠামোর অধীনস্থ দূরসঞ্চার ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত আইনগুলিতে এমন পরিবর্তন ঘটানোর বৈধতা আদৌ আছে কিনা।
জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া এবং মোবাইল নির্মাতাদের চাপে সরকার তাদের নির্দেশিকা প্রত্যাহারে বাধ্য হয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বা মোবাইল নির্মাতাদের সাথে সুরক্ষা, কর্মদক্ষতা এবং বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা ব্যতিরেকে নেওয়া এই আনাড়ি পদক্ষেপটি হয়তো সরকারকে গিলতে হয়েছে। কিন্তু মোবাইল ফোনে বাধ্যতামূলক নজরদারির ব্যবস্থা স্থাপনের প্রশ্নটি এখনও দৃশ্যপটে বর্তমান। একমাত্র জনগণের অতন্দ্র প্রহরাই পারবে সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে মানুষের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে।
ভাষান্তর: শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার
ঋণ: পিপলস ডেমোক্র্যাসি
প্রকাশের তারিখ: ২০-ডিসেম্বর-২০২৫
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
