Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

এ রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্র: দেড় দশকের চালচিত্র (দ্বিতীয় পর্ব)

বিষাণ বসু
বরাদ্দ যাই থাক, ওই অর্থ বর্ষেই স্বাস্থ্যসাথী বাবদ খরচ হয়েছিল ২২৬৩ কোটি টাকা। পরের বছর খরচ হয়েছিল ২৬০০ কোটি টাকারও বেশি, তার পরের বছর প্রায় ২৭০০ কোটি টাকা। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, প্রকল্পের শুরু থেকে ধরলে গত বছরের শেষ অবদি রাজ্য সরকার স্রেফ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পেই খরচ করেছেন তের হাজার কোটি টাকারও বেশি।প্রায় নিশ্চিত হয়েই অনুমান করা যায় যে, এই তেরো হাজার কোটি টাকার বেশির ভাগটাই পৌঁছেছে বেসরকারি হাসপাতালের কোষাগারে। যদিও টাকাটা জনসাধারণের করের টাকা!
A Decade and a Half Overview of Healthcare in the State Part II
প্রথম পর্বের পর

আপনাদের কারও কারও হয়তো মনে আছে যে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার উন্নতিসাধনের লক্ষ্যে একটি ‘হাই-পাওয়ার কমিটি’ গঠন করেছিলেন। আপাতদৃষ্টিতে উদ্দেশ্য মহৎ কেননা, সে-সময় জনস্বাস্থ্যের বিভিন্ন সূচকে আমাদের রাজ্য দেশের প্রথম সারিতে থাকলেও রাজ্যের সরকারি চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে জনমানসে যথেষ্ট অসন্তোষ ছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ২০১১ সালের সেনসাসে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মৃত্যুহার ছিল সবচেয়ে কম, জন্মহার নিয়ন্ত্রণের সূচক টোটাল ফার্টিলিটি রেট ছিল দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন, শিশু-মৃত্যুর বিভিন্ন সূচক যেমন নিওন্যাটাল মর্টালিটি রেট, ইনফ্যান্ট মর্টালিটি রেট, আন্ডার-ফাইভ মর্টালিটি রেট, তিনটিতেই রাজ্যের স্থান ছিল জাতীয় গড়ের চাইতে ঢের উন্নত। আমরা ছিলাম শ্রেষ্ঠত্বের তালিকায় চার নম্বরে। মধ্যবিত্ত বাঙালি সরকারি হাসপাতালে আসা কমিয়েছে সেই গত শতকের নব্বইয়ের দশকের পর থেকেই তখনও তাঁরা সবাই বড়ো প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সাহস বা সামর্থ্য সঞ্চয় করে উঠতে না-পারলেও, তাঁরা নার্সিংহোমে চিকিৎসা করাতেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। আর যে কোনো ব্যবস্থার ত্রুটিবিচ্যুতি, অব্যবস্থা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে সোচ্চার হন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত নাগরিকরাই, আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শোষিত-বঞ্চিত-হতদরিদ্ররা সবকিছুই মেনে নিতে অভ্যস্ত হয়ে যান। তদুপরি, শিক্ষার সুবাদে তাঁদের ক্ষমতা থাকে সেই ক্ষোভ-বিরক্তির কথাটা যথাস্থানে পৌঁছে দেবার। এমতাবস্থায় মধ্যবিত্ত-সমাজ সরকারি হাসপাতাল বিমুখ হলে হাসপাতালের পরিচালনগত অব্যবস্থা বা ত্রুটিবিচ্যুতি প্রকাশ্যে আসা কমে যায় ত্রুটিগুলো ক্রমেই বড়ো হতে থাকে। সুতরাং সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার হাল খতিয়ে দেখে কীভাবে সেই ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা যায়, সরকারি স্তরে এমন ভাবনা সাধুবাদ জানানোর মতো। 

কিন্তু সরকারি হাসপাতাল এবং বেসরকারি হেলথকেয়ার দুইয়ের মধ্যে মূলগত প্রভেদ রয়েছে। ঝলমলে প্রাইভেট হাসপাতাল বনাম রঙচটা সরকারি হাসপাতাল আপাতদৃষ্টিতে ফারাকটা বহিরঙ্গে কিংবা ম্যানেজমেন্ট দক্ষতায়, কিন্তু মূল ফারাক লক্ষ্যে। একটির উদ্দেশ্য, বাজেটের সীমাবদ্ধতার মধ্যেই যথাসম্ভব বেশি সংখ্যক মানুষকে সুস্থতার পথে আনা; অপরটির লক্ষ্য, অর্থোপার্জন এবং সেই অর্থোপার্জনের সর্বোত্তম উপায় হল আগত রোগীদের চিকিৎসা করে চলা, যত গুরুতর রোগ এবং যত বেশিদিন চিকিৎসা করানো যায় অর্থোপার্জনের সুযোগ ততই বেশি। সুতরাং জনস্বাস্থ্য কিংবা রোগ-প্রতিরোধ নিয়ে বেসরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার বিশেষ ভাবনা থাকার কথা নয় কেন-না রোগ না-হলে চিকিৎসা করার সুযোগ নেই, আর চিকিৎসা না-হলে অর্থোপার্জনের সুযোগ নেই। রোগ-প্রতিরোধ বলতে তাঁরা বোঝেন বিভিন্ন ধরনের চেক-আপ, যা কিনা সুস্থ মানুষকে বিভিন্ন ধরনের ব্যয়বহুল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে ফেলা, সে-ও আরেকভাবে অর্থোপার্জনের সুযোগ। এ-বিষয়ে বিশদ আলোচনা বর্তমান নিবন্ধে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে, তাই প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক। মোদ্দা কথাটা হল, সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা ও বেসরকারি চিকিৎসা-ব্যবস্থা, দুটি যেহেতু উদ্দেশ্যগতভাবে ভিন্ন, সেহেতু দুইয়ের পরিচালনব্যবস্থা ভিন্ন হতে বাধ্য। এবং সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা যত নড়বড়ে হয়, বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবসার ততই রমরমা হতে পারে। কেন-না সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল জনস্বাস্থ্য ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য। লক্ষ্য এই, যাতে রোগ যথাসম্ভব কম হয় এবং হলেও তা যেন শুরুতেই ধরা পড়ে, যাতে স্বল্প-আয়াসেই সে-অসুখ সারিয়ে তোলা যায় আর সেটি ঠিকঠাক করে চললে বেসরকারি হাসপাতালে যথেষ্ট সংখ্যায় খরিদ্দার জোটে না (রোগী যেখানে চিকিৎসা কিনতে যান, সেখানে তিনি খরিদ্দার বইকি)। সুতরাং, সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা নড়বড়ে হলে বেসরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবসার লাভ, এমনকি সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে তোলার ব্যাপারে বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবসায়ীদের রীতিমতো ‘ভেস্টেড ইন্টারেস্ট’ রয়েছে। এমতাবস্থায়, সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার পরিচালকদের দায়িত্ব হওয়া উচিত, সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাটিকে যথাসম্ভব কুশলী করে তোলা, যথেষ্ট পরিমাণ অর্থের জোগান দিয়ে চলা এবং সেই অর্থ যাতে ফুটো পাত্রস্থিত জলের মতো এদিক-ওদিক বেরিয়ে অপচয় না-হয়ে ঠিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে, তা দেখা। দেশের একটি অঙ্গরাজ্যের শাসন ক্ষমতায় বসে কোনো সরকারেরই সাধ্য ছিল না এবং নেইও বেসরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার উত্তরোত্তর ফুলেফেঁপে ওঠার পথ বন্ধ করা। কিন্তু অসুস্থ মানুষের চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে ব্যবসা যাতে অনৈতিক ও লাগামছাড়া না-হয়ে ওঠে, সেই নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করাটাও সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হওয়া উচিত। যদিও সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাম সরকারের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ, এতদসত্ত্বেও নির্মোহ দৃষ্টিতে আত্মসমালোচনার ভঙ্গিতে পূর্ববর্তী সময়কালকে বিচার-বিশ্লেষণ করা জরুরি; সেটাই বামপন্থীদেরই কর্তব্য।    

ফলে মোদ্দা কথাটা হল, রাজ্য কিংবা কেন্দ্র, যে-কোনো সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাকে যথাসম্ভব মজবুত (গুণমান, দক্ষতা এবং অ্যাক্সেসিবিলিটি, সবদিক থেকেই) করা এবং বেসরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার উপর নজরদারি বজায় রাখা। পূর্বতন সরকারের আমলে স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছিল বটে, কিন্তু সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা সর্বাঙ্গসুন্দর ছিল এমন দাবি অতি বড়ো বাম সমর্থকও করবেন না। সুতরাং, সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে রাজ্যের নতুন সরকার চটজলদি একটি কমিটি গঠন করলেন তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু ছিল না কিন্তু চমৎকৃত হলাম এই দেখে যে, সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে নিবেদিত যে কমিটি সেই কমিটিতে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের বড়ো অংশই বেসরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং অধিকাংশেরই সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। অর্থাৎ সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা কোন্‌ পথে উন্নত হতে পারে, সে-বিষয়ে উপদেশ দিতে এলেন বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তারবাবুরা।

কোনো বিষয়ে উপদেশ গ্রহণের জন্য বাইরে (সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা বিষয়ে উপদেশ দেবার জন্য বেসরকারি ডাক্তারবাবুদের নেমন্তন্ন করা হলে তাঁরা ‘বাইরের লোক’ বইকি!) থেকে কাউকে ডেকে আনার অর্থ কী? উত্তরটা খুবই সহজ। যাঁকে ডেকে আনা হয়েছে, তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এখানে যাঁরা রয়েছেন তাঁদের তুলনায় অধিক জ্ঞানী বা অভিজ্ঞ। একইভাবে, রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা বিষয়ে উপদেষ্টা হিসেবে যদি বেসরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার ডাক্তারদের নেমন্তন্ন করা হয়, তাহলেও জনসাধারণের কাছে ওই একই বার্তা যায় বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররা সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের তুলনায় অধিক দক্ষ বা পারদর্শী।

আগের সরকারের আমলে অধিকাংশ নেতা-মন্ত্রীরা অসুস্থ হলে ভর্তি হতেন সরকারি মেডিকেল কলেজে (সাধারণত পিজি হাসপাতালে)। মনে আছে যে কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, উৎপল দত্ত, শান্তিদেব ঘোষ প্রমুখ বিখ্যাত মানুষরাও পিজি-তেই ভর্তি হতেন; যদিও বেলভিউ, উডল্যান্ডস, কোঠারি, সিএমআরআই ইত্যাদি অনেক বছর ধরেই ছিল। নারায়ণা, অ্যাপোলো, ফর্টিস অবদি বাম-আমলেই তৈরি হয়। কিন্তু নতুন সরকারের আমলে দেখলাম, মন্ত্রী-সান্ত্রীরা তো বটেই, এমনকি ছুটকো নেতারা অবদি কর্পোরেট হাসপাতাল বাদে চিকিৎসা করাতে চান না (অথচ, সিবিআই-ইডি তাড়া করলেই তাঁরা আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সে-সময় সে-ধরনের ‘অসুস্থতা’-র চিকিৎসার জন্য পিজি-র উডবার্ন ওয়ার্ডের চাইতে উপযুক্ত হাসপাতাল খুঁজে পাওয়া যায় না!)। একদিকে সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার উপদেষ্টা হিসেবে বেসরকারি হাসপাতালের ‘নামী চিকিৎসক’-দের নিয়োগ, আরেকদিকে নেতা-মন্ত্রীদের চিকিৎসার দরকার পড়লে কর্পোরেট হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং এর সঙ্গে সিবিআই-ইডি তাড়া করলেই রাজ্যের সর্বোচ্চ সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে নেতাদের ভর্তি হওয়া নিয়ে সর্বসাধারণের হাসাহাসি সার্বিকভাবে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থারই সম্মানহানি করে। দুইয়ে মিলে বেসরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা যে আদতেই উন্নততর, এমন বিভ্রম জনসাধারণের চোখে অনপনেয় সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল।

সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি পরামর্শক্রমে সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার উন্নতি সাধন প্রকল্প শুরু হয়ে গেল। উপদেষ্টারা প্রাইভেট হাসপাতালে সাপে-কাটা, অপুষ্টি, পেট-খারাপ ইত্যাদির চিকিৎসা করেন না; সুতরাং তাঁদের মনে হল, গ্রামেগঞ্জে গরীবগুর্বোদের জীবনে অভাব যদি কিছু থাকে, তা হল হাইটেক চিকিৎসা ও ‘স্পেশালিষ্ট’-এর। দিকে দিকে গজিয়ে উঠল মস্ত বড়ো বড়ো বিল্ডিং— সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল স্পেশালিষ্ট নিয়োগ না-করেই। রঙচঙে সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতালের পাশে টিমটিম করে চলা গ্রামীণ হাসপাতালের সরকারি ডাক্তারবাবু এমনকি জনসাধারণের চোখেও হয়ে উঠলেন ছাই-ফেলতে-ভাঙা-কুলো গোত্রের অনুকম্পার পাত্র— মিডিয়ার চোখে ‘পাতি এমবিবিএস’। এই অবজ্ঞার অভিঘাত যে কতখানি গভীর তার প্রমাণ মেলে সরকারি ‘দুয়ারে ডাক্তার’ প্রকল্পের আপাতদৃষ্টিতে যা সাফল্য সে-নিয়ে একটু খুঁটিয়ে ভাবলেই; শহরের মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা রোগী দেখতে আসবেন খবর পেলেই গ্রামের রোগীদের ঢল নামে, যদিও সে-সব অঞ্চলে গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসকরা সারাবছর ধরেই যথাসাধ্য সুচিকিৎসা করে থাকেন।

বেসরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার তুলনায় সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা দ্বিতীয়-শ্রেণির এই কথাটুকু সর্বসাধারণের মনে গেঁথে দিতে সক্ষম হওয়ার ঠিক পরেই চালু হল স্বাস্থ্যসাথী। জনসাধারণের করের টাকা ঘুরপথে বেসরকারি মালিকের পকেটে স্থানান্তরিত করার এর চাইতে উপযুক্ত উপায় কল্পনা করা কঠিন (কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’-ও একই ব্যাপার)।

সরকারি ডাক্তাররা সেকেন্ড ক্লাস ডাক্তার; বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যারা অক্ষম শুধু তারাই সরকারি হাসপাতালে যায়— সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা প্রতিষ্ঠিত করা গেলেও, রাজ্যের অধিকাংশ মানুষ যেহেতু গরীব (কর্মসংস্থান নেই, চিটিংবাজি, তোলাবাজি বাদে আয়ের উপায় নেই। আর ভাতার টাকায় কর্পোরেট হাসপাতালে চিকিৎসা করানো যায় না), সেহেতু রাজ্যের অধিকাংশ নাগরিকই বেসরকারি হাসপাতালের খরিদ্দার হয়ে উঠতে পারছিলেন না। প্রায় নাচার হয়েই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে একরকম বাধ্য হতে হলে যা হয়, তাঁদের সেই সরকারি হাসপাতালে আসার মধ্যে মিশে থাকে বিরক্তি, এক ধরনের হতাশাও। আর চিকিৎসায় কাঙ্ক্ষিত ফল না-মিললেই মনে হয়, ‘বড়ো হাসপাতালে’ [বেসরকারি] নিয়ে যেতে পারলেই সেখানে সব অসুখের নিরাময় সম্ভব। প্রান্তিক সরকারি হাসপাতালে বেড়ে চলে ভাঙচুর, অশান্তির ঘটনা এমনি কী চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের মারধর করার ঘটনাও সকলের জানা।

এই মোক্ষম মুহূর্তে সরকারবাহাদুর ঝুলি থেকে বের করেন— স্বাস্থ্যসাথী। হোক না হতদরিদ্র, পাঁচতারা হাসপাতালের কাচের দরজা খুলে যাবে তাঁর জন্যও।

২০২১ সালের বাজেট যদি দেখি, সেখানে স্বাস্থ্যখাতে রাজ্য সরকার বরাদ্দ করেছেন মোট ১৬৩৬৮ কোটি টাকা। তার মধ্যে ১০৯২২ কোটি টাকা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের খাতে বরাদ্দ, ৫২৪৬ কোটি টাকা প্রাথমিক স্বাস্থ্যখাতে (যদিও সকলেই জানেন যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যখাতে খরচ বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদে বড়ো অসুখগুলোর চিকিৎসাখাতে ব্যয় কমানো সম্ভব)। এর পাশাপাশি ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের জন্য এবং বাজেটের বাইরে আরও ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের চিকিৎসার বিল মেটানোর জন্য।

বরাদ্দ যাই থাক, ওই অর্থ বর্ষেই স্বাস্থ্যসাথী বাবদ খরচ হয়েছিল ২২৬৩ কোটি টাকা। পরের বছর খরচ হয়েছিল ২৬০০ কোটি টাকারও বেশি, তার পরের বছর প্রায় ২৭০০ কোটি টাকা। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, প্রকল্পের শুরু থেকে ধরলে গত বছরের শেষ অবদি রাজ্য সরকার স্রেফ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পেই খরচ করেছেন তের হাজার কোটি টাকারও বেশি।প্রায় নিশ্চিত হয়েই অনুমান করা যায় যে, এই তেরো হাজার কোটি টাকার বেশির ভাগটাই পৌঁছেছে বেসরকারি হাসপাতালের কোষাগারে। যদিও টাকাটা জনসাধারণের করের টাকা!

যাঁদের কঠিন অসুখের চিকিৎসা হয়েছে স্বাস্থ্যসাথী স্কিমে এবং অনেকেরই সাধারণ অসুখ-বিসুখের চিকিৎসাও হয়েছে (যা এমনকি ব্লক লেভেলের হাসপাতালেও হওয়া সম্ভব ছিল, মেডিকেল কলেজগুলোতে তো বটেই) তাঁরা উপকৃত হয়েছেন, অবশ্যই। কিন্তু মাথায় রাখা জরুরি, এই খরচটা স্রেফ এককালীন বিল মেটানো গোত্রের খরচ, যার কোনো দীর্ঘমেয়াদি উপকারিতা নেই। এমনকি যাঁর চিকিৎসা হল তিনিও যদি পরের বার অসুস্থ হন, সে-ক্ষেত্রেও সরকার নতুন করে খরচ না-করে তাঁর দ্বিতীয় অসুস্থতার চিকিৎসা করাতে পারবেন না। অর্থাৎ এই বিপুল বিল-মেটানো, তা স্রেফ খরচই। অথচ টাকাটা যদি সরকারি স্বাস্থ্য-পরিকাঠামো উন্নত করার কাজে ব্যয়িত হত, তাহলে তার উপকার পেতে পারতেন অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ এবং পেতে পারতেন বছরের পর বছর ধরে। 

এত কথা এজন্যই, কেন-না রাজ্য সরকার স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজন অনুযায়ী যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ করে না। সর্বশেষ জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি অনুযায়ী, রাজ্য বাজেটের আট শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ হওয়ার কথা (অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকারের মুখে এত বড়োসড়ো প্রত্যাশা মানায় না, কেন-না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের ব্যাপারে সাধারণভাবে যে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে আমাদের দেশ বরাদ্দ করে তার অর্ধেক), সেখানে আমাদের রাজ্য বরাদ্দ করে এর অর্ধেকের একটু বেশি— বাজেটের সাড়ে চার শতাংশ, যা কেরালা, তামিলনাডু, রাজস্থান গোত্রের রাজ্যগুলোর থেকে পিছিয়ে তো বটেই, এমনকি জাতীয় গড়ের থেকে পিছিয়ে। এর সঙ্গে যোগ করুন, কেন্দ্রের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রকল্পের অর্থ খরচ করার ব্যাপারে সরকারের ব্যর্থতা। যেমন ধরুন, ২০২৩-২৪ সালে এই রাজ্যে কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্প বাবদ বরাদ্দ ছিল ৩২৭৭ কোটি টাকা। ১৮৭৩.৬৩ কোটি টাকা খরচ করা হয়ে গিয়েছে, আর ১৪০৩.৩৭ কোটি টাকা অর্থাৎ বরাদ্দ অর্থের প্রায় তেতাল্লিশ শতাংশই ফেরত গিয়েছে। মুশকিল হল, এসব প্রকল্প-ভিত্তিক বরাদ্দের টাকা নির্দিষ্ট খাত ভিন্ন ব্যয় করা যায় না এবং ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসেব দিতে হয়। নইলে আমরা আস্থা রাখতেই পারি, অপ্রয়োজনীয় সংখ্যক দামী কম্পিউটার কিনে বা স্বাস্থ্যকর্মীহীন গ্রামীণ হাসপাতালের সামনে মস্তবড়ো নীল-সাদা তোরণ নির্মাণ করে টাকা ঠিকই খরচ হয়ে যেত। কিন্তু সেসব কূট-প্রসঙ্গ বাদ দিয়েই বলি, রাজ্য সরকারের বাজেট-বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম। কেন্দ্রীয় সরকার যে প্রচুর টাকা দিচ্ছে এমনও নয়, তবু তার মধ্যে যেটুকু জুটছে সে-টুকুরও সদ্ব্যবহার না-করতে পারায় টাকা ফেরত চলে যাচ্ছে। তারপরও সরকার স্বাস্থ্যসাথী খাতে বছর বছর অনেকখানি টাকা খরচ করে ফেলছেন, যাতে সীমিত সংখ্যক মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে উপকৃত হলেও রাজ্যের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের নিরিখে তার কোনো দীর্ঘমেয়াদি লাভ নেই।

ফলে একদিকে স্বল্প বরাদ্দ এবং সেই স্বল্প বরাদ্দের অধিকাংশই হাইটেক চিকিৎসার পেছনে খরচ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করা হচ্ছে। আবার ওই স্বল্প বরাদ্দটুকুর মধ্যেও একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ সরকারি স্বাস্থ্যবীমার মাধ্যমে বেসরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবসাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তোলার কাজে ‘সাইফনিং’ হয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ করুন সরকারের তরফে, পরোক্ষ হলেও, নিরন্তর জারি রাখা বার্তা— বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাই সেরা এবং জনসাধারণের কাছে লাগাতার এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছে সরকারই যাতে সরকারি হাসপাতালগুলোও পাঁচতারা কর্পোরেট হাসপাতালের মতো হয়ে যায়। যতদিন অবদি তা সম্ভব না-হচ্ছে, ততদিন জনগণ যেন একটু কষ্ট করে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে নেন, স্বাস্থ্যসাথী আছে যখন তখন বিল সরকার মিটিয়ে দেবে। পরিস্থিতি সে-দিকে যাচ্ছে যখন ক্ষয়িষ্ণু সরকারি চিকিৎসাব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গিয়ে পাব্লিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ, ওরফে পিপিপি মডেলে, সরকারি হাসপাতাল বেসরকারি তত্ত্বাবধানে চালাতে দিলেও জনসাধারণের সম্বিত ফিরবে না কেন-না, স্বাস্থ্যসাথীর জোরে সবার গন্তব্য প্রাইভেট হাসপাতাল।

স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ব্যবহারকে বঙ্গজীবনের অঙ্গ করে তুলতে সরকার খুবই সচেষ্ট। যাতে এমনকি সরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল চিকিৎসার মানে, সরকার অনেকখানি ব্যয় করে কিন্তু চিকিৎসাটা রোগী ফ্রিতেই পান বেশ কিছুটা স্বাস্থ্যসাথী স্কিমে হয় সে নিয়ে সরকার অত্যন্ত উদগ্রীব। যদিও যে-চিকিৎসা ঘোষিতভাবে ‘ফ্রি’, তার জন্য কোনো রোগী কার্ডের লিমিট থেকে খরচ করতে যাবেন কেন? এই সরল প্রশ্ন রোগীর আত্মীয়স্বজন, চিকিৎসক কিংবা স্বাস্থ্য-প্রশাসক কেউই সাহস করে করছেন না। সরকারি হাসপাতালের মধ্যেই কর্পোরেট হাসপাতালের ধাঁচে স্পেশাল ‘হাসপাতাল’ চালু করার ব্যবস্থা হচ্ছে যাতে মধ্যবিত্ত বা উচ্চ-মধ্যবিত্ত সরকারি হাসপাতালেই প্রাইভেট হেলথ কেয়ারের আরাম পেতে পারে। অর্থাৎ, একই চত্ত্বরে একই চিকিৎসক (যাঁরা সরকারের বেতনভুক) তাঁরা দু-ধরনের স্বাস্থ্য-পরিষেবা দেবেন। সরকারি সিদ্ধান্তগুলো ঠিক কোন লক্ষ্য সাধনের জন্য নেওয়া হচ্ছে, তা বোঝা কি খুব কঠিন? সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার রাশ স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাতে থাকা সত্ত্বেও সরকারে আসীন শাসক দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা তাঁর নিজের লোকসভা কেন্দ্রে চালু করেন ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প (যা নাকি রাজ্যের অন্যত্রও আয়োজিত হবে)। সরকারি স্বাস্থ্য-কাঠামোর বাইরে অসরকারি হেলথ ক্যাম্প— যাতে নাকি রোগীর ঢল নামে— কেন এই উদ্যোগের প্রয়োজন হল? এমন ‘সেবাশ্রয়’ সর্বসাধারণের কাছে ঠিক কোন্‌ বার্তা পৌঁছে দেবার জন্য আয়োজিত হল? দেশের সব রাজ্যে আয়-বিচার-নির্বিশেষে সব নাগরিকের বিনে পয়সায় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। আমাদের গর্ব, এই রাজ্যে তেমন ব্যবস্থা ছিল এবং এখনও আছে। কিন্তু থাকবে কি? ক্ষমতায় এসে যে-সরকার সরকারি হাসপাতালের পেয়িং বেড (যে-সব বেডে নামমাত্র খরচে চিকিৎসা হত) তুলে দিল। আজ তারাই সরকারি হাসপাতালের মধ্যে আলাদা করে দামী ওয়ার্ড খুলছে! সে-ওয়ার্ডে কর্পোরেট হাসপাতালের তুলনায় খরচ অনেক কম হলেও (হ্যাঁ, ঘটা করে তেমন প্রচারই চলছে, কেন-না সরকারের সামনে বেঞ্চমার্ক বলতে কর্পোরেট স্বাস্থ্য-ব্যবসাই মডেল) স্পষ্টতই যার খরচ নিম্নবিত্ত তো দূর, নিম্ন-মধ্যবিত্তের সামর্থ্যের বাইরে। সরকারি হাসপাতালে তথাকথিত ফ্রিতে চিকিৎসা করাতে গেলেও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে বিলিং করানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কেন? পুরো স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাকে সরকার কোন্‌ দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তা আন্দাজ করা কি খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে?

লক্ষ করুন, এই নিবন্ধে রাজ্য জোড়া সর্বক্ষেত্রে ঢালাও দুর্নীতি, অর্থ নয়ছয় ইত্যাদি প্রসঙ্গে আমি কোনো আলোচনাই করলাম না। চিকিৎসার নৈতিকতা রক্ষিত হচ্ছে কিনা সে-সব দেখার দায়িত্ব যে মেডিকেল কাউন্সিলের, এই রাজ্যে তার শাসনভার যাঁদের হাতে, তাঁদের প্রায় প্রত্যেকের নামে দুর্নীতির অভিযোগ। নির্বাচনে জালিয়াতি, ডাক্তারদের ব্ল্যাকমেইল, তোলাবাজি, স্বজনপোষণ ইত্যাদি সবরকমের অভিযোগই বর্তমান মেডিকেল কাউন্সিলের বিরুদ্ধে রয়েছে। কাউন্সিলের বর্তমান সভাপতি আবার স্বাস্থ্য দফতরে নিয়োগেরও মাথা। মাঝেমধ্যেই শুনি ইডি তাঁর বাড়িতে বা নার্সিংহোমে তদন্ত করতে যাচ্ছেন। দুর্নীতির কথা নিয়ে আলোচনা করতে বসলে নিবন্ধ দীর্ঘতর হয়ে ছোটোখাটো পুস্তিকার দৈর্ঘ্যে পৌঁছে যাবে। কিন্তু ওসব দুর্নীতির চাইতেও ঢের বড়ো বিপদ হল, রাজ্য সরকার সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাটিকে যেখানে পৌঁছে দিতে চাইছে এবং সেই লক্ষ্যে সরকার খুব নিশ্চিত ও অবিচল পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে সেই বিপদকে চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ না-করা গেলে আগামী দিনে আমরা বড়ো সংকটে পড়ব। পড়বই।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বা মডার্ন মেডিসিন বলতে আমরা যা বুঝি, তার একেবারে আদিপুরুষদের অন্যতম হিপোক্রেটিস। চিকিৎসকের কর্তব্য বলতে তিনি যা বোঝাতে চেয়েছিলেন তা হল— “Declare the past, diagnose the present, foretell the future”

সবার নাগালের মধ্যে গ্রহণযোগ্য একটি সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা নির্মাণের লক্ষ্যে আমরা এগোচ্ছিলাম। দেশের একটি অঙ্গরাজ্যের শাসনে থেকে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলা সম্ভব না-হলেও চোখে পড়ার মতো উন্নতি করার জন্য একটানা চৌঁত্রিশ বছর সময় হিসেবে খুব কম নয়। পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকার বেশ কিছুদূর এগোলেও স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার উন্নতির ব্যাপারে যতখানি প্রত্যাশিত ছিল, তার কাছে পৌঁছাতে পারেনি।

বর্তমান সরকার খুব পরিকল্পিতভাবেই জনস্বাস্থ্যে আমাদের যেটুকু অর্জন তা ধ্বংস করে ফেলছে। বেসরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার মডেল শিরোধার্য করে সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাকে মুনাফাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার অনুসারী করে তুলছে এবং আবারও বলি, পুরোটাই হচ্ছে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে। দুর্ভাগ্য আমাদের রাজ্যের শিক্ষা-ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার পরেও রাজ্যের নাগরিকদের সম্বিত ফেরেনি। শিক্ষা-দীক্ষা না-জুটলেও কায়িক শ্রম দিয়ে বেঁচে থাকা যায়, ভাতার টাকায় সংসার-নির্বাহ হলেও হতে পারে। শাসক শ্রেণি ঠিক এমনই ভোটার-সমাজ নির্মাণ করতে চায়— যারা শিক্ষার আলোক বিহীন এবং ধর্ম ও উৎসবে মত্ত; কিন্তু অসুস্থতার সময়ে চিকিৎসা না-করানো গেলে কী হবে?

হিপোক্রেটিস যেমন বলেছিলেন— ‘Diagnose the present’, অর্থাৎ বর্তমানকে ঠিকভাবে চেনা। কিন্তু সেই চেনার পথে যা যা চিহ্ন জ্বলজ্বল করছে, তাতে তাঁর পরামর্শ মতো ভবিষ্যতের পূর্বাভাস (‘Foretell the future’) দিতে গিয়ে আশার কথা শোনাতে পারা তো দূর, রাজ্যের ভবিষ্যৎ সরকারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা তথা ভবিষ্যতে রাজ্যের নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য যে-আয়োজন থাকার সমূহ সম্ভাবনা, সে-সব কথা কল্পনা করতেও আতঙ্ক জাগে।

প্রকাশের তারিখ: ২৮-মার্চ-২০২৬
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নির্বাচন ২০২৬ বিভাগে প্রকাশিত ৭২ টি নিবন্ধ
০৪-এপ্রিল-২০২৬

০৩-এপ্রিল-২০২৬

০৩-এপ্রিল-২০২৬

০২-এপ্রিল-২০২৬

০১-এপ্রিল-২০২৬

০১-এপ্রিল-২০২৬

৩১-মার্চ-২০২৬

৩০-মার্চ-২০২৬

২৮-মার্চ-২০২৬

২৭-মার্চ-২০২৬