Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

কোনও এক গাঁয়ের বধূর কথা

প্রসূন ভট্টাচার্য
মমতা ব্যানার্জির অপটিক্স ট্যাকটিক্স নতুন নয়। যখন সমাজমাধ্যম ছিল না, নিউজ চ্যানেল ছিল না, তখনও ছিল। অপটিক্স পলিটিক্স— দক্ষিণপন্থী রাজনীতি, রাইটিস্ট পপুলিজমের চিরায়ত কৌশল। শোষণ কায়েম রাখার অন্যতম হাতিয়ার। মানুষকে সমস্যার মূলে যেতে না দেওয়া। প্রকৃত ইস্যুকে আড়াল করা।
Kono ek Gnayer Bodhur Kotha

ন’-দশ মাস আগের ঘটনা। কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসবাদীরা পর্যটকদের ওপর নৃশংস হামলা চালানোর পরে ভারতীয় সেনাবাহিনী যখন ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে সীমিত সামরিক অভিযান চালিয়েছিল, তার ঠিক পরেই আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামটিকে নিজেদের ব্যবসায় ট্রেড মার্ক হিসাবে ব্যবহারের জন্য আবেদন করেছিল বেশ কয়েকটি কোম্পানি। আবেদনকারীদের মধ্যে ‘জিও স্টুডিও’ও ছিল। সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে অবশ্য দেশজুড়ে ছিঃছিঃ রব উঠলে, ভারত সরকার আপত্তির কথা জানিয়ে দেয়। এবং আবেদনকারীরাও পিছিয়ে যায়। কিন্তু ঘটনাটি উল্লেখ্য, কারণ এটা প্রমাণ করে যে ব্যবসায়ীরা যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, মৃত্যু, দেশজুড়ে মানুষের ক্ষোভ উদ্বেগ ঘৃণা ইত্যাদির থেকে ফায়দা তুলতেও পিছপা হয় না। আরও নিখুঁতভাবে বললে ঘটনা যখন আলোড়ণ ফেলে দেয় তখন নীতিনৈতিকতাকে আমল না দিয়ে তার থেকেও ফায়দা তোলার জন্য, সংযোগহীন বিষয়কেও নিজেদের ব্র্যান্ড ভ্যালুতে জুড়তে মরিয়া হয়ে ওঠে কর্পোরেট ব্যবসায়ীরা।

এসআইআর’এর নামে নির্বাচন কমিশনের কাণ্ডকারখানা এখন মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। আরএসএস-বিজেপি’র রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা পূরণের জন্য সাংবিধানিক সংস্থাকে নামানো হয়েছে। এই যুদ্ধে মানুষের পক্ষে লড়াইতে যারা কোনও সময়েই ছিল না, তাঁরাও এখন নিজেদের লড়াকু ইমেজ, ব্র্যান্ড তৈরি করতে আদালতে কালো কোট পড়ে দৃশ্যমান হওয়ার চেষ্টা করছেন। ঐ ট্রেডমার্ক ছিনতাইয়ের মতোই একটি রাজনৈতিক অপচেষ্টা বলা যেতে পারে।

পহেলগামে মৃত পর্যটকদের ছিন্নভিন্ন দেহ কিংবা অপারেশন সিঁদুরের প্রেস ব্রিফিংয়ে বসা ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংদের মুখগুলি মনে করে দেখুন। সেদিন তাঁদের কৃতিত্ব হাইজ্যাক করে বিজেপি’র নেতারা দেশজুড়ে নিজেদের রাজনৈতিক প্রচার করেছিলেন, একাজ করেছিলেন সেই তাঁরাই যারা পহেলগামে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কোনও ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি।

যখন এসআইআর ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন এরাজ্যে এসআইআর করতে দেবেন না। পরে বলেছিলেন, বিধানসভা ভোটের পরে এসআইআর হোক। তাঁর ভাইপো তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি গত ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে বলেছিলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে থাপ্পড় মেরেছে। বিজেপির এসআইআর-এর খেলা শেষ।’ এই বয়ানগুলির কোনওটাতেই সত্য ছিল না। জনগণের হয়রানি বন্ধ হয়নি। তাই ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়ে বক্তব্য রাখলেন। তাতে মানুষের সুরাহা কিছু হলো না, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সেই ছবি প্রচারিত হলো সংবাদমাধ্যমগুলিতে ‘এসআইআর বিরোধী লড়াইয়ের মুখ’ বলে।

📲 এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে

একই উদ্দেশ্য নিয়ে অভিষেক ব্যানার্জির লেখা কবিতা হইহই করে প্রচার করেছে মিডিয়া। অথচ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ, তিনি আইনমাফিক সরকারি প্রশাসনিক কর্মী না জুগিয়ে নির্বাচন কমিশনকে যা খুশি তাই করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রশাসনের কর্মীদের বিরুদ্ধেই বেআইনী কাজের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে। এরাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের দুষ্কৃতীবাহিনী এবং পুলিশ বারবার বামপন্থীদের এসআইআর বিরোধী কর্মসূচীতে হামলা চালিয়েছে। ভোটার তালিকায় মৃত ও ভুয়ো ভোটারদের নাম রেখে দিতে তৃণমূলের সক্রিয়তাও প্রকাশ্যে দেখা গেছে। জনগণের হয়রানি বন্ধ করে, একটি যথাসম্ভব নির্ভুল ভোটার তালিকায় কোনও আগ্রহই তাঁদের দেখা যায়নি। বরং বিজেপি’র কথায় ওঠবোস করা নির্বাচন কমিশনের এসআইআর নামক বন্দুকের নলের সামনে জনগণকে বন্ধক রেখে তৃণমূল তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ব্যস্ততা দেখিয়েছে। তবুও সারা দেশের সামনে মিডিয়াতে প্রচার চলছে মমতা ব্যানার্জিই নাকি এসআইআর বিরোধী লড়াইয়ের নেত্রী!

বাংলার মানুষ কি এসআইআর’এর বিরুদ্ধে শুরু থেকেই লড়াই করেনি? এটা যে সত্য নয় তা স্পষ্ট হয়েছে এসআইআর শুরুর সময় থেকেই বামপন্থীদের নেতৃত্বে প্রতিবাদে, মানুষকে সাহায্য করতে এসআইআর শিবির পরিচালনায় এবং রেড ভলান্টিয়ারদের কার্যকলাপে। যে রাজ্যে বামপন্থীরা আক্রান্ত, সকাল বিকেল ‘শূন্য’ বলে প্রচারের নামে যাবতীয় রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেই বামপন্থীদের লড়াই শুরু থেকেই জারি ছিল। যথাসম্ভব সর্বাত্মকভাবে। রাস্তায় এবং আদালতেও।

হ্যাঁ, আদালতেও। যে মামলায় সুপ্রিম কোর্টে কালো কোট পরে হাজির হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এখন নিজেকে দৃশ্যমান করার চেষ্টা করেছেন, এসআইআর বিরোধী লড়াইতে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের মরিয়া চেষ্টা করেছেন, সেই মামলাও আদতে সিপিআই(এম)’র সহযোগিতায় মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার এক গাঁয়ের বধূ মোস্তারি বানুর দায়ের করা মামলা। ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে এরাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণের হয়রানির প্রতিবাদে তিনিই প্রথম মামলা করেছিলেন। এটাই লিড ম্যাটার। পরবর্তীতে অনেকে সেই মামলায় অংশ নেন। তৃণমূলের একাধিক সাংসদ সেই মামলায় পিটিশনার হন। মিডিয়ায় বর্ণিত ‘কালো কোট’ পরে মুখ্যমন্ত্রীর সওয়ালও আসলে সেই মামলারই অংশ। অথচ তৃণমূল-বিজেপি’র দ্বিমুখী সাজানো লড়াইকে প্রতিষ্ঠা দিতে পরিকল্পিতভাবে সেই সত্য চেপে যাওয়া হচ্ছে সংবাদমাধ্যমে। মোস্তারি বানুও এই বাংলারই মেয়ে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর মতো ক্ষমতাসীন প্রিভিলেজড নন, তাই বহু সম্ভাব্য বিপদ ও ঝুঁকির কথা মাথায় আসা সত্ত্বেও তিনি লড়াইতে নামলেও মিডিয়ার আলো তাঁর ওপরে পড়েনি। মূল পিটিশনার হলেও ক্যামেরা তাঁকে দেখায়নি, মিডিয়ার কাছে তিনি সংবাদ উপযোগী হয়ে ওঠেননি।

মোস্তারি বানুর লড়াই কিন্তু সলিল চৌধুরী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়দের সেই গাঁয়ের বধূর গল্পের মতোই। ইতিহাসে স্নাতকোত্তর পাস করে, বিএড সম্পূর্ণ করেও তিনি চাকরি পাননি। অনেক স্বপ্ন নিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় বসেছিলেন, কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম থাকেনি। স্বপ্ন ধংস হয়ে গেছে, পরে জেনেছিলেন শিক্ষকের চাকরি বিক্রির কাণ্ডকারখানার কথা। তাঁর স্বামী কামাল হোসেন সিপিআই(এম)’র কর্মী, পরিযায়ী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা। একসময়ে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যও ছিলেন। তৃণমূলে যোগদানের জন্য দশ বছর আগেই তাঁকে খোলা অফার দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। সেই কামাল হোসেনকে নিয়ে এখন গরিবের মতোই একটি কাঁচা বাড়িতে থাকেন মোস্তারি বানু। কুটির গরিবের। কিন্তু মাথা উঁচু, শিড়দাঁড়া সোজা।

মোস্তারি বানুর কথায়, ‘এসআইআর শুরুর সময়ে বলা হয়েছিল, যাদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম আছে, তাঁদের নাম কাটা হবে না। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। ২০০২ সালে যাদের নাম ছিল, তাঁদেরও হয়রান করা হয়েছে। ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাক সত্ত্বেও আমাকে হিয়ারিং’এ ডাকা হয়েছে, হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে নাম নিয়ে। এভাবেই এসআইআর নিয়ে রাজ্যের মানুষ নাজেহাল হয়ে যাচ্ছেন। নাম, পদবী, বানান, বাবার নাম ইত্যাদি নিয়ে মানুষকে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। আমাদের জেলায় কাজ নেই, বহু মানুষ অন্য রাজ্যে কাজ করছেন, তাঁদেরও ডাক পড়ায় খুবই সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। এই সব কারণেই আমি সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। সিপিআই(এম)’র সহায়তায় গত নভেম্বর মাসে আমি মামলা দায়ের করেছিলাম সুপ্রিম কোর্টে।’

অথচ মিডিয়ার প্রচারে এই লড়াই ঠাঁই পায়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় কেরালা কিংবা তামিলনাডুর মতো বিশেষ অধিবেশন বসিয়ে এসআইআর বিরোধী প্রস্তাব গ্রহণ করাতে পারতেন, করাননি। এমনকি বিধানসভার সদ্য বাজেট অধিবেশনে এসআইআর বিরোধী প্রস্তাব আনার ঘোষণা করেও পরে পিছিয়ে যাওয়া হয়েছে। কর্মচারীদের প্রাপ্য ডিএ ঠেকাতে, আরজি করের ঘটনার সত্য ধামাচাপা দিতে, শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতি আড়ালে তাঁর সরকার কোষাগারের কোটি কোটি টাকা খরচ করে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে, কিন্তু এসআইআর’এর বিরুদ্ধে নিজের থেকে মামলা দায়ের করেনি।

গাঁয়ের বধূ সাধ্যের মধ্যে যতদূর লড়তে পারেন লড়ছেন।

আর মুখ্যমন্ত্রী সহজেই যা যা করতে পারতেন তা করেননি। তবে যথারীতি মিডিয়ার প্রচারের আলো টেনে নিয়েছেন।

স্বাভাবিক। আজকের এই মিডিয়ায় এটাই দস্তুর। মমতা ব্যানার্জির অপটিক্স ট্যাকটিক্স নতুন নয়। যখন সমাজমাধ্যম ছিল না, নিউজ চ্যানেল ছিল না, তখনও ছিল। অপটিক্স পলিটিক্স— দক্ষিণপন্থী রাজনীতি, রাইটিস্ট পপুলিজমের চিরায়ত কৌশল। শোষণ কায়েম রাখার অন্যতম হাতিয়ার। মানুষকে সমস্যার মূলে যেতে না দেওয়া। প্রকৃত ইস্যুকে আড়াল করা।

অন্যদিকে, প্রকৃত ইস্যুকে তুলে ধরা মিডিয়ার কাজ। আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে আছে আইনসভা, বিচারব্যবস্থা এবং প্রশাসন— তিনটি স্তম্ভের উপর। কিন্তু এখানেও অলিখিতভাবে সাংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের মর্যাদা দেওয়া হয়ে থাকে।

এখন ফোর্থ এস্টেট কোথায়? এতো রিয়েল এস্টেট! রিপোর্টার যদি স্টেনোগ্রাফার হয়ে যায়, কিংবা রিপোর্টার যদি হয়ে যায় বিজ্ঞাপন এজেন্ট, বা হয়ে যায় পাবলিক রিলেসন্স অফিসার— সে কি আর সাংবাদিক থাকে? যে মিডিয়াকে একসময় বলা হতো ওয়াচডগ অব দ্য সোসাইটি, সমাজের পাহারাদার, সেই মিডিয়া যদি ওয়াচডগ না থেকে ল্যাপডগ হয়ে যায়, শাসকের কোলে চুপ করে বসে থাকে আর লেজ নাড়ায়— তখন আজকের মিডিয়াকে মুখে ‘রাজনৈতিকভাবে মুক্ত’ বলা হলেও, সে আসলেই ‘মুনাফার জালে বন্দি’।

মোস্তারি বানুর ইস্যুতে মিডিয়ার এই ‘ডিমেনশিয়া’ তাই স্বাভাবিক। স্বেচ্ছায়-স্বআরোপিত, সহজাত।   


প্রকাশের তারিখ: ১২-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নির্বাচন ২০২৬ বিভাগে প্রকাশিত ৭২ টি নিবন্ধ
০৪-এপ্রিল-২০২৬

০৩-এপ্রিল-২০২৬

০৩-এপ্রিল-২০২৬

০২-এপ্রিল-২০২৬

০১-এপ্রিল-২০২৬

০১-এপ্রিল-২০২৬

৩১-মার্চ-২০২৬

৩০-মার্চ-২০২৬

২৮-মার্চ-২০২৬

২৭-মার্চ-২০২৬