Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ও বামেরা

এম এ বেবি
আরএসএস-বিজেপি জোটের বিরুদ্ধে লড়াই গড়ে তোলার নিরিখে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনগুলি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পার্টির স্বাধীন শক্তি বৃদ্ধি করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। শক্তি বাড়াতে হবে বামেদের ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলিরও। ২৪ মার্চ দিল্লিতে হবে ‘চলো দিল্লি—জন আক্রোশ রালি।’ তার আগে স্থানীয় স্তরে হবে জন সংযোগ কর্মসূচি। এগুলি করা হবে রাজ্যস্তরের জন আক্রোশ জাঠাগুলির মাধ্যমে। এই সব কর্মসূচি সংগঠিত করা হবে ঝাড়খণ্ড থেকে জম্মু ও কাশ্মীর পর্যন্ত। এভাবেই আমাদের পার্টি ‘গণ লাইন’ প্রয়োগ করবে এবং সেখানে জোর দেওয়া হবে শ্রমজাবী মানুষের জীবন জীবিকার বিষয়গুলিতে।  নির্বাচনী লড়াইয়ের মতো এগুলিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
The upcoming Assembly elections and the Left

চার রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত এলাকার জন্য নির্বাচনের ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। এগুলি হল কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, আসাম ও পুদুচেরি। পাঁচটি নির্বাচনের জন্যই পার্টি নির্বাচনী কৌশল রচনা করেছে। গত বছর মাদুরাইয়ে অনুষ্ঠিত পার্টির ২৪তম কংগ্রেসে গৃহীত রাজনৈতিক প্রস্তাবে যে ধরনের কাজের কথা বলা হয়েছিল, তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই নির্বাচনী কৌশল রচনা করা হয়েছে।

কেরালা

কেরালায় সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন এলডিএফ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে ২০১৬ সালে থেকে। গত এক দশকে কর্পোরেট-সাম্প্রদায়িক-স্বৈরতান্ত্রিক দক্ষিণপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়েছে দেশের পরিস্থিতি এবং তৈরি হয়েছে এক বিপজ্জনক আবহাওয়া। তারই মধ্যে কেরালা দাঁড়িয়ে রয়েছে একমাত্র রাজ্য হিসাবে যেখানে সাম্প্রদায়িক হিংসার একটা ঘটনাও ঘটেনি। সারা দেশজুড়ে মেহনতী মানুষের অধিকারের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ নেমে এসেছে। তারই মধ্যে কেরালার এলডিএফ সরকার এই ধরনের অধিকারগুলি রক্ষা করতে এবং আরও শক্তিশালী করতে সমর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে এই সরকার শ্রমিকদের জীবনধারনের মানের উন্নয়ন ঘটিয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে এপর্যন্ত ৯০টির বেশি ক্ষেত্রে মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে।এমনকী আশা ও অঙ্গনওয়াড়ির মতো প্রকল্প শ্রমিকেরা, যাদের অবহেলা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার, তাদের সাম্মানিকও ভালরকম বাড়ানো হয়েছে এলডিএফ সরকারের আমলে। এই ভাতা ২০১৬ সালে ছিল ১০০০ টাকা এবং ২০১৬ সালে বেড়ে তা হয়েছে ৮০০০ টাকা।  গত দশ বছরে কেরলে এমন একটা পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে যা একইসঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ বিকশিত হওয়ার পক্ষে অনুকূল। এমনকী নিরপেক্ষ সংস্থাগুলিও এই সাফল্যের স্বীকৃতি দিয়েছে। 

📲 এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে

সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেটি হল দেবস্বম বোর্ডের অধীনে থাকা মন্দিরগুলিতে তপশিলি জাতি ও পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর লোকেদের পুরোহিত হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। কেরালায় এলডিএফ সরকারের আমলে কল্যাণকর রাষ্ট্রের ধারণা সত্যিসত্যিই অর্থবহ করে তোলা হয়েছে। এই কাজটা যে সব পদক্ষেপের মাধ্যেমে করা হয়েছে সেগুলি হল চরম দারিদ্র দূরীকরণ, লাইফ মিশনের মাধ্যমে গৃহহীনদের ৫০০,৩৬৪ টি বাড়ি দেওয়া, ৪৫৬,০০০ ভূমিহীনকে জমির পাট্টা দেওয়া, ৬২ লক্ষের বেশি সুবিধাভোগীকে মাসে  ২০০০ টাকা করে সামাজিক নিরাপত্তা পেনশন দেওয়া, ৪০ লক্ষের বেশি লোককে নিখরচায় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। কেরালায় ডিগ্রি স্তর পর্যন্ত শিক্ষা লাভ করা যায় নিখরচায়। ‘শ্রী সুরক্ষা’ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলা ও রূপান্তরকামী মহিলা, যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং অন্য কোনও সামাজিক প্রকল্পের টাকা পান না, তাঁরা এখন মাসে ১০০০ টাকা করে পাচ্ছেন। কানেক্ট টু ওয়ার্ক কর্মসূচির মাধ্যমে যে সব যুবা দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন কিংবা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য তৈরি হচ্ছেন, তারাও সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য মাসে ১০০০ টাকা করে পাচ্ছেন।  


এসবেরও বাইরে ১ লক্ষ কোটি টাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে, যা বাজেট বহির্ভূত। কেরালা তখনই এই বিরাট পদক্ষেপ করছে যখন অর্থ কমিশন কেরালার প্রাপ্য কমিয়ে দিয়েছে। ১০ম অর্থ কমিশনে এই প্রাপ্য ছিল ৩.৮৮ শতাংশ। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনে তা কমিয়ে করা হয়েছে ১.৯২৫ শতাংশ। এর ওপরে কমানো হয়েছে কেন্দ্রীয় গ্র্যান্ট ও নিয়ন্ত্রণ চাপানো হয়েছে ধার করার ক্ষমতার ওপরেও। তবে এসব চ্যালেঞ্জকে উড়িয়ে দিয়ে এলডিএফ সরকার এগিয়ে চলেছে কেরালাকে নলেজ ইকনমিতে রূপান্তরিত করার এবং পরিকাঠামো ও নানান সুবিধাযুক্ত একটি সমাজ গড়ে তোলার কাজে যা মাঝারি আয়সম্পন্ন উন্নত দেশগুলিতে পাওয়া যায়। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার ওয়েনাড়ে ভূমি ধসে বেঁচে যাওয়া পরিবারগুলির পুনর্বাসনের জন্য কেরালাকে একটা পয়সাও দিতে রাজি হয়নি, তবুও রাজ্য সরকার এমন একটা টাউনশিপ গড়ে তুলেছে যা বিপর্যয় প্রতিরোধী।

গত দশ বছরের বেশি সময়পর্বে কেরালার এলডিএফ সরকার রাজ্যের কল্যাণ ও উন্নয়নে এক অনপনেয় ছাপ রাখতে সমর্থ হয়েছে। রাজ্য সরকারের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের চাপিয়ে দেওয়া তীব্র আর্থিক বাধাগুলিকে অতিক্রম করে কেরালার এলডিএফ সরকার পর পর প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করেছে। যে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় কেন্দ্রের প্রতি পক্ষপাত অত্যন্ত জোরাল, সেখানে রাজ্য সরকারের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা অনেক বেশি। সেই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এলডিএফ সরকার বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের  নয়া উদারবাদী নীতিসমূহের বিপরীতে একটি বিকল্প তুলে ধরতে পেরেছে। এই কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য হল, ব্যাপক সংখ্যক ভারতীয় জনতার বদলে পুঁজিবাদী ক্রোনিদের বিকাশে সাহায্য করা।

সুতরাং, কেরালায় সিপিআই(এম) লড়ছে এই সব অর্জিত সাফল্যগুলিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং ইতিহাসের রেকর্ড গড়ে একটানা তৃতীয়বারের জন্য এলডিএফ সরকারের পুনর্নির্বাচন চাইছে।

পশ্চিমবঙ্গ

রাজনৈতিক প্রস্তাবে একথা রয়েছে যে, ‘তৃণমূল কংগ্রেস….একটি স্বৈরতন্ত্রী দল যাদের ভিত্তি হল অপরাধী-দুর্নীতিগ্রস্ত-রাজনীতিকদের একটি অশুভ চক্র এবং এই শক্তি তীব্র কমিউনিস্ট বিরোধী। এই দল… টিএমসি বনাম বিজেপির বাইনারি জিইয়ে রাখতে চায় এবং সিপিআই(এম)কে প্রান্তিক শক্তি করে রাখতে চায়।’ এরই ফলে পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সাল থেকে রাজ্য বিধানসভায় সিপিআই(এম) এর কোনও প্রতিনিধিত্ব নেই। গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে রাজ্যের সরকারি শিক্ষা, মহিলাদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও শিল্পের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। কাজের খোঁজে লোকে রাজ্যের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গ সুপরিচিত ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য। অথচ গত দেড় দশকে এই রাজ্যে বারে বারে সাম্প্রদায়িক হিংসা ঘটনা ঘটেছে। যেখানে এই রাজ্য সরকার দুর্বলতা দেখিয়েছে, সেখানে বাংলার মানুষকে রক্ষা করার জন্য পাশে দাঁড়িয়েছে সিপিআই(এম)। বিশেষ করে পার্টি পাশে দাঁড়িয়েছে বস্তিবাসী, প্রান্তিক মানুষজন, গ্রামীণ গরিব, যুব ও মহিলাদের পাশে। 



মুখ্যমন্ত্রী মিডিয়ায় হইচই সৃষ্টি করার পরেও পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮.৩০ শতাংশ বর্তমান ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এসআইআর চলাকালীন। তুলনায়, সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন এলডিএফ সরকারের কেরালায়, তালিকা থেকে নাম বাদ গেছে মাত্র ৩.২২ শতাংশ ভোটারের। এর মানে কেরালা সরকার নাগরিকদের সবচেয়ে মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার— ভোটদানের অধিকার— খুবই বেশি পরিমাণে রক্ষা করতে সমর্থ হয়েছে। সংক্ষেপে বললে, বিধানসভায় সিপিআই(এম)-এর অনুপস্থিতিজনিত নির্দিষ্ট পরিস্থিতির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিণাম কী হয়েছে, তা এখন সকলেই দেখতে পাচ্ছেন। সুতরাং, এটা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে সিপিআই(এম) ও বামেদের কণ্ঠস্বর যেন বিধানসভায় শোনা যায়, যাতে মানুষের বেঁচে থাকার ইস্যুগুলি সজোরে উত্থাপন করা যায়। 

তামিলনাড়ু

তামিলনাড়ুতে ডিএমকের নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসাবে ভোটে লড়ছে পার্টি। তামিলনাড়ু হল তেমন একটি রাজ্য যেখানে আরএসএস-বিজেপি জোট পরিকল্পিত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়িয়ে দিতে। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ হল, হিন্দুত্ব-মনুবাদী শক্তিগুলি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উস্কে দিচ্ছে একটি বিতর্ক তৈরি করে। এই বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে মাদুরাই জেলার তিরুপ্পারানকুন্দ্রম পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত ধর্মীয় স্থানকে কেন্দ্র করে। এর লক্ষ্যই হল রাজনৈতিক মুনাফা কামানো। এই পাহাড়ের মাথায় রয়েছে তিনটি মন্দির, একটি দরগা এবং কয়েকটি প্রাচীন জৈন গুহা। এই জায়গাটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতীক। অথচ বিজেপি বলছে এই জায়গাটা হল ‘দক্ষিণের অযোধ্যা’, এখানে তারা বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসেছে এবং একটা ঘটনা ঘটনানোর চেষ্টা করেছে। তবে সাম্প্রদায়িকতাবাদী ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছেন তামিলনাড়ু ও মাদুরাইয়ের মানুষ এবং সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলির পরিকল্পিত প্রচারের ফাঁদে পা না দিয়ে তাঁরা রাজ্যের বহুত্ববাদী ঐতিহ্যকে রক্ষা করেছেন। কড়া হাতে এই ঘটনার মোকাবিলায় রাজ্যের ডিএমকে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গী নজির হয়ে রয়েছে। 

২৪ তম কংগ্রেসের গৃহীত লাইনে নির্দিষ্ট ভাবে বলা রয়েছে যে, ‘পার্টি সেই সব আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে সহযোগিতা করবে যারা দৃঢ়ভাবে বিজেপির বিরোধিতা করে।’ একই সঙ্গে এ কথাও বলা রয়েছে যে, ‘বিজেপি ও হিন্দুত্বের শক্তিগুলিকে বিচ্ছিন্ন ও পরাজিত করতে দরকার হিন্দুত্বের মতাদর্শের বিরুদ্ধে এবং অন্য সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংগ্রাম।’ এ প্রসঙ্গে এটা জরুরি যে তামিলনাড়ুতে ডিএমকের নেতৃত্বাধীন সরকার যেন পুনর্নির্বাচিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে জোরদার করার জন্যও এটা জরুরি, কারণ এই রাজ্যের ডিএমকে সরকার কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক পুনর্গঠনের দাবিতে বহুদিন ধরেই সোচ্চার রয়েছে। কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত তা ঠিক করার জন্য ডিএমকে সরকার একটি উচ্চ স্তরের কমিটি গঠন করেছে এবং এই কমিটির শীর্ষে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি কুরিয়ান জোশেফ। সুতারং, তামিলনাড়ুতে আমাদের নির্বাচনী কৌশল হল রাজনৈতিক প্রস্তাবে উল্লেখ করা এই লাইনের মতোই, ‘আমাদের শক্তিগুলিকে সমাবিশত করতে হবে রাজ্যগুলির অধিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে রক্ষা করার জন্য।’ 

আসাম

আসামের বিজেপি সরকার খুঁজে খুঁজে মুসলিমদের হেনস্থা করছে, বিশেষ করে এসআর-এর প্রেক্ষিতে। মুখ্যমন্ত্রী যে সব জঘন্য বিবৃতি দিচ্ছেন এবং সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন তাতে পরিস্থিতি আরও জঘন্য হচ্ছে। এবং সেকারণেই পার্টি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে যাতে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা যায়  এবং আদালতের নির্দেশে সিট গঠন করা হয় এই সব অভিযোগের বিশদে তদন্ত করার জন্য। সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানোর লক্ষ্যে এই যে প্রচার তার লক্ষ্যই ছিল বিপুল পরিমাণে জমি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ অধিগ্রহণ করা।এমনকী তপশিল ৬-এ আদিবাসীদের জন্য পৃথক করে রাখা জমিও অধিগ্রহণ করাও ছিল লক্ষ্য এবং এসবই করা হয়েছে কর্পোরেটদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগসাজশের কারণে।এনপিআর ও এনআরসি নিয়ে এই রাজ্যে বিরাট উদ্বেগ রয়েছে। এ সব কারণে আসামে বিজেপিকে পরাস্ত করা জরুরি এবং সে জন্য বৃহত্তর ঐক্য দরকার। আমরা আসামে নির্দিষ্টভাবে এই কৌশলই গ্রহণ করেছি, ‘বিজেপি বিরোধী ভোট সর্বোচ্চ সংখ্যায় এক জায়গায় আনতে হবে।‘ আমাদের রাজনৈতিক লাইনে একথাই বলা আছে।

পুদুচেরি

এই কেন্দ্রশাসিত এলাকার ইতিহাস হল এখানকার কংগ্রেস নেতারা বিজেপিতে যোগ দেন। এমনকী পুদুচেরির এখনকার মুখ্যমন্ত্রীও প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা। এবং তিনি এনডিএর শরিক। এখানেও আমাদের প্রয়াস হবে বিজেপি ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটকে একত্রিত করে তাদের ক্ষমতাচ্যুত করা।

আরএসএস-বিজেপি জোটের বিরুদ্ধে লড়াই গড়ে তোলার নিরিখে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনগুলি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পার্টির স্বাধীন শক্তি বৃদ্ধি করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। শক্তি বাড়াতে হবে বামেদের ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলির। ২৪ মার্চ দিল্লিতে হবে ‘চলো দিল্লি—জন আক্রোশ রালি।’ তার আগে স্থানীয় স্তরে হবে জন সংযোগ কর্মসূচি। এগুলি করা হবে রাজ্যস্তরের জন আক্রোশ জাঠাগুলির  মাধ্যমে। এই সব কর্মসূচি সংগঠিত করা হবে ঝাড়খণ্ড থেকে জম্মু ও কাশ্মীর পর্যন্ত। এভাবেই আমাদের পার্টি ‘গণ লাইন’ প্রয়োগ করবে এবং সেখানে জোর দেওয়া হবে শ্রমজাবী মানুষের জীবন জীবিকার বিষয়গুলিতে।  নির্বাচনী লড়াইয়ের মতো এগুলিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। 

সুতরাং, সারা দেশের পার্টি সদস্যদের সম্পূর্ণ নিষ্ঠা সহকারে এই সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এবং আমাদের রাজনৈতিক প্রস্তাবে যে কাজ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে তা অর্জন করার প্রয়াস চালাতে হবে। এবং সেই অর্জন করতে হবে দেখিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক লাইনের প্রতি সত্যনিষ্ঠ থেকে। কমরেডস, এগিয়ে চলুন! 

ঋণ:পিপলস ডেমোক্রেসি, ১৬-২২ মার্চ, ২০২৬
ভাষান্তরঃ সুচিক্কণ দাস 

🔍︎ আরও পড়ুন— বাংলার অর্থনীতি কাজ, অনুপ্রবেশ এবং সংঘ


প্রকাশের তারিখ: ২২-মার্চ-২০২৬
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নির্বাচন ২০২৬ বিভাগে প্রকাশিত ৭২ টি নিবন্ধ
০৪-এপ্রিল-২০২৬

০৩-এপ্রিল-২০২৬

০৩-এপ্রিল-২০২৬

০২-এপ্রিল-২০২৬

০১-এপ্রিল-২০২৬

০১-এপ্রিল-২০২৬

৩১-মার্চ-২০২৬

৩০-মার্চ-২০২৬

২৮-মার্চ-২০২৬

২৭-মার্চ-২০২৬