Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

আফ্রিকায় লুঠ হয়ে যাচ্ছে ‘বিছন’- এর অধিকার

সুচিক্কণ দাস
চাষ টিকিয়ে রাখতে গেলে বিছন বাঁচাতে হয়, পরে সেই বিছন মাটিতে পুঁততে হয় ভাবী ফসলের আশায়, প্রতিবেশীর সঙ্গে বিছনের বিনিময় করতে হয়, স্থানীয় মাটির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া শিখতে হয়, এলাকার বাজারে ফসল বিক্রি করতে হয় —এগুলো সবই চাষির জন্মগত অধিকার। কিন্তু বিছন যদি আমদানি করা হয়, তার সঙ্গে যদি বীজ উৎপাদকের নানান শর্ত জুড়ে থাকে, তাহলে চাষের ওপর চাষির অধিকার খর্বিত হয়। কারণ তাতে থাকে নানা শর্ত— ঋণের শর্ত, বিক্রির দামের শর্ত, এমনকী শর্ত ভাঙলে থাকে নজরদারির ব্যবস্থা। অনেক ক্ষেত্রেই বীজ মেধাস্বত্ত্বে পরিণত হওয়ায় সেই অধিকার হারিয়েছেন আফ্রিকার চাষিরা।
The rights to 'seeds' are being looted in Africa.

গল্পটা আলু চাষ নিয়ে। তবে সাধারণ আলু নয়। গল্পটা ঔপনিবেশিক আলু চাষের। শুধু চাষের বললে ভুল হবে। এ হল চাষের নামে বীজ, সার, ঋণ ও বাজারের চক্রে কীভাবে উপনিবেশের কৃষকদের জড়িয়ে দেয় ঔপনিবেশিক শাসকেরা, সেই গল্প। কীভাবে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বিছনের অধিকার সেই কাহিনি।

যদি গত শতাব্দীতে নাইজিরিয়ার মালভূমিতে আলু চাষ শুরুর পর্ব থেকে এখনকার পরিস্থিতি বিচার করা যায়, তাহলে দেখা যাবে ফসলের বীজ, কৃষি ঋণ, কৃষি আইন — এসব নিয়ে পুরনো ও নতুন শাসকদের সঙ্গে নাইজিরিয়ার চাষিদের ঘোরতর বিবাদ বেধে রয়েছে। এবং একথাও স্পষ্ট হবে যে, আফ্রিকার চাষিরা কী  চাষ করবেন সেটা কারা ঠিক করে দেয়। কোনও ফসলের বিছন তো নিছক বীজ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বহু প্রজন্মের স্মৃতি, শ্রম, স্বাদ, আস্বাদ, আইন, ক্ষমতা ও ঋণ। নাইজিরিয়ার ঔপনিবেশিক পোট্যাটো পরিকল্পনা দেখিয়ে দেয় আমদানি করা বীজের ওপর নির্ভরতা এতটাই বেড়ে উঠতে পারে যে তা পরে আইন হয়ে চাষির গলায় চেপে বসে। সেকারণে আজ আফ্রিকার জুড়ে উঠেছে বীজ সার্বভৌমত্বের দাবি। তার সঙ্গে জড়িয়ে পেটেন্টের অধিকার, মূল চারা যাদের কাছ থেকে চাষি কেনেন সেই ব্রিডারদের অধিকার। তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বীজ সংক্রান্ত আইন এবং কৃষি ব্যবসা। দেখে নেওয়া যাক ব্যবস্থাটা কীভাবে কাজ করে।

ঔপনিবেশিক শাসক ও নাইজিরিয়ার আলু চাষি

১৯৩০ ও ১৯৪০এর দশকে ব্রিটিশ অফিসারেরা নাইজিরিয়ার জোস ও ম্যামবিলা মালভূমিতে আলু চাষ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু করে। গোড়ায় জমির আয়তন ছিল স্বল্প। চাষের ঝামেলাও ছিল বিস্তর। সেই আলু খেতো নাইজিরিয়ায় কাজ করতে আসা ইউরোপীয় খনি শ্রমিকেরা, খ্রিস্টান মিশনারিরা এবং ঔপনিবেশিক অফিসারেরা। সবকিছু বদলে গেল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। জলপথ বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় সরবরাহে ভাটা পড়ল। ব্রিটিশ সেনাদের খাবারে টান পড়ল। তখন নাইজিরিয়ার হাইল্যান্ডের চাষিদের বাধ্য করা হল ব্যাপকভাবে আলু চাষ করতে। কারণ, আলু খাবে ব্রিটিশ সেনারা। তখন ব্রিটেনের যুদ্ধের অঙ্গ হয়ে উঠল চাষবাস নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা।

নাইজিরিয়ার হাইল্যান্ড এলাকা ছিল চাষবাসের উপযোগী। ঠান্ডা আবহাওয়ায় আলু চাষ জমে ভাল। জোস ও ম্যামবিলা মালভূমিতে ছিল তেমনই আবহাওয়া। তবে এসব জায়গা আদৌ ফাঁকা পড়ে ছিল না। স্থানীয়েরা সেখানে থাকতেন, চাষাবাদ করতেন। সেখানে ছিল তাদের নিজেদের ফসল, নিজেদের বাজার, ছিল নিজেদের অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ জ্ঞান। ছিল রাজনৈতিকভাবে জটিল একটা সমাজ।

ঔপনিবেশিক শাসকেরা সেসব বদলে দিল। জোস উপত্যকায় ছিল টিনের খনি। তার টানে এসেছিল ইউরোপের শ্রমিক, প্রশাসক আর বসতি করার লোকেরা। এতে ইউরোপীয় খাবারের চাহিদা বাড়ল। আগে কিছু ইউরোপীয় বাসিন্দা ও মিশনারি সবজি বাগানে ছোট করে আলু চাষ করত। এখন ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র দেখল আলু চাষে লাভ আছে।

১৯৩০ সালে থেকে আলুবীজের আমদানি শুরু হল নাইজিরিয়ায়। ব্রিটিশ অফিসারেরা নিয়ে এল বীজ। বীজ এল আয়ার্ল্যান্ড, ব্রিটেন,ইউরোপ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ক্যানারি আইল্যান্ড আর মার্কিন মুলুক থেকে। জেলার কর্তারা বিলি করলেন সেই বীজ। একরাশ আশঙ্কা নিয়ে স্থানীয় চাষিরা সেই বীজ পুঁতে দিলেন মাটিতে। ভাল ফলন হলে আমদানি করা বীজ পছন্দ করতেন কৃষকেরা। না হলে বীজের ভুষ্টিনাশ করতেন। ফলে আলু হয়ে উঠল ক্ষমতার প্রতীক।

তার মানে এই নয় যে পুরনো ফসলের চাষ, বীজ সংরক্ষণ বন্ধ হয়ে গেল। এ নিয়ে শাসকেরা কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। তবে স্থানীয় চাষিরা নানা ভাবে আমদানি করা বীজ বেশি বেশি করে ব্যবহার করতে লাগলেন। এতে কাজ হল অন্য ভাবে। ঔপনিবেশিক আলুর বিকল্প বাজার দাঁড়িয়ে গেল নাইজিরিয়ায়। জমি, শ্রমিক, ঋণ, সরকারি সহায়তা এবং বর্ধিষ্ণু বাজারকে ঘিরে আধিপত্য বাড়ল আমদানি করা আলুচাষের। ক্ষমতা বাড়ল এ সবের পিছনে থাকা ঔপনিবেশিক শাসকদের।

বাজার বাড়ায় আমদানি করা বীজের কদর বাড়ল। এতদিনকার স্থানীয় পুরনো ফসল চাষের কদর কমল। লোকে সে সব আস্তে আস্তে ভুলে যেতে লাগল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বৈচিত্রের চাষ হারিয়ে যেতে লাগল। তবে একেবারে বিলুপ্ত হল না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে আলু চাষের এত রমরমা ছিল না। নাইজিরিয়ার অনেক চাষি ভাবতেন আলু হল বিষ। অনেকে আবার শুধুমাত্র ইউরোপীয়দের খাওয়ানোর জন্য আলু চাষে যেতে রাজি ছিলেন না। জোস নেটিভ অথরিটি ১৯৩৭ সালে ‘‌গ্রেট স্কট’‌ আলুর বীজ বিক্রির ব্যাপক চেষ্টা করেছিল। তবে তাতে ভাল সাড়া মেলেনি। অর্ধেক বীজ বিক্রিই হল না। বাকিটা বিলিয়ে দেওয়া হল। আলু চাষ বাড়ানোর পরিকল্পনার টাকাটাই  জলে গেল।

যুদ্ধ এসে বদলে দিল সবকিছু। সাম্রাজ্যের সেনাবাহিনীর জন্য আলু চাই। আলু রাখতে হবে বাহিনী যে জায়গায় আছে তার কাছাকাছি। আবার আলু মজুতের জন্য বেশি জায়গা নষ্ট করলে চলবে না। জাহাজে পাঠানোর ঝক্কিও অনেক। তখনই নজর পড়ল জোস ও ম্যামবিলা মালভূমির আলু চাষের ওপর।

যুদ্ধের অর্থনীতি ও নির্ভরতার জন্ম

১৯৩৯ সালে আমদানি করা আলু জোস ও ম্যামবিলা মালভূমিতে উৎপন্ন হত ৯০ টন। ১৯৪৩ সালে তা এক লাফে পৌঁছে গেল ১২০০ টনে। কাগারো, জোঙ্কওয়া, করমিন বিরি ও রিয়মে রাতারাতি গজিয়ে উঠল বীজের দোকান, আলু চাষের পরীক্ষাগার। চাষের প্রযুক্তিতেও বদল এল।

তৈরি হল স্বয়ংসম্পূর্ণ বীজের বাজার। শাসকেরা নাইজিরিয়ার চাষিদের উৎসাহ দিল আরও জমিতে আলু চাষ করতে। তবে আসল নিয়ন্ত্রণ রইল চোখের আড়ালে:বীজ, আলুর রোগ নিয়ন্ত্রণ, আমদানি, বাজার — এসব রয়ে গেল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠানের হাতে। যুদ্ধের সময় ব্রিটেনের খাদ্যমন্ত্রী লর্ড উলটন বললেন, আলু হল ইনসিওরেন্স ক্রপ বা বিমা ফসল। তবে সাম্রাজ্যের ইনসিওরেন্স, নাইজিরিয়ার চাষিদের নয়।

যুদ্ধের পর বদলে গেল পরিস্থিতি। নাইজিরিয়ার নর্দার্ন প্রদেশ থেকে আলু রপ্তানির পরিমাণ ১৯৪৪ সালে ছিল ১৭৩২ টন। ১৯৪৮ তা নেমে এল ১০০ টনে। ততদিনে সরকারি সহায়তা উধাও। দামেরও ঠিকঠিকানা নেই। কখনও বাড়ছে, কখনও একেবারে নীচে নামছে। স্থানীয়রা আমদানি করা আলু চাষে উৎসাহ হারালেন। তবে ততদিনে তাদের জমি, শ্রম, শস্যের ফলনের ঋতুচক্র — সবই জড়িয়ে গেছে ঔপনিবেশিক শাসকের সঙ্কটের সঙ্গে।

ঔপনিবেশিক তাগিদ থেকে আজকের পরিস্থিতি

আজকের দিনে সারা আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে প্রায়ই নানান সঙ্কটের সময় নিতে হয় খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি। তখন খাবারের দাম বাড়ে, জলবায়ু এলোমেলো হয়ে যায়, সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এমন পরিস্থিতি হয়েছিল কোভিড অতিমারির সময়। এখন হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে। প্রতিটি সঙ্কটের সময় বলা হয়, উন্নত বীজ আনা হবে, সার আনা হবে, ঋণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে। খাদ্য সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনা হবে।

প্রশ্ন হল, কাদের জন্য স্থিতিশীলতা? আসল কথা হল সেই পুরনো নির্ভরশীলতার কাঠামোর স্থিতিশীলতা— বাইরের বীজ, ঋণ, বাজার, সরকারি দক্ষতা এবং চালু নিয়ম। এই সব কিছুই আগের নিয়মে চলবে। আর শাসকদের আইনে তো বলাই আছে, কোন বীজ চাষ করা আইনত বৈধ এবং  কারা তা ব্যবহার করতে পারবে। একেবারে সরাসরি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা।

আজকের দিনে অ্যালায়েন্স ফর আ গ্রিন রেভোলিউশন ইন আফ্রিকা চাষিদের দেয় উন্নত বীজ যাতে উৎপাদন বাড়ে। বাড়ে বাণিজ্যিক চাষ। নাইজিরিয়ার অ্যাঙ্কর বরোয়ার্স প্রোগ্রাম চাষিদের যুক্ত করে বীজ, সার, ঋণ, ক্রেতা ও ফসল ওঠার পর ঋণ মেটানোর ব্যবস্থার সঙ্গে। ঘানার প্ল্যান্টিং ফর ফুড অ্যান্ড জবস কৌশল বদলে চলে গেছে কৃষি উপকরণের ঋণের ব্যবসায়। সেই ঋণ শোধ করতে হবে ফসল বিক্রি করে। মালাউইয়িতেও রয়েছে একই ধরনের ব্যবস্থা। 

কর্মসূচিগুলির নাম ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু কাজে তারা এক। সবকটি কর্মসূচিতে ঝুঁকি একই— আগে উপকরণ দেওয়া হবে ঋণে, পরে শোধ করতে হবে ফসল বেচে। বাজারের ব্যবস্থাও করা হবে ওপর থেকে। এতে চাষিরা শুধু বীজ কেনেন না। আসলে তাদের একটা চক্রে জড়িয়ে ফেলা হয়। সেটা হল বীজ, ঋণ, সার, ডিজিটাল নথিভুক্তি এবং ক্রেতাদের চক্র।  এখানে শব্দগুলো সব আধুনিক, কিন্তু মূল বিষয়টি সেই অতি পরিচিত— বীজ-ঋণের সেই পুরনো ফাঁদ।

নির্ভরতাই যখন আইন

জরুরি ভিত্তিতে চালু করা স্কিমগুলি দ্রুত চাষের ধরন বদলে দিতে পারে। এই বদলগুলিকে স্থায়ী চেহারা দিতে পারে আইন। সে কারণেই জেনেটিক রিসোর্সেস অ্যাকশন ইন্টারন্যাশনাল এবং আফ্রিকান সিড সোভারেনটি আন্দোলন এত গুরুত্বপূর্ণ। গত দু দশকের বেশি সময় ধরে এই দুই সংস্থা আফ্রিকার নিজস্ব বীজ আইনগুলির খোঁজ রেখেছে এবং সেগুলি যাতে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য প্রোটেকশন অফ নিউ ভ্যারাইটিজ অফ প্ল্যান্টস (উপোভ ১৯৯১)-এর চালু করা আইনগুলির সঙ্গে মিশে যেতে না পারে, তার বিরোধিতা করেছে। কারণ, দুটো আইন মিশে গেলে যারা বীজ উৎপাদন করে তাদের অধিকার জায়গা পেয়ে যাবে চাষিদের অধিকারের ওপর। উন্নত দেশের বীজ উৎপাদক আধিপত্য করবে আফ্রিকার কৃষকদের ওপর। তখন চাষি কোন বীজ বিছন হিসাবে কাজে লাগাবেন সেই অধিকার খর্বিত হবে। সোজা কথায়, উপোভ ১৯৯১ বীজকে পরিণত করেছে একটি সংরক্ষিত মেধা স্বত্ত্বে এবং এখন সেই স্বত্ত্বের অধিকারী উন্নত দেশের বীজ উৎপাদকেরা। সংরক্ষিত বীজ কোথায় কতটা চাষ হবে, কে কোন দামে কিনবে, কীভাবে সেগুলির বিপণন হবে তা ঠিক করে দেবে চাষিরা নয়, বীজ উৎপাদকেরা।

চাষ টিকিয়ে রাখতে গেলে বিছন বাঁচাতে হয়, পরে সেই বিছন মাটিতে পঁুততে হয় ভাবী ফসলের আশায়, প্রতিবেশীর সঙ্গে বিছনের বিনিময় করতে হয়, স্থানীয় মাটির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া শিখতে হয়, এলাকার বাজারে বিক্রি করতে হয়— এগুলো সবই চাষির জন্মগত অধিকার। কিন্তু বিছন যদি আমদানি করা হয়, তার সঙ্গে যদি বীজ উৎপাদকের নানান শর্ত জুড়ে থাকে, তাহলে চাষের ওপর চাষির অধিকার খর্বিত হয়। কারণ তাতে থাকে নানা শর্ত — ঋণের শর্ত, বিক্রির দামের শর্ত, এমনকী শর্ত ভাঙলে থাকে নজরদারির ব্যবস্থা। অনেক ক্ষেত্রেই বীজ মেধাস্বত্ত্ব হওয়ায় সেই অধিকার হারিয়েছেন আফ্রিকার চাষিরা। 

প্ল্যান্টার্স ব্রিডার্স বিলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন লড়াই করছেন ঘানার কৃষকেরা। বিলটা চালু করা হয়েছিল আধুনিকীকরণের নামে। বলা হয়েছিল, নতুন বীজ উদ্ভাবনে পুরস্কার দেওয়া হবে, এর ফলে নতুন নতুন বিনিয়োগ আসবে, কৃষির উন্নতি হবে। তবে কৃষকেরা ও নাগরিক সংগঠনগুলি এই মর্মে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই বিলের আসল উদ্দেশ্য হল বীজের ওপর নিয়ন্ত্রণ জারি করা। এই বিল পাশ হলে নতুন ধরনের বীজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে, ঠিক করে দেওয়া হবে কারা সেই বীজ চাষ করতে পারবেন, কাদের কাছে সেই সব বীজ দেওয়া হবে, কী দামে চাষিকে সেই ফসল বিক্রি করতে হবে।

একই সমস্যা জিম্বাবোয়েরও। দ্য আফ্রিকান রিজিওনাল ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেসন এবং আরুশা প্রোটোকল ফসলের বীজে সেদেশে একই নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চাইছে। সমালোচকেরা বলেছেন, এটা উপোভের একটা নতুন রূপ।

যদি ঔপনিবেশিক পোট্যাটো স্কিমের সঙ্গে এখনকার চাষিদের আইনি লড়াইয়ের তুলনা করা যায়, তাহলে দেখা যাবে কাঠামো সেই একই রয়েছে। প্রথমে আসে আশ্বাস — ভাল বীজ মিলবে, ভাল ফলন হবে, খাদ্য নিরাপত্তা বাড়বে, স্থানীয় জলবায়ু সহায়ক হবে নতুন বীজ। এই আশ্বাসের পিছনে পিছনে আসবে আসল প্যাকেজ — বীজ, সার, ঋণ, নথিভুক্তি, বাজারের প্যাকেজ। সব মিলিয়ে সেই চক্র যা চাষিকে গ্রাস করবে, কেড়ে নেবে তার বিছনের জন্মগত অধিকার। সব শেষে আসবে আইন  — যেখানে থাকবে বীজ সংরক্ষণ না করতে পারার শর্ত, চাষ করার জন্য লাগবে শংসাপত্র, আমদানি করা বীজে চাষ করতে বাধ্য করা, চাষের শর্ত ভাঙলে চাপানো হবে জরিমানা। এসবের নীট ফল দাঁড়াবে — একদা যে বিছন ছিল আফ্রিকার চাষির নিজস্ব সম্পদ, সেটা একদিন হয়ে যাবে অন্য কারোর সম্পত্তি।

সূত্র: মান্থলি রিভিউ অনলাইন ডেলি আপডেট, ১৮ সেপ্টেম্বর


প্রকাশের তারিখ: ০৫-অক্টোবর-২০২৬
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
আন্তর্জাতিক বিভাগে প্রকাশিত ৭৬ টি নিবন্ধ
০৫-অক্টোবর-২০২৬

২৩-সেপ্টেম্বর-২০২৬

২০-সেপ্টেম্বর-২০২৬

০১-সেপ্টেম্বর-২০২৬

২৯-আগস্ট-২০২৬

২৩-আগস্ট-২০২৬

২৯-জুলাই-২০২৬

১৮-জুলাই-২০২৬

১৭-জুলাই-২০২৬

১৫-জুলাই-২০২৬