সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
আসজা লেসিস, বিপ্লবী থিয়েটার ও বলশেভিকবাদ
ক্রিস ব্যামবেরি
লেনিনের স্বাক্ষর করা ‘টু দ্য পিপল, টু দ্য পিপল’ ঘোষণাটি আমি প্রথমবার যখন পড়ি তখন সেটা ছিল দেওয়ালে লটকানো। সেটা পড়েই আমি কমিউনিস্টদের পক্ষে হয়ে যাই। আমি বিপ্লবের ভাল সৈনিক হতে চেয়েছিলাম। এবং সেই মতো জীবনটাকে বদলে ফেলি। তখন আমার চারপাশের জীবনটাও একেবারে বদলে যাচ্ছে। থিয়েটার এসে দাড়াচ্ছে রাস্তায়। আর রাস্তা উঠে আসছে থিয়েটারে। আমার চোখের সামনে জন্ম নিল ‘থিয়েট্রিকাল অক্টোবর’।

আসজা লেসিস ছিলেন বলশেভিক। বিপ্লবী থিয়েটারের একনিষ্ঠ প্রচারক। তিনি জন্মেছিলেন কারখানা শ্রমিকের পরিবারে। প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করেন লাতভিয়ার রিগায়। এর পর চলে যান সেন্ট পিটার্সবার্গের বেখতেরেভ সাইকোনিউরোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে। ১৯১৬ সালে ভর্তি হন মস্কোর ফিওদর কমিসারজেভস্কি স্টুডিওয়। আসজা লিখেছেন, ‘ফিওদর কমিসারজেভস্কি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে দর্শন ছাড়া কোনও শিল্প হয় না। অভিনেতাকে প্রথমে পড়তে হবে দর্শন। এবং নিজের বৈজ্ঞানিক বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গী গড়ে তুলতে হবে। আমি তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে একমত যে, শিল্পকে গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। নির্দিষ্ট বিশ্ব-দৃষ্টিভঙ্গী রয়েছে একমাত্র তেমন লোকেরাই শিল্প সৃষ্টি করতে পারেন।’ ১
এক বছর বাদে মস্কোয় ছিল তাঁর ফাইনাল পরীক্ষা। তাঁর মনে ছিল যে, যখন তিনি ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছিলেন তখন মাথার ওপর দিয়ে সশব্দে ছুটে যাচ্ছিল একটার পর একটা বুলেট। কারণ তখন বলশেভিকেরা মস্কো দখল নেওয়ার অভিযানে নেমেছিল (সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো মস্কোর বিপ্লব রক্তপাতহীন ছিল না)। পেট্রোগ্রাডে ফিরে আসজার ঠাঁই হয়েছিল সেখানকার লাতভিয়া রিফিউজি স্কুলে। গোড়ায় সাম্রাজ্যবাদী জার্মানির নিরাপত্তায় লাতভিয়া গড়ে ওঠে স্বাধীন, পুঁজিবাদী রাষ্ট্র হিসাবে। সেখানেই লেনিনের স্বাক্ষর করা ‘টু দ্য পিপল, টু দ্য পিপল’ ঘোষণাটি তাঁর পড়ার সুযোগ হয়। লেখাটা পড়ার পরেই তিনি বলশেভিকদের দলে যোগ দেন।
সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখে গিয়েছেন লেসিস— ‘লেনিনের স্বাক্ষর করা ‘টু দ্য পিপল, টু দ্য পিপল’ ঘোষণাটি আমি প্রথমবার যখন পড়ি তখন ছিল সেটা দেওয়ালে লটকানো। সেটা পড়েই আমি কমিউনিস্টদের পক্ষে হয়ে যাই। আমি বিপ্লবের ভাল সৈনিক হতে চেয়েছিলাম। এবং সেই মতো জীবনটাকে বদলে ফেলি। তখন আমার চারপাশের জীবনটাও একেবারে বদলে যাচ্ছে। থিয়েটার এসে দাড়াচ্ছে রাস্তায়। আর রাস্তা উঠে আসছে থিয়েটারে। আমার চোখের সামনে জন্ম নিল ‘থিয়েট্রিকাল অক্টোবর’। ২
লেসিস দেখেছিলেন ‘থিয়েটার অফ অক্টোবর’-এর মঞ্চস্থ করা গণ অভিনয়ের দৃশ্য। তার মধ্যে ছিল ১৯২০ সালে শীত প্রাসাদ দখলের পুনরাভিনয়। তখনই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় কবি ভ্লাদিমির মায়াকোভস্কি ও বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সের্গেই আইজেনস্টাইনের।
মায়াকভস্কি ও আইজেনস্টাইনের মতে, তখন থিয়েটারের মূল চ্যালেঞ্জ ছিল বিপ্লবী ভাবনাগুলিকে অল্প শিক্ষিত জনগণের সামনে নিয়ে আসা। লেসিস বিশেষ করে নজর দিয়েছিলেন শিশুদের কাছে পৌঁছনোর জন্য। সেই সময় রাশিয়ায় ঘুরে বেড়াত বহু গৃহহীন অনাথ শিশুর দল, যাদের পরিবার যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। রুশ ভাষায় তাদের পরিচয় ছিল বেসপ্রিসরনিকি।
লেসিস লিখেছেন: ‘১৯১৮ সালে ওরেলে গেলাম। আমার একটা মিউনিসিপ্যাল থিয়েটারের ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করার কথা ছিল। তার মানে, থিয়েটারের সেই চিরাচরিত পথ ধরে চলা। এবং নিজের কেরিয়ার তৈরি করা। কিন্তু জীবন আমাকে নিয়ে গেল অন্য দিকে। আমি দেখলাম ওরেলের রাস্তায়, বাজারে কিংবা কবরস্থানে, মাটির নীচের কুঠুরিতে কিংবা প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িতে, দলে দলে ঘুরে বেড়াচ্ছে পরিত্যক্ত, অনাথ ছেলেমেয়েরা। এরা ছিল সেই বেসপ্রিসরনিকি।’
তিনি লিখেছেন: ‘সোভিয়েত সরকার এই সব পরিত্যক্ত ছেলেমেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিংবা কারখানায় নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু ওরা যখন তখন পালিয়ে যেত।’
সব দেখেশুনে অন্য একটা পথ খুঁজে বের করলেন লেসিস। তিনি মেয়ারহোল্ডের একটা নাটক মঞ্চস্থ করলেন। এরপর কী হল তা জানা যাক তাঁর লেখা থেকে: ‘ছেলেরা আমার পরিকল্পনার কথা কিছুই জানত না। ওই নাটক থেকে আমি ওদের একটা দৃশ্য অভিনয় করতে দিলাম। বললাম, দৃশ্যটা ইমপ্রোভাইজ করতে। বললাম দৃশ্যটা হবে এ রকম: একটা জঙ্গলে আগুনের কুণ্ড ঘিরে বসে রয়েছে ডাকাতেরা। সেখানে যে যার নিজের বাহাদুরির কাহিনি বলে রাজা– উজির মারছে। কিছু দিন পরে যখন এই দৃশ্যটা নিয়ে কাজ করছি সেবারই প্রথম আমাদের বাড়িতে এল একদল বেসপ্রিসরনিকি (নিরাশ্রয় যুদ্ধে অনাথ পথশিশুরা)। সেখানে তখন হাজির অনুপ্রবেশকারীরাও। তাদের মাথায় কাগজের হেলমেট। হাতে গাছের ডাল এবং সিসা দিয়ে বানানো অস্ত্র। এছাড়া রয়েছে লাঠি ও বর্শা। তারাও নাটকের চরিত্র। তাদের দেখে তো ছেলেরা ভয়ে লাফিয়ে উঠে দৌড় দিল। আমি ওদের বুঝিয়ে সুঝিয়ে ফিরিয়ে আনলাম। বললাম, অনুপ্রবেশকারীদের দিকে নজর দিও না। তোমাদের যে দৃশ্যটা করতে বলেছি সেটা ইমপ্রোভাইজ করে করো। ওরা অভিনয় শুরু করে দিল। একটু পরে যারা অভিনয় করছিল সেই ছেলেদের মূল নেতা ভান্জকা জোর করে মাঝখানে ঢুকে পড়ল। এবং তার নিজের ঘনিষ্ঠ সঙ্গীদের সিগন্যাল দিল। এতক্ষণ অভিনয় করছিল যে সব ছেলেরা ভান্জকার দলবল তাদের হঠিয়ে দিয়ে নিজেরাই দৃশ্যটার অভিনয় শুরু করে দিল। খুন, লুঠ, ডাকাতি নিয়ে যে যার মতো বারফট্টাই শুরু করে দিল। এসব করার সময় আতঙ্ক সৃষ্টিতে ওরা একে অপরকে হারিয়ে দিতে চেষ্টা করছিল। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে আগের দলের ছেলেদের উদ্দেশ্য করে বলল, ‘আমরা যে ভাবে দেখাচ্ছি সেটাই ডাকাতদের আসল চেহারা।’ সেই মুহুর্তে আমার জানা শিশু শিক্ষার সব নিয়ম মানতে হলে ওদের বুনো, নির্লজ্জ ভাষার ব্যবহারে আপত্তি জানাতে হত, অভিনয় বন্ধ করে দিতে হত। কিন্তু আমি চেয়েছিলাম এদের আস্থা কিছুটা অর্জন করতে। আসলে এই কৌশলে আমিই জিতে গেলাম। বেসপ্রিসরনিকিরা ফিরে এল এবং আমাদের থিয়েটারের সক্রিয় সদস্য বনে গেল।’৩
১৯২১ সালে প্রকাশিত হল লেসিসের লেখা ম্যানিফেস্টো, ‘নিউ টেনডেনসিস ইন থিয়েটার।’ প্রকাশিত হয়েছিল রিগা থেকে। সেখানে লেসিস লিখেছিলেন: ‘পুরনো অর্থনৈতিক ও সামাজিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন বিপ্লবী রাজনীতিকরা। কারণ পুরনো ব্যবস্থা মানুষের মুক্ত সত্তাকে খুন করে। ঠিক তেমনিভাবেই একজন বিপ্লবী শিল্পী পুরোনো অ্যাকাডেমিক ও শিলীভূত আঙ্গিকের বিরদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। কারণ ওই পুরোনো আঙ্গিকের উৎপত্তি হয়েছে পুঁজিবাদের ভেতর থেকে। এবং একজন শিল্পী তখন এগিয়ে চলেন শিল্পের নতুন, আঙ্গিকের দিকে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘সংগ্রামের পর্বে যারা সঙ্ঘাতের মধ্যে রয়েছেন শিল্পকে একই সঙ্গে তাঁদের বন্ধু ও শত্রু হতে হবে। সংগ্রামের এই শতাব্দিতে আমরা শিল্পকে খুঁজে বেড়াই চমৎকার, মুক্ত জীবনের মধ্যে। এর মধ্যে সৃজনের প্রক্রিয়া নিজেকে প্রকাশিত করে জনগণের মাধ্যমে, যে জনগণ একটা সাধারণ উজ্জীবিত ছন্দের তালে তালে এগিয়ে চলেছে। এই ধরনের শিল্পসৃষ্টি সংগ্রামের শতকে থিয়েটারের মধ্যে দিয়ে ঘন ঘন ও বহুমুখী অভিব্যক্তি খুঁজে পায়। সারের দিক থেকে থিয়েটার হল একটা যৌথ অভিজ্ঞতা। এ হল শিল্পের একটা সমন্বয় যার অভিমুখ রয়েছে ভবিষ্যতের দিকে। জনগণের ওপর থিয়েটারের একটা ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। তবে যদি চিত্রকলার মতো শিল্পের অন্যান্য রূপের সঙ্গে তুলনা করা হয়, থিয়েটারের অগ্রগতি তুলনায় কম হয়েছে। শিল্পের এই রূপকে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষাও কম হয়েছে। খুবই কম ঐতিহ্য বিকশিত হয়েছে। বিশেষ করে এসব কথা সত্যি লাতভিয়ার ক্ষেত্রে।’
১৯২২ সালে লেসিস তাঁর প্রথম জার্মানি সফরে যান। রাশিয়ার বাইরে তখন সবচেয়ে বড় কমিউনিস্ট পার্টি ছিল জার্মানিতে। সেখানে প্রথম সারির জার্মান বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক ফ্রিৎজ ল্যাং, ম্যাক্স পিসকাটোর এবং কমিউনিস্ট থিয়েটার পরিচালক ও প্রোডিউসার বের্টোল্ট ব্রেখট। পরে তাঁর সঙ্গে মিলে কাজও করেছিলেন আসজা।
অ্যাজিটপ্রপ থিয়েটারে তিনি কাজ করেছিলেন পিসকেটোরের সঙ্গে। এবং তাঁর অনেক ভাবনা ও টেকনিক নিজের প্রোডাকশনে কাজে লাগিয়েছিলেন। দু বছর পর ১৯২৪ সালে তিনি ছুটি কাটাতে যান ইতালির ক্যাপ্রিতে। সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা হয় জার্মান শিল্প সমালোচক ওয়াল্টার বেঞ্জামিনের সঙ্গে। তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন আসিয়া।
ক্যাপ্রিতে বেঞ্জামিনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা প্রসঙ্গে কী কথা হয়েছিল তা লিখে গিয়েছেন লেসিস: ‘আমি ওরেলে ছোটদের নিয়ে যে থিয়েটার করেছি সে কথা বললাম। বললাম মস্কো ও রিগার কাজের কথা। প্রোলেতারিয়ান চিলড্রেন থিয়েটারের আইডিয়া বেঞ্জামিন সঙ্গে সঙ্গে সমর্থন করলেন এবং মস্কোর ব্যাপার স্যাপার শুনে একেবারে উত্তেজনায় উদ্দীপ্ত হয়ে উঠলেন। আমি ওঁকে মস্কোভাইট থিয়েটার সম্পর্কে বিশদে বললাম। বললাম সমাজতান্ত্রিক রীতিনীতি, নতুন লেখক ও কবিদের কথাও। বললাম য়ুরি লিবেডনিস্কি,আইজ্যাক বাবেল, লিওনিদ লিওনভ, ভ্যালেন্টিন কাতায়েভ, আলেকজান্ডার সেরাফিমোভিচ, মায়াকোভস্কি, আ্যালেক্সেই গাসতেভ, ভ্লাদিমির কিরিলভ, মিখাইল গেরাসিমভদের কথা— বললাম আলেকজান্দ্রা কোলন্তাই এবং ল্যারিসা রিসেনারদের কথা।৪
লেসিস এবং বেঞ্জামিন একসঙ্গে লিখলেন ‘নেপলস’ প্রবন্ধ। সেটা প্রকাশিত হয় ১৯ আগস্ট। ১৯২৫এর ফ্রাঙ্কফুর্ট জাইটুংয়ে। বেঞ্জামিন তাঁর বই ‘ওয়ান ওয়ে স্ট্রিট’ শুরুই করেছেন লেসিসের কথা দিয়ে: ‘রাস্তাটার নাম দিয়েছি আসজা লেসিস স্ট্রিট। কারণ উনি একজন ইঞ্জিনিয়ারের মতো আমার হৃদয়ে সেই রাস্তাটা খনন করেছিলেন।’৫
মস্কো ও রিগায় গিয়ে বেঞ্জামিন আসজার সঙ্গে দেখা করেন। তবে তাঁদের দুজনের সম্পর্কে ছেদ পড়ে ১৯২৬ সালে।
১৯২৫ ও ১৯২৬ সালে আসজা ব্যস্ত হয়ে পড়েন ছেলেদের জন্য পরীক্ষামূলক খেলার মাঠ তৈরির কাজে। ১৯২৬ সালে তনি আগ্রহী হয়ে ওঠেন ছোটদের জন্য সিনেমা তৈরি নিয়ে। এবিষয়ে তিনি কাজ করেছেন নাদেজদা স্ক্রুপস্কায়ার সঙ্গে। তাঁর নির্মিত ছোটদের প্রথম সিনেমা থিয়েটারের উদ্বোধন হয় মস্কোর পুরনো বলকান সিনেমা হলে। অনেক অনাথ শিশুকে জড়িয়ে নিয়ে তিনি ছোটদের একটা গোষ্ঠী তৈরি করে ফেলেছিলেন যারা সিনেমা হল চালাত, কী নাটক মঞ্চস্থ করা হবে তা ঠিক করত, ফিল্মের প্রোমোশন ও রিভিউ ব্যাপারটা দেখত।
১৯৩০-এর দশকে সোশাল রিয়েলিজম এর মাধ্যমে শিল্পের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ শুরু হয়। ১৯৩৮ সালে লেসিসকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কাজাকস্তানে বাধ্যতামূলক শ্রমের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ১৯৪৮ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি লাতভিয়া ফিরে যান (লাতভিয়া তখন ইউএসএসআর-এর অংশ)। সেখানে তিনি হন ভালমিয়েরা ড্রামা থিয়েটারের ডিরেক্টর। ওই পদে থেকেই অবসর নেন ১৯৫৮ সালে। ইতিমধ্যে ব্রেখটের সঙ্গে তিনি আবার যোগাযোগ করেন।
জীবনের একেবারে শেষের দিকে তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন হাইডেলগার্ড ব্রেনার। তিনি ছিলেন ব্রেখটের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মানুষ। সাক্ষাৎকারগুলির সম্পাদনা করেছিলেন লেসিস নিজে। তারই ওপর ভিত্তি করে ১৯৭১ সালে তাঁর বই প্রকাশিত হয়। বইটির নাম ছিল Revolutionär im Beruf: Berichte über proletarisches Theater, über Meyerhold, Brecht, Benjamin und Piscator (Revolutionary at work: Reports on proletarian theatre, Meyerhold, Brecht, Benjamin and Piscator)। বইটি পরে ইতালিয়, স্প্যানিশ ও ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করা হয়। ১৯৩৫ সালে মস্কোয় প্রকাশিত হয়েছিল রুশ ভাষায় লেসিসের আরও একটি বই জার্মানির বিপ্লবী থিয়েটার সম্পর্কে। সেই বইয়ের নাম ছিল, Revolucionnyj teatr germanii [German revolutionary theater]। এই বইটারও কিছু অংশ ছাপা হয়েছিল ১৯৭১ সালের বইয়ে।
বেঞ্জামিন এস্টেটের কিউরেটর এবং বেঞ্জামিনের সম্পূর্ণ রচনাবলির প্রথম খণ্ডের সম্পাদকদ্বয় গারসম স্কোলেম এবং থিওডর ডব্লিউ অ্যাডোরনো পরে সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘নেপলস’ বইয়ের সহলেখক হিসাবে লেসিসের নাম বাদ দিয়ে দেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, লেসিস আসলে বেঞ্জামিনের ‘বলশেভিক গার্লফ্রেন্ড’।
তবে এমন অর্থহীন বকবকানি আসজাকে নতুন করে আবিষ্কারের পথে কোনও বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি। এই আবিষ্কারের ফলে বিপ্লবী সোভিয়েত ইউনিয়নে, বিশেষ করে সেখানকার বিপ্লবী থিয়েটারের আশার দিনগুলির এক সংযোগ সূত্র হয়ে উঠেছেন তিনি। রুশ ও জার্মান বুদ্ধিজীবীদের অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য এক প্রজন্মের সঙ্গে ছিল তাঁর মেলামেশা। সেই বৃত্তে তিনি ছিলেন স্বমহিমায় ভাস্বর।
আসজা লেসিস এমন এক জীবন যাঁকে স্মরণ করা উচিত।
টিকা:
১। আন্দ্রিস ব্রিঙ্কমানিস, কনস্টেলেশন আসজা, e-flux Journal, Issue 110, June 2020
৩। পূর্বোক্ত
৪। ১। আন্দ্রিস ব্রিঙ্কমানিস, কনস্টেলেশন আসজা, e-flux Journal, Issue 110, June, 2020
৫। লরা মার্কাস ও লিন্ডা নেড, The Actuality of Walter Benjamin, Lawrence & Wishart, 1998, P55
ঋণ: কাউন্টারফায়ার
ক্রিস ব্যামবেরি লেখক, রাজনৈতিক কর্মী এবং ভাষ্যকার। স্কটল্যান্ডের রাডিক্যাল বামপন্থী শাখার জোট রাইজ–এর সমর্থক। তাঁর লেখা বইয়ের মধ্যে পড়ে এ পিপলস হিস্ট্রি অফ স্কটল্যান্ড এবং দ্য সেকেন্ড ওয়ার্লড ওয়ার:এ মার্ক্সসিস্ট অ্যানালিসিস
ভাষাম্তর: সুচিক্কণ দাস
প্রকাশের তারিখ: ০৪-সেপ্টেম্বর-২০২৬
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
