সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
ভারতের সংবিধানের ওপর স্তম্ভিত করে দেওয়ার মতো হামলা
প্রভাত পট্টনায়েক
মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের মাধ্যমে অধিকার অর্জন করেছিলেন গ্রামীণ গরিব মানুষেরা। এই অধিকার বাতিল করার জেরে গ্রামীণ গরিব মানুষেরা একটা স্বাধীন দেশের গর্বিত নাগরিক থেকে পরিণত হবেন এক দল মরিয়া ভিক্ষাজীবীতে। যেহেতু তাঁদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে, তাই এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে, কেন্দ্রীয় সরকার এগিয়ে আসবে কিছু উপঢৌকন নিয়ে এবং সেখানে নরেন্দ্র মোদির ছবি লটকানো থাকবে। অথচ সেক্ষেত্রেও তাঁদের বেঁচে থাকা এখনকার তুলনায় শোচনীয়তর হয়ে উঠবে। তবে যতটা রুটির টুকরো তাঁরা পাবেন সেজন্য তাঁদের মোদির কাছেই ঋণী থাকতে হবে। যাঁরা গরিব কিন্তু শ্রমজীবী তাঁদের নাগরিকের অবস্থান থেকে ভিক্ষুকে পরিণত করাটাই সব ফ্যাসিবাদী প্রকৃতির সংগঠনের চূড়ান্ত লক্ষ্য এবং এই সব সংগঠনগুলি অনিবার্যভাবেই একজন ‘নেতা’র কাল্ট গড়ে তোলে।

এর আগে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বেশ কয়েকটি কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু ছিল। তবে এ ধরনের প্রতিটি প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল সীমাবদ্ধ। রাজকোষ থেকে অর্থ যোগানের অভাবও ছিল প্রকল্পগুলি পরিকল্পনামাফিক কার্যকর করার ক্ষেত্রে বড় বাধা। ২০০৫ সালে মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প আইন বলবৎ করা হয়। এটি ছিল একটি অভিন্ন, দেশব্যাপী, মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থে চলা, চাহিদাভিত্তিক প্রকল্প: এখানে গ্রামীণ পরিবারের যে কোনও একজন সদস্য দাবি জানালে তিনি ১০০ দিন পর্যন্ত কাজ পেতে পারেন। যদি কর্মপ্রার্থীকে সেই কাজ দেওয়া না হয় তবে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কোনও চাহিদাভিত্তিক প্রকল্প আসলে মানুষকে দেয় অধিকার। সুতরাং এমজিএনআরইজিএস মানুষকে দিয়েছিল সেই অধিকার। ভারতের সংবিধানে অর্থনৈতিক অধিকারকে, যার মধ্যে পড়ে কাজের অধিকারও, সেগুলিকে মৌলিক অধিকারের মধ্যে স্থান দেওয়া হয়নি। বরং স্থান দেওয়া হয়েছিল রাষ্ট্রের নির্দেশাত্মক নীতিতে। এমজিএনআরইজিএস ছিল এই ঘাটতি পূরণের একটি প্রয়াস এবং দেশের সংবিধানে যেভাবে ভাবা হয়েছিল সেই ভাবনা বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে নিঃসন্দেহে একটি আংশিক প্রয়াস ছিল এটি।

এমজিএনআরইজিএস প্রকল্প চালুর জন্য যে আইন প্রস্তাবিত হয়েছিল তা নিয়ে অনেক মাস ধরে প্রকাশ্যে আলোচনা চলেছিল। আইনটি নিয়ে আলোচনা করেছিল সংসদীয় কমিটিও। এই কমিটি বহু লোকের সাক্ষ্য নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত যখন এই আইনের বিভিন্ন ধারা সম্পর্কে একটা ঐকমত্যে পৌঁছনো সম্ভব হয়, তখন সংসদে তা সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়। সুতরাং এই প্রকল্প ছিল জাতির ইচ্ছার একটা মূর্ত রূপ এবং এতে মানুষের স্বার্থে বাস্তবায়িত হয়েছিল এমন একটি অধিকার, যে অধিকারের কথা সংবিধানে বিবেচনা করা হয়েছিল। এই অধিকার বাতিল করা মানে সংবিধানের কর্তৃত্বকেই চ্যালেঞ্জ জানানো, যদি তা আক্ষরিক অর্থে নাও হয়, ভাবনার দিক থেকে তো বটেই।
হ্যাঁ, ঠিক এই কাজটাই করেছে এনডিএ সরকার। এই সরকার মানুষের একটি অধিকার কেড়ে নিয়েছে সংসদে স্রেফ ধ্বনিভোটে একটি প্রস্তাব পাশ করানোর মধ্যে দিয়ে। মানুষের একটা সংবিধানসম্মত অধিকার, এবং গোটা দেশ চেয়েছিল মানুষ এই অধিকার ভোগ করুক, সেটা সংসদে স্রেফ ধ্বনিভোটের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে। এটা ভয়ানক আপত্তিজনক একটা পদক্ষেপ। কাজটা করা যে চূড়ান্ত অনুচিত হচ্ছে সেটা বুঝেই যেন কাজটা করার ক্ষেত্রে সরকার ব্যাপক গোপনীয়তার আশ্রয় নিয়েছে। এমজিএনআরইজিএস-এর পরিবর্তে যে বিল প্রস্তাবিত হয়েছিল তা ১৫ ডিসেম্বর সংসদে পেশ করা হয়, তা নিয়ে ১৭ ডিসেম্বর রাতে আলোচনা করা হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর ধ্বনি ভোটে পাশ করানো হয়। এমনকী গ্রামোন্নয়ন সংক্রান্ত সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছেও এই বিলটি আলোচনার জন্য পাঠানোও হয়নি। যদিও ওই কমিটির চেয়ারপার্সন লিখিতভাবে বিলটি নিয়ে আলোচনার আর্জি জানিয়েছিলেন। এমনকী এই বিলের ওপর কোনও সংশোধনী আনার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। এটা একটা আশ্চর্যজনক ও চূড়ান্তভাবে অগণতান্ত্রিক নজির: মানুষের যে কোনও অধিকার, এমনকী যখন তা দেওয়া হয় গোটা দেশের ইচ্ছা এবং সংবিধানে উল্লেখিত ব্যবস্থা অনুসারে, সেই অধিকারকেও যে কোনও মুহূর্তে স্রেফ একটা ধ্বনিভোটের মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া যায়।
📲 এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে
এই সরকার তার নিজস্ব চরিত্রের প্রতি বিশ্বস্ত থেকেই দিনরাত কাজ করে চলেছে নতুন বিলে কী রয়েছে সেনিয়ে সংশয় তৈরি করার জন্য: সরকার দাবি করছে যে, এমজিএনআরইজিএস-এর আওতায় সর্বোচ্চ ১০০ দিন কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল, আর এখন লোকেরা ১২৫ দিন কাজ পেতে পারেন। তার মানে নতুন বিলটি এমজিএনআরইজিএস-এর চেয়ে অনেক ভাল। আসলে এখানে যে কথাটা লুকিয়ে রাখা হচ্ছে তা হল, নতুন আইনে এই ব্যবস্থা রাখা হয়নি যে এমজিএনআরইজিএস-এর ১০০ দিনের কাজ থাকবে এবং তার ওপর আরও ২৫ দিন কাজ দেওয়া হবে। আসলে নতুন আইনে এমজিএনআরইজিএস-কেই তুলে দেওয়া হয়েছে এবং তার ফলে দাবি করলেই কাজ দিতে হবে — এই ব্যবস্থাকেও তুলে দেওয়া হয়েছে। চাইলে কাজ দিতেই হবে এমন প্রকল্পের বদলে, এবং সেকারণেই অধিকারভিত্তিক প্রকল্পের বদলে, নতুন আইনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাটাই কেন্দ্রীয় সরকারের খেয়ালখুশির ওপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়েছে। এবং তা করা হয়েছে নানা উপায়ে।
প্রথমত, এখন থেকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকবে কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে যেটি বেছে নেবে কেন্দ্রীয় সরকার। তার মানে সারা দেশের গ্রামাঞ্চলে দাবি মাফিক কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা আর থাকছে না। অর্থাৎ প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারের ১০০ দিনের কাজ পাওয়ার অধিকারের (১২৫ দিন কাজ পাওয়া তো দূর অস্ত) প্রশ্ন আর উঠছেই না। দ্বিতীয়ত, এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে যে অর্থ বরাদ্দ করবে তার পরিমাণ ঠিক করে দেবে কেন্দ্রীয় সরকারই। এর সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনও রাজ্যে কতটা কর্মসংস্থানের চাহিদা রয়েছে তার কোনও সম্পর্ক থাকবে না। তৃতীয়ত, রাজ্যগুলিকে দিতে হবে প্রকল্পের জন্য খরচের ৪০ শতাংশ অর্থ এবং কেন্দ্র দেবে বাকি ৬০ শতাংশ। এর সঙ্গে যদি এমজিএনআরইজিএস-এর তুলনা করা যায়, তাহলে দেখা যাবে ওই প্রকল্পে খরচের ৯০ শতাংশ দিত কেন্দ্র। এবং তারও বরাদ্দের পরিমাণ নির্ভর করত কত পরিমাণ কাজের চাহিদা রয়েছে তার ভিত্তিতে। সুতরাং, এখন যদি কেন্দ্র মনে করে কোনও রাজ্যের জন্য মোট কেন্দ্রীয় যা বরাদ্দ তার মধ্যে ৬০ টাকা সেই রাজ্যের পাওয়া উচিত, কিন্তু আর্থিক চাপে থাকার কারণে, এখন সব রাজ্যই আর্থিক চাপে রয়েছে, যদি সেই রাজ্যটি নিজেদের দেয় মাত্র ২০ টাকা বরাদ্দ করতে সক্ষম হয়, প্রয়োজনীয় ৪০ টাকা দিতে সক্ষম না হয়, তাহলে সেই রাজ্যে এই কর্মসূচির মোট আয়তন দাঁড়াবে ৫০ টাকা, ১০০ টাকা নয়। এর ফলে এই কর্মসূচির আয়তনই শুধু ছেঁটে ফেলা হয় না, বরং কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটা সুবিধাজনক বলির পাঁঠা: এই পরিস্থিতিতে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী যদি কাজের ব্যবস্থা করা না হয় তখন কেন্দ্র বলবে, কাজ যে দেওয়া যাচ্ছে না সেজন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট রাজ্যই।
নতুন আইনে সর্বোচ্চ যতদিন কাজ দেওয়ার কথা ধার্য করা হয়েছে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১২৫ দিন। আসলে এর কোনও মানেই হয় না: নতুন কর্মসংস্থান প্রকল্পটি চাহিদাভিত্তিক নয়, বরং যোগানভিত্তিক। ফলে এমজিএনআরইজিএস-এর আওতায় মানুষকে যে অধিকার দেওয়া হয়েছিল নতুন আইনে তা বাতিল করা হয়েছে।
সংবিধানের ওপর এনডিএ সরকারের আক্রমণ শুধুমাত্র অধিকার বাতিল করাতেই সীমাবদ্ধ নেই। এই সরকার যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপরেও আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। রাজ্যগুলির সঙ্গে পরামর্শ না করেই, এবং রাজ্য সরকারগুলির রাজকোষের সীমাবদ্ধতা আছে এই বিষয়টি পুরোপুরি জানার পরেও, কেন্দ্র একতরফাভাবে এবং একেবারে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো, কর্মসংস্থান প্রকল্পে রাজ্যগুলির প্রদেয় অংশের অনুপাত এখনকার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করেছে। এখানেই শেষ নয়: এখন থেকে প্রতিটি রাজ্য এই খাতে মোট কত খরচ করবে সেটা ঠিক করে দেবে কেন্দ্র। কোন কর্মসংস্থান প্রকল্পে এই অর্থ খরচ করা হবে তাও ঠিক করে দেবে কেন্দ্র। এই খাতে কেন্দ্র যতটা চায় কোনও রাজ্য সরকার যদি তার চেয়েও বেশি খরচ করতে আগ্রহী হয়, তাহলে সেটা করা যাবে একমাত্র কেন্দ্রের বেঁধে দেওয়া নিয়ম মেনেই।
অন্য ভাবে বললে, রাজ্যগুলিকে হঠাৎ করেই বলা হচ্ছে আরও বেশি খরচ করতে। তবে কোথায়, কীভাবে রাজ্যগুলি টাকা খরচ করতে পারে সেবিষয়ে সব সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে দেবে কেন্দ্রই। এর মানে এখানে রাজ্য সরকারগুলিকে স্রেফ কেন্দ্রের অধীনস্থ সামন্তপ্রভু বা দাসানুদাস হিসাবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। সংবিধানে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে আদত যে ভাবনা ছিল, এটা তার হাস্যকর অনুকরণ ছাড়া কিছু নয়।
🔍︎ রেগা সংক্রান্ত অন্যান্য লেখাগুলি পড়ুন —মানুষের রেগা, মানুষের পঞ্চায়েত, মানুষের লড়াই, —‘রেড অ্যালার্ট’ এবং রেগা, —অসাম্যের যুগে কৃষির চালচিত্র
এখানে শুধু রাজ্যগুলিকেই পায়ের তলায় পিষে মারা হচ্ছে না। স্থানীয় স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকাও খর্ব করা হচ্ছে। সাধারণত এর আগে এমজিএনআরইজিএস-এর কর্ম সংস্থান প্রকল্পগুলির পরিকল্পনা করত এলএসজিআইগুলি। এখন সেগুলির ওপর হুকুমদারি করবে কেন্দ্রীয় সরকার। সংবিধানের ৭৩ তম সংশোধনীতে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণকে যে ভাবে কল্পনা হয়েছিল, এভাবে তার ওপরেও আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে।
সুতরাং, বিভি–জি রাম জি শুধুমাত্র গ্রামীণ গরিব মানুষের ওপর আক্রমণ নয়, যদিও এরাই ভারতের সবচেয়ে গরিব ও সবচেয়ে নীচুতলার মানুষ, এটা ভারতের সংবিধানের ওপরেও বিরাট আকারে এবং বহুমুখী হামলা। গরিব মানুষের ওপর আক্রমণটা স্পষ্ট: এমজিএনআরইজিএস হল সেই জীবনরেখা যা লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ গরিব মানুষকে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। এই বিষয়টি বিশেষভাবে স্পষ্ট হয়েছে অতিমারির সময়ে যখন লকডাউনের জেরে হাজার হাজার কর্মচ্যুত শ্রমিক তাঁদের গ্রামে ফিরে এসেছিলেন এবং তখন তাঁরা টিকে থাকতে পেরেছিলেন এমজিএনআরইজিএস-এর আওতায় দেওয়া অধিকারকে হাতিয়ার করে এবং ওই প্রকল্পই তাঁদের কাজ নিশ্চিত করেছিল। এমজিএনআরইজিএস প্রকল্প তুলে দিয়ে গরিব মানুষের জীবনের ওপর হামলা নামিয়ে আনা হয়েছে, সেটাই আবার একইসঙ্গে তাঁদের অধিকারের ওপর আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। এবং সাধারণভাবে সংবিধানের ওপরেও হামলা নামিয়ে আনা হয়েছে।
এই অধিকার বাতিল করার জেরে গ্রামীণ গরিব মানুষেরা একটা স্বাধীন দেশের গর্বিত নাগরিক থেকে পরিণত হবেন এক দল মরিয়া ভিক্ষাজীবীতে। যেহেতু তাঁদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে, তাই এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে, কেন্দ্রীয় সরকার এগিয়ে আসবে কিছু উপঢৌকন নিয়ে এবং সেখানে নরেন্দ্র মোদির ছবি লটকানো থাকবে। অথচ সেক্ষেত্রেও তাঁদের বেঁচে থাকা এখনকার তুলনায় শোচনীয়তর হয়ে উঠবে। তবে যতটা রুটির টুকরো তাঁরা পাবেন সেজন্য তাঁদের মোদির কাছেই ঋণী থাকতে হবে। যাঁরা গরিব কিন্তু শ্রমজীবী তাঁদের নাগরিকের অবস্থান থেকে ভিক্ষুকে পরিণত করাটাই সব ফ্যাসিবাদী প্রকৃতির সংগঠনের চূড়ান্ত লক্ষ্য এবং এই সব সংগঠনগুলি অনিবার্যভাবেই একজন ‘নেতা’র কাল্ট গড়ে তোলে।
সংবিধানের ওপর আক্রমণও এই প্রক্রিয়ারই অবিচ্ছেদ্য অংশ। উপনিবেশ বিরোধী সংগ্রামের মধ্যে থেকে উত্থিত হয়েছিল ভারতের সংবিধান। সেই সংবিধান গ্রহণ করেছিল ‘দেশ’কে। সেই দেশ গঠিত সাধারণ মানুষকে নিয়ে। এবং সেই মানুষই ছিল সবকিছুর যাত্রাবিন্দু। সংবিধানের অধীনে সরকারের কাজ হওয়া উচিত ‘দেশের’ সেবা করা। ফ্যাসিবাদী প্রকৃতির সংগঠনগুলি এই পুরো সম্পর্কটাকেই উল্টে দেয়। এখানে ‘দেশকে’ ‘নেতার’ সঙ্গে একীভূত করে দেখানো হয়, এবং ধরে নেওয়া হয় যে দেশের মানুষ নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ থাকবে এবং যত ভাবে সম্ভব নেতারই সেবা করবে। এবং সেই সেবার মধ্যে পড়ে বারে বারে তাকেই নির্বাচনে জিতিয়ে আনা। মানুষের অধিকার বিলুপ্ত করে দেওয়া, মানুষকে ভিক্ষাপ্রার্থীর স্তরে নামিয়ে আনা যাঁরা চিরকালের জন্য তাঁদের ‘নেতার’ কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে ছুঁড়ে দেওয়া কয়েক টুকরো রুটি পাওয়ার জন্য, এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে জলাঞ্জলি দেওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্র থেকে ফ্যাসিবাদী প্রকৃতির স্বৈরতন্ত্রে উত্তরণের পথ প্রশস্ত করা, এটাই হল একটি সম্পূর্ণ, অবিচ্ছেদ্য প্রক্রিয়া। এমজিএনআরইজিএস ছিল খুবই উল্লেখযোগ্য একটি প্রকল্প, এবং গোটা বিশ্বের মধ্যে ছিল সর্ববৃহৎ কর্মসংস্থান কর্মসূচি। সেই এমজিএনআরইজিএস-কে ধ্বংস করা মানে উপরে উল্লেখ করা উত্তরণকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে একটা দীর্ঘ, বিপুল পদক্ষেপ।
সূত্র: পিপলস ডেমোক্রেসি, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
ভাষান্তর: সুচিক্কণ দাস
প্রকাশের তারিখ: ২৯-ডিসেম্বর-২০২৫
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
