সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য, প্রাতিষ্ঠানিক হত্যা
দীধিতি রায়
এনসিআরবি (ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো) এবং এন,সি,এস,সি (ন্যাশনাল কমিশন ফর সিডিউল কাস্ট) এর রিপোর্ট দেখলে বোঝা যায় এই দেশে ৫৭০০০ কাছাকাছি যে বর্ণবৈষম্যমূলক অভিযোগ জমা পড়েছে তার বেশিরভাগ ভিক্টিমই তাই ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।এর সাথে লিঙ্গভিত্তিক হিংসার যে ভয়াবহ চিত্র তা যুক্ত করলে বোঝা যায়, যে এই দেশের বেশিরভাগ সরকারি- বেসরকারি ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্ররা প্রত্যেকদিন জাতিবিদ্বেষ ধর্মবিদ্বেষ তার মুখোমুখি হচ্ছেন। হেনস্থার শিকার হচ্ছেন এবং এই আধিপত্যবাদের কারণে আত্মহত্যা করছেন। আসলে এগুলো কোনোটা আত্মহত্যা না, এগুলো সবই প্রাতিষ্ঠানিক খুন!!!

"আমি একজন লেখক হতে চেয়েছিলাম। কার্ল সেগান এর মতো বিজ্ঞানের লেখক। কিন্তু আপশোষ এটাই যে আমি একটিমাত্র চিঠি লিখতে পারছি"।
এটি একটি সুইসাইড নোটের অংশ। চিঠিটা লিখছেন একজন রিসার্চ স্কলার। যার এই চিঠি লিখতে লিখতেই মনে হয়েছে ".... আমার জন্ম একটি মারাত্মক দুর্ঘটনা"!
এই ভারতে দলিত হওয়ার কারণে একজন রিসার্চ স্কলারের মাসের পর মাস ফেলোশিপ বন্ধ করে দেওয়া হয়,হস্টেলে থাকার সকল সুযোগ সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়। তাঁবু খাটিয়ে হায়দ্রাবাদ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকতে শুরু করে রোহিত ভেমুলা। তৎকালীন মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে বহু চিঠি লেখে রোহিত। একটা চিঠিরও উত্তর আসেনা। শেষপর্যন্ত ২০১৬ সালে রোহিত ভেমুলা আত্মহত্যা করে। তবে এটা কোনোভাবেই আত্মহত্যা নয়। রোহিতকে প্রাতিষ্ঠানিক ‘খুন’ করা হয়। রোহিত ‘পিছড়েবর্গ’ দলিত পরিবার থেকে উঠে আসা একজন ফার্স্ট জেনারেশন লার্নার। তার বাড়িতে তিনিই প্রথম লেখাপড়া শিখেছেন এবং নানা বাধা টপকে গবেষণা স্তর অব্ধি পৌঁছেছেন।
📲 এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে
‘আর্টিকল ফোরটিন জার্নালে’ আইআইটি, মুম্বাই-এর প্রাক্তন এক ছাত্র ২০২৩ সালে তার এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, তার পদবী ‘যাদব’। তিনি তপশিলি সম্প্রদায়ভুক্ত। সেজন্য পাঁচ বছর ধরে ক্যাম্পাসে ক্রমাগত তাকে হেনস্থা করা হত। কখনো সিনিয়ররা করেছে,কখনো সহপাঠীরা। আইআইটি দিল্লিতেও ৪১ শতাংশ ছাত্র বর্ণভিত্তিক গালিগালাজের সম্মুখীন ও হেনস্থার শিকার হয়েছে। ২০১৯ সালের মে মাসে তাদভি ভিল সম্প্রদায়ের এমডি ছাত্রী পায়েল তাদভি আত্মহত্যা করে। তদন্তের পর উঠে আসে, তিনি উচ্চবর্ণের সহপাঠীদের দ্বারা তার ‘মুসলিম আদিবাসী’ পরিচয়ের জন্য বারবার হেনস্থার শিকার হন এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার তিনি ছিলেন এই সম্প্রদায়ের প্রথম মহিলা এমডি।
এই আত্মহত্যার ঘটনা কেবল একটি বা দুটি নয়। গত ২০১৩ সালের ১৫ই মার্চ অবধি রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত আইআইটি, এনআইটি,আইআইএম মিলিয়ে প্রায় ৬১জন ছাত্র আত্মহত্যা করেছে যার মধ্যে বেশিরভাগই দলিত তপশিলি উপজাতিভুক্ত। আইআইটিগুলোতে গত কয়েক বছরে ২ মাসে একজন করে ছাত্র আত্মহত্যা করছে যার পিছনে রয়েছে তাদের উপর ঘটা ক্রমাগত হেনস্থা,জাতিবিদ্বেষমূলক কুমন্তব্য। সরকারি তথ্য থেকে আমরা জানতে পারছি ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এই দেশের সমস্ত শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মিলিয়ে ১২২ জন ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। যার মধ্যে ২৪ জন তপশিলি জাতি, ৩ জন তপশিলি জনজাতি, ৪১ জন ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত। অর্থাৎ ১২২ জনের মধ্যে ৬৮জন পিছিয়ে থাকা সম্প্রদায়ভুক্ত। শতাংশের হিসেবে যা প্রায় ৫৫। এখনো আমরা ডাক্তারি ক্ষেত্রে দেখতে পাই বহু রোগী ডাক্তারের পদবী দেখে তার কাছে চিকিৎসা করাতে যাবেন কিনা ঠিক করেন। অর্থাৎ সেই ডাক্তার ‘কোটার মাধ্যমে চান্স পেয়েছেন কিনা’ পরখ করে নিতে চান যা অত্যন্ত বর্ণবিদ্বেষমূলক ভাবনা, যার পিছনে আছে ব্রাহ্মণ্যবাদী আধিপত্যবাদ। আশ্চর্যের ব্যাপার এই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল কলেজ এইমস মেডিকেল কলেজেও একই রকম ধারণা দেখা যায়।
২০০৬ সালে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সুখদেও থোরাট এর নেতৃত্বে একটি কমিটি এইমস দিল্লির এসসি/ এসটি ডাক্তারি ছাত্রদের ওপর একটি সমীক্ষা করে। ২০০৭ সালে সেই রিপোর্টের মধ্য দিয়ে উঠে আসে যে ৭২ শতাংশ এসসি এবং এসটি ছাত্র সরাসরি শিক্ষাঙ্গনে বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়েছে। এই রিপোর্ট থেকে উঠে আসে ৮৫% ছাত্র তাদের উচ্চবর্ণের সহপাঠীর তুলনায় কম সম্মান পায় এবং ৬৯ শতাংশ ছাত্র শিক্ষকদের থেকে কোনো সহায়তা পায় না। এটি ভারতের শীর্ষ মেডিক্যাল কলেজের ভিতরের বর্ণবৈষম্যের চিত্র!
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ২০২৩ -২০২৪ সালে শিক্ষাক্ষেত্রে ১১৬০টি জাতিভিত্তিক বৈষম্যের ভিত্তিতে অভিযোগ গ্রহণ করেছে এসসি/এসটি সেলের মাধ্যমে, যা ১১৮% বৃদ্ধি পেয়েছে ২০১৯- ২০২০ সালের তুলনায়। গত পাঁচ বছরে জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মত শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ২৮টি জাতিভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের হলের ভেতরে এরকম গ্রাফিটি আঁকা হয়েছে যা মুসলমান বিদ্বেষকে ত্বরান্বিত করে। অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্ররা জাতিভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হন।
এনসিআরবি (ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো) এবং এন,সি,এস,সি (ন্যাশনাল কমিশন ফর সিডিউল কাস্ট) এর রিপোর্ট দেখলে বোঝা যায় এই দেশে ৫৭০০০ কাছাকাছি যে বর্ণবৈষম্যমূলক অভিযোগ জমা পড়েছে তার বেশিরভাগ ভিক্টিমই তাই ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
এর সাথে লিঙ্গভিত্তিক হিংসার যে ভয়াবহ চিত্র তা যুক্ত করলে বোঝা যায়, যে এই দেশের বেশিরভাগ সরকারি- বেসরকারি ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্ররা প্রত্যেকদিন জাতিবিদ্বেষ ধর্মবিদ্বেষ তার মুখোমুখি হচ্ছেন। হেনস্থার শিকার হচ্ছেন এবং এই আধিপত্যবাদের কারণে আত্মহত্যা করছেন। আসলে এগুলো কোনোটা আত্মহত্যা না, এগুলো সবই প্রাতিষ্ঠানিক খুন!!
এই পরিস্থিতিতে গত ১৩ই জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন উচ্চশিক্ষাক্ষেত্রগুলিতে সমতার জন্য একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে যা মূলত ২০১২ সাল থেকে লাগু হওয়া সমতার নির্দেশকে বৈষম্য বিরোধিতার জন্য পরিমার্জিত করে কার্যকরী করা। এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্যই হল শিক্ষাক্ষেত্রের পরিধির ভিতরে জাত-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-জন্মস্থান-প্রতিবন্ধকতা সহ বহুস্তরীয় আর্থসামাজিক বৈষম্যের অবসান ঘটানো এবং এমন একটি শিক্ষাক্ষেত্র তৈরি করা যেখানে কোনো রকম বৈষম্যকে কেন্দ্র করে হিংসা হবে না।এই বৈষম্যকে রুখতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা। এই নির্দেশিকার মাধ্যমে প্রতিটি উচ্চ শিক্ষাক্ষেত্রে সমতা স্থাপন ও একইসাথে সকলকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা প্রতিবন্ধকতার ভিত্তিতে কোনো ছাত্র/শিক্ষক যাতে বৈষম্যের শিকার না হন।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমান সম্ভাবনা ও সম্মান নিশ্চিত করা ও অসাম্য বা বৈষম্যের অভিযোগ দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধান করাই এর মূল লক্ষ্য।
এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য একটি ইকুইটি সেল তৈরি করা বাধ্যতামূলক। যার মধ্যে একটি ইকুয়াল অপুরচুনিটি সেন্টার (ইওসি) এবং ইকুইটি কমিটি থাকতে হবে। এই সমতা কমিটিতে তপশিলি জাতি, তপশিলি জনজাতি, ওবিসি, মহিলা, প্রতিবন্ধকতাযুক্ত অংশের প্রতিনিধিত্ব রাখতে হবে।এই ইকুইটি সেল বৈষম্য বা অন্যায় আচরণের অভিযোগ গ্রহণ করবে ও তা সমাধান করবে।তপশিলি জাতি, তপশিলি জনজাতি, ওবিসি, মহিলা, প্রতিবন্ধী সহ এই অংশের ছাত্রদের জন্য কল্যাণমূলক ও বিভিন্ন সংবেদনশীল কর্মসূচি গ্রহণ করবে।যার মাধ্যমে সকলের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে।
এই ইকুইটি সেল যে কোনো অভিযোগ জমা পরার ২৪ ঘন্টার মধ্যে তা খতিয়ে দেখা শুরু করবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে তার রিপোর্ট জমা করবে। ক্যাম্পাসগুলিতে ২৪/৭ ইকুইটি হেল্পলাইন এবং অনলাইন পোর্টাল রাখতে হবে। ইওসি কে প্রতি দু বছরের রিপোর্ট পাবলিশ করতে হবে এবং ইউজিসিকে বার্ষিক রিপোর্ট দিতে হবে। এছাড়াও একটি জাতীয় পর্যবেক্ষক মূলক পরিকাঠামো সকল উচ্চ শিক্ষাক্ষেত্রে কিভাবে এই নির্দেশিকা রূপায়িত হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করবে।
যদি কোন ভাবে দেখা যায় নির্দেশিকা পালন হচ্ছে না সেক্ষেত্রে ইউজিসি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।এই নির্দেশিকার প্রণয়ন, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত ত্রুটি থাকলেও এই মুহূর্তে ভারতের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশিকার ইতিবাচক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্দেশিকা প্রকাশের পর এবিভিপি-বিজেপি তীব্র প্রতিবাদ করে কারণ তাদের যুক্তি ‘বৈষম্য’ সংজ্ঞায় কেবল এসসি এসটি ওবিসি দের কথাই বলা হয়েছে এর ফলে আনরিজার্ভড ছাত্ররা বঞ্চিত হবে। এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দেশিকা সংক্রান্ত আলোচনা সভায় বজরং দলের কর্মীরা এসে ছাত্রদের ওপর চড়াও হয়, মারধর করে।
২০১৯ সালে প্রাতিষ্ঠানিক খুন হওয়া পায়েল তাদভির মা আবেদা সালিম তাদভি সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করেন, যার মূল কথাই ছিল ২০১২ এর দুর্বল নির্দেশিকা কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে জাতিবিদ্বেষ রুখতে পারছেনা।এই মামলায় তার সাথে রাধিকা ভেমুলাও ছিলেন যারা দুজনেই নিজের সন্তান হারিয়েছেন ক্যাম্পাসের ভিতর জাতিবঞ্চনার কারণে। এই মামলার সাথে ২০২৬ এর বিধিকে যুক্ত করে ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুকান্ত বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ জানায় যে নতুন নির্দেশিকায় অস্পষ্টতা আছে এবং তা অপব্যবহার হতে পারে তাই আপাতত নতুন নির্দেশিকা স্টে অর্ডার দিয়ে পুরনো ২০১২ সালের নির্দেশিকাকে বজায় রাখছে।
ভারতবর্ষে বর্তমানে বিচারব্যবস্থা শ্রেণি নিরপেক্ষ নয় এবং তা জাত-ধর্ম-বর্ণ- লিঙ্গ পরিচিতি নিরপেক্ষও না। ফলে এই নয়া ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বিশিষ্ট বিচারপদ্ধতিতে নিম্নবর্ণের মানুষের সুবিচার পাওয়ার খুব বেশি প্রমাণ নেই এবং এই আইনে পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকলেও এটি সমাজে শিক্ষাক্ষেত্রে বহমান ব্রাহ্মণ্যবাদকে আক্রমণ করছে। বাম ছাত্রসংগঠন ভারতের ছাত্র ফেডারেশন সহ অনেক প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন গুলোর ২০১৬ সাল থেকে দাবি যে ক্যাম্পাসের ভিতর জাতিভিত্তিক বৈষম্যকে রুখতে,পশ্চাদপদ অংশের ছাত্রদের সমতার জন্য ক্যাম্পাসে ‘রোহিত অ্যাক্ট’ চালু করা। কিন্তু সেই দাবিকে কর্ণপাত করেনি সরকার। তবুও এই সংগঠনগুলো, নতুন নির্দেশিকাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং তার পদ্ধতিগত ত্রুটি গুলোকে সংশোধন করে ‘রোহিত এক্ট’ নামে চালু করার জন্য।
২০২৬ সালের ইউজিসির নির্দেশিকাকে বিজেপি বা এবিভিপির সমর্থন না করার মূল কারণ হিসাবে তারা দেখাচ্ছে, এর ফলে ‘অসংরক্ষিত’ ছাত্ররা বঞ্চিত হবে। আসলে আরএসএস সংরক্ষণের এই ধারণাকে কখনোই মান্যতা দিতে চায় না তাই এবিভিপির এই মন্তব্য প্রকারান্তে মনুবাদেরই ফসল।
ভারতের মতো রাষ্ট্রে বর্ণ জাত শ্রেণি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। বিটি রণদিভে বলেছিলেন,জমিদারি ও প্রাক পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে রক্ষার দ্বারা সাম্রাজ্যবাদ, জমিদার এবং বুর্জোয়ারা তাদের শ্রেণিস্বার্থ থেকেই বর্ণব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখে।
অর্থাৎ সংরক্ষণের প্রশ্ন তুলে তারা আসলে বর্ণবৈষম্যের যে কাঠামো তাকেই মান্যতা দিতে চাইছে। ভারতবর্ষের জাতপাতের বৈষম্য অবসানের জন্য যে লড়াই তাতে কমিউনিস্ট পার্টির পাশাপাশি বি আর আম্বেদকর,জ্যোতিবা ফুলে, শ্রী নারায়ণগুরু, পেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। যে আম্বেদকার ১৯২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর মনুস্মৃতি নিজের হাতে পুড়িয়ে মনুস্মৃতি দহন দিবস উদযাপন করেছিলেন সেই সেই আম্বেদকর কে ২০০৬ সালে আরএসএস ‘আধুনিক মনু’ হিসাবে আখ্যায়িত করে।
আসলে আরএসএস আম্বেদকারের ভাবমূর্তিকে বিকৃত করতে চাইছে এবং আম্বেদকারকে মনুবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেখাতে চাইছে, তার মূল কারণ আম্বেদকারের চিন্তা, আম্বেদকারের কাজ আরএসএসের যে হিন্দুত্ব প্রকল্প তাকে বাস্তবায়িত করার পক্ষে প্রধান অন্তরায়।তাই সংঘ পরিবার খুবই সূক্ষ্মভাবে আম্বেদকর এর ধারণাকে বিকৃত করে প্রচার চালাচ্ছে।
ভারতে জাতপাতের বৈষম্যের সঙ্গে শ্রেণি বৈষম্য বরাবরই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত হয়ে রয়েছে তাই দলিত, পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠী, আদিবাসীদের ওপর যেমন ব্রাহ্মণ্যবাদী আক্রমণ চলেছে তেমনই বর্তমানে কর্পোরেটদের সম্পদ লুঠের মাধ্যমে এই অংশের মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। যে আরএসএস জাতিগত হিংসা এবং বৈষম্যকে প্রত্যেকদিন সামাজিক পরিসরে তীব্র করে তুলেছে তারাই এই নির্দেশিকার মাধ্যমে শিক্ষা ক্ষেত্রে ভেতরে বৈষম্য বাড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছে!
বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে আমরা বর্তমান ভারতের উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্র গুলির জাতিগত বঞ্চনা এবং বৈষম্যের দেখতে পেয়েছি তার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশিকার রাজনৈতিক অভিঘাত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ এবং ইতিবাচক।
প্রকাশের তারিখ: ২৪-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay









