সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
মার্কিন দেশের সাম্যবাদী মেয়েরা – পর্ব ২
এঞ্জেলা ডেভিস
কৃষ্ণাঙ্গ গৃহকর্মীদের নিজেদের সংগঠিত করার প্রচেষ্টাকে স্বীকার করতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্লডিয়া জোনস প্রগতিশীলদের এবং বিশেষ করে ট্রেড ইউনিয়নবাদীদেরকে তিরস্কার করেছিলেন। যেহেতু কৃষ্ণাঙ্গ নারী শ্রমিকদের অধিকাংশই তখনও ছিলেন গৃহকর্মে নিযুক্ত, তাই তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, দাসীর প্রতি পিতৃতান্ত্রিক মনোভাব কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাদের প্রচলিত সামাজিক সংজ্ঞাকে গোষ্ঠীগত ভাবে প্রভাবিত করেছে:

এলিজাবেথ গার্লে ফ্লিন
১৯৬৪ সালে, চুয়াত্তর বছর বয়সে এলিজাবেথ গার্লে ফ্লিন যখন মারা যান, সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী রাজনীতিতে তাঁর প্রায় ষাট বছর অতিক্রান্ত। সোশ্যালিস্ট পার্টি-কর্মী বাবা-মায়ের সাহচর্যে বেড়ে ওঠা এলিজাবেথ খুব অল্প বয়সেই পুঁজিপতি শ্রেণির বিরুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক প্রতিরোধের প্রতি গভীরভাবে সহমর্মী হয়ে উঠেছিলেন। বয়স ষোলোর গণ্ডি না পেরোতেই প্রথমবার সমাজতন্ত্রের পক্ষে জনসমক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন এলিজাবেথ। ম্যারি ওলস্টোনক্র্যাফ্ট-এর ভিন্ডিকেশন অফ দ্য রাইটস অফ উইমেন এবং অগাষ্ট বেবেল-এর উইমেন অ্যান্ড সোশ্যালিজম বই দুটির প্রণোদনায় এলিজাবেথ ১৯০৬ সালে হারলেম সোশ্যালিস্ট ক্লাবে 'হোয়াট সোশ্যালিজম উইল ডু ফর উইমেন' শীর্ষক একটি বক্তৃতা প্রদান করেন। যদিও, তাঁর 'পুরুষ প্রভুত্ববাদী' বাবা প্রথমদিকে তাঁকে এইভাবে প্রকাশ্য জনসভায় বক্তব্য রাখতে দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। হারলেমে এলিজাবেথের বক্তব্য যখন উৎসাহের সাথে অভ্যর্থিত হয়, তাঁর বাবা মত পরিবর্তনে বাধ্য হন। এরপর এলিজাবেথ তাঁর বাবার সঙ্গে যোগ দিতে থাকে পথসভায় যা ছিল সে-সময়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের একটা প্রচলিত মাধ্যম। আর এর পরেই এলিজাবেথ গার্লে ফ্লিন প্রথমবারের জন্য কারাবন্দী হন 'বিনা অনুমতিতে সভা' করার অপরাধে, এবং সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁর বাবাকেও।
মাত্র ষোলো বছর বয়সেই এলিজাবেথ শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ, 'বিগ বিল' হেউড-এর বিরুদ্ধে কপার ট্রাস্ট-এর আনা মিথ্যে অভিযোগের প্রতিবাদে সরব হওয়া। হেউড-এর পক্ষে জনমত সংগঠিত করতে পশ্চিমে যাত্রা করে তিনি মন্ট্যানা ও ওয়াশিংটনে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স অফ দ্য ওয়ার্ল্ড (আই ডবলু ডবলু)-এর আন্দোলনে যোগ দেন। প্রায় দু'বছর সোশ্যালিস্ট পার্টির সদস্য থাকার পর, এলিজাবেথ গার্লে ফ্লিন আই ডবলু ডবলু-র একজন প্রথম সারির সংগঠক হিসেবে উঠে আসেন। পরে তিনি সোশ্যালিস্ট পার্টির সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন, তাঁর কথায়, 'এই সময়ে তৃণমূল স্তরের যে আন্দোলন সারা দেশকে উত্তাল করে তুলছে, তার তুলনায় দেখলে সোশ্যালিস্ট পার্টির ভূমিকা অকার্যকর ও সংকীর্ণ'।
১৯১২ সালে ম্যাসাচুসেটস্-এর লরেন্সে কাপড় কারখানার শ্রমিকরা যখন ধর্মঘটের ডাক দেন, এলিজাবেথ তাঁর এতদিনের বিক্ষোভ হরতালের বাস্তবিক অভিজ্ঞতা ও তাঁর অসংখ্য পুলিশি অত্যাচার মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতা পুঁজি করে তাঁদের পাশে দাঁড়ান। লরেন্সের শ্রমিকদের অভিযোগ ছিল সোজাসাপ্টা। মেরি হিটন ভর্সের কথায়, লরেন্সে মজুরি এতটাই কম ছিল যে ৩৫% লোক সপ্তাহে ৭ ডলারের চেয়েও কম আয় করতেন। সপ্তাহে ১২ ডলারের বেশি আয় করতেন পাঁচজনের মধ্যে মোটে একজন। এই শ্রমিকদের মধ্যে ছিলেন নানা জাতির মানুষ, তাঁদের মধ্যে ছিল সব-মিলিয়ে প্রায় ৪০টি পৃথক ভাষা ও উপভাষার প্রভেদ। এই জাতিগত ও ভাষাগত ভেদ-বিভেদ ছাপিয়ে গিয়ে তাঁদের সংঘবদ্ধ করেছিল দারিদ্র আর শিশুমৃত্যুর বেদনা। এক বছরের থেকেও ছোট শিশুদের প্রতি পাঁচজনে একজন মারা যেত … আমেরিকায় আর অল্প কয়েকটি শহরেই শিশুমৃত্যুর হার এমন উঁচু ছিল। আর এই সবক'টি শহরই, যাকে বলে, শিল্পনগরী। হার্পার'স উইকলি-র এর হয়ে এই আন্দোলনের খবর করেছিলেন ভর্সে। তাঁর মতে, এই ধর্মঘটে শ্রমিকদের আর সকলের চেয়ে অনেক বেশি প্রাণিত করেছিল এলিজাবেথের বক্তব্য।
যখন এলিজাবেথ তাঁর বক্তব্য পেশ করলেন, জনতার চোখে ঝিলিক্ দিয়ে উঠল উদ্দীপনার ভাষা। তাঁর উঠতি বয়স, আইরিশ-নীল চোখ, ম্যাগনোলিয়ার মতো উজ্জল মুখ আর একমাথা মেঘবরণ চুল: তারুণ্যে ভরপুর এক বিপ্লবী জননেত্রীর ঝলমলে ছবি যেন। তিনি শ্রমিকদের প্রবলভাবে আলোড়িত করলেন এবং তাঁদের উদ্দেশে সংহতির আহ্বান জানালেন … মনে হল যেন একটা আগুনের শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল সমবেত জনতার মধ্যে, এমন এক উজ্জীবন— যা বিশ্বাস করিয়ে ছাড়ে: মানুষের মুক্তি সম্ভব।
আই ডবলু ডবলু-র হয়ে এভাবে ঘুরে-ঘুরে আন্দোলন গড়ে তোলার সময়, এলিজাবেথ প্রখ্যাত নেটিভ আমেরিকান ইন্ডিয়ান নেতা ফ্রাঙ্ক লিটলের পাশপাশি কাজ করেছেন। উদাহণস্বরূপ, ১৯১৬ সালে মিনেসোটার মেসাবি লৌহ খনি অঞ্চলে যখন খনি শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দেন, তাঁরা উভয়েই 'উওবলিজ়'দের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এলিজাবেথ বছরখানেক পর জানতে পারেন যে মন্ট্যানার বিউট শহরে ফ্রাঙ্ক লিটলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ণাস্থলে খনি শ্রমিকদের সামনে উত্তেজক বক্তৃতা দেওয়ার পরই একদল দুষ্কৃতকারীর হাতে তিনি আক্রান্ত হন। রাতের বেলায় ছ'জন মুখোশ-পরিহিত অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী তাঁর হোটেলে আসে, দরজা ভেঙে তাঁর ঘরে ঢুকে, তাঁকে বিছানা থেকে টেনে নামিয়ে নিয়ে যায় শহরের শেষপ্রান্তে ট্রেসল রেলব্রিজের কাছে এবং সেখানেই তাঁকে মেরে ঝুলিয়ে দেয়।
ফ্রাঙ্ক লিটলের মৃত্যুর মাসখানেক পরে, যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ফ্রাঙ্ক সহ আরো ১৬৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে এই মর্মে যে তারা 'যুক্তরাষ্ট্রে কিছু আইনের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে'। ১৬৮ জন অভিযুক্তের মধ্যে এলিজাবেথ ছিলেন একমাত্র মহিলা এবং বেন ফ্লেচার নামে একজন ফিলাডেলফিয়ান বন্দরকর্মী ও আই ডবলু ডবলু-র নেতা ছিলেন একমাত্র কৃষাঙ্গ অভিযুক্ত।
এলিজাবেথ গার্লে ফ্লিনের আত্মজীবনীটি অনুধাবন করলে দেখা যাবে যে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একদম গোড়া থেকেই তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি বিশেষ অবিচার সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাঁর এই বর্ণবাদবিরোধী রাজনৈতিক চেতনা আই ডবলু ডবলু-তে যোগ দেওয়ার পর আরও সুদৃঢ় হয়। এই 'উওবলিজ়'রা জনসমক্ষে দাবি করে যে যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটিই শ্রমিক সংগঠন আছে যার ভিতরে শ্বেতাঙ্গ ও অ-শ্বেতাঙ্গ শ্রমিকদের মধ্যে কোনো প্রভেদ নেই। প্রভেদ নেই মেয়ে-পুরুষে।
কিন্তু আই ডবলু ডবলু একটি সিন্ডিক্যালিস্ট সংগঠন যা মূলত কারখানার শ্রমিকদের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছিল, আর যেখানে বর্ণবৈষেম্যের অভিঘাতে সিংহভাগই শ্বেতাঙ্গ। সংখ্যালঘু কৃষ্ণাঙ্গসমাজের যে নগণ্য ভাগ উৎপাদন ব্যবস্থায় শ্রম দান করত, বলাই বাহুল্য যে তার মধ্যে নারীদের অংশীদারিত্ব ছিল না, এই উৎপাদন ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ ব্রাত্য। বস্তুত, বেশিরভাগ কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিক, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে, কৃষিক্ষেত্রে বা গার্হস্থ্যকাজে নিযুক্ত ছিল। বোঝাই যায়, এর ফলস্বরূপ, মোট কৃষ্ণাঙ্গ জনসংখ্যার খুব অল্প সংখ্যক মানুষের কাছে শ্রমিক সংগঠন পৌঁছতে পারবে— যদি-না ইউনিয়ন সর্বান্তকরণে লড়াই করে চলে কৃষ্ণাঙ্গদের শিল্পক্ষেত্রে নিযুক্ত করার জন্যে।
এলিজাবেথ ১৯৩৭ থেকে কমিউনিস্ট পার্টির একজন সক্রিয় সদস্য হয়ে ওঠেন। এবং পরবর্তীকালে এই দলের একজন অগ্রণী নেত্রী হয়ে ওঠেন। অগ্রগণ্য কৃষ্ণাঙ্গ কমিউনিস্ট নেতা বেঞ্জামিন ডেভিস ও ক্লডিয়া জোনস-এর সাথে খুব নিবিড়ভাবে কাজ করার সুবাদে, এলিজাবেথের রাজনৈতিক চিন্তাধারায় এক নতুন মাত্রা যোগ হয়; তিনি অনুধাবন করেন যে শ্রমিকশ্রেণির সামগ্রিক মুক্তির জন্যে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের শৃঙ্খল-মোচন ঠিক কতটা জরুরি। ১৯৪৮ সালে ফ্লিন একটি রাজনৈতিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেন পার্টির তাত্ত্বিক পত্রিকায়, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের তাৎপর্য পর্যালোচনা করে। এই প্রবন্ধে তিনি বলেন— "সমস্ত খেটে খাওয়া মহিলাদের, বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাদের এই মুহূর্তের দাবিগুলো হল : কাজের অধিকার, প্রশিক্ষণের অধিকার, পদন্নোতির সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য-পরিষেবার অধিকার এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, সন্তান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে শিশুর বিশেষ যত্নের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা"।
যুদ্ধ-ফেরত পুরুষ ও মহিলা সৈনিকের মধ্যে অসাম্যের তীব্র সমালোচনা করে, এলিজাবেথ পাঠকদের মনে করিয়ে দেন যে, কৃষ্ণাঙ্গ নারী সৈনিকেরা তাঁদের সহকর্মী শ্বেতাঙ্গ নারীদের তুলনায় অনেক বেশি নিপীড়িত। বাস্তবিকপক্ষে, কৃষ্ণাঙ্গ মহিলারা এক ত্রিস্তরীয় নির্যাতনের দাসত্বে আবদ্ধ।
"একজন শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান মহিলা যে অসাম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়, কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েদের ক্ষেত্রে তাই হাজার গুণ বেড়ে যায়। কারণ তারা তিন দফা শোষণের শিকার— প্রথমত নিগ্রো বলে, দ্বিতীয়ত মহিলা বলে, এবং অবশ্যই, শ্রমিক বলে।"
পরবর্তীতে যে কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা তৎকালীন নারী-মুক্তি সংগ্রামে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন, তাঁরা সকলেই এই 'তিন দফা শোষণ'-এর তত্ত্বটি মেনে নিয়েছিলেন।
এলিজাবেথ ফ্লিন-এর প্রথম আত্মজীবনী, আই স্পিক মাই ওন পিস (বা দ্য রেবেল গার্ল)-এ আমরা সাক্ষী হই, একজন আই ডবলু ডবলু আন্দোলনকারী হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতার বিস্ময়কর বর্ণনার। এদিকে তাঁর দ্বিতীয় বই দ্য অ্যালডারসন স্টোরি (অথবা মাই লাইফ অ্যাজ এ পোলিটিক্যাল প্রিজনার) আমাদের সামনে এক নতুনতর, অভিজ্ঞ-রাজনৈতিক-দৃষ্টিসম্পন্ন এলিজাবেথকে উপস্থিত করে, যাঁর মননে বর্ণবাদ সম্পর্কে এক প্রগাঢ় উপলব্ধি ততদিনে জন্মেছে। ঠাণ্ডা যুদ্ধের আবহে ম্যাকার্থির অপশাসনকালে কমিউনিস্টদের যখন বেআইনিভাবে আটক করা হতে থাকে, এলিজাবেথ ফ্লিন ও আরও তিনজন মহিলাকে 'সরকারের সহিংস উচ্ছেদের জন্য ষড়যন্ত্র ও প্রচারের” অপরাধে নিউ ইয়র্কে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি তিনজন হলেন, মারিয়ান বাখরাচ্, বেট্টি গ্যানেট ও ক্লডিয়া জোনস। শেষোক্ত জন এক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা যিনি ছোটবেলায় ত্রিনিদাদ থেকে আমেরিকায় চলে আসেন। ১৯৫১ সালে জুন মাসে, এই চারজন কমিউনিস্ট নারীকে পুলিশ নিউ ইয়র্কে উইমেন্স হাউস অফ ডিটেনশনে নিয়ে যায়। এই সময়ে 'একটি সুন্দর ঘটনা' তাঁদের বন্দীদশাকে কিছুটা আলোকিত করে তোলে। এলিজাবেথ, বেট্টি আর ক্লডিয়া মিলে একজন বন্দিনীর জন্মদিন উদযাপন করেন। উনিশ বছর বয়সী 'মনমরা ও নিঃসঙ্গ' এই কালো মেয়েটি কথায় কথায় তাঁদের জানিয়েছিল, পরের দিন ওর জন্মদিন। ওঁরা তিনজন মেয়েটির জন্মদিন পালন করার জন্য কমিসারি থেকে একটা কেকের ব্যবস্থা করেন।
"আমরা কেকের জন্য টিস্যু পেপারের মোমবাতি তৈরি করেছিলাম, যতটা সম্ভব সুন্দরভাবে কাগজের ন্যাপকিন দিয়ে টেবিলটা ঢেকে দিয়েছিলাম এবং সবাই মিলে 'হ্যাপি বার্থ ডে' গেয়েছিলাম। আমরা তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভাষণ দিয়েছিলাম আর সে বিস্ময় ও আনন্দে কেঁদে ফেলেছিল। পরের দিন আমরা তার কাছ থেকে একটি চিরকুট পাই : 'প্রিয় ক্লডিয়া, বেটি এবং এলিজাবেথ। আমার জন্মদিনে আপনারা আমার জন্য যা করেছেন তাতে আমি খুব খুশি। আমি সত্যিই জানি না কীভাবে আপনাদের ধন্যবাদ জানাব… গতকাল আমার জীবনের সেরা দিনগুলোর একটি ছিল। আমি মনে করি যদিও আপনারা সবাই কমিউনিস্ট, আপনারা আমার দেখা সবচেয়ে সেরা মানুষ। আমার এই চিঠিতে কমিউনিস্টদের কথা উল্লেখ করার কারণ হল কিছু লোক কমিউনিস্টদের পছন্দ করে না কারণ তারা মনে করে কমিউনিস্টরা আমেরিকান জনগণের বিরুদ্ধে কিন্তু আমি তা মনে করি না। আমি মনে করি যে আপনারা আমার উনিশ বছরের জীবনে দেখা সবচেয়ে সুন্দর মানুষদের মধ্যে কয়েকজন এবং আমি যেখানেই থাকি না কেন আমি আপনাদের কখনোই ভুলব না... আমি আশা করি আপনারা সবাই এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসবেন আর কখনো এমন একটি জায়গায় ফিরে আসতে যেন না হয় আপনাদের।"
স্মিথ অ্যাক্টে তিনজন নারীর বিচারের পর (ম্যারিয়ান বাক্রার বিরুদ্ধে মামলা খারিজ হয়ে যায় অসুস্থতার কারণে) তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং কারাবাসে পাঠানো হয় ভার্জিনিয়ার অলডারসনে, ফেডেরাল রিফর্মেটরি ফর উইমেন নামক জেলখানায়। তাদের এসে পৌঁছানোর কিছুদিন আগেই, আদালতের আদেশ অনুসারে জেলটিকে বর্ণ বৈষম্য থেকে মুক্ত করবার উদ্যোগ চলছিল। স্মিথ অ্যাক্টের আরেকজন বন্দী— বাল্টিমোরের ডরোথি রোস ব্লুমেনবার্গ— তাঁর তিন বছর কারাবাসের একটা অংশ কাটিয়ে ফেলেছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের সঙ্গে এক জেলে। 'মজার কথা, এবং আনন্দেরও— জেলখানায় বর্ণ বৈষম্য দূর করতে কর্তৃপক্ষ সেই কমিউনিস্টদের সাহায্য চাইল'। তারপরেও, এলিজাবেথ গার্লে ফ্লিন যেমনটা চিহ্নিত করেছেন, আইন করে জেলখানায় বর্ণ বিভেদ ঘুচিয়ে দেওয়া যায়নি। কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের উপর কঠোর কাজগুলোর ভার বর্তানোর রীতিটিও অব্যাহত ছিল— “কৃষি জমিতে, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের কারখানায়, রক্ষণাবেক্ষণ ও শূকর প্রতিপালনে, সেটা রদ হওয়ার আগে পর্যন্ত।”
কমিউনিস্ট পার্টির নেত্রী হিসেবে, এলিজাবেথ গার্লে ফ্লিন-এর চেতনায় কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের মুক্তির সংগ্রামের প্রতি গভীর অঙ্গীকার শানিত হয়েছিল, এবং তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতিরোধ সবসময় সচেতনভাবে রাজনৈতিক নয়। অ্যাল্ডারসনের বন্দীদের মধ্যে তিনি লক্ষ করেছিলেন যে "নিগ্রো নারীদের পরস্পরের প্রতি সংহতি অপেক্ষাকৃত বেশি, সন্দেহাতীতভাবে বাইরের জীবনের প্রভাবে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণে। আমার মনে হয়েছিল তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তা শ্বেতাঙ্গ সহবন্দীদের তুলনায় অনেক বেশি, এবং তারাই বেশি নির্ভরযোগ্য, কান-ভাঙানোর এবং পুলিশের গুপ্তচর হওয়ার ঝোঁক তাদের মধ্যে নেই।
কারাগারে শ্বেতাঙ্গ সহবন্দীদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ সহবন্দীদের মধ্যে অনেক সহজেই বন্ধু খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। 'সত্যি বলতে, আমি নিগ্রো মেয়েদের যতটা বিশ্বাস করতাম শ্বেতাঙ্গদের ততটা না। নিগ্রোরা অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত, কম হিস্টিরিয়া-গ্রস্ত, কম বিগড়ানো, বেশি পরিণতমনস্ক।' পরিবর্তে, কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের কাছেও এলিজাবেথ ছিলেন বেশি গ্রহণযোগ্য। হয়তো তাঁরা অনুভব করতে পেরেছিলেন, এই শ্বেতাঙ্গ কমিউনিস্ট মেয়েটির ভিতরে সংগ্রামের প্রতি এক সহজাত আত্মীয়তা রয়েছে।
ক্লডিয়া জোনস
জন্মগ্রহণ করেছিলেন ত্রিনিদাদে, যা তখনও ছিল ব্রিটিশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের অংশ, অনেক কম বয়সেই ক্লডিয়া জোনস তাঁর বাবা মায়ের সাথে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। তিনি পরবর্তীতে সারা দেশের সেইসব অগণিত কালো মানুষদের একজন হয়ে ওঠেন যারা স্কটসবোরো নাইনকে মুক্ত করার আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। স্কটসবোরো প্রতিরক্ষা কমিটিতে তাঁর কাজের সূত্রেই তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের সাথে পরিচিত হন, যাদের সংগঠনে তিনি উৎসাহের সাথে যোগ দিয়েছিলেন। বছর কুড়ির এক তরুণী হিসেবে, ক্লডিয়া জোনস পার্টির মহিলা কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সারা দেশে কমিউনিস্ট মহিলাদের সংগ্রামের নেতা ও প্রতীক হয়ে ওঠেন।
পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স জার্নালে ক্লডিয়া জোন্সের অনেকগুলি নিবন্ধের মধ্যে, সবচেয়ে ভালগুলির একটি ছিল ১৯৪৯ সালের জুন মাসে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ যার শিরোনাম "নিগ্রো মহিলাদের সমস্যায় অবহেলার অবসান।" এই প্রবন্ধে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাদের সম্পর্কে সাধারণ পুরুষ-আধিপত্যবাদী একপেশে স্টেরিওটাইপগুলিকে খণ্ডন করা ও একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী থেকে তাদেরকে দেখা। জোন্স উল্লেখ করেছেন যে, স্বাধীনতার জন্য জনসাধারণের লড়াইয়ে কৃষ্ণাঙ্গ নারী নেতৃত্ব ছিল সর্বদা অপরিহার্য। তার উল্লেখ প্রচলিত ইতিহাসে খুব কমই রয়েছে, উদাহরণস্বরূপ, সত্যিটা ছিল এই যে "১৯৩০-এর দশকের ভাগচাষীদের ধর্মঘটগুলির সূত্রপাত করেছিলেন নিগ্রো মহিলারা৷"
নিগ্রো মহিলারা অটো, প্যাকিং, ইস্পাত ইত্যাদি শিল্পের ক্ষেত্রে শিল্প ইউনিয়নের নীতিগুলির স্বীকৃতি অর্জনের জন্য শ্রমিক হিসাবে এবং শ্রমিকদের স্ত্রী হিসাবে ধর্মঘট ও অন্যান্য সংগ্রামে প্রাক-সিআইও দিনগুলিতে দুর্দান্ত ভূমিকা পালন করেছিলেন। সম্প্রতি, প্যাকিংহাউস শ্রমিকদের ধর্মঘটে নিগ্রো মহিলা ইউনিয়নবাদীদের জঙ্গিবাদী মনোভাব দেখা গেছে, যার আরও বেশি প্রভাব দেখা গেছে তামাক শ্রমিকদের ধর্মঘটে, যেখানে মোরান্ডা স্মিথ এবং ভেলমা হপকিন্সের মতো নেতারা অসামান্য ট্রেড ইউনিয়নিস্ট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন৷
কৃষ্ণাঙ্গ গৃহকর্মীদের নিজেদের সংগঠিত করার প্রচেষ্টাকে স্বীকার করতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্লডিয়া জোনস প্রগতিশীলদের এবং বিশেষ করে ট্রেড ইউনিয়নবাদীদেরকে তিরস্কার করেছিলেন। যেহেতু কৃষ্ণাঙ্গ নারী শ্রমিকদের অধিকাংশই তখনও ছিলেন গৃহকর্মে নিযুক্ত, তাই তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, দাসীর প্রতি পিতৃতান্ত্রিক মনোভাব কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাদের প্রচলিত সামাজিক সংজ্ঞাকে গোষ্ঠীগত ভাবে প্রভাবিত করেছে:
নিগ্রো নারীদেরকে গৃহকর্মে ন্যস্ত করা অব্যাহত ছিল যা সমস্ত নিগ্রো নারীদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা অরাজকতাকে স্থায়ী ও তীব্র করে তোলে।
জোন্স তার নিজের শ্বেতাঙ্গ বন্ধু এবং কমরেডদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে "অনেক প্রগতিশীল মানুষ এবং এমনকি কিছু কমিউনিস্টও এখনও নিগ্রো গৃহকর্মীদের শোষণের জন্য দোষী। এবং তারা কখনও কখনও এ অপরাধেও অপরাধী যে... তারা তাদের বুর্জোয়া প্রতিবেশী এবং তাদের নিজের পরিবারের সাথে কথা বলার সময় 'দাসীদের' অপমান করে।" ক্লডিয়া জোনস ছিলেন একজন কমিউনিস্ট- একজন নিবেদিতপ্রাণ কমিউনিস্ট যিনি বিশ্বাস করতেন যে একমাত্র সমাজতন্ত্রই পারে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের, সামগ্রিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের এবং প্রকৃতপক্ষে বহু-জাতিগত শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিতে। এইভাবে, তাঁর সমালোচনার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর শ্বেতাঙ্গ সহকর্মী এবং কমরেডদের নিজেদের বর্ণবাদী এবং সেক্সিস্ট মনোভাব থেকে মুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করা। পার্টির ক্ষেত্রে, ‘আমাদের ... ক্লাবগুলিতে, আমাদের অবশ্যই নিগ্রো মহিলাদের ভূমিকা নিয়ে একটি গভীর আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে, যাতে দোকানে এবং কমিউনিটিতে প্রয়োজনীয় সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য সে সম্পর্কে আমাদের পার্টি সদস্যতা গ্রহণকারীদের আমরা একটি স্পষ্ট ধারণা দিতে পারি।‘
অনেক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা যে যুক্তি দেখিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে ক্লডিয়া জোনসও সেই দাবিই করেছিলেন যে, প্রগতিশীল আন্দোলনে শ্বেতাঙ্গ মহিলারা— এবং বিশেষত শ্বেতাঙ্গ মহিলা কমিউনিস্টদের— কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাদের প্রতি একটি বিশেষ দায়িত্ব আছে।
শ্বেতাঙ্গ নারীদের সাথে নিগ্রো নারীদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, যা মূলত "মালকিন-দাসী" সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়, তা শ্বেতাঙ্গদের সাধারণ মনোভাবের পরিচায়ক এবং তার ফলেই শ্বেতাঙ্গ নারী প্রগতিশীলরা, বিশেষ করে কমিউনিস্টরা, শ্বেতাঙ্গ শভিনিজমের সমস্ত প্রকাশ্য ও সূক্ষ্ম প্রতিফলনের বিরুদ্ধে সচেতনভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আরো দায়বদ্ধ থাকেন।
যখন ক্লডিয়া জোন্সকে স্মিথ অ্যাক্টে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে অ্যাল্ডারসন ফেডারেল রিফরমেটরি ফর উইমেনে কারারুদ্ধ করা হয়, তখন তিনি সেখানে বর্ণবাদী সমাজের একটি ক্ষুদ্র রূপ দেখতে পেয়েছিলেন যা সম্পর্কে ইতিমধ্যেই তাঁর গভীর পর্যবেক্ষণ ছিল। যদিও কারাগারটি আদালতের নির্দেশে তার বেশিরভাগ সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার উপায় কেড়ে নিয়েছিল, তখন ক্লডিয়াকে একটি পৃথক "কৃষ্ণাঙ্গ কুটিরে" রাখা হয়, যা তাঁকে তার দুই শ্বেতাঙ্গ কমরেড, এলিজাবেথ গার্লে ফ্লিন এবং বেটি গ্যানেটের থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল। এলিজাবেথ গার্লে ফ্লিন এই বিচ্ছেদের ফলে খুবই দুঃখিত হয়েছিলেন, কারণ ক্লডিয়া জোনস ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কমরেড। এর দশ মাস পরে ১৯৫৫ সালের অক্টোবরে যখন ক্লডিয়া কারাগার থেকে মুক্তি পান - এলিজাবেথ তাঁর বন্ধুর জন্য খুশি হয়েছিলেন তবে ক্লডিয়ার অনুপস্থিতিতে তিনি যে কষ্ট পাবেন সে সম্পর্কেও তিনি সচেতন ছিলেন।
‘আমার জানালা ছিল রাস্তার মুখোমুখি, এবং সে যখন চলে গেল আমি তাকে দেখতে পেলাম। সে ঢেউয়ের দিকে এগিয়ে গেল - লম্বা, ক্ষীণকায়, সুন্দর, সোনালি বাদামী পোশাক পরে, এবং তারপর সে চলে গেল। এই দিনটি ছিল কারাগারে কাটানো আমার সবচেয়ে কষ্টকর দিন। আমি অত্যন্ত একা বোধ করছিলাম।‘
যেদিন ক্লডিয়া জোনস অ্যাল্ডারসন ছেড়ে চলে যান, সেদিন এলিজাবেথ গার্লে ফ্লিন বিদায় ক্লডিয়া নামে একটি কবিতা লেখেন:
প্রিয় কমরেড, শেষ পর্যন্ত আজকের দিনটা এসেই গেল, যেদিন আমাকে তোমার বিচ্ছেদ মেনে নিতে হবে
দিনের পর দিন, এক অন্ধকারময় কষ্ট, আমার হৃদয় ছেয়ে ফেলেছে
তোমাকে আর রাস্তায় হেঁটে যেতে দেখব না, তোমার হাসিমাখা চোখ আর দীপ্ত মুখও দেখব না আর, তোমার উচ্ছল হাসি শুনতে পাব না আর, এই বিষন্ন জায়গায় তোমার ভালবাসা আর ঘিরে থাকবে না আমাকে।
তোমাকে কতটা মনে পড়বে তা বোঝানোর সাধ্য কোনো কথার নেই
আমি একা, আমার কথা বলার কেউ নেই, এইসব ক্লান্ত দিনে
এই ধূসর এবং বিষন্ন সকালে আমার নিঃস্ব ও শূন্য লাগে, একা এই কারাগারে আমি আমার ভবিষ্যতের মুখোমুখি
তুমি এত প্রাণোচ্ছল, কাজে, কথায়, থাকা ও চলায় এত গর্বিত ছিলে যে তুমি অ্যাল্ডারসনে কখনো এসেছিলে তা মনে হয় না। তুমি এখানকার কেউ নও।
এখানে তোমার উপস্থিতি জ্বরের ঘোরে দেখা এক বিবর্ণ স্বপ্নের মত
তবুও সূর্যের আলো এখন কুয়াশা আর অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে গেলে, আমার হঠাৎ ভাল লাগে যে তুমি চলে গেছ,
তুমি আবার হার্লেমের রাস্তায় হাঁটবে, অন্তত তোমার জন্য এই ভোর আজ স্বাধীনতার
আমি আমাদের প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় থাকব, প্রিয় কমরেড, আমি স্বাবলম্বী হব, আমি আমাদের আদর্শের প্রতি থাকব অবিচল
আমার মন পড়ে আছে এই কারাগারের বাইরে, আর সে চিরকাল তোমার প্রেমময় স্মৃতিতে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত।
ক্লডিয়া জোনস অ্যাল্ডারসন থেকে মুক্তি পাওয়ার পরপরই, ম্যাককার্থিজমের চাপে তাঁকে ইংল্যান্ডে নির্বাসন দেওয়া হয়। তিনি কিছুদিন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান গেজেট নামে একটি জার্নাল সম্পাদনা করে তাঁর রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যান। কিন্তু তাঁর স্বাস্থ্যের ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে এবং তিনি শীঘ্রই অসুস্থ হয়ে পড়েন যে অসুস্থতায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
সমাপ্ত
ভাষান্তর: যশোধরা গুপ্ত, কৌশিকী ভট্টাচার্য, তর্পণ সরকার, সায়ন্তন সেন, সৃজনী গঙ্গোপাধ্যায়
প্রকাশের তারিখ: ১৮-এপ্রিল-২০২৩
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
