Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

কমরেড সৈয়দ শাহেদুল্লাহ্ স্মরণে

মহবুব জাহেদী
১৯৪৭ সালে ভ্রাতৃঘাতী সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড নেমে এল কলকাতা, বিহার ও নোয়াখালিতে (বর্তমানে বাংলাদেশ)। এর ছোঁয়া কম বেশি বর্ধমান জেলাতেও নেমে এসেছিল। স্বাভাবিকভাবে কমিউনিস্ট কর্মীদেরকে তাদের সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সংগ্রামকে আরও তীব্র করতে হল। শাহেদুল্লাহকে দাঙ্গা-নিরোধের চেষ্টার সহায়তায় নোয়াখালিতে যেতে হয়েছিল। কৃষক সমিতির নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে রিলিফ কেন্দ্র স্থাপন করে দাঙ্গা বিধ্বস্ত মানুষের সেবা করতে হয়েছিল। এ বিষয়ে মটরদার জীবনে একটি মনে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছিল। মন্তেশ্বর থানার মণ্ডল গ্রামে প্রচণ্ড আক্রমণমুখী দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একদল অপর দলকে আক্রমণ করার জন্য এগিয়ে চলেছে, মাঝখানে শাহেদুল্লাহ্ দাঁড়িয়ে। পুলিশ গুলি চালাবার জন্য প্রস্তুত এবং শাহেদুল্লাহ্ সাহেবকে সরে যেতে বলল। উত্তরে তিনি চিৎকার করে বললেন, "গুলি চালাতে হয় আমার ওপর গুলি চালাও"। এই ঘটনা ও দৃঢ়তায় পুলিশকে সরে যেতে বাধ্য হতে হল এবং কমিউনিস্ট কর্মীদের চেষ্টায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি ফিরে এল। সাম্প্রদায়িক চিন্তা ও দাঙ্গা মার্কসবাদী লেনিনবাদী এই কমিউনিস্ট নেতাকে কোনোদিন উগ্র জাতীয়তাবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করাতে পারেনি।
Syed Shahedullah

সংক্ষিপ্ত জীবনী

জন্ম : ২৪ মার্চ ১৯১৩। বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরে। বাবা: সৈয়দ হামিদুল্লাহ, মা: মুসম্মত হবিবা বিবি।

১৯৩১ সালে বর্ধমান জেলা কংগ্রেস সম্মেলনে তিনি স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করেন। পরে কমিউনিজমে বিশ্বাসী হন। ১৯৩৫ সালে বাংলাদেশে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম জেলা কমিটি গঠিত হয় বর্ধমানে। এই কমিটির প্রথম সম্পাদক পদে তিনি নির্বাচিত হয়ে তিন বছর এই পদে আসীন ছিলেন। পার্টি গঠনের কাজের সঙ্গে তিনি জেলার কৃষক আন্দোলনও সংগঠিত করেন। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় তিনি কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। ১৯৩৯ সালে বর্ধমান জেলার ঐতিহাসিক ক্যানাল কর প্রতিরোধ আন্দোলনের তিনি অন্যতম নেতা ছিলেন। ১৯৪৮ সালে প্রাদেশিক কৃষক সভার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ওই বছরই পার্টি বেআইনি ঘোষিত হলে তিনি আত্মগোপন করেন। ১৯৬৩-৬৪ তে চীন ভারত সংঘর্ষের সময় তিনি কারারুদ্ধ হন। অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির রাজ্য পরিষদের সদস্য এবং ১৯৬৮ সালে সি পি আই (এম) রাজ্য কমিটির সদস্য হন। তখন থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত পার্টির রাজ্য কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৫৭ সালে বিধান পরিষদের সদস্য, ১৯৬৪ সালে বর্ধমান পৌরসভার সদস্য, ১৯৬৭ সালে বর্ধমান কেন্দ্র থেকে বিধানসভায় এবং ১৯৭৮ সালে তিনি রাজ্যসভার নির্বাচিত হন। প্রবন্ধকার হিসাবে তাঁর খ্যাতি ছিল। ১৯৩৭ সালে তাঁরই উদ্যোগে 'কমরেড' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি 'নন্দন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'লেনিনবাদীর চোখে গান্ধীবাদ,' 'শিক্ষা ও শ্রেণী সম্পর্ক', 'মাতৃভাষা ও সাহিত্য', 'বিবিধ প্রসঙ্গ' প্রভৃতি। 

২৪ জানুয়ারি ১৯৯১ ক্যালকাটা হসপিটালে তাঁর জীবনাবসান হয়।


বুদ্ধিজীবনের শিকড় ছিল রাজনৈতিক কর্মে

মহবুব জাহেদী
সদস্য, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সি পি আই (এম)

একটি সাধারণ ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে আলোচনা যতটা সহজ; একজন সুপণ্ডিত, সমাজবিজ্ঞানী, মার্কসবাদী বুদ্ধিজীবী ও তাঁর নানা সময়ের কর্মকাণ্ড, মনোময় জীবনচর্চার স্মৃতি অর্থাৎ সমাজ বদলের চিন্তা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার চর্চা তত সহজ নয়। 

বিশেষ করে এত ছোটো পরিসরে – অল্প কথায় 'কম্পাস'। কম্পাসই তো মার্কসবাদ। মার্কসবাদই কম্পাস। মাস সাধারণ সূত্র। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে কম্পাসের নির্দেশ সঠিকভাবে বোঝার জন্য আরও একটা কম্পাসের দরকার হয়। মার্কসবাদ তো মূল সূত্র – সাধারণ সূত্র। তাকে দেশ কাল পরিস্থিতি অনুসারে বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সৃজনশীল ভাবে প্রয়োগ করতে হয়, এটা সহজ কথা নয়। তাই কম্পাসের কম্পাস দরকার হয়। 

এই কম্পাসেরই একজন সৈয়দ শাহেদুল্লাহ্। চলিত নাম মটরদা, মটর ভাই।

১৯১৩ সালে বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরে একটি অবস্থাপন্ন পরিবারে শাহেদুল্লার জন্ম হয়েছিল। এই পরিবারটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক, সামাজিক চিন্তা চেতনায় সমৃদ্ধ ছিল। বাড়িতে ধর্মীয় আচার ‘তহজিব’ ছিল ঠিকই তবে ধর্মীয় আন্দোলন, গোঁড়ামি বা ধর্মান্ধতা ছিল না। অন্তঃপুরে মেয়েদের মধ্যে কিছুটা ধর্মপালন থাকলেও কর্তা সহ অন্যান্যদের তেমন ভাবে নিয়ম পালন করতে দেখা যায়নি। বাড়িতে উর্দু, ফারসী, আরবী ও ধর্ম শিক্ষার জন্য মৌলবী রাখা হয়েছিল, কিন্তু ছোটোবেলা থেকেই মটর ভাইদের জীবনে ধর্মের গিড়েটা বাঁধতে পারা যায় নি। এটা উল্লেখযোগ্য যে সৈয়দ শাহেদুল্লার অসাম্প্রদায়িক জীবনে তাঁর পিতা হামিদুল্লাহ্ সাহেব ও মাতা হাবিবা বিবির বেশ সুস্পষ্ট প্রভাব ছিল। পরিবারে মৌলবীর উপস্থিতি শাহেদুল্লাহ্ সাহেবদের জীবনে উর্দু, ফারসী ও আরবী ভাষা শিক্ষার সুযোগ এনে দিয়েছিল। হিন্দি ও সংস্কৃত ভাষার সঙ্গেও পরিচিত ও পারদর্শী ছিলেন। সৈয়দ শাহেদুল্লাহ্ ভাষার সঙ্গে পরিচিত হতে গিয়ে বেদ, কোরান, হাদিশ ইত্যাদি ধর্মীয় শাস্ত্রের সঙ্গেও পরিচিত হয়েছিলেন। বাড়িতে ইংরেজি ভাষা সাহিত্যের বিশেষ চর্চা ছিল। ইংরাজদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান রবীন্দ্রনাথের কথায় যেমন ‘বড় ইংরাজ’দের কে চিনিয়েছিল, তেমনি সাম্রাজ্যবাদী লোভী বেনিয়া কুচক্রীদেরকেও চিহ্নিত করেছিল। শাহেদুল্লার জীবনে একাধারে সাহিত্য, জ্ঞান বিজ্ঞান সাধনা সাম্রাজ্যবাদী ও ফ্যাসিবাদী বিরোধিতায় ও দেশের অভ্যন্তরে সামন্ততান্ত্রিক ও পুঁজিতন্ত্রের বিরোধিতায় যেমন আলোকবর্তিকা হিসাবে জ্বলে উঠেছিল তেমনি অপরদিকে সমাজবাদী বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সমৃদ্ধির প্রচেষ্ট জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে এগিয়ে চলেছিল। স্বদেশী যুগ থেকেই শাহেদুল্লাহ্ সাহেবদের বাড়িতে কংগ্রেসের একটা ঐতিহ্য চলে আসছিল। তাঁর নানা (দাদামশাই) মৌলবী আবুল কাশেম সাহেব এক সময়ে সুরেন ব্যানার্জির খুবই কাছের সহকর্মী ছিলেন। ছিলেন বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের একজন পুরোধা এমনকী অবিভক্ত বাংলাদেশের শীর্ষ নেতাদের একজন। শাহেদুল্লাহ্ সাহেবের আর এক নানা মৌলবী আবুল হায়াৎ সাহেব খিলাফত আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।


এই বাড়ি বা পরিবার সম্পর্কে আবদুল্লাহ রসুলের লেখা "এদের বাড়ির আবহাওয়ায় সাধারণভাবে এক রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে উঠেছিল। কংগ্রেস, কৃষকসভা, ট্রেড ইউনিয়ন, মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি, ছাত্র আন্দোলন, যুব আন্দোলন, মুসলিম লিগ ও কমিউনিস্ট পার্টি সহ সব রকম রাজনীতি এদের মধ্যে ছিল।” যে রাজনীতি এই পরিবারটিকে মূলগত ও প্রধানত প্রভাবিত করেছিল, তা ছিল সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধিতা।

এক সময়ে গান্ধিজীর অসহযোগ আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলন মিলেমিশে এক রাজনৈতিক মাদকতা ও রাজনৈতিক আবহাওয়ার তীব্র রূপ নিয়েছিল। শাহেদুল্লাহ ছোটোবেলা থেকেই বাড়ির বড়দের হাত ধরে সেই সময়ে বিভিন্ন মিটিং মিছিলে যেতেন। কংগ্রেস পার্টির অফিসেও যেতেন। অর্থাৎ স্বদেশী আন্দোলনের মধ্যেই বড় হতে থাকেন।

বর্ধমানে অনুষ্ঠিত সোসিয়ালিস্ট সম্মেলনে প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা বঙ্কিম মুখোপাধ্যায় এর কমিউনিস্ট আদর্শ ও ভাবধারা সম্পর্কীয় যুগান্তকারী ভাষণ ও মুজফ্ফর আহমদ প্রমুগের নেতৃত্বের মীরাট ষড়যন্ত্র মামলার কাহিনী শাহেদুল্লাহকে ভীষণ ভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং মার্কসবাদের প্রতি আকৃষ্ট করেছিল।

গান্ধিজীর প্রথম অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার মানুষের মনে যেমন হতাশা সৃষ্টি করেছিল তেমনি কিছু সংগ্রামী যুবক ও কর্মীর মনে আন্দোলনের নতুন ধারা নিয়ে আগ্রহ দেখা দিতে শুরু করে। তাদের অধিকাংশ গান্ধিজীর অহিংসা নীতির বাঁধন ও শুধু সংসদীয় পদ্ধতিতে থাকতে অনিচ্ছুক দিলেন। ১৯৩০ সালের আগে থেকেই কর্মীদের মধ্যের এই আকুলতায় ছোটো ছোটো দল ও সংগঠন গড়া শুরু হয় অর্থাৎ দানা বাঁধতে থাকে। বর্ধমানেও এই ধরনের কিছু সংগঠন দানা বাঁধতে থাকে। এমনকী বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে থেকে বিপ্লবী গ্রুপ সংগঠিত হচ্ছিল। তবে এদের মধ্যে কোনো কোনো সংগঠন সন্ত্রাসবাদের পথেও গিয়েছিল। এই পটভূমিতে দাঁড়িয়ে কমিউনিস্ট ভাবধারায় অনুপ্রাণিত কৃষক, শ্রমিকদের আন্দোলনও শুরু হয়েছিল। ১৯৩০ সালে বড়লাট লর্ড আরউইন ও গান্ধিজীর মধ্যে চুক্তি সাক্ষরিত হয়ে দ্বিতীয় 'অসহযোগ আন্দোলন' প্রত্যাহৃত হয়। স্বাভাবিকভাবে বাংলার মানুষ বিশেষ করে যুব সমাজ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। কমিউনিস্ট ও শ্রমিক কৃষক আন্দোলনে জাগরিত নূতন শক্তি প্রকাশ পায় ও যুব সমাজকে একটা পথ দেখায়। 

তদানিন্তন রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোচনা প্রয়োজন হল শাহেদুল্লাহর নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে – তার  পরিপ্রেক্ষিত বোঝার জন্য।

১৯০১ সালে বর্ধমানে কংগ্রেসের জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় যাকে কংগ্রেসের রাজনৈতিক সম্মেলন বলা হত। এই সময়ে একই মঞ্চে যুব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সৈয়দ শাহেদুল্লাহ্ মূল সম্মেলনের স্বেচ্ছাসেবক ও যুব সম্মেলনে যুব সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পেলেন। বিনয় চৌধুরী এই যুব সম্মেলনের আহ্বায়ক ছিলেন। যে সব 'দানা বাঁধা' গ্রুপ ব্রিটিশ গভর্নমেন্ট ও কংগ্রেসের সমঝোতা ও আপসনীতি মানতে রাজি ছিলেন না, এই সব গ্রুপের একই ধরনের চিন্তার যুবকদের নিয়ে সংগঠন গড়ে তোলা ও যোগাযোগ সৃষ্টি করার সুযোগ হয়েছিল।

বর্ধমান জেলায় কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার মূল শক্তি ছিল সমাজবাদী প্রগতিশীল ভাবধারায় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রকাশ ও শ্রমিক কৃষকের সংগ্রাম। এই সময়ে আমাদের জেলার অর্থনৈতিক সংকট ও কৃষক শ্রমিকের বেড়ে ওঠা চেতনা দেশের কমিউনিস্ট আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু কেবল উপাদানই কমিউনিস্ট আন্দোলন গড়ে ওঠার একমাত্র শর্ত হতে পারে না, যদি না বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের চিন্তাধারা শ্রেণী সংগ্রাম-এ এগিয়ে আসা কর্মী ও নেতৃত্বের মধ্যে না থাকে।

১৯৩৫ সালের ৫ অক্টোবর পাঁচজন সদস্য নিয়ে বর্ধমান জেলা পার্টি কমিটি গঠিত হয়। যার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হলেন সৈয়দ শাহেদুল্লাহ। বোধহয় সম্ভবত সমগ্র বাংলাদেশের (অবিভক্ত বাংলা) কমিউনিস্ট পার্টিতে জেলা কমিটি হিসাবে প্রথম। ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন-এর মধ্য দিয়ে শাহেদুল্লাহর দীর্ঘপথ চলা শুরু হল। অবিভক্ত পার্টির রাজ্য পরিষদ এবং সি পি আই (এম) এর রাজ্য কমিটির সদস্য হিসেবে মৃত্যুর কিছুদিন পূর্ব পর্যন্ত কাজ করে গেছেন। 

তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেশি সময়টা অতিবাহিত হয়েছিল কৃষক আন্দোলনের মধ্যে কৃষকদের একজন জনপ্রিয় নেতা হিসাবে। আমাদের বর্ধমান জেলা ছাড়াও প্রাদেশিক কৃষক সভার সম্পাদক, কাউন্সিল সদস্য ও অন্যান্য গণ সংগঠনের সুবাদে সমগ্র বাংলাদেশে তাকে কাজ করতে হত। প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে গ্রাম-গ্রামান্তরে কৃষকের জীবনের সঙ্গী হয়ে ছুটে বেরিয়েছেন। ১৯৩৩ সালে হাট গোবিন্দপুরে জেলা কৃষক সমিতির প্রথম সম্মেলনে, ১৯৪৫ সালে প্রাদেশিক কৃষক সম্মেলন ও ১৯৪৮ সালে মঙ্গলকোট থানার কাশেমনগরের সম্মেলনে শাহেদুল্লাহ সাহেবের নেতৃত্ব ও সক্রিয়তা উদাহরণযোগ্য। আত্মগোপন অবস্থাতে জেলা সম্মেলন পরিচালনা করেছিলেন। মটরদা কৃষক সমস্যাগুলি দরদ দিয়ে অনুভব করতেন। ক্যানেলের কর বৃদ্ধির আন্দোলন, বেটারমেন্ট লেভি ও প্রকিওরমেন্ট লেভির বিরোধিতা, ১৯৫৯ সালের খাদ্য আন্দোলন, ফসলের ন্যায্য মূল্যের দাবি, তে-ভাগা আন্দোলন, ভাগচাষী, ক্ষেতমজুরদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন, বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ভিক্ষে পীড়িতদের সেবা, যুদ্ধ ও শান্তি প্রশ্নে শান্তির সপক্ষে সংগ্রাম, দামোদর-অজয় নদীর বাঁধ বাঁধার লড়াই, সব ক্ষেত্রেই শাহেদুল্লাহ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং অংশগ্রহণ করেছেন। দামোদর ও অজয় নদীর ভয়াবহ বন্যার পর কৃষক সমিতির নেতৃত্বে বন্যাক্লিষ্ট মানুষের আন্দোলনে সরকার বাধ্য হন 'মান সিং এনকোয়ারি' কমিটি গঠন করতে। উদ্দেশ্য বন্যার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে অনুসন্ধান করা। কিন্তু এই কমিটির কাজে জনগণের বক্তব্য বলার অধিকার ও সুযোগ ছিল না। দাবি ওঠে 'পাবলিক এনকোয়ারি কমিটি' গঠন করার। আন্দোলনের চাপে সরকার দাবি মেনে নেন। কৃষক সমিতির পক্ষ থেকে বিনয় চৌধুরী ও শাহেদুল্লাহ কমিটির সামনে লিখিত বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যটি রচনা করেছিলেন শাহেদুল্লাহ্ সাহেব, যার বিশেষত্ব ছিল দামোদর ভ্যালি করপোরেশনের ভুল পরিকল্পনা যা গ্রামবাসীদের জীবনে এক স্থায়ী সংকট সৃষ্টি করে রাখবে তার বৈজ্ঞানিক বাস্তবোচিত যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা। নদীর জলোচ্ছ্বাস ও গতিশীলতা সম্বন্ধীয় এক গভীর অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। আমার বেশ মনে আছে অজয় নদীর উপরিভাগ বিশেষ করে বিহার রাজ্যে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হিসাব করে তিনি পরবর্তী ফলাফল নির্দিষ্টভাবে বলে দিতে পারতেন। একবার পোস্ট কার্ডে আমাকে অগ্রিম চিঠি লিখে পাঠালেন, "নদীর ধারের গ্রামগুলির অধিবাসীদের ও আমাদের কর্মীদের জানিয়ে দাও, আগামী ১২-১৩ ঘণ্টার মধ্যেই ফতেপুরে অজয় নদীর বাঁধ ভাঙ্গবে এবং সতর্ক করে দাও, প্রয়োজনে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অগ্রিম সাহায্য চেয়ে পাঠাও।” একেবারে শুকনো অবস্থাতে নদীতেও বিশেষ জল নাই। আমি অস্বস্তিতে পড়লাম। বাস্তবে কিছুই দেখছি না। যাইহোক অনেক দ্বিধা সত্ত্বেও এই সংবাদ এলাকায় পাঠিয়ে নিলাম। কিন্তু আশ্চর্য মটর ভাই নির্দেশিত সময়েই ভয়াবহ বন্যায় বাঁধ ভাঙ্গল। নদীর গতি-প্রকৃতির উপর কী ধরনের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকলে এই ধরনের সিদ্ধান্তে আসা যায় এটা তারই নিদর্শন।

স্বায়ত্ব শাসন সংস্থাগুলির বিশেষ করে মিউনিসিপ্যালিটি, ইউনিয়ন বোর্ড, জেলা বোর্ড ও লোকাল বোর্ড নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার নীতি কংগ্রেসের মধ্যে থেকেই নেওয়া হয়েছিল। মূল ভূমিকায় ছিলেন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অংশ অর্থাৎ কংগ্রেসের ভিতরে থাকা কমিউনিস্টরা। শাহেদুল্লাহ্ যাদের মধ্যে অন্যতম। এই নির্বাচন পরিচালনার মধ্য দিয়ে জনগণের চেতনার উন্মেষ ঘটিয়ে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শক্তির বৃদ্ধি ও প্রসার বহু অংশে সম্ভব হয়েছিল। 

১৯৪৭ সালে ভ্রাতৃঘাতী সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড নেমে এল কলকাতা, বিহার ও নোয়াখালিতে (বর্তমানে বাংলাদেশ)। এর ছোঁয়া কম বেশি বর্ধমান জেলাতেও নেমে এসেছিল। স্বাভাবিকভাবে কমিউনিস্ট কর্মীদেরকে তাদের সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সংগ্রামকে আরও তীব্র করতে হল। শাহেদুল্লাহকে দাঙ্গা-নিরোধের চেষ্টার সহায়তায় নোয়াখালিতে যেতে হয়েছিল। কৃষক সমিতির নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানে রিলিফ কেন্দ্র স্থাপন করে দাঙ্গা বিধ্বস্ত মানুষের সেবা করতে হয়েছিল। এ বিষয়ে মটরদার জীবনে একটি মনে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছিল। মন্তেশ্বর থানার মণ্ডল গ্রামে প্রচণ্ড আক্রমণমুখী দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একদল অপর দলকে আক্রমণ করার জন্য এগিয়ে চলেছে, মাঝখানে শাহেদুল্লাহ্ দাঁড়িয়ে। পুলিশ গুলি চালাবার জন্য প্রস্তুত এবং শাহেদুল্লাহ্ সাহেবকে সরে যেতে বলল। উত্তরে তিনি চিৎকার করে বললেন, "গুলি চালাতে হয় আমার ওপর গুলি চালাও"। এই ঘটনা ও দৃঢ়তায় পুলিশকে সরে যেতে বাধ্য হতে হল এবং কমিউনিস্ট কর্মীদের চেষ্টায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি ফিরে এল। সাম্প্রদায়িক চিন্তা ও দাঙ্গা মার্কসবাদী লেনিনবাদী এই কমিউনিস্ট নেতাকে কোনোদিন উগ্র জাতীয়তাবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করাতে পারেনি। মার্কসবাদ লেনিনবাদের সঠিকতার পক্ষে সংগ্রামে শাসক শ্রেণীর আক্রমণে শাহেদুল্লাহ্ কোনো দিন থমকে দাঁড়াননি। বিনা বিচারে অন্যান্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর মতো জেলখানায় থাকতে হয়েছে। আত্মগোপন করে কাজ করতে হয়েছে। পার্টি যখন তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছে সেটা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। জেলে বা আত্মগোপন করে থাকাকালীন কোনো সময়ে তার ব্যক্তিগত জীবনের প্রশ্ন তাঁকে বিচলিত করতে পারেনি।

১৯৬৪ সালে কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র জন্ম হয় শোধনবাদ ও অতি বামপন্থার বিরোধী সংগ্রাম হিসাবে। এর আগে চল্লিশ দশকের আগে থেকে অতি বাম ও অতি দক্ষিণপন্থার দোষে পার্টি ভুগছিল। এমনকী আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব অনেকে আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলেন এই জেনে যে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির কোনো প্রোগ্রাম ছিল না। ১৯৫১ সালে অতিবাম ও দক্ষিণপন্থীরা উভয়েই পরাজিত হয়। একটি সুস্থ রাজনৈতিক মত ও পথ গৃহীত হয়। এই আদর্শগত সংগ্রামে শাহেদুল্লাহর অবদান প্রচুর। পার্টির কোনো মূলতত্ত্ব ও প্রয়োগ ক্ষেত্রে কোনো কমরেডের কোনো বিভ্রান্তি বা অস্বচ্ছতা থাকলে প্রয়োজনীয় গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করে তার ভুল মতকে সংশোধন করতেন।

স্মরণ করার বিষয় মটর ভাই এর প্রতিভা ও গবেষক মানসিকতা। দেশ বিদেশের সাহিত্য, দর্শন ও সংস্কৃতির চর্চায় তিনি নিরলস অনুশীলন করে গেছেন। গোর্কীর ছোটো গল্প, মধুসূদনের কিংবা রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সব কিছুতেই তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। প্রতিদিনই তিনি ৫/৬ টি কাগজ বিস্তৃতভাবে পড়তেন। প্রচুর পড়ার অভ্যাস তাঁর ছিল।

তিরিশ দশক থেকেই কৃষক আন্দোলনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা ও প্রগতিশীল পত্র-পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন। পূর্বের "দি-মুসলমান' পরের 'কমরেড', 'ছায়াবীথি' প্রভৃতি পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্ধমান জেলার প্রথম পার্টি পত্রিকা 'নূতন পত্রিকা'-র সম্পাদক হন এবং কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) সাংস্কৃতিক মুখপত্র 'নন্দন' পত্রিকা দীর্ঘদিন সম্পাদনা করেন।

তাঁর লেখা 'শিক্ষা ও শ্রেণী সম্পর্ক', 'লেনিনবাদীর চোখে গান্ধীবাদ', 'মাতৃভাষা ও সাহিত্য' ও বিবিধ প্রসঙ্গ' গ্রন্থগুলি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক, প্রগতিশীল ধারা অনুশীলনকারী ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় গ্রন্থ হিসাবে বেঁচে থাকবে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে 'নন্দন', 'গণনাট্য' ও 'গণশক্তি' পত্রিকায় প্রকাশিত অসংখ্য রচনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এগুলি গ্রন্থাকারে সংকলিত করে রাখতে পারলে পুরাকাল, বর্তমান ও উত্তরকালের সেতুবন্ধনের সৃষ্টি হবে। বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম উপকৃত হবে। শাহেদুল্লাহ্-র এই সৃষ্টিগুলি গভীরভাবে লক্ষ করে দেখলে বোঝা যায় যে খেটে খাওয়া মানুষের বাস্তব সংগ্রাম থেকেই তার উদ্ভব। এবং এই বিষয়ে তাঁর পাণ্ডিত্য তারই প্রতিফলন। মটরভাই গণনাট্য আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের জটিলতার জট খোলাই তাঁর কাজ ছিল। হীরেন ভট্টাচার্যর কথায় “সাংস্কৃতিক আন্দোলনের জটিলতার জট খোলা শুধু ‘বিশুদ্ধ’ পাণ্ডিত্য কিংবা ‘বিশুদ্ধ’ বাস্তব রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার দ্বারা সম্ভব নয়, তার জন্য চাই বাস্তব রাজনৈতিক উদ্ভাবন ও প্রয়গোপযোগী তত্ত্বজ্ঞানের ‘সমন্বয়’। যে কয়জনকে গণনাট্যের সমস্যার সমাধান হিসাবে পাওয়া গিয়েছিল তাঁদের মধ্যে শাহেদুল্লাহ বুদ্ধিজীবীমাত্রই ছিলেন না। তার বুদ্ধিজীবনের ফুলটা ফুটত সংস্কৃতির আকাশে এবং শিকড়টা ছিল রাজনৈতিক কর্মের মাটিতে। 'মাইকেল, দীনবন্ধু ও গিরিশচন্দ্র' শীর্ষক রচনায় শাহেদুল্লাহ্ সে যুগের আর্থ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণের প্রেক্ষাপটে যে সূত্রগুলি করেছিলেন, তা আগামী দিনে বাংলা নাটকের ইতিহাস রচনায় সাহায্য করবে।

পরিষদীয় কাজে শাহেদুল্লাহ্ যে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন তা পরিষদীয় কাজে যুক্ত আজকের কর্মীদের নিকট শিক্ষার বস্তু। বর্ধমানের মিউনিসিপ্যালিটির কাউন্সিলার, ১৯৬৭ সালে বর্ধমান উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক, এম এল সি ও রাজ্যসভার সদস্য হিসাবে তাঁর অংশগ্রহণ বিশেষ লক্ষণীয়। মটর ভাই ১৯৪০ দশকের গোড়া থেকে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষকদের সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল অপরিসীম। মাদুরাই পার্টি কংগ্রেসের সময় জ্যোতির্ময় বসু বললেন, “কাল প্রাথমিক শিক্ষা সম্পৰ্কীয় বিল লোকসভায় আলোচিত হবে, শাহেদুল্লাহ্ সাহেব, আমাকে একটু সাহায্য করুন", সঙ্গে সঙ্গে লেনিনের সংকলনের কয়েকটি খণ্ড নিয়ে অধিক রাত্রি পর্যন্ত জেগে চমৎকার বক্তব্য লিখে ফেললেন মটর ভাই। এই অভিজ্ঞতাটা পাওয়ার আমার সুযোগ হয়েছিল এই জন্য যে ওঁর নির্দিষ্ট কামরায় আমার থাকার ব্যবস্থা ছিল।

১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ, হাহাকার, মহামারীর সময় আমাদের পার্টির মেয়েরা বসে থাকেনি। বর্ধমান জেলার মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি পীড়িতদের সেবার কাজে সচেষ্ট হয়ে নেমে পড়লেন। মহিলা আত্মরক্ষা সমিতির নেতৃত্বে ছিলেন আমার চাচাত বড় বোন (জ্যাঠতুতো দিদি) রাবিয়া বেগম, সৈয়দ শাহেদুল্লাহর স্ত্রী।

আমি ব্যক্তিগতভাবে শাহেদুল্লাহ্র কাছে উপকৃত। প্রথমত পার্টি নেতা হিসাবে, অপর দিকে আত্মীয় সুবাদে। পার্টির আদর্শ, জীবন ও শিক্ষা সম্পর্কে উনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। সর্বাপেক্ষা বেশি সাহায্য করেছেন মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্য, সম্পর্ক ও আন্তরিক আত্মীয়তা গড়ে তোলার বিষয়ের শিক্ষা দিয়ে।

শাহেদুল্লাহর বলিষ্ঠ চরিত্রকে চুলচেরা বিচার করলে দেখা যাবে তাঁর জীবন মানবিকতায় পূর্ণ, সাধারণের সুহৃদ, পার্টি ও গণ আন্দোলনের নেতা ও কর্মীদের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ একজন মানুষ। তিনি সকলকে তন্ন তন্ন করে চিনতেন, খোঁজ খবর নিতেন। পারিবারিক, সাংসারিক জীবনের দুঃখকষ্টে অংশীদার হতেন। কর্মীদের ভুল হলে সহহৃদয়ে ভুল সংশোধন করে দিতেন।

কমরেডদের নিজস্ব কমিউনিস্ট চরিত্র গড়ে তোলা শুধু একক প্রচেষ্টা নয়। সমনীতিতে বিশ্বাস, একপথে চলার অনেকের সংযুক্ত প্রচেষ্টা, একে অপরের কমিউনিস্ট চরিত্র গড়ে তুলতে সাহায্য করে। শাহেদুল্লাহর জীবনে আবদুল্লাহ রসুল, বিনয় চৌধুরী, সুবোধ চৌধুরী, হরেকৃষ্ণ কোঙার, বিপদবারন রায়, দাসু চৌধুরী সহ অনেক কমরেডের কার্যক্রম ছিল। শাহেদুল্লাহ্র সমগ্র পরিবারটি সক্রিয়ভাবে পার্টির আদর্শ ও কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভ্রাতা মনসুর হবিবুল্লাহ্, ভ্রাতা সৈয়দ আমানুল্লাহ, স্ত্রী রাবিয়া বেগম, ভ্রাতৃবধু মকসুদা খাতুন সহ অনেকে। মটরদার আদর্শগত জীবনের প্রভাব তাঁর পরিবারের অনেকের ওপর পড়েছিল।

১৯৯১ সালের ২৪ জানুয়ারি ৭৮ বছর বয়সে ক্যালকাটা হসপিটালে কমরেড সৈয়দ শাহেদুল্লাহ্র জীবনাবসান হয়। আমাদের কাছে তিনি রেখে গেছেন কর্তব্য ও কাজের শিক্ষা, নিরহঙ্কার নিরভিমানী মানুষের পরিচয়।

লেখাটি নেওয়া হয়েছে ২০০৫ সালে ন্যাশনাল বুক এজেন্সি কর্তৃক প্রকাশিত “আমাদের পূর্বসূরিরা – প্রয়াত নেতৃবৃন্দের জীবনী” গ্রন্থ থেকে। 


প্রকাশের তারিখ: ২৪-মার্চ-২০২৩
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

সমৃদ্ধ হলাম। অনেক অজানা ইতিহাস জানতে পেরে নিজেকে গর্বিত লাগছে। তাঁর জীবন দর্শন আত্মত্যাগ আমাদের আগামী দিনের পথ চলার ক্ষেত্রে সাহস ও শক্তি জোগাবে। মহান এই কমিউনিস্ট ব্যাক্তিত্বের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
- ANIMESH BHOWMICK, ২৫-মার্চ-২০২৩


কমরেড শাহেদুল্লাহ র জীবনের উপর আরো লেখা পেলে উপকৃত হই।
- প্রবীর ভৌমিক , ২৩-জুন-২০২৪


Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নানা প্রসঙ্গ বিভাগে প্রকাশিত ১০১ টি নিবন্ধ
১০-জানুয়ারি-২০২৬

২১-ডিসেম্বর-২০২৫

২০-ডিসেম্বর-২০২৫

১৩-ডিসেম্বর-২০২৫

২৫-নভেম্বর-২০২৫

২০-অক্টোবর-২০২৫

১৬-অক্টোবর-২০২৫

০৮-সেপ্টেম্বর-২০২৫

২৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৫

০৫-ডিসেম্বর-২০২৪