সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
এক ‘যৌক্তিক’ পরিবর্তনে শ্রমের দাম আরও সস্তা
চন্দন দাস
সাম্প্রতিক রাজ্য বাজেটের সঙ্গে বিধানসভায় পেশ করা আর্থিক সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ২০২৩-২৪-এ মূলধনী খাতে সরকার খরচ করেছিল ২৯,৭৫৭ কোটি ২২ লক্ষ টাকা। ২০২৪-২৫-এ তা বাড়েনি, কমেছে ৭ হাজার কোটির বেশি। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের হিসাব পাওয়া যাবে আগামী বছর। কিন্তু প্রবণতা বলছে মূলধনী খাতে খরচ কমিয়েছে রাজ্য সরকার। খরচ একইভাবে কমানো হয়েছে পরিকাঠামো ক্ষেত্রেও। এই দুই ক্ষেত্রে সরকারের ব্যয় হ্রাস মানে কাজের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্র সঙ্কুচিত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি শ্রমজীবীদের।

গান্ধী গেছেন। রাম এসেছেন। মনরেগা হয়েছে ভি বি জি রাম জি। গ্রামবাসীদের কর্মসংস্থানের আইনের এই বদলকে বিজেপি চালিত সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ‘যৌক্তিক।’ বোঝানো হয়েছে এ এক সময়োপযোগী পরিবর্তন।
গত ১৮ই ডিসেম্বর লোকসভা এবং রাজ্যসভায় গৃহীত হয়েছিল এই নতুন বিল—‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবীকা মিশন গ্রামীণ বিল।’ এটিই সংক্ষেপে ভিবি জি রাম জি। সেদিনই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর মাধ্যমে এই নতুন বিল পেশের কারণ ব্যাখ্যা করে একটি দশ পাতার নোট প্রকাশ করা হয়। তার তিন নম্বর পাতায় একটি অংশ আছে, যার শিরোনাম— ‘নতুন সংবিধিবদ্ধ কাঠামোর যৌক্তিকতা।’
কী সেই ‘যৌক্তিকতা’? রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করছে, ‘‘সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বৃহত্তর আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের মধ্যেও নিহিত। ২০০৫ সালে যখন মনরেগা (MGNREGA) চালু হয়েছিল, তার তুলনায় বর্তমান গ্রামীণ ভারত আমূল বদলে গেছে। ক্রমবর্ধমান ভোগব্যয়, আর্থিক পরিষেবায় সহজলভ্যতা এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রসারের ফলে দারিদ্র্যের হার ২০১১-১২ সালের ২৭.১% থেকে কমে ২০২২-২৩ সালে ৫.৩% -এ পৌঁছেছে। গ্রামীণ জীবিকা এখন অনেক বেশি বহুমুখী এবং ডিজিটাল ক্ষেত্রে সংযুক্ত; ফলে মনরেগার উন্মুক্ত এবং চাহিদানুসারী কাঠামোটি বর্তমান গ্রামীণ বাস্তবতার সঙ্গে আর পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
কিন্তু ‘সময়’ কী বলছে? ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো (এনসিআরবি)-র সর্বশেষ প্রকাশিত রিপোর্ট ২০২৩ সালের। তা জানাচ্ছে, ২০২৩-এ ১০,৭৮৬ জন কৃষক এবং খেতমজুর আত্মহত্যা করেছেন। মোট আত্মঘাতীর মধ্যে তাঁরা ৬.৩%। এছাড়া মোট আত্মঘাতীর মধ্যে ২৬.৪% দিনমজুর। তাঁদের এক বড় অংশ গ্রামীণ শ্রমজীবী। মোদী-শাসনের এগারো বছরের ইতিহাস বলছে গ্রামে দারিদ্র্যের কারণে, উপার্জনের অভাবে আত্মহত্যা কমেনি। বেড়েছে।
এই একটি উদাহরণেই গ্রামের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নের মুখে। এমন আরও মানদণ্ড আছে। তাহলে মনরেগা-র বদলে ভি বি রাম জি-কে হাজির করার সিদ্ধান্তের ‘যৌক্তিকতা’ বাস্তবের মাটিতে প্রমাণিত হলো কী ভাবে?
রাজ্যের তৃণমূল সরকারও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের মতো দাবি করছে। যেমন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বারবার বলছেন, ‘রাজ্যে আমরা দারিদ্র্য ৪০% কমিয়েছি।’ দারিদ্র্য হ্রাসের অন্যতম মানদণ্ড কাজের সুযোগ। মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ‘গত ১৪ বছরে রাজ্যে ২ কোটির বেশি কাজের বন্দোবস্ত করেছি।’ অর্থাৎ মমতা-শাসনে বুথ পিছু ২৪৮জন কাজ পেয়েছেন রাজ্যে। তাহলে রাজ্যের প্রায় প্রতিটি গ্রামাঞ্চল থেকে উপার্জনের জন্য ভিন রাজ্যে যাচ্ছেন কেন মানুষ?
দুই শাসকের এই সব দাবির কোনও ভিত্তি নেই।
📲 এখন এক ক্লিকেই মার্কসবাদী পথ আপনার হোয়াটস অ্যাপে
মনরেগা-কে ‘চাহিদানুসারী’, অর্থাৎ ডিমান্ড ড্রিভেন বলার মধ্যে একটি চালাকি আছে। মনরেগা সম্পর্কে এটিই প্রচার যে কেউ কাজ চাইলে তাকে ওই আইনে কাজ দেওয়া ছিল বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই আইন অনুসারে একশো দিনের কাজের বন্দোবস্ত হওয়ার কথা। প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব ছিল এমনভাবে লেবার বাজেট বানানো যাতে গড়ে একশো দিন কাজ দেওয়া সম্ভব হয় জবকার্ডধারীদের। অর্থাৎ চাহিদার উপর তা পুরোপুরি নির্ভরশীল, এই কথা বলা যায় না। আসলে ২০০৮-এর পর থেকে একদিকে যেমন দেশ অতি দক্ষিণপন্থার দিকে ঝুঁকেছে, একইসঙ্গে সঙ্গে মনরেগার আইন প্রয়োগে শৈথিল্য এসেছে।
এই ক্ষেত্রে পি সাইনাথের কথা উদ্ধৃত করা যায়। ভি বি জি রাম জি বিল যেদিন কেন্দ্রের শাসক দল লোকসভায় পেশ করেছে, সেদিন, গত ১৮ ডিসেম্বর, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিক পি সাইনাথ বলেছিলেন, ‘‘এদেশের সবচেয়ে খারাপ ব্যাপারটা হয়েছিল যেদিন নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন সেদিনই। উনি ও ওঁর সরকার শুরুতেই এই রেগা তুলে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দেশজুড়ে তীব্র বিরোধিতার জেরে তা পারেননি। কিন্তু তারপর থেকে বাজেট বরাদ্দ ছেঁটে বা নানা অছিলায় এই প্রকল্পকে শুকিয়ে মারার চেষ্টা করে গিয়েছে ওঁর সরকার।’’ সাইনাথ স্মরণ করিয়ে দেন, ‘‘ইউপিএ-২ সরকারের আমলেই এই বরাদ্দ ছাঁটাই শুরু হয়েছিল। চিদাম্বরমের পদক্ষেপগুলির কথা মনে করুন। আসলে মানুষ কাজ পাওয়ার অধিকার পাবেন, এখানেই অনেকের আপত্তি। প্রথম ইউপিএ সরকারের সময় এই আইন তৈরিতে সিপিআই(এম) সহ বামপন্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। শক্তিশালী শরিকদের চাপেই কংগ্রেস এমন একটা যুগান্তকারী আইন এনেছিল। মনে রাখবেন, সংসদে তখন ৬৩ জন বামপন্থী সাংসদ। এবং ক্ষমতাসীন সরকার তাদের সমর্থনেই চলতো।’’
এটি হলো পরিপ্রেক্ষিত এবং গ্রামবাসীদের আইন মোতাবেক কাজের অধিকারের প্রশ্ন। এবং সেই অধিকার তত খর্ব হয়েছে, যত দেশের রাজনীতিতে অতি দক্ষিণপন্থীরা চালকের আসনে গেড়ে বসেছে।
মনরেগা থেকে ভি বি জি রাম জি, কিংবা গান্ধীর বদলে রামকে হাজির করা — একটি মারাত্মক প্রবণতার আগ্রাসনের প্রতীক। কাজের কিছুটা নিশ্চয়তা যা ছিল মনরেগায়, তাকে দুর্বল করে গ্রামীণ কর্মপ্রার্থীদের বেসরকারি উদ্যোগগুলির সামনে সস্তা শ্রমের নিশ্চিত বাজার হিসাবে হাজির করাই এই আইন বদলের অন্যতম লক্ষ্য।
এই দক্ষিণপন্থার দিকে পিছিয়ে চলাকেই ‘দেশের অগ্রগতি’র এবং সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ‘যৌক্তিক’ বলে হাজির করেছে বিজেপি, আসলে আরএসএস। তাদের দাবি দেশের গ্রামাঞ্চলের প্রভূত অগ্রগতি ঘটেছে। দারিদ্র্য দেদার কমেছে। তাই মনরেগাকে বদলানো হচ্ছে। এটি এক সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
ভি বি জি রাম জি-কে ঘিরে এমন অনেক প্রশ্ন আছে। যেমন, এই আইনে ১২৫ দিন কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু চাষের সময়ে ৬০দিন এই কাজ বন্ধ রাখা হবে। অর্থাৎ চাষের সময় গ্রামীণ শ্রমজীবীকে কাজ করতে খেতের কাজের উপর নির্ভর করতে হবে। সরকারের ব্যাখ্যামূলক নোটে তা স্পষ্ট বলা হয়েছে। খেতমজুরের সংখ্যা বেশি হলে স্বভাবতই তাঁদের মজুরি নিয়ে দরদামের সুযোগ কমবে। আরও আশ্চর্যের হলো, খেতের কাজে যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ছোট জোত, সিংহভাগ কৃষকের জমি অল্প। সেখানে যন্ত্রের ব্যবহার গ্রামীণ শ্রমজীবীর কাজ কমিয়েছে। দেশের প্রায় সব রাজ্যেই এই দ্বন্দ্ব আছে, মাত্রা বিভিন্ন। কৃষিতে পুঁজির প্রয়োগ এই সমস্যা বাড়াবেই। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে প্রতিটি বৈঠকে এগ্রিকালচারাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডে ঋণ বাড়াতে বলছে। গ্রামের বিভিন্ন অংশকে এই ঋণ নিয়ে চাষের সরঞ্জাম ভাড়া দেওয়ার ব্যবসায় উৎসাহিত করছে। যেখানে যন্ত্রের সাহায্যে অনেক খেতমজুরের কাজ করানোকেই উৎসাহিত করা হচ্ছে, তখন চাষের সময় গ্রামীণ শ্রমজীবীকে খেতের উপরই নির্ভরশীল করে তোলার পিছনে যুক্তি কী? কেন্দ্রের শাসক দলের এই কাণ্ড অনেকটাই পরস্পরবিরোধী, অযৌক্তিক হলো নাকি? কেন্দ্রীয় সরকার বলছে চাষের সময় ৬০ দিন ভি বি রাম জি বন্ধ থাকবে! কেন? সেই সময়ে কী গ্রামীণ পরিকাঠামো, পানীয় জল সরবরাহের প্রকল্পের মতো যে চারটি ক্ষেত্রে ভি বি রাম জি-র কাজ হতে পারবে সেগুলি বন্ধ থাকবে? যদি থাকে, কেন থাকবে?
জবাব নেই। সমাজের সবচেয়ে বিক্ষুব্ধ, বিধ্বস্ত এবং বিপ্লবী উপাদান সমৃদ্ধ গ্রামীণ শ্রমজীবীদের উপর এই আইনের ধাক্কা হতে চলেছে মারাত্মক। আর এই অংশের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ নারীরা।
🔍 আরও পড়ুন: —শ্রমিকের জন্য খরচে টান, পুজোর ভাণ্ডার উপচে পড়ে, —দক্ষিণপন্থীরা কেন কাজের অধিকারের বিরুদ্ধে? —মেলায় টাকা ওড়ে, ফেরে না পরিযায়ীরা
পিরিওডিক লেবার ফোর্স সার্ভে (পিএলএফএস)-র সাম্প্রতিক রিপোর্টে গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে দেশের শ্রমবাজারের অবস্থা উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন মন্ত্রকের এই রিপোর্ট বলছে, দেশের নারীদের ২৫.৫% অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। গ্রামে সেই হার ২৮.৫%। শহরাঞ্চলে তা ১৮.৬%। অর্থাৎ মোদী সরকারের সমীক্ষা অনুসারে দেশে ওয়ার্কার’স-পপুলেশন রেশিও-র পরিসংখ্যান বলছে দেশের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নারী উপার্জনের ক্ষেত্রের বাইরে। পশ্চিমবঙ্গের হাল কী? দুর্বিষহ। এই রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে ২৮.৬% এবং শহরগুলিতে ২১.৪% নারী কোনও না কোনও কাজ করেন। গ্রাম-শহর মিলিয়ে সামগ্রিক বিচারে তা ২৬.৪%। বাকিরা কর্মহীন। উল্লেখ্য, ২০১১-র জনগণনা অনুসারে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে ৩ কোটির বেশি নারী আছেন। গত ১৪ বছরে তা আরও বেড়েছে। ফলে নারীদের মধ্যে কাজের অভাবজনিত সঙ্কট গ্রামের সমাজজীবনে নিদারুণ সঙ্কট তৈরি করেছে।
এই ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে মনরেগা বন্ধের প্রভাব বিচার্য। এমনকি ভি বি রাম জি চালু হলে গ্রামাঞ্চলে নারীদের কাজের সুযোগ আগের মতোই থাকবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই। কারণ, এই আইনে নাগরিক চাইলেই কাজ দিতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তাছাড়া মজুরির টাকা আর শুধুই কেন্দ্রীয় সরকার দেবে, এমনটা নয়। ৪০ভাগ টাকা দিতে হবে রাজ্য সরকারগুলিকে। যা রাজ্য সরকারগুলির আর্থিক দুর্দশার পরিপ্রেক্ষিতে আদৌ ‘যৌক্তিক’ নয়।
মনরেগায় কী ছিল? চলতি আর্থিক বছর, অর্থাৎ ২০২৫-২৬-এর হিসাব দেখা যাক – এখনও পর্যন্ত মনরেগায় কাজ পেয়েছেন দেশের ৬,৮২,২৬,৬২২ জন। তাঁদের মধ্যে নারী ৩,৮৫,০৭,২০০জন। হিসাব কেন্দ্রের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের। অর্থাৎ চলতি বছরে মনরেগায় কাজ পাওয়া শ্রমজীবীদের প্রায় ৫৭% নারী। রাজস্থানে তা ৬৬.১৮%, কেরালায় তা ৮৪.২৪%। মনরেগায় নারীদের কাজ পাওয়ার এই প্রবণতা জাতীয় প্রবণতা। পশ্চিমবঙ্গেও যতদিন মনরেগা চালু ছিল, নারীরাই ছিলেন বেশিরভাগ। তার মধ্যেও তৃণমূল কাটমানি, কমিশন নিয়েছে, ভুয়ো মাস্টার রোল জমা দিয়ে মজুরির টাকা হাসিল করেছে। তবু বিরাট অংশের শ্রমজীবী নারীরা তৃণমূলের অত্যাচার সহ্য করেও কাজ করেছেন।
সেই মনরেগায় ধাক্কা। ১৮ ডিসেম্বর ভি বি জি রাম জি বিলের আলোচনার উপর জবাবী ভাষণ দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেছেন, ‘‘শুধুমাত্র মজুরি দেওয়ার জন্য ১০-১১ লক্ষ কোটি টাকা খরচের কোনও যুক্তি নেই। ওই অর্থে বরং স্থায়ী সম্পদ তৈরি করা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত।’’
‘স্থায়ী সম্পদ তৈরি’ এবং ‘মজুরি’র মধ্যে দ্বন্দ্ব কখন সম্ভব? যখন স্থায়ী সম্পদ তৈরির কাজ শ্রমনিবিড় নয়। অর্থাৎ গ্রামীণ গরিবের কাজ বিজেপি-র অগ্রাধিকার নয়।
একই প্রবণতা তৃণমূলেরও।
সাম্প্রতিক রাজ্য বাজেটের সঙ্গে বিধানসভায় পেশ করা আর্থিক সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ২০২৩-২৪-এ মূলধনী খাতে সরকার খরচ করেছিল ২৯,৭৫৭ কোটি ২২ লক্ষ টাকা। ২০২৪-২৫-এ তা বাড়েনি, কমেছে ৭ হাজার কোটির বেশি। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের হিসাব পাওয়া যাবে আগামী বছর। কিন্তু প্রবণতা বলছে মূলধনী খাতে খরচ কমিয়েছে রাজ্য সরকার। খরচ একইভাবে কমানো হয়েছে পরিকাঠামো ক্ষেত্রেও। এই দুই ক্ষেত্রে সরকারের ব্যয় হ্রাস মানে কাজের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্র সঙ্কুচিত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি শ্রমজীবীদের।
এই পরিস্থিতিতে নিরুপায় পরিযায়ী শ্রমিক কমবে না। বাড়বে। বাড়ছেও। তাঁদের সম্পর্কে বিজেপি, তৃণমূলের নীতিতে বিশেষ তফাৎ নেই।
🔍 আরও পড়ুন: —কোনও এক গাঁয়ের বধূর কথা, —যাত্রাপথে বিকল্পের অনুশীলন

🖋 বাংলার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুন: স্ক্যান করুন কিউআর কোডটি
প্রকাশের তারিখ: ১৬-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay







