Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

ভূমিকম্প, সিরিয়া ও সাম্রাজ্যবাদ

সুচিক্কণ দাস
কিন্তু বাইডেন প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে এই পরিস্থিতিতেও তারা সিরিয়ার ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা তুলবে না। এবং তারা নিজেরাও কোনও মানবিক ত্রাণ আসাদ সরকারকে পাঠাবে না। উলটে, বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সুযোগে আসাদ-বিরোধী শক্তিকে মদত দিয়ে তারা আসাদকে উচ্ছেদ করার সুযোগ খুঁজবেন। সেজন্য আসাদ-বিরোধীদের আরও ডলার দেওয়া হবে। নেড প্রাইসের ভাষায়, একটা সরকার যারা নিজের দেশের মানুষের ওপর ‘নিষ্ঠুর শাসন’ চালিয়ে যাচ্ছে এই সময়ে তাদের টাকা দিলে নিষ্ঠুর শাসককেই শক্তিশালী করা হবে। আসাদ নিষ্ঠুর শাসক—একথা কে বলছে? আমেরিকা ও তার বশম্বদ শক্তিগুলো।
Earthquakes, Syria and imperialism

।১।

রাশিয়ার ‘স্বৈরতন্ত্র’কে ঠেকাতে এবং পশ্চিমের তথাকথিত ‘গণতন্ত্র’ রক্ষায় গত এক বছরে ইউক্রেনকে কত টাকার অস্ত্র ও অন্যান্য সাহায্য পাঠিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন সরকার? 

এক কথায় উত্তর: ৫০০০ কোটি মার্কিন ডলার। (এর মধ্যে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলির সাহায্য ধরা হচ্ছে না)। 

সম্প্রতি ভূমিকম্প বিধ্বস্ত সিরিয়ায় সেদেশের নির্বাচিত আসাদ সরকার নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে মানবিক ত্রাণের জন্য কত টাকা পাঠিয়েছে বাইডেন সরকার? 

উত্তর: এক ডলারও না। 

উলটে কোনও মানবিক ত্রাণ যাতে আসাদ সরকার পেতে না পারে, মানে ভূমিকম্পে দুর্গত সিরিয়ার নাগরিকেরা যাতে সাহায্য পেতে না পারেন, সেজন্য আগে থেকে জারি করা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো সিরিয়ারও কি নিজস্ব তেল ও গ্যাসের ভাণ্ডার আছে? 

হ্যাঁ, আছে। 

কিন্তু ঘটনা হল মার্কিন সেনা গত এক দশকের বেশি সময় ধরে সিরিয়ার তেল উৎপাদক এলাকাগুলো দখল করে রেখেছে। এবং সেখানকার ৮০ শতাংশ তেল তুলে তারা লুঠ করে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে। আর জ্বালিয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার, যাতে সেগুলো আসাদ সরকারের কোনও কাজে না লাগে। 

ইউক্রেনে ঢালাও অস্ত্র সরবরাহ আর ভূমিকম্প বিধ্বস্ত সিরিয়ায় কোনও ত্রাণ না পাঠানো, এমনকী কোনও ত্রাণ ঢুকতে পর্যন্ত না দেওয়া, এই দুটো ছবি পাশাপাশি রাখলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে আসলে পশ্চিমের ‘গণতন্ত্র’-এর খোলসের আড়ালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কতটা হিংস্র সাম্রাজ্যবাদী শক্তি!

।২।

সাম্প্রতিক বিধ্বংসী ভূমিকম্পে তুরস্কের ক্ষয়ক্ষতির খবর আমরা জানি। কিন্তু সিরিয়ার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাই না। কারণে তা সামনে আনতে চায় না পশ্চিমি শক্তিগুলির ধ্বজাধারী মিডিয়া। তাদের কাছে রাষ্ট্রপতি আসাদ মানে ‘সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটি’ (সেটা ঠিক করে দিয়েছে আমেরিকাই), যেখানে ভূমিকম্পের পরেও ত্রাণ দেওয়া যাবে না! এদিক ওদিক থেকে পাওয়া খবরে যেটুকু জানা গেছে তা হল, ভূমিকম্পে উত্তর পশ্চিম সিরিয়ায় বাড়ি ধ্বসে চাপা পড়েছেন বহু মানুষ। কয়েক হাজার আহত। আরও অনেক মানুষ গৃহহারা, ছিন্নমূল। প্রবল শীতে তাঁরা রয়েছেন খোলা আকাশের নিচে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ২ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ। এদের মধ্যে শিশু ১৪ লক্ষ। সিরিয়ায় এখনই বড় ধরনের সহায়তা পাঠানো দরকার, জানিয়েছেন হু-র ডিরেক্টর টেড্রস আধানম ঘেব্রেসিয়াস। 

কিন্তু বাইডেন প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে এই পরিস্থিতিতেও তারা সিরিয়ার ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা তুলবে না। এবং তারা নিজেরাও কোনও মানবিক ত্রাণ আসাদ সরকারকে পাঠাবে না। উলটে, বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সুযোগে আসাদ-বিরোধী শক্তিকে মদত দিয়ে তারা আসাদকে উচ্ছেদ করার সুযোগ খুঁজবেন। সেজন্য আসাদ-বিরোধীদের আরও ডলার দেওয়া হবে। নেড প্রাইসের ভাষায়, একটা সরকার যারা নিজের দেশের মানুষের ওপর ‘নিষ্ঠুর শাসন’ চালিয়ে যাচ্ছে এই সময়ে তাদের টাকা দিলে নিষ্ঠুর শাসককেই শক্তিশালী করা হবে। আসাদ নিষ্ঠুর শাসক—একথা কে বলছে? আমেরিকা ও তার বশম্বদ শক্তিগুলো। আসাদ সিরিয়ায় রাষ্ট্রপতি পদে রয়েছেন কীভাবে? সিরিয়ার জনতা তাঁকে ও তাঁর দলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। সিরিয়ার জনতার ভোটে নির্বাচিত শাসক যেহেতু আমেরিকার না-পসন্দ, তাই তাই আসাদ ‘নিষ্ঠুর শাসক’, তার সরকারকে ভূমিকম্পের সময়েও মানবিক সাহায্য দেওয়া হবে না। বরং আসাদপন্থীদের শুকিয়ে মারার ব্যবস্থা করে সিরিয়ায় পুরোপুরি মার্কিন দখলদারি কায়েম করার চেষ্টা হবে। 

এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে যায় ১৯৯৬ সালে তৎকালীন মার্কিন বিদেশ সচিব মাদেলিন অলব্রাইটের উক্তি। সেই সময় মার্কিনীদের চাপানো অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ইরাকে ৫০ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। মাদেলিন বলেছিলেন, ইরাকে শাসক বদলের জন্য এইসব শিশুদের মৃত্যু ‘দরকার’ ছিল। 

২০১১ সালে ওবামার আমল থেকে সাদ্দাম হোসেনের আদলে প্রেসিডন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিরিয়া দখলের লক্ষ্যে গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে রেখেছে আমেরিকা। আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ঢালাও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে ধর্মান্ধ মুসলিম ব্রাদারহুড, আই এস, আল কায়দা ও ইসলামি মিলিশিয়াকে। এর ওপর জারি রেখেছে আর্থিক অবরোধ। যদিও রাশিয়া ও চীন আসাদের পাশে দাঁড়ানোয় সেই প্রয়াস পুরোপুরি সফল হয়নি। তবে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে সিরিয়ার সমাজ। ১৩ লক্ষ সিরিয় নাগরিক গৃহচ্যুত, ৬ লক্ষ ৭০ হাজার সিরিয় নাগরিক এখন শরণার্থী, যারা কোনওক্রমে তাঁবুতে দিন কাটাচ্ছেন। মার্কিন আগ্রাসনে সিরিয়ায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫ লক্ষ মানুষের। প্রায় ৯০০ মার্কিন সেনা পাঠিয়ে আমেরিকা দখল করে রেখেছে দক্ষিণ ও পূ্র্ব সিরিয়ার তৈলক্ষেত্রগুলি। সেই তেল সিরিয়া পায় না। সেই তেল লুঠ করে নিয়ে যায় আমেরিকা। বাইরের দেশে বিক্রি করে ডলার জমায় নিজেদের ভাণ্ডারে এখানেই শেষ নয়। সিরিয়ার দখল করা অংশে প্রচুর গম জন্মায়। সেগুলোও লুঠ করে বিক্রি করে আমেরিকা। এবং এরপরেও তারা আসাদকে কোণঠাসা করতে ভূমিকম্পের পরেও মানবিক ত্রাণ পাঠানোর অনুমতি দেয় না কারণ আসাদ ‘নিষ্ঠুর শাসক’।

এই দুর্দিনে আসাদের সিরিয়াকে সাহায্য করেনি ইউরোপের সেই দেশগুলিও যারা গত একবছর ধরে ঢালাও অস্ত্র আর টাকা দিচ্ছে ইউক্রেনকে। এই দুর্দিনে সিরিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে ইরাক, ইরান, লিবিয়া, মিশর, আলজিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ভারত, চীন, রাশিয়া ও কিউবা। এক কথায় ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত সিরিয়ার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছে পশ্চিমি গণতন্ত্র ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অথচ তারাই মানবতার বড়াই করে বছরভর। আর পাশে দাঁড়িয়েছে সেই সব দেশ স্বৈরতন্ত্র বলে চিহ্নিত করে যাদের বিরুদ্ধে ‘ধর্মযুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে আমেরিকা ও ইওরোপ। পাশে দাঁড়িয়েছে তৃতীয় বিশ্বের সেই সব দেশও যাদের কাছে মতাদর্শের চেয়ে মানুষ বড়। সাম্রাজ্যবাদ কী এবং কারা আসলে সাম্রাজ্যবাদী, তার লিটমাস টেস্ট হতে পারে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত সিরিয়াকে সামনে রেখে। ।

।৩।

মার্কিন বোমা বর্ষণে দামাস্কাস বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই মালবাহী বিশাল বিমানগুলি ত্রাণ নিয়ে যেতে পারবে না দামাস্কাসে। মার্কিন নিষেধজ্ঞা জারি। তাই ত্রাণ দিতে পারবে না আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচিত এনজিওগুলি। 

ক্রাউডফান্ডিং, চাঁদা তুলে পাঠানো, এমনকী ব্যক্তিগত স্তরে সহায়তার রাস্তাও বন্ধ। আমেরিকার আসাদের ওপর এত রাগ কেন? কারণ দেশের মধ্যে নির্বাচনে বিপুল ভোট পেয়ে ক্ষমতায় ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি বাশার এল আসাদ ও তাঁর দল ন্যাশনাল প্রোগ্রেসিভ ফ্রন্ট। মার্কিন অবরোধের হাত থেকে বাঁচতে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পে যোগ দিয়েছে সিরিয়ান আরব রিবাপলিক। সোভিয়েত আমলের মতোই লাটাকিয়া বন্দর ব্যবহার করার জন্য পুতিনের রাশিয়াকে অনুমতি দিয়েছেন আসাদ। আসাদের পক্ষে দাঁড়িয়ে মার্কিন মদতপুষ্ট আইএস বাহিনীর ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে বহু এলাকা উদ্ধার করেছে সিরিয়ার সেনা। আকাশপথে রুশ বিমান হানা, আর মাটিতে দাঁড়িয়ে সিরিয়ার সেনা, ইরানের রেভোলিউশনারির গার্ড হাতে হাতে মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে সাম্রাজ্যবাদী হানাদারদের বিরুদ্ধে। 

ফলে সাদ্দামকে ফাঁসি দিয়ে যেমন ইরাক দখল করেছিল আমেরিকা, তেমন করে সিরিয়া পারেনি। সিরিয়া দখলের ছক ভেস্তে দিয়েছেন আসাদ। আমেরিকা যখন বলল, তোমার দেশের ওপর দিয়ে আমি তেলের পাইপ লাইন পাতব, রাজি হননি আসাদ। কারণ তিনি সাদ্দাম হতে চাননি। এর ওপরে আবার রাশিয়া, চীন, ইরানের সঙ্গে মৈত্রী! মার্কিনীদের চোখে সিরিয়ার ‘অপরাধ’ অনেক। সিরিয়া তার সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিতে রাজি নয়। সিরিয়ার মানুষ মার্কিনি ও ইউরোপীয় প্রভুদের দ্বারা শোষিত হতে চান না। ন্যাটো ও তার মিত্র দেশগুলির আগ্রাসী বিদেশ নীতি মানতে নারাজ সিরিয়া। চায় না ইজরায়েলের কাছে মাথা নত করতে। কারণ ইজরায়েল সিরিয়ার একাংশ দখল করে রেখেছে। অতএব আমেরিকা ও ন্যাটোর চোখে সিরিয়ার অপরাধের সীমা নেই! এরপর আর কি আসাদকে ক্ষমা করতে পারে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা?

অতএব সিরিয়ার মাটিতে মার্কিন মদতে রাতারাতি গজিয়ে ওঠে কট্টর মৌলবাদী মুসলিম ব্রাদারহুড। চলে আসে আল কায়দা ও আইএস। তিন শক্তি মিলে মার্কিন মদতে আসাদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করে। আজকের ইউক্রেনের মতোই তাদের অস্ত্র যোগায় আমেরিকা ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলি। বইতে থাকে ডলারের স্রোত। এরপর অর্থনৈতিক অবরোধ শুরু করে আমেরিকা। এর জেরে না খেতে পেয়ে মরতে থাকেন সিরিয়ার নাগরিকেরা। ভূমধ্যসাগরের নীল জলরাশির প্রান্তে, নির্জন বেলাভূমিতে পড়ে থাকে আয়লান কুর্দির নিথর দেহ। 

। ৪।

তবু তো চক্ষুলজ্জা বলে একটা কথা আছে। পশ্চিমী ব্যাঙ্কগুলি জানিয়েছে, তারা সিরিয়ায় মানবিক ত্রাণে টাকা পাঠাতে দেবে, তবে সেটা মাত্র ১৮০ দিনের জন্য। তবে যাঁরা ত্রাণ পাঠাতে চান তাঁদের প্রশ্ন, নিউ ইয়র্কের মেলন ব্যাঙ্ক কিংবা সিটি ব্যাঙ্ক কিংবা ব্যাঙ্ক ন্যাশনাল ডে প্যারিস কি প্রতিদিন কষ্ট করে দেখতে যাবে কোনটা ভূমিকম্পের জন্য মানবিক ত্রাণে পাঠানো টাকা? তাদের তো মনে হতেই পারে ত্রাণের নামে আসলে এসব টাকা পাঠানো হচ্ছে আসাদপন্থী সন্ত্রাসবাদীদের।  ব্যাঙ্কগুলিও বলতে শুরু করেছে, এসব টাকা পাঠিয়ে কতটুকু ফি আসবে আমাদের ভাণ্ডারে। সব মিলিয়ে, মার্কিন জরিমানার ভয়ে সিরিয়ায় টাকা পাঠাতে রাজি নয় কোনও পশ্চিমি ব্যাঙ্ক। 

তবে কি মার্কিন ত্রাণ সিরিয়ায় যাচ্ছে না? যাচ্ছে। ইডলিব প্রদেশ—  যা মূল সিরিয় ভূমির তিন শতাংশ মাত্র, যাচ্ছে সেখানে। আর ওই অঞ্চল দখল করে রয়েছে এরদোগানের তুরস্ক। এবং সেই তুরস্কের পিছনে রয়েছে মার্কিন ফৌজ। 

অতএব মার্কিন অবরোধে সিরিয়ার বন্ধ দুয়ার খুলছে না। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত সিরিয়ার মানুষ কীভাবে বেঁচে রয়েছেন তা জানে না সারা বিশ্ব। গোটা পরিস্থিতির সামনে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ, যাদের বিবৃতি জারি করা ছাড়া আর কোনও কিছু করার ক্ষমতা নেই। 

মানবতার বিরুদ্ধে এই নিঃশব্দ অপরাধই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আসল চেহারা আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে। প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে, শুধু নাপাম বোমা ফেলেই নয়, অর্থনৈতিক অবরোধ করে মানুষকে না খাইয়েও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে, মানবাধিকার রক্ষার নামে দুনিয়াজুড়ে মার্কিনীরা যে সেনা অভিযান চালায়, তা আসলে হত্যালীলা। আজকের দিনের সবচেয়ে বড় গণহত্যাকারী হল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, যে প্রতিদিন সিরিয়ার ভূমিকম্প বিধ্বস্ত, বিপন্ন মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার পদদলিত করছে ত্রাণ পাঠাতে না দিয়ে। একইভাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদই ইউক্রেনের সাধারণ মানুষকে যুদ্ধে নামিয়ে কোটি কোটি টাকার অস্ত্র ব্যবসা জারি রেখেছে। মোড়ক যতই বদলাক, সাম্রাজ্যবাদ তার অন্তর্বস্তুর দিক থেকে সাম্রাজ্যবাদই থেকে যায়। চিরায়ত সেই সাম্রাজ্যবাদের নির্যাস হল আগ্রাসন, যুদ্ধ, লুঠ, মুনাফা, ধ্বংস। এমনকী ভূমিকম্পে কোনও দখলীকৃত দেশ বিধ্বস্ত হলেও সাম্রাজ্যবাদীর পাষাণ হৃদয় গলে না। এই সাম্রাজ্যবাদকে কীভাবে শিক্ষা দিতে হয় তার উদাহরণ রেখে গেছে ভিয়েতনাম।  

 


প্রকাশের তারিখ: ০১-মার্চ-২০২৩
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২০৯ টি নিবন্ধ
২৮-জুন-২০২৬

২৭-জুন-২০২৬

১৭-জুন-২০২৬

১৭-জুন-২০২৬

১৬-জুন-২০২৬

১৩-জুন-২০২৬

০৭-জুন-২০২৬

০৬-জুন-২০২৬

০৪-জুন-২০২৬

০৭-মে-২০২৬